Jump to ratings and reviews
Rate this book

অপ্রাগৈতিহাসিক প্রথম পর্ব: ঈশ্বরের বাগান

Rate this book
Science-Fiction Novel

224 pages, Hardcover

First published January 18, 2024

1 person is currently reading
19 people want to read

About the author

Soham Guha

18 books4 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (56%)
4 stars
5 (31%)
3 stars
1 (6%)
2 stars
0 (0%)
1 star
1 (6%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 38 books1,866 followers
March 2, 2024
তেলেঙ্গানা-মহারাষ্ট্র সীমান্তের এক বেআইনি কয়লা-খাদানে বেশ কিছু খনি-শ্রমিক জলে ডুবে মারা গেল। দুঃখজনক, তবে এমনটা তো হয়েই থাকে; তাই না?
কিন্তু যদি ফসিল থেকে একেবারে পাথর হয়ে যাওয়া কয়লার মধ্যে বুটপরা পায়ের ছাপ পাওয়া যায়?
না, এমনটা সচরাচর হয় না।
প্রায় রাতারাতি একটা গোপনীয় অনুসন্ধান প্রকল্পের সূচনা হল। তাতে দেশ ও বিদেশ থেকে যুক্ত হলেন কিছু প্রতিভাবান মানুষ— সময়ের ট্রেন যাদের ব্যক্তিগত জীবনকে প্ল্যাটফর্মে ফেলে রেখেই পাড়ি দিয়েছে অনেক দূরে। তাদেরই সঙ্গে, অন্যদের হাতের পুতুল হয়ে রইল আরও ক'জন। আর সেই অনুসন্ধানে বেরিয়ে এল এক অবিশ্বাস্য সত্য।
ক্রিটেশিয়াস-টার্শিয়ারি যুগের সীমারেখায়, যখন ডাইনোসরেরা অবলুপ্ত হয়েছিল, তখনই পৃথিবী তাঁর আদরে ঢেকে ফেলেছিলেন এক দানবীয় মহাকাশযানকে। সে আজও লুকিয়ে আছে সজীব, সজাগ হয়ে— অনুসন্ধানীদের পায়ের তলায়!
তারপর?
তারপর শুরু হল এই অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী, কল্পনার বিস্তারে ও বিশ্বাসে আক্ষরিক অর্থেই বিশ্বমানের উপন্যাসের প্রথম পর্ব। হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো নানা সূত্র থেকে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ছবি দেখিয়ে লেখক আমাদের টেনে তুললেন সময়ের রথে। আমরা তাঁরই সঙ্গে চললাম এক দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে।
হ্যাঁ, এ এক অকল্পনীয় ভাবনা— যাতে কন্সপিরেসি থিওরি, রাজনীতি, জীববিদ্যা, আর মহাকাশবিজ্ঞান একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে। এ এমন এক আখ্যান যার একটি লাইন ফিজিক্সের হলে পরেরটি মেটাফিজিক্সের কথা বলে। একটি চরিত্রকে ছকে ফেলার পরেই সে নিজের কক্ষপথ ছেড়ে বেরিয়ে যেতে চায় অন্য কোথাও, আর কোনোখানে।
পড়তে গিয়ে পদে-পদে উপলব্ধি করেছি, এ এক ভীষণ প্রতিস্পর্ধী লেখা। কেন জানেন? আসলে এটি তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশিকে উপেক্ষা করে বিচারের স্রোতঃপথকে একেবারে মুক্ত রাখতে বলে। এই আখ্যানের বসুধা কোনোমতেই খণ্ড ও ক্ষুদ্র নয়। তাই এই কাহিনিকে উপভোগ করতে হলে আপনার চিত্তকে ভয়শূন্য হতেই হবে। নইলে এর কল্পনার বিশালত্ব আর চরিত্রগুলোর অভিব্যক্তিতে দর্শনের আধিক্য পাঠককে আকর্ষণের বদলে বিকর্ষণই করতে পারে।
কিন্তু...
অসামান্য প্রচ্ছদ এবং রুচিশীল মুদ্রণ ও লে-আউট সত্বেও এমন অসামান্য বইটি টাইপো-তে একেবারে আকীর্ণ।
অজস্র বাক্য যথাযথভাবে সম্পূর্ণ হয়নি।
সর্বোপরি, এক বিরাট সংখ্যক বাক্যের গঠন বাংলার বদলে হুবহু ইংরেজির সিনট্যাক্স অনুসরণ করেছে। লেখক বাংলা কল্পবিজ্ঞান তথা স্পেকুলেটিভ ফিকশনের ভবিষ্যৎ বললে কিছুমাত্র অত্যুক্তি হবে না। তিনিই যদি শুদ্ধ বাংলায় বাক্যগঠনে অভ্যস্ত না হন তাহলে তো বড়ো বিপদ!
তবে এ-সবই এক মধ্যবয়স্ক পাঠকের গজগজানি, যে বাংলায় এমন মহাজাগতিক কল্পকাহিনি পড়তে পেয়ে একইসঙ্গে স্তম্ভিত ও পুলকিত হয়েছে। ওটুকু মাথায় রাখতে চাইলে রাখুন; কিন্তু এই বইটা পড়ুন।
দায়িত্ব নিয়েই বলছি, এমন লেখা বাংলায় আজ অবধি একটিও হয়নি।
লেখাটা বড়োই টেনশন-ঘন মুহূর্তে আমাদের রেখে এবারের মতো থেমেছে। আশা করি এর দ্বিতীয় পর্বটি অনতিবিলম্বে প্রকাশিত হবে। উৎকণ্ঠ তাহার লাগি প্রতীক্ষিয়া রহিলাম।
Profile Image for Soumyabrata Sarkar.
238 reviews40 followers
March 9, 2024
আনুমানিক ২০৪ পাতার কাহিনী - মাইনাস (-১) থেকে ১৯, এবং তার সাথে ২টি অতিরিক্ত অধ্যায়ে, ১৫-১৬টি চারিত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর বিস্তার ঘটেছে।

প্রচ্ছদটি বড়োই মনোরম। আপাত দৃষ্টিতে, একটি মহাকাশযান যেন চৌম্বক ক্ষেত্রর মধ্যে আটকে রয়েছে। মলাটের এপিঠ-ওপিঠ, প্রচ্ছদের ছবিটিই আরো বিশদে চিত্রিত। শেষ পাতায়, একটু খেয়াল করলে - ছোটবেলার আঁকার ক্লাসের মত ল্যাণ্ডস্কেপে পেয়ে যাবেন, পাহাড়-সমুদ্র-গোলক(সূর্য?), এবং জঙ্গল( এটিই কি ঈশ্বরের বাগান?)।

কাহিনীর -
স্থান : দাক্ষিনাত্য মালভূমি লাগোয়া, একটি অদ্ভুতাকার তিমি মাছের পৃষ্ঠদেশ সদৃশ সানু থেকে শুরু হলেও, এর রেশ পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও পরে বিশ্বময়[NGC 1277] ছুটে বেরিয়েছে।

কাল : সামাজিক ও আর্থ-রাজনৈতিক কড়চা যা কাহিনীর বুননে ধরা আছে [ফেসবুক-ইন্সটা-নির্ভয়া], তা থেকে ধরে নিতে হয় ২১শতকের ২/৩য় দশকের মধ্যেই। [একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বাদে] আক্ষরিক অর্থে সময়ের তেমন কীলক না দেওয়াতে, কাহিনীতে একটা অসীমত্ত্বের স্বাদ মাখা আছে(কাল নিরবধি!)। এ ছাড়া কাল বা সময় বলতে যা আছে, তা নির্দিষ্ট ভাবে স্থির করা খুব চাপের। ভবিষ্যৎ না ভূত !- বোঝা মুশকিল। তবে ক্রমশ একটা আন্দাজ পাওয়া যাবে।

পাত্র : মূলত ৬জন যারা কাহিনীর বর্তমানে, তদন্তহেতু একটি দল গঠন করেন। এছাড়া বাকি নানা পার্শ্বচরিত্রে ইন্দিরা গান্ধী ও রাকেশ শর্মা আছেন, এবং আছেন কিছু কলকাঠি নাড়া ওপরঅলা!

পাঠ অভিজ্ঞতা -
"মানুষের জানা ইতিহাস" এবং কল্পবিজ্ঞানের মিশেল- এই স্তম্ভ দুটির দৃঢ় সামঞ্জস্য কাহিনীটিকে সবচেয়ে বেশি মজবুত করলেও কিন্ত লৌকিক মনন, পুরাণের চরিত্র ও কিছু বিশেষ ধর্মকাহিনীর উল্লেখ, পারিপার্শ্বিক বাস্তুতন্ত্র[ecosystem], রাজনৈতিক টিপ্পনী, বৈজ্ঞানিক লিংগো, ভারতীয় আটপৌরে সামাজিক ব্যাবস্থা ও চিন্তাধারা, বৈজ্ঞানিক পরিভাষা[metadata], মানবিক আবেগ-আচরণ ইত্যাদি নানান প্রলেপ গল্পটিকে রঙিন করে তুলেছে। লেখকের অসাধারণ শব্দজারকে এই বিভিন্ন ধারাগুলি কাহিনীর ভার কিছুমাত্র বৃদ্ধি না করে, তাকে আরো সরস ও উপাদেয় করে তুলেছে, ও পাঠক হিসেবে অনাবিল রসাস্বাদনে আপ্লুত রেখেছে আমায়। উপরি পাওনা- অপুর্ব কিছু বাংলা সাহিত্যকর্মের সূত্র হিসেবে ব্যাবহার। বাঙালি পাঠক হিসেবে এই ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলটি লেখনকে আরো আত্মিক করেছে আমার জন্য।

কাহিনীর সূচক খুবই চঞ্চল। বেশী না হলেও একাধিক ঘটনা দর্শাতে লেখক চরিত্রদের চোখ ও মনন দিয়ে তাদের অগ্রসর করেছেন। স্বল্প প্রেক্ষিতে এঁদের বেড়ে ওঠা এবং নিজস্ব ও যৌথ ইতিবৃত্ত বয়ানে প্রতিটি প্রধান চরিত্রই স্বতন্ত্র রূপ পেয়েছে, ও দর্শক হয়েছেন পাঠলিপ্ত । মানবিক মননে তাদের আলাদা ভাবনার লয় কাহিনীর দ্রুতগতি থেকে একটু হলেও ভাবনার অবকাশ দেবে।

তবে লেখক যখন চরিত্রদের ইতিহাস- তাদের বর্তমান চিন্তাধারায় নিয়ে এসেছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মনে হয়েছে - তা খুবই দ্রুত ঘটে গেল। অনেকটাই "Tell, don't show" হয়ে গেছে। কাহিনীর মাত্রা ধরে রাখার জন্য হয়ত বা সেটা কিছুটা হলেও দরকার ছিল।


প্রশ্ন/মতামত কিছু পেশ করলাম -

অধ্যায় গুলির হেডপিসে মহাকাশযানটির ছবি কিছুটা ফেটে গেছে। অধ্যায় নিরিখে অন্যান্য পশু, পাখি, বনানি, উভচর প্রজাতি, এলিয়েন, যন্ত্র, মনোলিথ, উল্কাপাত ইত্যাদি রাখা যেত।

মাইনাস ১ এর কাহিনীতে আদান প্রদানের মাধ্যাম মূলত এস-এম-এস ও ফোনকল। যদি ধরে নিই আকাশ ও ইন্দ্র একই রক্তধারার বাহক, তাহলে এটি কি ২০০৫-২০১৫ সময়ের আখ্যান? না অন্য কোন সমান্তরাল সময়ের?

মহাকাশ যানের ভেতরে সময় কি তার বাইরের সমানুপাতিক হারেই বইছে? যদি অনুসন্ধান দলটি বেরোতে কৃতকার্য হয়, তাহলে তারা কি ডঃ আব্বাসের সময় অনুয়ায়ীই ঐরা বাঁধ দিয়ে বেরোতে পারবেন?

ভারত সরকার কাহিনীটির অনেকাংশে খুবই সূক্ষ্ম ভাবে জড়িয়ে। তা ইন্দিরা গান্ধীই হোন, বা দেশের নৌবাহিনী, কিংবা ইস্রো। দীনেশ বা ফাটারের মত,বৈজয়ন্তীর দিক থেকে এঁদের আরো অধ্যায় থাকলে বেশ হত।

ঈশ্বরের বাগানের পরে এবার "নীলকণ্ঠ টেরোডাকটিলের খোঁজে" আসবে? না বইয়ের পাতাতেই উল্লেখিত "ক্রিটেসাসের পৃথিবীতে মানুষের ঘরবাড়ি"?

বৈজ্ঞানিক কিছু শব্দবন্ধ হয়ত বুঝতে অসুবিধে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তা কাহিনীসুত্রে বোঝানো হলেও, বিশদে এর জন্য একটি "পরিশিষ্ট" অধ্যায় রাখা যেত। ভিন্ন গাছপালা-জন্তু-পাখিদের বৈশিষ্ট্য ও সেখানে উল্লেখ করা থাকলে, পাঠ আরো ভালো ভাবে চাক্ষুষ করা যাবে।

বইটির দাম ৩৫০ রাখা যথাযথ মনে হয়েছে, এর গভীরতা এবং ব্যাপ্তির জন্য। বাধাই ও চমৎকার। বইটি নানান বিষয় নিয়ে আপনাকে জানবার ও ভাববার হেতু দিতে সক্ষম। বইটির ক্ষুদ্র কিছু প্রমাদ ঠিক করে নিলে সত্যিই এই দাম ন্যায্য হয়ে পড়ে।

বেশ কিছু সম্পাদনা/মুদ্রণ-প্রমাদ রয়েছে বইটির প্রথম মুদ্রণে। আশা করা যেতে পারে - পুনর্মুদ্রণে তা ঠিক হয়ে যাবে।

সব শেষে কল্পবিশ্ব কর্মিবৃন্দ ও লেখক সোহম গুহকে একটি অনবদ্য ও স্মরণীয় বই/পাঠপ্রাপ্তির জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
Profile Image for Trinamoy Das.
102 reviews8 followers
March 6, 2024
আমাদের বাংলায় স্পেকুলেটিভ ফিকশন কিন্তু বেশ ম্যাচিওর হয়ে উঠেছে। শুধু এ'পার বাংলায় সোহম গুহ, অঙ্কিতা ম্যাডাম, দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য প্রমুখদেরই নয়, বাংলাদেশের নতুন লেখক তানজীম রহমান বা জাহিদ হোসেনের লেখা পড়ে আমার তাই-ই মনে হয়। ছোট মুখে বড় কথা মনে হতেই পারে, তবে এটা অনেকটা রেনেসাঁ-এর মত৷ পাঠককুল এতদিনে নানা ঘরানার গল্পকে আত্মস্থ করার জন্য প্রস্তুত।

এই সন্ধিক্ষণে সোহম গুহের "অপ্রাগৈতিহাসিক" এর মত লেখা আমাদের প্রয়োজন। হার্ড সায়েন্স ফিকশন যে বাংলায় লেখা সম্ভব, সেটা এই উপন্যাসে বেশ ভাল করে আমাদের বুঝিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন লেখক মহাশয়। বৈঠকী মার্কা কল্পবিজ্ঞান আর আধো আধো বিজ্ঞানকে উৎরে গিয়ে, "অপ্রাগৈতিহাসিক" এক অন্য ধরনের উপন্যাস হয়ে গিয়েছে, যেখানে হাতে ধরে সবকিছু বোঝানো হয় নি, যেখানে পাতার পর পাতা এক্সপজিশন নেই, যেখানে বৈজ্ঞানিক নানান থিওরিকে অত্যন্ত সুচারু ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিজ্ঞান থেকে কল্পনার দিকে যাওয়ার জন্য যে তন্তু লেখক ব্যবহার করেছেন, তা অত্যন্ত পুরু আর যুক্তিসঙ্গত, মনোরঞ্জনদায়কও বটে।

একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই (কারণ অন্যগুলো নিয়ে বললেই স্পয়লার)। উপন্যাসের শুরুতেই "পিল্টটাউন মানুষ"-এর কথা রয়েছে। বলা হয়েছে এটা একধরনের জালিয়াতি যা বৈজ্ঞানিক মহলে সারা ফেলে দিয়েছিল। এটার উপর লেখক দুই-তিন পাতা এক্সপজিশন দিয়ে আমাদের সময় নষ্ট করেন নি। বরং যেটুকু প্লটের জন্য প্রয়োজন, সেটুকুই তুলে ধরেছেন আমাদের সামনে। আমিও আর্টসের ছাত্র হওয়ার জন্যে গুগলজ্যাঠার শরণাপন্ন হই, এবং সত্যি বলতে অনলাইনে সেই "জালিয়াতির" ব্যাপারে পড়ার পর এই উপন্যাসের প্রতি তিনগুণ বেশি আকর্ষণ বোধ করতে শুরু করি।

নির্মেদ ভাবে প্লট এগিয়ে গেছে৷ বর্ণনা আতিশয্যপূর্ণ নয়, পরিমিত, কিন্তু তা বলে শুষ্কও নয়; নৈসর্গিক দৃশ্য বিবরণে কাব্যিক ছাপ রয়েছে। অঞ্জুমালা, ইন্দ্র, নিয়ামত খান, কুমারদের চরিত্রাঙ্কনে যত্ন রয়েছে। অনেকসময় কল্পবিজ্ঞানে কনসেপ্ট দারুণ হলেও চরিত্রগুলো বড্ড একমাত্রিক হয়ে যায়। কিন্তু "অপ্রাগৈতিহাসিক" সেই দোষ থেকে মুক্ত। তাই ইন্দ্রের চোখ দিয়ে আমরাও "ঈশ্বরের বাগান" দেখে চমকে উঠি, এই মহাবিশ্বে আমাদের ক্ষুদ্র অবস্থানের কথা ভেবে আতঙ্কমিশ্রিত এক বিহ্বলতা আমাদের গ্রাস করে। অঞ্জুমালার মাধ্যমে আমরা দেখি মানবসমাজের সংকীর্ণতা আর গোঁড়ামি, যেটার জন্য ভারতবর্ষ এখনও অমানিশায় ডুবে রয়েছে।

সবশেষে বলি উপন্যাসের ব্যপ্তি নিয়ে। বহু বছর আগে অ্যাসিমভের "ফাউন্ডেশন" উপন্যাসটি পড়ে চোয়ালটা জাস্ট ঝুলে পড়েছিল। প্লটের পরিসর এতখানি কী করে হতে পারে? যুগ যুগান্তের কথা দুই মলাটের মধ্যে বন্দী কী করে করলেন অ্যাসিমভ?

ঠিক সেই বিস্ময় যে পুনরায় অনুভব করবো, তা "অপ্রাগৈতিহাসিক" শুরু করার সময় ভাবি নি। কিন্তু উপন্যাসটা পড়ে শেষ করেছি সপ্তাহখানেক আগে, আর এখনও সেই অনুভূতির কথা ভাবছি। মহাজাগতিক যে ঘটনাক্রমের কথা এই উপন্যাসে শুধু ছুয়ে যাওয়া হয়েছে, সেটা নিয়ে ভাবলেই চোখের সামনে অদ্ভুত সব দৃশ্যপট ফুটে ওঠে। "মহাজাগতিক যুদ্ধ" নিয়ে বাংলা উপন্যাসে এমন ইমেজারি পড়তে পেরেছি, সেটা ভেবেই বেশ রোমাঞ্চ বোধ করছি।

উপন্যাসটা কিন্তু একটা অদ্ভুত ক্লিফহ্যাঙ্গারে শেষ হয়েছে। সেটা জেনেই পড়া শুরু করেছিলাম, কারণ উপন্যাসের টাইটেলেই তো রয়েছে "প্রথম পর্ব: ঈশ্বরের বাগান"। আশা করি পরবর্তী পর্বে এই বাগান পেরিয়ে মহাশূন্যে যাত্রা শুরু করতে পারব আমরা।

সোহমবাবু আর কল্পবিশ্ব টিমকে শুভকামনা।
Profile Image for Sudeep Chatterjee.
Author 15 books39 followers
May 3, 2025
কল্পবিশ্বের হাত ধরে যে প্রতিভাবান স্পেকফিক লেখকদের একটা ব্যাচ উঠে এসেছে, তাতে সোহম গুহ-এর নাম আলাদা করে বলতেই হয়। ওয়েব ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সোহমের কয়েকটা গল্প পড়েই আমি তাঁর ছকভাঙা লেখার ভক্ত হয়ে পড়েছিলাম। বিষয়বস্তু ও চিন্তাভাবনার দিক থেকে অভিনব তো বটেই, তার চেয়েও বড় কথা, সোহমের কলম যে কল্পবিজ্ঞান লেখে, তাতে 'বাঙালি পাঠক ও জিনিস বুঝবে কি না! একটু সহজ করে লিখব নাকি?' জাতীয় মেন্টাল ব্লকেজ থাকে না।

যা থাকে, তা হল এই ভাবনাটা। ২০২৫ সালে দাঁড়িয়ে কল্পবিজ্ঞান লিখতে বসেছি যখন, এই যুগের সেরা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের সঙ্গেই পাল্লা দিতে হবে, তার সমকক্ষ হয়ে উঠতে হবে, স্ট্রেট অ্যান্ড সিম্পল। এখন, এই অ্যাস্পিরেশন হয়তো অনেকেরই থাকে, কিন্তু সত্যি কথা হল, অ্যাস্পিরেশন থাকলেই তো হয় না, একটা বিশেষ ঘরানায় নিজের লেখাকে প্রাসঙ্গিক করে তুলতে হলে, আন্তর্জাতিক করে তুলতে হলে, বহুস্তরীয় করে তুলতে হলে অনেকটা পথ অতিক্রম করতে হয়। আমি সেরা কল্পবিজ্ঞান লিখতে চাই, আবার সেরা ঐতিহাসিক গল্পও লিখব, অসামান্য সামাজিক কাহিনি লিখব, মর্মস্পর্শী স্মৃতিকথাও লিখে দেব ঝটপট... ওসব শুনতেই ভালো লাগে। বাস্তবে, জিনিয়াস বাদে অমন কেউ করতে পারে না। আমার যতদূর ধারণা, সোহম জানেন, তিনি স্রেফ কল্পবিজ্ঞান লিখবেন এবং মন দিয়ে লিখবেন। সেই দায়বদ্ধতা থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছেন, হোমওয়ার্ক করেছেন, করছেন, বইপত্রের পাশাপাশি আধুনিক কল্পবিজ্ঞানের চলন ও দর্শন তিনি একদম গুলে খেয়েছেন। না খেয়ে থাকলে 'অপ্রাগৈতিহাসিক' এর মতো লেখা বেরোতে পারে না।


বইটা পড়েছি বেশ কিছুদিন আগে। কিন্তু আপাতত বইটা সঙ্গে নেই বলে বিস্তারিত আলোচনা লেখা একটু মুশকিল। কিন্তু এমন একটা উচ্চাকাঙ্খী ও গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্টে যে পরিশ্রম লেগেছে, সে নিয়ে স্পেকফিক আগ্রহী পাঠক হিসেবে দু চার লাইন লিখে রাখলে অন্যায় হবে না।

প্রথমেই, অতি সংক্ষিপ্ত সামারি।

'অপ্রাগৈতিহাসিক' আসলে কী নিয়ে? প্রথমেই জেনে রাখা ভালো, টেকনিক্যালি বইটির নাম 'অপ্রাগৈতিহাসিক: প্রথম পর্ব (ঈশ্বরের বাগান)' এবং এ-ই বইটি একটা ট্রিলজির প্রথম খণ্ড। তেলেঙ্গানার বেআইনি খনিতে কয়েক কোটি বছর পুরোনো একটা ফসিলে মানুষের জুতোর ছাপ পাওয়া গেছে, সেই কথা চাউর হতে একাধিক দেশের বিজ্ঞানী ও সরকার নড়েচড়ে বসেছেন। এবং সেই সূত্রে একটা অভিযানের সূচনা হয়, যা এই বইটির মূল বিষয়বস্তু। এটুকুতে আশা করি প্লটের কোনও স্পয়লার দেওয়া হল না।

বাট ওয়েট, ডিড আই সে প্লট? বাট ওয়ে��, প্লট ইজ নট দ্য অনলি কি থিং হিয়ার! প্লট আছে, কিন্তু শুধুই প্লট থাকলে এই বইয়ের কথা লিখতে হত না। হুম, এখানে দু এক কথা আরো বলে রাখি! বইটা পড়ে আমার অন্তত ব্যক্তিগত ভাবে যা মনে হয়েছিল সেইটুকুই, কারণ লেখক বা অন্যান্য পাঠকের পাঠ অভিজ্ঞতা বা ইন্টারপ্রিটেশন আমার চেয়ে ভিন্ন হতেই পারে।

'অপ্রাগৈতিহাসিক' ভীষণ একটা চনমনে সাস্পেন্স থ্রিলারের ভঙ্গিতে শুরু হয়েছে। একের পর এক রহস্য, অজানা তথ্য, প্রাগৈতিহাসিক থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক যুগের স্টেট অফ দ্য আর্ট টেকনোলজির তাকলাগানো তথ্য, এবং মাথা ঘুরিয়ে দেওয়া জটিল সব প্রশ্ন একে অপরের সঙ্গে মিশে একটা স্পাইডারনেট তৈরি করেছে। অনেক পাঠক হয়তো ভাবছেন বইটা একদম টেকনো থ্রিলারের ভঙ্গিতে শেষ লাইন অব্দি আপনাকে এজ অফ দ্য সিটে বসিয়ে রাখবে। মারকাটারি অ্যাডভেঞ্চার হবে ক্রিকটনের বইয়ের মতো। আমারও তাই মনে হয়েছিল। কিন্তু না, বইটার মাঝামাঝি গিয়ে আমার মনে হয়েছে, 'ওই বইটা' লেখক লিখতে চাননি। এখানে রোমাঞ্চকর সব ঘটনা ঘটছে পরপর, সার্ভাইভালের জন্য দাঁত চাপা লড়াই আছে, গায়ের রোম দাঁড় করানো ঘটনা আছে, অ্যাড্রেনালিন রাশ আছে, গতিও আছে, কিন্তু সেই সব ছাপিয়ে কেন এই বইটা স্বতন্ত্র হয়ে উঠেছে তার কারণ হল, বইটা আসলে একটা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের একটা বিশেষ দর্শনকে অবলম্বন করে এগিয়েছে, যার নাম পোস্ট সার্টেনিটি প্যারাডাইম।


এখন ওপর ওপর দেখলে মনে হয় পোস্ট সার্টেনিটি প্যারাডাইম এমন আর কী নতুন জিনিস? ট্রাডিশনালি একরকম কল্পবিজ্ঞান কাহিনি লেখা হত, তাতে অনুমান করা হত বিজ্ঞানের অগ্রগতি হতে হতে এমন একটা সময় আসবে যখন এই সমস্ত চমৎকার জিনিস থাকবে কিংবা তার ফলে কিছু কিছু ক্রাইসিস তৈরি হবে। কিন্তু পোস্ট সার্টেনিটি প্যারাডাইম এই বিশ্বাসটাকেই চ্যালেঞ্জ করে। এখন technological determinism কে চ্যালেঞ্জ করে বলা যে এআই এলে এই সমস্যা হবে বা রোবটরা বেশি শক্তিশালী হলে মানুষকে দাস হয়ে থাকতে হবে খুবই প্রাথমিক লেভেলের কল্পনা, সে নিয়ে অসংখ্য লেখা আছে। কিন্তু সমকালীন post-paradigm shift আরো অনেক বেশি জটিল প্রশ্ন তুলছে, সেখানে আসলে প্রযুক্তির সঙ্গে মানুষের অস্তিত্ব চেতনা আর মরালিটিকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। একটা বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার বা দুর্ঘটনা কীভাবে সমগ্র মানবজাতিকে একটা নৈতিক দ্বন্দের মধ্যে ফেলে দিতে পারে, সে নিয়ে চিন্তাভাবনা করাই পিসিপি ঘরানার প্রধান অস্ত্র।

সেখানে কিছুই নিশ্চিত নেই, সবই ধোঁয়াশা! যদি বিজ্ঞানের অগ্রগতির পূর্বপরিকল্পিত ভাবনাটাই মিথ্যা বলে জানা যায়? মানুষ বা মহাকাশ বা সময়ের যে প্রমাণিত কন্সেপ্ট আছে, তাই যদি বদলে যায়? সত্যি বলতে, বাস্তবেও scientific dogmatism এর দিন চলে গেছে। দিন দিন নতুন নতুন আবিষ্কার হচ্ছে, নতুন নতুন তথ্য জানা যাচ্ছে, তার ফলে বহুদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক ধারণা বাতিল হয়ে যাচ্ছে, বিজ্ঞানের সমস্ত কিছুই রিভিজন করতে হচ্ছে। এর বিকল্প নেই, কারণ 'নতুন' বিজ্ঞান বলছে 'পুরোনো' বিজ্ঞান ভুল, আবার 'ভবিষ্যতের বিজ্ঞান' ও 'বর্তমানের বিজ্ঞান' কে ভুল বলবে বলে অনেকের বিশ্বাস। কে জানে? এই বাস্তবতাবোধ, এই এপিস্টেমিক হিউমিলিটির ফলে মানবজাতির সত্তা ও অস্তিত্বের ধারণাই এখন এমন একটা জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখানে কোনও কিছুর নিশ্চয়তা নেই।

পোস্ট সার্টেনিটি প্যারাডাইম শিফটে এ-র সঙ্গে ঢুকে গেছে পোস্টমর্ডানিজম আর সিউডোসায়েন্সের নানান ধারণা। নতুন প্রযুক্তির ভুল এবং ইনএফিসিয়েন্সির ফলে নানারকমের পারশেপশন তৈরি হচ্ছে। এই যেমন, যে অ্যাপে টাইপ করছিলাম, সেখানে ইংরেজি শব্দ Dogmatism টাইপ করতেই বাংলায় 'কুকুরজাতীয়' লিখে দিল, Paradigm কে প্যারাডাইম না লিখে প্যারাডিগম লিখে ফেলল, epistemic কে 'জ্ঞানমূলক' করে দিল। অটোকারেক্টের তো যা তা অবস্থা! এখন আমি ভাবছি প্রযুক্তিটা ইনএফিসিয়েন্ট, কিন্তু তবু আমরা গুগল টাইপিং আর ট্রান্সলেট ব্যবহার করছি। এখানেই একটা গোটা জাতির দ্বন্দের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

বেলাইনে চলে এসেছি। এ নিয়ে বিশদে বলা এখানে অসম্ভব। কিন্তু বটমলাইন হল, আধুনিক কালে এই দর্শনকে অবলম্বন করে লেখা কল্পবিজ্ঞানে মূলত সময়, ইতিহাস, প্রযুক্তি এবং মানুষের অস্তিত্বচেতনার জটিল প্রশ্নগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এই বইগুলো শুধুই বিজ্ঞাননির্ভর অনুসন্ধানের গল্প বলে না, বরং মানবচেতনার দার্শনিক দিকগুলো নিয়ে একটা কাহিনি বুনে তোলে। 'অপ্রাগৈতিহাসিক' ও তার ব্যাতিক্রম নয়।

আধুনিক কল্পবিজ্ঞানের যে আরেকটি বিশেষত্ব এই উপন্যাসে পুরোদমে আছে, তা হল কল্পকাহিনির মাধ্যমে বাস্তব দুনিয়ার কথা তুলে ধরে। সহজ হিসেব হল, কল্পবিজ্ঞান আসলে আগামীর গল্প নয়, সার্থক কল্পবিজ্ঞান চিরকাল বর্তমানের কাহিনি বলতে চেয়েছে। মোড়ক যা ইচ্ছে হতে পারে, রূপক যা ইচ্ছে ব্যবহার করা যেতে পারে, মহাকাশ থেকে জলের নিচে, হাজার বছর পরের দুনিয়া বা হাজার বছর আগের দুনিয়ায় কাহিনি থাকলেও, আসলে তা আজকের গল্প। লেখায় বর্তমানের প্রতিফলন না থাকলে, সোশিওলজিকাল কন্টেক্সট না থাকলে, এই সময়ে অনুভব করা অসহায়তাগুলো লেখায় ফুটিয়ে না ওঠাতে পারলে সেই কল্পবিজ্ঞান কোনও কাজের নয়। এখন যদি কোনও পাঠক সায়েন্স ফিকশনে শুধু উদ্ভট গ্যাজেট খুঁজছে, এলিয়েন খুঁজছে আর রাজনীতি আর সোশ্যাল রিয়ালিটির আলোচনা/সংলাপ পেলেই হাই তুলছে, তাহলে তা পাঠকদের সমস্যা, সায়েন্স ফিকশন বা তার লেখকদের নয়। না না, আমি বলছি না, বিদ্বজনেরা বলছেন।

সেই জায়গা থেকে সোহমের উপন্যাস টপনোচ। প্রথম বইতেই তিনি যথাসম্ভব সোশ্যাল রিয়ালিটি দেখিয়েছেন, ক্রাইসিসটাকে বিশ্বাসযোগ্য ভাবে বুনেছেন, পাঠকদের অনাদি-অনন্ত বিস্তৃত জটিল সায়েন্টিফিক-এথনিক ডিলেমার মাঝে ফেলেছেন, এবং যতটা সম্ভব রোমাঞ্চ আর গতি বজায় রেখেছেন। তার ভাষাটাও ঠিক চিরাচরিত বাংলা নয়, একদম ঝরঝরে স্বতঃস্ফূর্ত বাংলা বলতে যা বোঝায় তা নয়, ইংরেজি স্পেকফিকে যে ধরনের ভাষা বা বাক্যগঠন থাকে, অনেকটা সেই ধাঁচের। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত ভাবে তাতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি, পাঠসুখে ব্যাঘাত ঘটেনি, বরং ব্যাপারটা লেখকের ক্রিয়েটিভ চয়েজ বলেই মনে হল। মেলভিল বা ম্যারি ডোরিয়া রাসেলের মতো অনেকেই গতানুগতিক ইংরেজি বর্জনকে একটা নিজস্ব ভাষায় উপন্যাস লিখেছেন, খানিকটা সেরকমই। আরো খোলতাই ভাষা হলে পড়তে বেশি ভালো লাগত না লাগত না, সেটা আপাতত বোঝার উপায় নেই।

যাই হোক, বাংলা সায়েন্স ফিকশনের জগতে এই বইটি এবং সিরিজটি অতি প্রয়োজনীয় সংয়োজন হতে চলেছে, সেটুকু স্বীকার না করে উপায় নেই। যাঁরা সিরিয়াস সাই ফাই নিয়ে ইন্টারেস্টেড, এই বইটা মিস না করাই ভালো। আপাতত দ্বিতীয় খণ্ডের অপেক্ষায়।

অপ্রাগৈতিহাসিক
সোহম গুহ
কল্পবিশ্ব প্রকাশ
৩৫০/-

33 reviews1 follower
May 26, 2024
এতদ্বারা বাংলা বিজ্ঞানভিত্তিক কল্পকাহিনীর একাধিক নবদিগন্তের উন্মোচন হ‌ইল। কাহিনীর সমাপ্তিতে আরো কতিপয় নবতর দিগন্তের প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে, আগামী পর্বগুলির প্রতীক্ষা অতঃপর যৎপরোনাস্তি শ্বাসরুদ্ধকর হ‌ইবে। আমাদিগের ভাষায় একটি কাহিনীর এহেন ব্যাপ্তির নমুনা অশ্রুতপূর্ব; সমগ্ৰ কাহিনীমালার পরিকল্পনাটিকে অনায়াসে মহাকাব্যিক বলা যায়। ইহাতে ধীমান জীবকুলের অকিঞ্চিৎকরতা ও মহানুভবতা, যথাযথ মর্যাদা সহকারে মহাজগৎ তথা বহুজগতের ধারণার আত্তীকরণ ও উপস্থাপন, স্থান এবং কালকে তাহাদিগের অকল্পনীয় বিস্তার সমেত কালসর্পসম স্পর্ধায় লেখনীস্থ করিবার গৌরবময় প্রচেষ্টা এই সকল‌ এবং আরো বহুতর গুণাবলী পরিলক্ষিত হয়।

ইহার উৎকর্ষের অন্যতম ক্ষেত্র অবশ্যই জ্ঞাত বিজ্ঞানের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রাখিয়া কল্পনার জালে জালে তাহার প্রসার। আমাদিগের বাস্তব স্থানকালের গণ্ডির বাহিরে ভিন্নতর ভৌতিক, রাসায়নিক, বিবর্তনীয় আদি পরিস্থিতির যে বিপুল সম্ভাবনা জ্ঞাত বিজ্ঞান হ‌ইতেই আহরণ করা যায়, তাহাকে সাহিত্যের উপজীব্য করিয়া লেখক যৎপরোনাস্তি রোমাঞ্চকর অবতারে পাঠকসকাশে তুলিয়া ধরিয়াছেন। কেবল যে সকল ক্ষেত্রে কাহিনী জ্ঞাত বিজ্ঞানের সীমানা ছাড়াইয়া যাইতে চায়, সেই সকল ক্ষেত্রে সজাগ কল্পনা অধিকার করে চালকের আসন, তবু বরেণ্য বিজ্ঞানীকুলের দ্বারা আলোচিত, সুচিন্তিত যুক্তিযুক্ত সম্ভাবনার সহায়তা ব্যতীত কদাপি নহে।

পরবর্তী উৎকর্ষের ক্ষেত্র কাহিনীর তাৎক্ষণিক প্রেক্ষাপট। প্রতি অধ্যায়ে ইতিহাস ও সমাজের প্রতি সচেতনতার ছাপ প্রশংসার দাবি রাখে। এই ক্ষেত্রেও, জ্ঞাত ইতিহাসকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়া কেবলমাত্র তাহার ফাঁকগুলিতে কল্পনার সৃজনপূর্বক মনোগ্ৰাহী দৃশ্যাবলী রচিত হ‌ইয়াছে। এই প্রতিটি ক্ষেত্র‌ই আগামী পর্বগুলিতে অধিকতর বিকাশের সম্ভাবনাময়।

এইবার প্রতিক্রিয়ার কিয়দংশ অপ্রিয় অথচ অপরিহার্য জ্ঞানে উল্লেখ করা যাউক। প্রথমত, ইংরাজীর সমৃদ্ধির তুলনায় বাংলা ভাষার স্বাস্থ্য ইদানীং ক্ষীণতর হ‌ইলেও বাংলার শব্দভাণ্ডার নিতান্ত উপেক্ষণীয় নহে। তবু লেখক যে ক্ষণে যথেষ্ট পরিচিত বাংলা শব্দাবলী উপেক্ষা করিয়া ইংরাজী ধরিয়া বসাইয়া দেন, মন ম্লান হ‌ইয়া পড়ে। আজিকার বাঙালি কি “চৌম্বকত্ব” বুঝে না? “প্রযুক্তি” বুঝে না? সমসাময়িক চরিত্রের কথোপকথনে দুর্ভাগ্যজনক হ‌ইলেও খিচুড়ি ভাষা থাকিবে, অন্যথায় বার্তালাপ আড়ষ্ট হ‌ইবে, ইহা মানিয়া ল‌ই। তবু কথক যে ক্ষণে চরিত্র নহেন, লেখক স্বয়ং নেপথ্যভাষণ করিতেছেন, তৎক্ষণে কেন প্রচলিত বাংলা শব্দ বঞ্চিত রহে?

দ্বিতীয়ত, পুস্তক সুগঠিত ও সুদর্শন; প্রচ্ছদের অনিন্দ্যসুন্দর “আধিদৈবিক” মহাকাশযানটি বাক্যরহিত করিয়া দেয়। অথচ লেখনী মুদ্রণপ্রমাদে ক্লিন্ন। লেখক লিখিয়াছেন, কিন্তু আধুনিক পুস্তকপ্রকাশ ব্যবস্থায় তিনি কদাপি একমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নহেন। অপরাপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ভাষার এহেন গৌরববর্ধক, সাহিত্যের এতগুলি দিগন্তের উন্মোচক একখানি সৃজনের প্রতি বানান সংশোধন, শব্দের পুনরাবৃত্তি দূরীকরণ ইত্যাদি অপরিহার্য কর্মটুকু করিবেন, পাঠকের এই দাবি বাতুলতা নহে।

সর্বসাকুল্যে ‘অপ্রাগৈতিহাসিক: ঈশ্বরের বাগান’ একখানি উৎকৃষ্ট ও উপাদেয় পুস্তক। বিজ্ঞানানুরাগী ও গল্পপিপাসু – উভয়ের তৃপ্তির যথেষ্ট রসদ ইহাতে পুঞ্জীভূত পাইবেন।
Profile Image for Nil Baidya.
14 reviews1 follower
March 6, 2024
উপন্যাসটা পড়ার পরই নামকরণের মানে বোঝা যায়।অপ্রাগৈতিহাসিক মানে যা প্রাগৈতিহাসিক নয়।মহাকাশ জাহাজের মধ্যে যে ইকো সিস্টেম ছিলো তা প্রাগৈতিহাসিক হিসাবে মেলে না।আবার ইশ্বরের বাগানের অর্থ বোঝা যায় শেষে এসে।এমন যারা পৃথিবীর প্রানী নয় তারা এখানকার পুরো জীব জগত বানিয়েছে।প্রচুর প্রশ্নের উত্তর মেলে না।হয়ত পরের পর্বে এর উত্তর মিলাবে।এমন এক জায়গায় শেষ হয়েছে মনে হচ্ছে এবার ফ্লাশব্যকে অন্য কোন জগতের কাহিনী বলা হবে।এই উপন্যাসের বিশালতা অবাক করে।বিগ ব্যাং থেকে রাকেশ শর্মার সারে জাহা সে আচ্ছা সবই আশ্চর্যজনকভাবে মিশে গেছে।প্রচুর বিজ্ঞানের বিষয় আছে যার জন্য একে কল্প কাহিনী না বলে কল্পবিজ্ঞান বলতে হবে।কল্পবিজ্ঞানপ্রেমীদের অবশ্যপাঠ্য।

যা ভালো লাগে নি।কিছু বানান ভুল আছে।এক জায়গায় লেখা আছে মুখের রক্ত পালিয়ে গেল।এর থেকে মুখ রক্তশুন্য হয়ে গেল লেখা হলেই ঠিক হত।
Profile Image for Raktim Sarkar.
28 reviews4 followers
May 11, 2024
শুরুটা যতটা ভালো শেষটা খেই হারিয়েছে। টানটান উত্তেজনা বেশ বোর করেছে, রিলাক্স করার কোনো সুযোগ দেওয়া নেই।

বিষয়টাকে over complicate করা হয়েছে।
1 review
March 2, 2025
After Cixin Liu's Three Body Problem or Remembrance of Earth's Past Trilogy, this was the best science fiction book I have read in the last 2 years. I will not share any spoilers but for any Hard Science Fiction lover and whoever can read in Bengali, this is a must read book.
I will be eagerly waiting for the next 2 parts of this trilogy, many thanks to Kalpabiswa Team and Author Soham Guha for bringing out this gem.
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.