ধরুন, আপনি কোনো মানুষকে দেখে তার সম্পর্কে বলে দিলেন কেমন হবে বিষয়টা? আবার ধরুন আপনি এনজাইটিতে আছেন, ডিপ্রেশনে আছেন, সাইকোলোজিক্যালভাবে ডিস্টার্ব ফিল করছেন। খুব কষ্টে আছেন। কাউকে ভুলতে চাচ্ছেন কিন্তু পারছেন না। আপনি জীবনে কিছু করতে চাচ্ছেন, কিন্তু মনে অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন না - আত্মবিশ্বাসের অভাব হচ্ছে। - এই সকল সমস্যার সমাধান দিচ্ছে মুসা গালিব। আবার ধরুন - আপনি জানেনা আপনার জীবনে কি করা উচিৎ! আপনি জানেন না আপনি কে? আপনার শক্তি কি? আপনার মধ্যে কি কি ইন্টেলিজেন্স আছে! - মুসা গালিব দেখিয়ে দিচ্ছে - কি কি জিনিস থাকলে বুঝবেন আপনি কোন ইন্টিলিজেন্স এর আওতায় পড়েন। সোজা কথা নিজেকে জানার একটা সুযোগ। এবার ধরুন - আপনার থ্রিলার লাগবে,ডিটেকটিভ গল্প লাগবে, তদন্ত লাগবে - সমস্যা নাই তো মুসা গালিব আছেন না।! মুসা গালিবের প্রাইভেট একটি ডিটেকটিভ এজেন্সি ছিল। নাম হোমস ডিটেকটিভ এজেন্সি। ক্রিমিনোলোজি, সাইকোলজি, ক্রিমিনাল জাস্টিস, ,সোশিয়লজি অনেক কিছুতে ডিগ্রি নিয়ে তারপর মাঠে নেমেছেন। মুসা গালিবের একজন শিষ্য আছে যার বয়স ১৭ বছর। যে কিনা ভবিষ্যৎ বলতে পারে। আসলেই কি তাই? আশা করা যায় বইটি পাঠকদের খুব অন্য রকম এক জগতে নিয়ে যাবে। কাউন্সিলিং তো আছেই।
★বইটি মূলত চারটি ছোটো গল্পের সমন্বয়ে রচিত।সেগুলো হচ্ছে- •দ্য কেস অব রেড ফ্ল্যাশ •দ্য কেস অব কিডন্যাপিং •জার্নি অব থট •দ্য স্টাডি অব ফিউচার
★ বইটিতে গল্পকথক হিসেবে বিশ্বনাথ বাবুকে ব্যবহার করা হয়েছে।গল্পের শুরুতেই দেখা যায় বিশ্বনাথ বাবু নামক এক ব্যক্তি, যিনি কলকাতা থেকে আগত,বাসা খুঁজতে খুঁজতে মুসা গালিবের বাসায় চলে আসে।পরে সেখানে তার রুমমেট হিসেবে বসবাস করতে করতে একসময় মুসা গালিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যান।মুসা গালিব পেশায় একজন ডিটেকটিভ এবং সাইকোলজিস্ট।তিনি বিভিন্ন কেস সলভ করার পাশাপাশি মানুষকে কাউন্সিলিং ও করে থাকেন,পাশাপাশি বিভিন্ন পশুপাখির আচরণবিধি পর্যবেক্ষনের মাধ্যমেও তাদেরকে পোষ মানাতে পারেন।
★বইটিতে মুসা গালিবের কেস সলভের প্রক্রিয়াগুলো দুর্দান্ত ছিলো।সাইকোলজিক্যাল জ্ঞান দিয়ে যে দারুনভাবে কেস সলভ করা যায় সেটা বইটা না পড়লে জানতে পারতাম না।বইটিতে অপ্রয়োজনীয় বাক্য ছিলোনা বললেই চলে আর এই বিষয়টা আমাকে মুগ্ধ করেছে,বিরক্তির লেশমাত্র টের পাইনি আমি।পাতায় পাতায় থ্রিলার,সাসপেন্স আর টুইস্ট এ ভরপুর ছিলো।ছোট্ট একটা বইয়ে এতো টুইস্ট পাবো আশা করিনি।সাইকোলজিক্যাল বাখ্যাগুলো অসাধারন ছিলো,অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছি।মানুষকে অবজার্ভ করে যে তার সম্পর্কে এতো কিছু জানা যায় তা সাইকোলজির দৃষ্টিকোন থেকে সহজবোধ্য ভাষায় পুস্তকটিতে প্রকাশিত হয়েছে।বইটি পড়ে মানুষের মন পড়তে না পারলেও তাদের সম্পর্কে ধারনা লাভ করা যাবে,মানুষটা কেমন সে সম্পর্কেও কিঞ্চিৎ ধারণা লাভ করা যাবে যেটা আমাদের জীবনে চলার পথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া রয়েছে কিছু অসাধারণ টেকনিক যেগুলো অবলম্বন করে মানুষকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
★বইটিতে যে মোটিভেশনাল লাইনগুলো আমার মনে ধরেছেঃ ১. মানুষকে চিনতে হলে,বুঝতে হলে,মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার সাহস থাকা চাই।
২.যারা নিজেকে প্রকাশ করতে পারেনা তাদের মুড সুইং বেশি হয়।
৩. যখন মন খারাপ হবে-তখন ভালো সময়ের কথা চিন্তা করবেন।
৪.পাপ-পূন্য মানুষের জীবনে চলার পথের মাপকাঠি।
৫. মানুষকে জানতে হলে,বুঝতে হলে,মানুষটার মেন্টালিটি জানার জন্য,মানুষটিকে রাগিয়ে দিন।রাগান্বিত অবস্থায় মানুষ যে ব্যবহার করে তাই তার আসল রুপ।
৬.একটা দেশ এবং সমাজ সুন্দরভাবে চলার জন্য নৈতিকতার মানদন্ড থাকতে হয়।নৈতিকতার মানদন্ড কখনো বিজ্ঞান থেকে আসেনা।নৈতিকতার মানদন্ড আসে ধর্ম থেকে।
৭.যাদের মন খারাপ হয়,নিজের কথাগুলো বলার মতো মানুষ পায়না-তারা মোনাজাত দীর্ঘ করলে,মোনাজাতে আল্লাহর কাছে সব কথা বললে,মানসিক উন্নতি হয়।
৮.মন্তব্য কখনো গন্তব্যকে ঠেকাতে পারেনা।
৯.এই সমাজে যখন আপনি কারো মতের বিরুদ্ধে যাবেন-তখন আপনাকে পাগল উপাধি দেওয়ার জন্য সবাই হুমড়ি খেয়ে বসে থাকবে।
অনেক কিছু জানার আছে, কঠিন অবজারভেশন পাওয়ার ও যুক্তির মারপ্যাঁচ। প্রথমে মনে হবে ম্যাজিক, তারপর মনে হবে আরে! রাইট! সহজ তো! প্রচুর তথ্যবহুল একটি বই। আসলেই প্রয়োজনের বাইরে কিছু নেই এখানে। ৪টি সুন্দর গল্পের মাধ্যমে বা case সমাধানের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে তুখোর বুদ্ধি একজন অবজারভারের। তিনি একাধারে কনসালটেন্ট, সাইকোলজিক্যাল এক্সপার্ট, ডিটেকটিভ।
বাংলা ভাষায় এমন একটি বইয়ের দরকার ছিল যেখানে মানুষকে শিখাবে এবং ভাবতে বাধ্য করবে। আমি আগেও শার্লক ফেলুদা মিসির আলী পড়েছিলাম। সেখান থেকে মনে হলে মুসা গালিব চরিত্রটি মোটামুটি এদের কাছাকাছি।
মোটামুটি ভালো লাগছে। প্রধান চরিত্র শান্তশিষ্ট এবং লজিক্যাল। এই বইয়ে মোট চারটা ছোট গল্প আছে। দুইটা মোটামুটি ভালো লাগছে। কিছুক্ষেত্রে একটু অবাস্তব মনে হয়েছে। লেখকের লেখার মান বেশ ভালো।
I really really really liked মুসা গালিব's character and his extraordinary way of thinking. I liked the bond he shared with his new roommate. I loved the first case more so than the others. And the cover is pretty as well. Unfortunately, there were some grammatical, and spelling errors that could've been avoided if edited properly.