সে ছিল এক আদর্শবান যুবক, একজন সৎ নাগরিক। অন্তত হতে চেয়েছিল। কিন্তু জীবন তাকে স্বস্তিতে রাখেনি। শৈশবেই পিতৃহীন, মাকে নিয়ে মামার বাড়ির আশ্রয়ে প্রতিপালিত। দু’বেলা দু’মুঠো জোটে ঠিকই, কিন্তু অমানুষিক পরিশ্রমের বিনিময়ে। চাকরি একটা খুবই দরকার তার। কিন্তু কে দেবে! ঘুষ দিতে পারলে হয়তো হয়, কিন্তু ঘুষ দেবার মতো অনৈতিক কাজ কল্পনাতেও প্রশ্রয় পায় না তার। অনেক কিছুই ছিল না তার। কিন্তু চোখে পড়ার মতো একটা শরীর ছিল। নিয়মিত ব্যায়ামচর্চায় সুগঠিত স্বাস্থ্যের জন্য একটা পদকও জুটেছিল তার। তবু সে ছিল গুরুত্বহীন একজন মানুষ। এই গুরুত্বহীন মানুষটিই কীভাবে একদিন সকলের চোখে হয়ে উঠল বিশেষ মানুষ, এক সাম্রাজ্যের অধীশ্বর—তাই নিয়েই মাস্তানজগতের নেপথ্যলোকের পটভূমিকায় লেখা এই উপন্যাস।
Samaresh Majumdar (Bangla: সমরেশ মজুমদার) was a well-known Bengali writer. He spent his childhood years in the tea gardens of Duars, Jalpaiguri, West Bengal, India. He was a student of the Jalpaiguri Zilla School, Jalpaiguri. He completed his bachelors in Bengali from Scottish Church College, Kolkata. His first story appeared in "Desh" in 1967. "Dour" was his first novel, which was published in "Desh" in 1976. Author of novels, short stories and travelogues, Samaresh received the Indian government's coveted Sahitya Akademi award for the second book of the Animesh series, 'Kalbela".
সমরেশ মজুমদার-এর জন্ম ১০ মার্চ ১৯৪৪। শৈশব কেটেছে ডুয়ার্সের চা-বাগানে। জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র। কলকাতায় আসেন ১৯৬০-এ। শিক্ষা: স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বাংলায় অনার্স, পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.এ। প্রথমে গ্রুপ থিয়েটার করতেন। তারপর নাটক লিখতে গিয়ে গল্প লেখা। প্রথম গল্প ‘দেশ’ পত্রিকায়, ১৯৬৭ সালে। প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’, ১৯৭৫-এ ‘দেশ’ পত্রিকায়। গ্রন্থ: দৌড়, এই আমি রেণু, উত্তরাধিকার, বন্দীনিবাস, বড় পাপ হে, উজান গঙ্গা, বাসভূমি, লক্ষ্মীর পাঁচালি, উনিশ বিশ, সওয়ার, কালবেলা, কালপুরুষ এবং আরও অনেক। সম্মান: ১৯৮২ সালের আনন্দ পুরস্কার তাঁর যোগ্যতার স্বীকৃতি। এ ছাড়া ‘দৌড়’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার হিসাবে বি এফ জে এ, দিশারী এবং চলচ্চিত্র প্রসার সমিতির পুরস্কার। ১৯৮৪ সালে ‘কালবেলা’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার।
আরেকটি ক্লাসিক সমরেশ। যারা আট কুঠুরী নয় দরজা গর্ভধারিণী এবং নবকুমার ট্রিলজি পড়েছেন তাঁরা সহজেই ধরতে পারবেন উপন্যাস কোনদিকে মোড় নিতে চলেছে। নবকুমার ট্রিলজির সাথে মেঘ ছিল, বৃষ্টিও'র আশ্চর্য মিল। পার্থক্য- নবকুমার ভালো পথে এগিয়েছে। খোকন খারাপ পথে। কিন্তু যারা এই উপন্যাসগুলি পড়েছেন নবকুমার (একটা পর্যায় পর্যন্ত) এবং খোকন- দুজনেই তাঁদের মন জয় করে নিতে পারবে। উপন্যাসের কেন্দ্রবিন্দু খোকন একজন তথাকথিত মাস্তান। জীবনে কোনও নিরীহ মানুষকে হত্যা করা দূরে থাক, হাত পর্যন্ত তুলেনি। অনেক মেয়েকেই তাঁদের অন্ধকার থেকে টেনে তুলেছে। সাধারণ মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারতো। সমরেশ নিজের হাতে খোকন চরিত্রটিকে চমৎকার করে গড়ে তুলেছেন। মাস্তান অথচ মাস্তানদের যম সে। ফিডোর যথাযথ গাইডেন্সে কলকাতার এক "বাদশাহ"তে পরিণত হয় সে। কিন্তু এরপর যা হল, তার প্রাইম থেকে সে ছিটকে পড়তে থাকল। খোকন বিপদের আভাস প্রায়ই টের পেতো, সবসময় নয়। নাইলে সে বৃন্দার ব্যাপারে অনেক আগেই ব্যবস্থা নিতে পারতো। ফিডো তাঁকে সাবধান করে গিয়েছিল বিয়ে করে সংসারি না হতে। কিন্তু খোকন রক্ত-মাংসে গড়া এক মানুষ। পছন্দের মাটিকে না পেয়ে সে টিমেথিকে নিয়ে সংসার গড়তে যায়- তার ডাউনফলের অন্যতম কারণ। উপন্যাসের শেষ সমরেশ যেভাবে করেছেন অবশ্যই উত্তেজনায় ভরা। তবে তা তাঁর অন্য অনেক উপন্যাসের মতো অতো টানটান ছিল না। নিরীক্ষা ছিল, কিন্তু সেটি সাতকাহনের মতো অতোটা না। এই একটা উপন্যাস যেটি আমার মনে হয়েছে ৪০০ কিংবা ৫০০ পেজেও লেখক টেনে নিয়ে যেতে পারতেন। সব মিলিয়ে চমৎকার একটি প্যাকেজ। উপন্যাসের শেষ নিয়ে এবার কিছু বলবো। এই উপন্যাসের শেষ অতোটা বিক্ষিপ্ত মনে হয়নি। বিদেশী থ্রিলারধর্মী উপন্যাসের ছায়া দেখতে পেয়েছি। লেখক তাঁর নিজের ছাঁচে গড়া চরিত্র কিভাবে শেষ করবেন সেটি তাঁর একান্তই নিজস্ব অধিকার। এই বিষয়ে আমাদের কারওরই বলা উচিৎ না উনি চরিত্রটিকে অমুকভাবে শেষ করতে পারতেন বা তমুক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু খোকনবাবুকে নিয়ে একটু বলতেই হচ্ছে। আমি মনে করি, গল্পের শেষে লেখক চরিত্রটিকে জীবনের সম্পূর্ণ অন্য একটি দিকে রুঢ় বাস্তবতায় পর্যবসিত করে ছেড়ে দিতে পারতেন। তাতে পাঠকদের আফসোস একটু কমত, বাড়ত না। নবকুমারের ক্ষেত্রে যেমন মনে হয়েছে লেখক তাকে একটা উচিৎ শিক্ষাই দিয়েছেন। এখানে সেটি মনে হয়নি। কেন? জানতে চাইলে পড়ে দেখতে হবে জীবনের গান গেয়ে যাওয়া থ্রিলারধর্মী এই উপন্যাসটি।
সত্যিই বিস্ময়কর!!মানুষের জীবন বড়ই অদ্ভুত চোখের নিমেশেই পরিবর্তন হয় আবার সব কিছু বদলে যেতে সময় লাগে না।,,,আপনি প্রকৃতিকে যা দেবেন কোনোনা কোনোভাবে তা আপনি ফেরত পাবেনই...
কুচবিহারের ছেলে খোকন, ছোটবেলায় ই বাবা মারা যাওয়ায় থাকতে হয় মামা বাড়িতে,সেখানে কত লাঞ্চহনা,বড় হয়ে টাকা কামাতে পারতনা বলে মায়ের ও কত কথা!গর্ভধারিণীই যখন সবার সব কটাক্ষের আশ্রয় সেখানে তার মায়েই কতো কটু কথা।।
বডিবিল্ডিং শিখত সে,তার ই এক প্রতিযোগিতায় কলকাতায় আসা,কাজ ও খুঁজছিল সে,যদি সে প্রতিযোগিতায় গোল্ড মেডেল পেত তবে ৩ বছরের মধ্যে চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তবে সেখানে তার ভাগ্য কাজে লাগলনা।।।কাকার বাড়িতে গিয়েও আশ্রয় পেল না।। সে শুনেছিল কলকাতার বাতাসে টাকা ওড়ে তবে তা কিভাবে ধরতে হবে সে জানত না।।একদিন এক পাড়ায় এক মেয়েকে হেনস্তা হতে দেখে গুন্ডা কে মারলো,সবাই বাহবা দিল এবং কেয়ার টেকার এর চাকরি পেল।।সেখানে ফিডো নামে এক ব্যক্তির সাথে পরিচয় হলো।।। কলকাতায় হাওয়ায় যে টাকা ওরে তা ফিডো তাকে ধরতে শেখাল তবে কোনো ভাল পথে নয়,গুন্ডামি করে। অন্যান্য মাস্তান দের মতো সে ছিল না তবে যে ছেলে কখনো কারো গায়ে হাত তুলতে ভয় পেত সে শুরু করল সেকের পর এক খুন করা,মদ অবশ্য সে কম খেত, মানুষের সাহায্যও করতো বটে তবে অন্যায় তো অন্যায়ই তবে ফিডো তাকে শিখিয়ে দিয়ে গিয়েছিল কিভাবে তা শুরু করতে হয় তবে কিভাবে শেশ করতে হবে তা নয়,,পথে খোকনের কতো মানুষের সাথে দেখা সব ক্ষেত্রেই সে মেনে চলেছিল ফিডোর উপদেশ তবে ফিডো তাকে বিয়ে করতে নিষেধ করেছিল তা সে অনেক দিন মেনেই চলেছিল তবে তাতে মানুষ বলে সে পুরুষ নয় তা প্রমান করতে গিয়েই তার জীবনে পরিবর্তন এলো।যা হয়তো চক্রাকারে চলতেই থাকব,, মানুষের জীবনের বিভিন্ন সমস্যা,পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এ বইটিতে।খুব ভিতর থেকে বুঝলে এর গভীরতা এতোটাই যে কারো সাথে কথা বলার আগে দুবার ভাবতে শিখবেন।সত্যিই সমরেশ মজুমদার একজন কালজয়ী লেখক।।