গ্রামের অতি সাধারণ মেয়ে ময়না। যে সৌন্দর্য্যকে উপভোগ করতে শিখেছে দারুনভাবে। নদী, গাছ, ফুল-পাতা, ছাগলের মোলায়েম শরীর সবই তার কাছে খুব বেশী সুন্দর,সুখের। সে নিজে সুন্দর তাই পৃথিবীটাও তার কাছে সব সময়ই সুন্দরভাবে ধরা দেয়। কিন্তু তার কোমলতায় নিদারূণ পৈশাচিকভাবে কলঙ্কের বীজ বুনে দেয় একদল বুনো শুয়্যর। এরপর, নোংরা গর্তে পড়ে যাওয়া নিষ্পাপ কিশোরী নিষ্পেষিত হতে থাকে ধর্মের গেড়াকলে। অন্ধকারে ডুবে যাওয়া মেয়েটি আলোর পথ খুঁজে পেতে চায়....কিন্তু কোথায় সে পথ? ধর্ষণ...বিভৎস একটি শব্দ। কিছুদিন আগে শুনেছিলাম আমাদের গ্রামের দশ বছরের শিশুকে ষাট বছরের এক বুড়ো শুয়্যর ধর্ষণ করেছে। শিশুটির জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। কিন্তু এখনও সুস্থ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে সেই শয়তান। আমার আট বছরের মেয়েকে নিয়ে বড় ভয় হয়। আমার পরিবার তাকে চোখের আড়াল হতে দেয়না। ছোট্ট মেয়ে খেলতে পারেনা, মাঠে দৌড়াতে পারেনা,পুকুরে ডুব দিতে পারেনা। ঘরে বন্দী, কার্টুন আর সিরিয়াল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। জানিনা ওর মানসিক বিকাশ কতখানি হবে। প্রকৃতির সাথে সম্পর্কহীন থেকে কতখানি নিতে পারবে বা দিতে পারবে এই পৃথিবীকে?!? সাহিত্যে সত্যতার প্রসারতা নিয়ে প্রশ্ন আসতেই পারে, সন্দিহান কোন পটভুমি হলেও হতে পারে। তবে আত্মবিশ্বাসের দারস্ততার চাইতে সহজ উপায় হল সামগ্রিকতার সাথে বাস্তবতার সমন্নয় বিবেচনা। সত্যতার বিচারে নিজেকে আদর্শ না মেনেও, চোখ কান খোলা রেখে পৃথিবীর চলন ভূমির অবস্থান হিসেব করে অাকন্ঠ চিত্তে আমি-লেখকের লেখার প্রতি জানাই আমার সহস্র জনমের সম্মান। শুরু থেকেই আশায় ছিলাম লেখক কোন না কোন সময় অবশ্যই একঘেয়ে ভাবে সমাজের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করবেন। আমাকে আশাহত করেছেন নির্দয়ের মত। ভালোলাগা দিয়েছেন সত্যিকার একজন লেখকের মত।
Humayun Azad (Bangla: হুমায়ূন আজাদ) was a Bangladeshi author and scholar. He earned BA degree in Bengali language and literature from University of Dhaka. He obtained his PhD in linguistics from the University of Edinburgh in 1976. He later served as a faculty member of the department of Bengali language and literature at the University of Dhaka. His early career produced works on Bengali linguistics, notably syntax. He was regarded as a leading linguist of the Bangla language.
Towards the end of 1980s, he started to write newspaper column focusing on contemporary socio-political issues. Through his writings of 1990s, he established himself as a freethinker and appeared to be an agnostic. In his works, he openly criticized religious extremism, as well as Islam. In 1992 Professor Azad published the first comprehensive feminist book in Bangla titled Naari (Woman), largely akin to The Second Sex by Simone de Beauvoir in contents and ideas.
The literary career of Humayun Azad started with poetry. However, his poems did not show any notable poetic fervour. On the other hand his literary essays, particularly those based on original research, carried significant value.
He earned a formidable reputation as a newspaper columnist towards the end of 1980s. His articles were merciless attacks on social and political injustice, hypocrisy and corruption. He was uncowed in protesting military rule. He started to write novels in 1990s. His novel Chappanno Hazar Borgomile is a powerful novel written against military dictatorship. Azad's writings indicate his distaste for corrupt politicians, abusive military rulers and fundamentalist Islam. Nevertheless, his prose shows a well-knit and compact style of his own. His formation of a sentence, choice of words and syntax are very characteristic of him. Although he often fell victim to the temptation of using fiction as a vehicle of conspicuous political and philosophical message, he distinguished himself with his unique style and diction.
On August 11, 2004, Professor Azad was found dead in his apartment in Munich, Germany, where he had arrived a week earlier to conduct research on the nineteenth century German romantic poet Heinrich Heine. He was buried in Rarhikhal, his village home in Bangladesh.
In 2012, the Government of Bangladesh honored him with Ekushey Padak posthumously. Besides this, he was honored with Bangla Academy Award in 1986.
বইটি নিয়ে কীভাবে কিছু বলবো তা ঠিক করতে চাচ্ছি। লেখক আমাদের সমাজের চিত্র তুলে ধরেছেন, আমাদের সমাজ যা-তা লিখেছেন, সব ঠিকঠাক।কিন্তু হঠাৎ যেনো লেখা খেই হারিয়ে ফেলেন। মনে হয় যেনো প্রচন্ড ক্ষোভ আর রাগ থেকে লাইনগুলোর জন্ম। যার কারণে কিছু কিছু বিষয় খাপছাড়া।
ক্ষমতা দিয়ে সব সম্ভব। আবার ধর্মের দোহাই ক্ষমতার সাথে মিলে গেলে মানবিকতা বিবর্জিত মানুষগুলো কিছুরই ধার ধারেনা৷ ধর্মের নাম দিয়ে তারা শেকল বানাতে থাকে। নিজেদের জন্য ফাঁকফোকর রেখে দিয়ে দূর্বল, ক্ষমতাহীনদের উপর ছড়ি ঘুরিয়ে নিতে পারে। উপন্যাস হিসেবে পড়তে ভালো লাগেনি। কিন্তু কিছু কিছু কথার মাঝে নিজেকে, নিজের চারপাশটা এতোটাই চোখে পড়ে যে চার তারা না দিয়ে পারলাম না। পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিলো-আরে এমন তো হয়। কতো হচ্ছে এখনো,অবস্থা কী বদলেছে? সেদিন নিউজফিডে দেখলাম একজন মহিলা একটা মেয়ের উপর হম্বিতম্বি করে যাচ্ছে,যাচ্ছে -তাই বলে যাচ্ছে-এমনকি তার মতোন পোশাকের জন্যই নাকি ধর্ষণ হচ্ছে,আরো কতো কী বললো।মহিলার চিৎকারের জন্য অন্যজন কোনো জবাব দিয়েছে কিনা শুনতে পাইনি।তবে কাউকে দেখলাম না ওই মহিলাকে এসে থামাতে। আমাদের সমাজ এমনই।দাঁড়িয়ে তামাশা দেখতে এদের ভালো লাগে,দোষারোপ করতে ভালো লাগে,শেকল বানাতে ভালো লাগে এদের।
গল্পটা একটা গল্পের, যে ১৩০+ পৃষ্ঠায় এগুতে পারেনি এক লাইনও, কারণ ফ্ল্যাপেই তার চলার পথের সমাপ্তি টেনে দেয়া হয়েছে। যদি ফ্ল্যাপেই সবটা বলে দেবেন, তবে এতগুলো পৃষ্ঠায় বইটা ছাপার কী দরকার ছিল? পাঠকের হাতে ফ্ল্যাপ ধরিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেই হতো!
গল্পটা একটা পরাজিত গল্পেরও, যে পরাজিত হয়েছে আর সব রাগ-বিদ্বেষ আর বিশ্বাসের কাছে। বাঙালি মুসলমান সমাজের প্রতি লেখকের রাগ ছিল, থাকাটা অনেক ক্ষেত্রে অযৌক্তিক নয়, আর এমন একটা রাগ থেকেই বইটার শুরু। যৌক্তিক উপায়ে গুছানোভাবে এই বইতে সেই রাগ প্রকাশিত হতে পারতো, কিন্তু তা না করে গল্পের সাথে প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক সব রাগ ঢালার উপযুক্ত ক্ষেত্র তৈরি না করেই ঢেলে দিয়ে গল্পটা নষ্ট করা হয়েছে। উপন্যাসের অর্ধেকের বেশি অংশ কেবল অপ্রাসঙ্গিক রাগের প্রকাশ করতেই ব্যবহার হয়েছে, যা এই উপন্যাসে না করে অন্য কোনো উপন্যাসে করলে ভালো হতো।
আর অন্ধ আজাদবিদ্বেষীদের উদ্দেশ্যে, তারাগুলো হুমায়ুন আজাদের চিন্তার প্রতি নয়, এই একটিমাত্র বইতে চিন্তার প্রকাশভঙ্গির মূল্যায়ন।
আমি ঠিক বলতে পারবো না আমার কেমন লাগছে, পুরো বই এর ঘটনা বর্ণনা অসাধারণ। ডায়লগ গুলো হৃদয় ছুঁয়েছে, প্রকৃতির বর্ণনা অনেক সুন্দর। আর শেষটা! লেখক ভালোই করেছেন শেষটার বিশদ বর্ণনা না দিয়ে, নিতেই পারতাম না! অসাধারণ বই!
চলুন একটা গল্প শোনাই, একটি গ্রামের গল্প। গ্রামের নাম কেদারপুর। গাছপালা, ঝোপঝাড় জঙ্গলে ঘেরা এই কেদারপুর যেখানে দুপুরে সন্ধ্যায় বাঁশঝাড়ের শনশন শব্দ শোনা যায়, গ্রাম ভরে নদীর গন্ধ, ঢেউয়ের গন্ধ। গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বর্ণনায় বন্দে আলী মিয়ার কবিতার লাইনগুলো মনে পড়বে- ‘আম গাছ, জাম গাছ, বাঁশঝাড় যেন, মিলেমিশে আছে এরা আত্মীয় হেন।’ এই গ্রামের প্রাণোচ্ছ্বল কিশোরী ময়নাকে নিয়েই উপন্যাসের পথচলা। ফুলের মতো নিষ্পাপ ময়না ইছামতির ঢেউ, পাটখেতের নিবিড়তা, সুবিশাল আকাশের অসীমতায় মুগ্ধ হয়ে বড় হওয়ার রঙিন স্বপ্ন নিয়ে বেড়ে উঠছিল ঐ গ্রামে। কিন্তু এমনই এক সময়ে নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া এই কিশোরীর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ দুর্যোগ। সে গণধর্ষণের শিকার হয়। কী যেন ভেবে নরপশুরা ওকে হত্যা না করেই পালিয়ে যায়। ময়না বেঁচে যায়। কিন্তু এই বেঁচে থাকা কী আদৌ বেঁচে থাকা? শুরু হয় ধর্ষিতার অভিশপ্ত জীবন। স্বপ্নগুলো পুড়তে থাকে, ছাঁই হতে থাকে। ওর চিরচেনা গ্রাম, কাছের মানুষগুলো কেমন যেন অচেনা হয়ে যায়। কিছুদিন পর জানা যায় সে গর্ভবর্তী। পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। কিন্তু ময়না বাঁচতে চায়। যেকোনো কিছুর বিনিময়ে বেঁচে থাকতে চায়, পড়াশোনা করতে চায়, স্বপ্ন পূরণ করতে চায়। সে লড়াই ময়নার একান্ত নিজের। কিন্তু কী হলো শেষমেষ?
উৎসর্গ ১০,০০০, এবং আরো ১টি ও অজস্র ধর্ষিতাকে- বাঙলাদেশকে
বইয়ের ফ্লপে কাহিনী সংক্ষেপ পড়তে গিয়ে স্পয়লার খেয়েছি। গল্পের টুইস্টটা যদি ফ্লপেই পাঠককে জানিয়ে দেওয়া হয় তবে আর পড়ার ইন্টারেস্ট থাকে না। প্রকাশকের এ বিষয়ে নজর রাখা উচিত ছিল। এ ধরণের সিরিয়াস রসিকতার মর্মার্থ কী তা আমার ছোট মাথায় ধরলো না!
‘হুমায়ুন আজাদের বই অর্থাৎ পড়া যাবে না’ এই ক্যাটাগরির পাঠকের জন্য বইটা না। আজাদ বিদ্বেষীরা দূরে থাকুন। দুর্বল চিত্তের পাঠকরা এই বই পড়ার সিদ্ধান্ত ভুলেও নেবেন না। বীভৎস ঘটনার জীবন্ত বর্ণনা সহ্য করার ক্ষমতা থাকলেই বইটি পড়ার সাহস করবেন।
১৩২ পৃষ্ঠার বইয়ের প্রতিটা পাতা উপহার দিয়েছে নিদারুণ যন্ত্রণা। এ যন্ত্রণা উদিত হবে প্রতিটি পাঠকের হৃদয়ে। দারুণভাবে ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজব্যবস্থা, নারীর প্রতি অবহেলা, ধর্মীয় কুসংস্কার এবং বিচারের নামে প্রহসনের নিখুঁত চিত্র। এর আগে কোনো বই পড়ে এতটা কাঁদিনি। বইয়ের পাতা বারবার ভিজে উঠছিল অশ্রুতে। ‘ময়না’ আসলে বাংলাদেশের নারীদের প্রতীকী চিত্র। তাই বুঝি ময়নার ব্যথাগুলো, আতঙ্কগুলো আমাকেও ঘিরে ধরছিল। ময়নার মাঝে নিজেকে খুঁজে পেতে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয় নি।
নির্মমতার শিকার হয়েও ময়নার আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা, বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্খা আমাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। পুরো বইয়ের ঘটনা আঞ্চলিক ভাষায় লেখা। আঞ্চলিক ভাষায় লেখা উপন্যাসের ক্ষেত্রে আমি মনোনিবেশ করতে বেশ অসুবিধেই পড়ি। হরিশঙ্কর জলদাসের বইগুলো বেশিরভাগই ভাষার দুর্বোধ্যতার কারণে অর্ধেক পড়ে রেখে দিয়েছি। এই বইয়ে প্রথম দিকে ভয় পাচ্ছিলাম রিলেট করতে পারবো কি না। কিন্তু একদমই সমস্যায় পড়তে হয় নি। উপন্যাসের চরিত্রগুলোকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছি।
হুমায়ুন আজাদের বইয়ের অন্যতম বিরক্তিকর ব্যাপার যেটা আমার কাছেমনে হয়- অত্যাধিক গালাগালির ব্যবহার। অন্যান্য বইয়ের তুলনায় এই বইয়ে গালাগালির মাত্রা খানিকটা কম। এক বসায় পড়ার মতোন বই নয়। ধীরে ধীরে এগিয়েছি। দুই রাত ঘুমুতে পারিনি ভয়ে, আতঙ্কে। প্রত্যেক সবল চিত্তের পাঠিকার কাছে আমার অনুরোধ একবার হলেও পড়বেন।
উপন্যাসের পরিণতি ভালো লাগে নি। কিন্তু এর চেয়ে যথার্থ পরিণতি হয়তো হতে পারতো না। অন্য বই পড়ার পর শেষ পাতায় এসে খানিকটা চোখের জল গড়ায়। কিন্তু এই বইয়ের প্রতিটা লাইন পড়ে গায়ে কাটা দিয়েছে,শিউরে উঠেছ��, হাউহাউ করে কেঁদেছি। তিন দিন ধরে মন খারাপ। রেশ অনেকদিন থাকবে। এক কথায় যদি বলতে বলেন বইটা সম্পর্কে বলবো, ‘এটি প্রতিদিনের ঘটে চলা বাস্তব ঘটনারই কোনো একটি, গল্প নয় খুব বেশি করে সত্যি।’
গ্রামে একটা ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে লেখা এই উপন্যাসটি। এই বইয়ের মাধ্যমেই আমার এই লেখকের লেখার সাথে পরিচয়। বাক্য গঠনে শব্দের গাঁথুনি, যথাযথ প্রয়োগ আমাকে মুগ্ধ করেছে। এতো সুন্দর লেখন শৈলী খুব কমই আছে আমাদের সাহিত্যে। তবে উপন্যাসটা উপন্যাস হিসেবে পুরোপুরি ভালো লাগেনি। লেখক কিছু বিষয় অতিরিক্ত আলোচনা করেছেন যা তিনি অন্য কোন বইতে লিখতে পারতেন। শিল্প-সাহিত্য সাধনায় বোধহয় লেখকের ক্ষোভ প্রকাশ পেলে তার মাধুর্য হারায়।
বইটি পড়ে মনে হয়েছে প্রচন্ড রাগ ও ঘৃণার সাথে আজাদ বইটি লিখেছেন। মাত্রাতিরিক্ত রাগ প্রকাশ করতে গিয়ে কিছু জায়গায় খাপছাড়া খাপছাড়া লেগেছে। সে খামতিটুকু বাদ দিলে বইটি চমৎকার। হুমায়ুন আজাদের সংলাপের আলাদা করে ভক্ত আমি, এখানেও সেটির প্রকাশ ঘটেছে। ময়নাকে নিয়ে আজাদ যা বলিয়েছেন, তা বুকের ভিতরে গিয়ে আঘাত করে। শিউরে উঠি লজ্জায়, ঘৃণায়, বেদনায়।
২০২০ সালের বাংলার ছবি এ বই। খুব বেশি পরিবর্তন হয় নি ঐ শুয়োরদের। সৌন্দর্যের এমন বিস্তার যা সবখানে পাওয়া যাবে তা কখনোই কেড়ে নেয়া যাবে না।বাঁচার ইচ্ছা ও অধিকার প্রত্যেকের নিজস্ব