'আমিই সেই সুরমা যা তোমার চোখকে সাজায়। দাম হিসেবে কৃতজ্ঞতায় ভরা একটি দীর্ঘশ্বাস দিও, তা-ই যথেষ্ট'- লিখেছিলেন মির্জা আসাদুল্লাহ বেগ খান গালিব। উর্দু কবিতার রাজাধিরাজ। মির্জা গালিব ও তাঁর সময়কে নিয়ে এ উপন্যাস। যখন মোগল সাম্রাজ্যের শেষ দীর্ঘশ্বাস ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে, ইংরেজরা ভারতবর্ষের ভাগ্যবিধাতা হিসেবে আসীন হওয়ার সব জোগাড়যন্ত্র শেষ করে এনেছে, পরিবর্তনের দমকা হাওয়া ওলটপালট করে দিতে চাইছে সব, তখন দিল্লির এক গলিতে বসে সময়ের বুকে নিজের পদচিহ্ন এঁকে দেওয়ার দুর্মর বাসনায় কবিতা লিখে চলেছেন মির্জা গালিব নামের এক নিঃসঙ্গ মানুষ। গালিবের যুদ্ধ দারিদ্র্য, ব্রিটিশ শোষক, সমাজপ্রভু এবং তাঁর কবিখ্যাতিকে নস্যাৎ করার চেষ্টায় মত্ত নিন্দুকদের বিরুদ্ধে। গালিবের উত্থান-পতনে ভরা ঘটনাবহুল জীবন বাষ্পয় হয়ে উঠেছে এ উপন্যাসে। কবি গালিব, প্রেমিক গালিব, প্রথাবিরোধী গালিব সবাইকে একসুতোয় বেঁধে অন্বেষণ করা হয়েছে সত্যিকারের গালিবকে।
গালিবকে নিয়ে লেখা হয়েছে বিস্তর, এখনো হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হবে। তো এমন বহুল আলোচিত ব্যক্তি বা বিষয় নিয়ে লেখার সময় লেখকের মাথায় রাখা উচিত তিনি পাঠকদের নতুন কিছু দিতে পারবেন কি না!
আপনার লেখা নতুন করে কেন পড়ব? নতুন কোনো ঘটনা জানার জন্য? কাহিনির অভিনবত্বের জন্য? দোজখনামা'র মতো এক্সক্লুসিভ কিছু পাওয়ার লোভে? নাকি দুর্দান্ত লিখনশৈলীর জন্য? দুর্ভাগ্যজনকভাবে বইটাতে এর একটাও নেই। জানাশোনা কাহিনি সাদামাটা গদ্যে তুলে ধরা হয়েছে শুধু।
এ বছর বইমেলা থেকে বইখানা কিনেছিলাম। "দোজখনামা" পড়ার পর গালিবকে জানার যে ইচ্ছে তৈরি হয়েছিলো মূলত সে ইচ্ছের খোরাক পূরণ আর গালিবকে আরেকটু বেশি বা পুরোপুরি জানার জন্যই বইটি কেনা। কিন্তু খুব আশাহত হয়েছি। গালিব সম্পর্কে যা জানতাম তারচেয়েও কম তথ্য ছিলো বইটিতে। বইটা পড়ার উদ্দেশ্য পূরণ হয়নি🙁
This entire review has been hidden because of spoilers.