Jump to ratings and reviews

ভারতবর্ষ

A bengali novel by Sadique Hossain

99 pages, Hardcover

Published January 1, 2024

Loading...
Loading...

About the author

Sadique Hossain

8 books2 followers

Ratings & Reviews

What do you think?

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
0 (0%)
4 stars
1 (100%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 1 of 1 review
Profile Image for Alamgir Baidya.
237 reviews7 followers
March 5, 2024
book cover

“…গণতন্ত্র নামের এই ফ্যালাসিটা টিকে থাকে বুদ্বুদের জন্য। প্রোগ্রেসিভ আর লেফটিস্টরা আমাদের সেই বুদ্বুদটা দেয়। ওরা ওদের মতো কথা বলুক। রাজনোরে ঘটনা ঘটলে কোচিতে মিছিল করুক। এতে মনে হয় স্পিচ অফ ফ্রিডম রয়েছে। এখনও পরিস্থিতি ততটা ভয়ানক নয় … এইসব মিছিল, পোস্ট-এডিট লেখাটা ওদের ভ্যানিটি। পাপস্খলন। ওটা ওদের করতে দেওয়াই উচিত … বুদ্বুদের ভেতরে কিছু কাজকম্ম করে আসলে নিজেদের ভ্রান্ত আত্মসম্মান বজায় রাখতে চাইছে। এরা নিজেরাই নিজেদের বাহবা দেয়। ভারতের লেফটিস্টরা হল পৃথিবীর সমস্ত বিচিত্র লেফটিস্টদের ডায়াস্পোরা। ওদের ডিসটার্ব করার কোনও মানে হয় না।”


কথাগুলো বলছেন যিনি, তাঁর নাম মাধব গোলওয়ালকার। সাদিক হোসেনের উপন্যাস “ভারতবর্ষ”এ বর্ণিত ধর্মতান্ত্রিক ভারতবর্ষের প্রধান আইডিওলগ। ‘মাধবজী’ অন্তরালে থাকতে পছন্দ করেন। অন্তরালে থেকে গড়ে তোলেন নিজের স্বপ্নের ভারতবর্ষ। পূণ্যভূমি। এই কর্মকাণ্ডের মুখ দেশের প্রধানমন্ত্রী মহেশচন্দ্র স্বামী ওরফে মহেশভাইও মাধবজীর অনেক অনেক বোড়ের অন্যতম। গুরুত্বপূর্ণ খুবই, কিন্তু অপরিহার্য নন। যেমন বোড়ে মহেশভাইয়ের রাজনৈতিক দল, এমনকি সেই দলের বিরোধীরাও। মাধবজীর সঙ্গে পিআর ফার্ম ‘ওয়েসিস’এর কর্ণধার রাঘবনের কথোপকথন এ প্রসঙ্গে প্রণিধানযোগ্য:
“…উত্তরপ্রদেশ নিয়ে ওদের এখন কী মত? রাঘবন জানালেন, জব, ইনফ্লেশন, কৃষক আত্মহত্যা ইত্যাদি থেকে চোখ ঘোরাতেই নাকি এসব ইচ্ছাকৃতভাবে করা হচ্ছে। জাতপাতের রাজনীতির সমালোচনা করছে। পাইপে আগুন জ্বালালেন মাধবজি, এই জন্য আমি সবসময় মনে করি দে আর দ্য মোস্ট প্রেসিয়াস অ্যাসেটস অফ আওয়ার জার্নি।”

এদেশের উদারপন্থী ও বামপন্থী বৃত্তগুলো থেকে একাধিকবার উঠেছে এই আত্মসমালোচনা। কিন্তু ফিকশনের জোরের জায়গা এখানেই। ভুরিভুরি প্রবন্ধ ও প্রতিবেদন লিখে যে প্রভাব পড়েনা, একটা রাজনৈতিক উপন্যাসে একই বক্তব্য যখন উঠে আসে মাধব গোলওয়ালকারের মতো একটা চরিত্রের মুখ থেকে, তার অভিঘাত হয় অনেক গভীর, অনেক ব্যাপ্ত।

‘রাজনৈতিক উপন্যাস’ একক তকমা হিসেবে ভুল অবশ্য এক্ষেত্রে। ‘নিউরোলিঙ্ক’ দিয়ে মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ বা অগমেন্টেড রিয়ালিটি দিয়ে ডিপ ফেককে আরও বিশ্বাসযোগ্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া — এগুলো হয়তো ‘ভারতবর্ষ’কে করে তোলে একটি ডিস্টপিয়ান কল্পবিজ্ঞান। এবং ডিস্টপিয়ান উপন্যাসে কল্পবিজ্ঞানের ব্যবহার খুবই পরিচিত; ‘১৯৮৪’ বা তারও আগে ‘ব্রেভ নিউ ওয়ার্ল্ড’এও। যেটা পরিচিত নয়, তা হলো বর্তমানের সঙ্গে ডিস্টপিয়ার এতখানি নৈকট্য, যে বইটা আদেও ডিস্টপিয়ান নাকি চলমান সময়ের ভনিতাহীন ভাষ্য, তা নিয়ে ধন্দ জাগে। আমাদের ভারতবর্ষে গণপিটুনিতে হত্যার বছরে কয়েক ডজন ঘটনা যা খবর পর্য্যন্ত এসে পৌঁছায়, সেটাই সাদিক হোসেনের ‘ভারতবর্ষ’এ হয়ে যায় একই দিনে কয়েক হাজার। আমরা গোবলয়ের প্রান্তিক জায়গায় যে বীভৎসতার খবরে শিউরে উঠতে উঠতে ক্লান্ত হয়ে এখন স্রেফ এক সেকেন্ড থমকাই, সাদিক বড় জোর সেটাকে টেনে আনেন খাস মহানগরীর ট্রাফিক সিগন্যাল পর্য্যন্ত। এটুকুই।

উপন্যাসটির ভালো না লাগা দিকগুলোর মধ্যে প্রথমেই আছে তার গতি। সাদিক নির্মেদ গদ্যের গল্পকার। এই গতি, এই বাহুল্যের বর্জন তাঁর ছোটগল্পগুলোর একটা ভীষণ আকর্ষণীয় দিক। কিন্তু উপন্যাস বোধহয় একটা ফর্ম হিসাবে আরেকটু ধীরলয় দাবি করে। কিছু পার্শ্বচরিত্র হয়তো আরেকটু বিশদে, আরেকটু সময় নিয়ে নির্মাণ করাই যেতো। একইভাবে বীভৎসরসের দৃশ্যগুলো হয়তো আরেকটু পরিসর দিয়ে গড়ে গড়ে এগোলে অভিঘাত আরেকটু বাড়তো।

বইটার যে রাজনীতি, তার একটামাত্র প্রেক্ষিতের সাথে আমার অসম্মতি থাকবে। বইয়ের নবনাজিরা পূর্বসূরীদের মতোই নিজেদের মতাদর্শের প্রতি শেষপর্য্যন্ত বলিপ্রদত্ত। এটা লেখক হয়তো নাজি জার্মানির পতনের সময়ের ঘটনাপ্রবাহের সাথে তুলনা টানতেই করেছেন। কিন্তু দেশের সব শেষ করে নিজেদের বেলায় তারা চরম স্বার্থপরতা দেখাচ্ছে, এইরকম ভণ্ডামি হয়তো খলচরিত্র থেকে অপ্রত্যাশিত হতোনা। অন্ততঃ আমাদের ভারতবর্ষে তো এরকম নিদর্শন অপ্রতুল নয়।

এছাড়া বইটার নবম অধ্যায়ের শেষের দিকে একটা প্রমাদ ঘটেছে। স্পষ্টতই মাধব গোলওয়ালকরের কিছু সংলাপ, মহেশচন্দ্র স্বামীর সংলাপ বলে ছাপা হয়েছে। আশা করি, আগামীর সংস্করণগুলোতে এটা সংশোধন করে নেওয়া হবে।

সবশেষে বলি, এই ভারতে সাদিক হোসেনের ‘ভারতবর্ষ’ একটা অত্যন্ত জরুরি কাজ। আমাদের কোনো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আদেও থাকবে একথা আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত বলতে পারছি না। কিন্তু যদি থাকে, তাদের জন্য এরকম কিছু ‘ভারতবর্ষ’ যেন রেখে যেতে পারি আমরা। তারা যেন না ভোলে, তারা যেন আবার একই ভুল না করে। ইতিহাসের চাকা ঘূর্ণায়মান, একথা মেনেও তারা যেন পরবর্তী সংকটকালের আগাম প্রস্তুতিটুকু সেরে রাখতে পারে।

‘ভারতবর্ষ’ পড়ুন। ‘ভারতবর্ষ’ পড়ান।
Displaying 1 - 1 of 1 review