আমারও একটা প্রেমকাহিনি আছে। আমিও ভালোবেসেছিলাম একজনকে। একজনকে নাকি দুজনকে! একটা হৃদয় এক জীবনে কয়জনকে ঠাঁই দিতে পারে? আমিও তো চেয়েছিলাম আমার ভালোবাসার মানুষের যে কাহিনি প্রাপ্তমনস্কের..... হৃদয়ের সব কটা চাবিই থাকুক আমার কাছে! তা কি আমি পেয়েছিলাম? একটুখানি ভালোবাসার জন্য তাহলে আমাকে কেন মাধুকরি করতে হলো হূদয়ান্তরে। আমার ভালোবাসার মানুষটিকে কি আমি পাব না? নাকি পাওয়া বলে কিছু নেই! ভালোবাসার গল্পই এটি। কিন্তু সরলরৈখিক গল্প নয়। গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের উক্তি, আমার হূদয়ে যতগুলো কুঠুরি আছে, একটা গণিকালয়েও ততগুলো ঘর নেই।
Anisul Hoque (Bangla: আনিসুল হক) is a Bangladeshi screenwriter, novelist, dramatist and journalist. He graduated from Bangladesh University of Engineering and Technology, trained as a civil engineer.
His inspiration in journalism and writing started during his student life. After his graduation he joined to serve as a government employee but resigned only after 15 days. Instead he started working as a journalist. He attended the International Writing Program at the University of Iowa in 2010. Currently, Hoque is working as an Associate Editor of a Bengali language daily, Prothom Alo.
His novel মা was translated in English as Freedom's Mother. It was published in Maithili too. He was honored with Bangla Academy Award in 2011.
ছারের সব পেমের উপন্যাসে নায়ক হয় চদরি সাব, মানে মেধাবি এনজিনিয়ার আর আবেগে ইমোশনাল হয়ে সোন্দরি নাইকা-ই প্রথম বলে চুমু দাও/আদর করো। :v :v আবহমানকাল ধরে ভদ্রলোক ইনটেনশনালি আর আনফরটুনেটলি এই একই সার্কেলে ঘুরপাক খাচ্ছেন। এটাতে অ্যাটলিস্ট রংপুর থেকে বেরিয়ে আম্রিকায় এসেছেন দেখে বিমলানন্দ পেলাম। :v
লেতালেতা ধরনের কাহিনি! মেয়ে কঠিন ভাব ধরে আছে যে প্রেম করবেনা। আসল কাহিনী মনে হচ্ছে যে ক্লাস ২ থেকে প্রেম করার জন্য বসে আছে, সুযোগের অভাব মাত্র! এখনো পর্যন্ত কোন চরিত্র খুব ভালো লাগেনি! প্রত্যেকটা অধ্যায়ের শুরুতে সুন্দর কিছু কবিতা আছে। কবিতাগুলা ভালো লাগসে বেশ! আমি শেষপর্যন্ত অপেক্ষা করতেসি যে শেষমেশ কোন চরিত্রর উপরে মায়া লাগে নাকি ঘুসি মেরে নাক ফাটায় ফেলতে মনে চায়!
আমেরিকায় অবস্থান কালে লেখক এর পরিচয় হয় এক বাঙালি মেয়ে ইভার সাথে,,, ইভা তাকে তার জীবনে প্রেম কাহিনী টি বলবে,,, প্রথমত লেখক এর ইভার কাহিনীটিতে ইন্টারেষ্ট না থাকলেও পরে এক পর্যায় খুব নেশাগ্রস্থ হয়ে পরে লেখক ইভার কাহিনী র জন্য,,, কি ছিল ইভার কাহিনী?? এই গল্পটিতে একসাথে দুটি গল্প একটি ইভার অতিত একটি বর্তমান,,, ইভার বাসায় একদিন আগমন ঘটে তার বাবার পুরোনো বন্ধুর ছেলে শুভ এর,, সে ইন্জিনিয়ার,,, ইভার মা বাবা আজ থেকে ২০ বছর আগে ঠিক করে রেখেছিল তার বিয়ে হবে শুভ এর সাথে,,,,, প্রথমত্ব ইভা রাজি ছিল না কিন্তু এক পর্যায় ইভা আর শুভর প্রেম হয়ে যায়,, দুজন দুজনকে অনেক ভালো বেসে ফেলে,,, শুভ এর মা একটু ইগো দেখালেও পরে রাজি হয় বিয়ে তে,,, তারপর একদিন ইভার মা বাবা ঢাকার বায়রে যাওয়ায় ইভা শুভকে তলব করে তার বাসায়,,, এবং ঠোঠ পর্যন্তই সীমাব্ধ থাকে,,, কিন্তু সে দিন কি এমন হয়েছিল যার জন্য ইভা ভেঙ্গে দিয়েছিল তার ভালোবাসা,,, ভালোবাসা টা ভেঙ্গেছে ঠিক সেই পর্যায় যখন ইভা আর শুভ এর বিয়ে আর কিছু দিন পর,,,,, এ ছিল ইভার অতিত।।।।। ইভা তার অতিতকে ভুলার জন্য চল আসে সুদুর আমেরিকায়,,, এখানে এসে সে শুভ এর মত আবিকল একটি ছেলে দেখতে পায়,,, পরে জানতে পারে ছেলেটির নাম সুদিপ্র,, জাতিয়তা নেপালীয়,,, নেপাল থেকে এসেছে,,, এখানে একটা পিজা বারে কাজ করে,,,, আসতে আসতে সুদিপ্র এর প্রেমে পরে যায় ইভা,,, সুদিপ্র ও ইভাকে অন্তর থেকে ভালোবাসে,,,, যেন একে অন্যের জন্য তৈরি,,, সুদিপ্র ভালোভাবেই জানত শুভ এর কথা,,, একদিন ইভা সারাদিন ইভা সুদিপ্র এর বাসায় কাটায় যখন সে ওয়াশরুমে যায় সুদিপ্র তার আইফোনে কিছু দেখেছিল,,, যা ছিল শুভ এর সত্য,,, ঠিক যে ঘটনা টা ইভা শুভ এর সাথে ঘটিয়েছে তাই ঘটল ইভার জীবনে,,,সুদিপ্র ইভার সাথে সম্পর্ক ভাঙ্গল। তারপর সুদিপ ইভা কে সাজেসটেড করল যে ঘটনাটা তুমি শুভ এর সাথে ঘটিয়েছ তা আজ তোমার সাথে ঘটল,, তুমি আমাকে ভালোবাস কিন্ত তোমার মন পরে আছে শুভ এর কাছে আর ঠিক সেই দিন শুভ তার রিয়েল লাইফ এ তোমাকে ভালোবাসত কিন্তু ভারচুয়াল লাইফে অন্য কারো সাথে টাইম পাস করত,,,, তুমি তাকে ভুল বুঝে চলে এসেছ,,, সে দিন শুভ এর সাথে যে ঘটনা টা ঘটেছ আজ তোমার সাথে তাই ঘটল,,,, ত তোমার উচিত শুভ এর কাছে ফিরে যাওয়া,,,, হ্যা শুভ কিন্ত এখনো ইভার জন্য অপেক্ষা করে,,,,, তারপর ইভা দেশে চলে আসল,,, ইভা কি পেয়েছিল শুভ কে?? সুদিপ ও ইভাকে ভালোবেসে ছিল তার কি হল? আনিসুল হক কি শেষ করতে পরেছে ইভার কাহিনী?? হ্যা জানতে হলে ত অবশ্যই পড়তে হবে আনিসুল হকের রচিত আমারও একটি প্রেমকাহিনী আছে।।
ছুটির দিন, হাতে অনেক আজাইরা সময় থাকায় প্রথমবারের মতো আমি আনিসুল হকের একটা বই পড়ে ফেললাম এবং আমার একটি মনের আশা পূরণ হল! কি বইরে বাবা! যেমন নাম, তার তেমন কাহিনী! কিন্তু বইয়ের নাম তো আসলে হওয়া উচিৎ ছিল, আমারও দুটি প্রেম কাহিনী আছে! :v লেখায় ওনার ভাষার ব্যবহার দেখে আমি অবাক হয়ে গেলাম। এইসব বই আবার মানুষ ছাপেও! উনি আবার বইয়ের প্রত্যেক অধ্যায়ের শুরুতে ভাব বাড়ানোর জন্য একটা করে কবিতাও যোগ করে দিয়েছেন দেখলাম। এটার কারণ কি ছিল বুঝলাম না। কবিতাগুলোর সাথে কাহিনীর কোন মিল ছিল বলে তো মনে হল না! ঐ যে একটা কথা আছে না, "কিসের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে ঘি।" :v যাই হোক, যারা বিয়ে শাদী করার প্ল্যান করছেন, তারা এই বই পড়ে আইডিয়া নিতে পারেন। বিয়ের আগে হলুদ মাখলে কি হয়, বিয়ের শপিং কোত্থেকে করবেন, কার্ড কোত্থেকে কিনলে ভালো হয়, হানিমুনে কই যাবেন! :v ওহ, ব্রেক আপ হলে পরে কিভাবে নিজেকে মোটিভেট করে স্কলারশিপ নিয়ে বাইরে চলে যাবেন সেই ব্যাপারেও আইডিয়া দেওয়া আছে। আর পুরনো প্রেমিকের মতো কাউকে রাস্তায় দেখলে কিভাবে তার মধ্যে প্রেম-প্রেমভাব জাগিয়ে তোলা যায়, সেই বিষয়ে একটি বোনাস আইডিয়া আছে। :vখুবই কাজের বই। :v :v :v
লেখক আনিসুল হকের সাথে আমেরিকাতে ইভা নামের একটা বাংলাদেশী মেয়ের দেখা হয়, কথায় কথায় ইভা তার প্রেমের কাহিনি লেখককে শুনাতে শুরু করে। অতীতের দুটা টাইমলাইনের গল্প+বর্তমানে লেখকের সাথে ইভার কথোপকথন একসাথে চলতে থাকে।
আমাদের বর্তমান সময়ের প্রেমের বিষয়বস্তু, জটিলতা, আমাদের মনের আবেগ, অভিমান এগুলো বাস্তবিকভাবেই ফুটে উঠছে। শুরুতে সবকিছু ধীরে ধীরে চললেও শেষের দিকে গল্প দ্রুতগামী হয়ে উঠে, অনেক কিছু ঘটে যায়, যেটা কিছুটা অবাস্তবিকও মনে হয়, মনে হবে জোর করে মিলানো হচ্ছে ঘটনাগুলো।
ইভার মনে বিভিন্ন সময়ে যে প্রেমের চড়াই-উতরাই বা মনের আবেগের পরিবর্তন এটা ভালোই ফুটে উঠছে।
আর লিখার প্রতিটা অধ্যায়ে কবিতা যোগ করা, এটা কিছুটা অপ্রোয়জনীয় মনে হইছে, গল্পের সাথে জোর করে অনেক কবিতা মিলানোর চেষ্টা করা হইছে, এটার দরকার ছিলো না।
বইটা অসাধারণ কিছু না, সাধারণ প্রেমে যেমন জটিলতা তৈরি হয়, মান অভিমান হয়, এসবই এখানেও কিন্তু সাধারনের মধ্যেও সুন্দর একটা লিখা।
অসাধারণের আশা না রেখে পড়লে ইভার প্রেমের কাহিনি আমাদের জীবনের সাথে অনেকাংশেই মিলে যাবে যেটা এই গল্পের সবচেয়ে বড় পজিটিভ দিক। পূর্নতা আর অপূর্নতার ঢেউয়ে জীবনের রঙ যে কিভাবে বদলে যায়, তারই প্রতিচ্ছবি ইভা।
বিখ্যাত কিছু চমৎকার কবিতাংশের উল্লেখ আছে প্রত্যেক পরিচ্ছেদের শুরুতে৷ এজন্যই দুটো তারকা দিয়েছি। এছাড়া খুবই গড়পড়তা মানের একটি লেখা পড়ে প্রচন্ড আশাহত হয়েছি। সময় পেলে কবিতাংশগুলো এখানে লিখে রেখে যাব।
> আমার কাছে প্রেডিক্টেবল মনে হয়েছে অর্ধেকটা পড়ার পর আহামরি কিছু নয় । কিন্তু "শেষটা" রবীন্দ্রনাথ বাঁচিয়ে দিলেন। কবিতাগুলো বাড়তি পাওনা অবশ্যই। আবারো বলছি, শেষে রবীন্দ্রনাথকে যথার্থ ভাবে পেয়ে বলবো ভাল লেগেছে পড়তে।