★বই পরিচিতিঃ
বইঃ মুসা গালিব মিস্টার অবজারভার
লেখকঃ মোঃ সৈকত আজীম
প্রকাশনীঃ প্রিমিয়াম পাবলিকেশন্স
জনরাঃ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার,ডিটেকটিভ
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ৮০
রেটিংঃ ৫/৫
★বইটি মূলত চারটি ছোটো গল্পের সমন্বয়ে রচিত।সেগুলো হচ্ছে-
•দ্য কেস অব রেড ফ্ল্যাশ
•দ্য কেস অব কিডন্যাপিং
•জার্নি অব থট
•দ্য স্টাডি অব ফিউচার
★ বইটিতে গল্পকথক হিসেবে বিশ্বনাথ বাবুকে ব্যবহার করা হয়েছে।গল্পের শুরুতেই দেখা যায় বিশ্বনাথ বাবু নামক এক ব্যক্তি, যিনি কলকাতা থেকে আগত,বাসা খুঁজতে খুঁজতে মুসা গালিবের বাসায় চলে আসে।পরে সেখানে তার রুমমেট হিসেবে বসবাস করতে করতে একসময় মুসা গালিবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে যান।মুসা গালিব পেশায় একজন ডিটেকটিভ এবং সাইকোলজিস্ট।তিনি বিভিন্ন কেস সলভ করার পাশাপাশি মানুষকে কাউন্সিলিং ও করে থাকেন,পাশাপাশি বিভিন্ন পশুপাখির আচরণবিধি পর্যবেক্ষনের মাধ্যমেও তাদেরকে পোষ মানাতে পারেন।
★বইটিতে মুসা গালিবের কেস সলভের প্রক্রিয়াগুলো দুর্দান্ত ছিলো।সাইকোলজিক্যাল জ্ঞান দিয়ে যে দারুনভাবে কেস সলভ করা যায় সেটা বইটা না পড়লে জানতে পারতাম না।বইটিতে অপ্রয়োজনীয় বাক্য ছিলোনা বললেই চলে আর এই বিষয়টা আমাকে মুগ্ধ করেছে,বিরক্তির লেশমাত্র টের পাইনি আমি।পাতায় পাতায় থ্রিলার,সাসপেন্স আর টুইস্ট এ ভরপুর ছিলো।ছোট্ট একটা বইয়ে এতো টুইস্ট পাবো আশা করিনি।সাইকোলজিক্যাল বাখ্যাগুলো অসাধারন ছিলো,অনেক কিছু জানতে ও শিখতে পেরেছি।মানুষকে অবজার্ভ করে যে তার সম্পর্কে এতো কিছু জানা যায় তা সাইকোলজির দৃষ্টিকোন থেকে সহজবোধ্য ভাষায় পুস্তকটিতে প্রকাশিত হয়েছে।বইটি পড়ে মানুষের মন পড়তে না পারলেও তাদের সম্পর্কে ধারনা লাভ করা যাবে,মানুষটা কেমন সে সম্পর্কেও কিঞ্চিৎ ধারণা লাভ করা যাবে যেটা আমাদের জীবনে চলার পথে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া রয়েছে কিছু অসাধারণ টেকনিক যেগুলো অবলম্বন করে মানুষকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
★বইটিতে যে মোটিভেশনাল লাইনগুলো আমার মনে ধরেছেঃ
১. মানুষকে চিনতে হলে,বুঝতে হলে,মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকার সাহস থাকা চাই।
২.যারা নিজেকে প্রকাশ করতে পারেনা তাদের মুড সুইং বেশি হয়।
৩. যখন মন খারাপ হবে-তখন ভালো সময়ের কথা চিন্তা করবেন।
৪.পাপ-পূন্য মানুষের জীবনে চলার পথের মাপকাঠি।
৫. মানুষকে জানতে হলে,বুঝতে হলে,মানুষটার মেন্টালিটি জানার জন্য,মানুষটিকে রাগিয়ে দিন।রাগান্বিত অবস্থায় মানুষ যে ব্যবহার করে তাই তার আসল রুপ।
৬.একটা দেশ এবং সমাজ সুন্দরভাবে চলার জন্য নৈতিকতার মানদন্ড থাকতে হয়।নৈতিকতার মানদন্ড কখনো বিজ্ঞান থেকে আসেনা।নৈতিকতার মানদন্ড আসে ধর্ম থেকে।
৭.যাদের মন খারাপ হয়,নিজের কথাগুলো বলার মতো মানুষ পায়না-তারা মোনাজাত দীর্ঘ করলে,মোনাজাতে আল্লাহর কাছে সব কথা বললে,মানসিক উন্নতি হয়।
৮.মন্তব্য কখনো গন্তব্যকে ঠেকাতে পারেনা।
৯.এই সমাজে যখন আপনি কারো মতের বিরুদ্ধে যাবেন-তখন আপনাকে পাগল উপাধি দেওয়ার জন্য সবাই হুমড়ি খেয়ে বসে থাকবে।