১৭৯৮ সালে রচিত ‘দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় ফ্রান্সিস বুকানন (১৭৯৮)’ বইটি চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী অঞ্চলের প্রাচীনতম বর্ণনা। সময়টা তখন অস্থিরতার, বার্মার রাজা আরাকান দখল করে চট্টগ্রাম দখলের হুমকি তৈরি করেছেন। দলে দলে শরণার্থী চট্টগ্রামে আসছেন সেখান দিয়ে। কিছুদিন আগে বার্মার এই রাজা লুণ্ঠন করেছেন আসাম ও মনিপুর! কৌতূহলী মন নিয়ে বুকানন এই অঞ্চলের সমাজ, ধর্ম ও সংস্কৃতি বুঝতে চেয়েছেন।বাঙালি, মারমা, চাকমাসহ চট্টগ্রামের নানান জনগোষ্ঠীর খুঁটিনাটি বিবরণ মিলবে বইটিতে। বুকাননের ভ্রমণের সময়টিতে এখানে সদ্য গড়ে উঠছে জমজমাট শিল্প ও ব্যবসা, জাতিতে জাতিতে লেনদেনের মধ্য দিয়ে অরণ্যসংকুল এই জনপদ হঠাৎ কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছে। হাতি, বাঘ আর নানান বুনো প্রাণী অধ্যুষিত এই প্রাচীন অরণ্যভূমির বদলে যাবার ইতিহাসের সূত্রপাত জানা যাবে এই ভ্রমণকাহিনিতে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে মশলা চাষ সম্ভব কি না, সেটা যাচাই করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বুকাননকে পাঠিয়েছিল সেখানে। বুকাননের এই অভিযানটি হয়ে উঠেছে ইতিহাস, নৃবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, পরিবেশবিদ্যা এবং প্রাকৃতিক ভূগোল নিয়ে উৎসাহী সকলের জন্য একটি অবশ্যপাঠ্য গ্রন্থ। খুব কম বইই এত অজস্রবার উদ্ধৃত হয়েছে এত ভিন্ন ভিন্ন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞের কাজে।
বইটা গবেষকদের জন্য জরুরি। মসলা চাষ করা সম্ভব কি না তা নিয়ে গবেষণার জন্য বুকাননকে দক্ষিণ পূর্ব বাংলায় প্রেরণ করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।২২৬ বছর আগের চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চলের ভৌগলিক, নৃতাত্ত্বিক, সামাজিক অবস্থা যেমন এতে উঠে এসেছে তেমনি উদ্ভিদবিজ্ঞান ও পরিবেশবিদ্যারও অনেক খুঁটিনাটি বিষয় আলোচিত হয়েছে। ফলাফল বর্ণনার আধিক্য আর সাধারণ পাঠক হিসেবে উপভোগ করতে না পারা।পুরো বইয়ের চাইতে ভেলাম ভান সেন্দেলের ভূমিকা পড়ে উপকার হয়েছে বেশি। বুকানন দুর্গম এলাকায় অসীম মনোবলের সাথে ভ্রমণ করেছেন। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ও তাদের আচার দেখে তিনি নিরপেক্ষ থাকতে পারেননি সবসময়। ইংরেজদের প্রতি বাঙালিদের বিরূপতা দেখে তিনি খুবই বিরক্ত; এতোটাই যে, মন্তব্য করেছেন "বাংলায় ইংরেজরা যেমন উদার ব্যবহার করেছে, অন্য কোথাও কোনো বিজয়ী জাতি অমনটা করেনি।" ভাবা যায়! অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও তাদের প্রথার সাথে পরিচিত হয়েছেন বুকানন। যেমন - ম্রো, চাকমা, মারমা, মুরং, খামি, লুসাই ইত্যাদি। এদের গৃহ নির্মাণ, ধর্ম বিশ্বাস, দাসপ্রথা, বিবাহপ্রথা, চাষের নিয়ম সবই তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন।
সেন্দেল পর্যবেক্ষণ করেছেন," এই ভ্রমণ শুধু যে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা লাঘব করে তাই নয়, ভারী আগ্রাসনেরও পাথেয়। পরবর্তীকালে নেপালে বুকানন কর্তৃক জরিপের ফলাফল যেভাবে দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় কাজে দিয়েছিলো তার সাথে মিলিয়ে দেখা যেতে পারে।" তার সাথে সহমত পোষণ করে বলতে পারি, "ইউরোপীয়রা কীভাবে বিশ্ব সম্বন্ধে তথ্যানুসন্ধান করতো এবং কী মনোভাব পোষণ করতো" তা জানার জন্য বইটা জরুরি।
ইতিহাস আর ভ্রমণ দুইটাই প্রিয় বিষয় হওয়ায় আর এই বইতে দুইটারই মিশেল থাকায় ভালো লাগল বেশ। কয়েকশো বছর আগের দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা, তাদের চাষবাস, নানা আদিবাসীদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন এসব বেশ চিত্তাকর্ষক। একজন বিদেশী কী করে এই সংস্কৃতিগুলোকে অনুধাবন করছেন এই বিষয়টাও ইন্টারেস্টিং।
মাস্টার্স এর থিসিস করেছিলাম, রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের "কস্ট এন্ড বেনিফিট'' পর্যালোচনা নিয়ে। আমার মূলত ফোকাল পয়েন্ট ছিল ইকোনমিক কস্ট নির্নয় করা। স্বাভাবিকভাবেই যেকোন উন্নয়নমুখী প্রকল্পের দুটো বিপরীতমুখী দিক থাকতে পারে। এইরকম উপরিকাঠামো দেখেই এক ধরনের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া এক ধরনের চোখ বন্ধ করে পথে হাটার সামিল। এ বইটিতে আধুনিক ও প্রয়োজনীয় এবং অনাধুনিক ও অপ্রয়োজনীয় এই দুই বর্গে প্রকৃতিকে বিচার করার চোখ নিয়ে বুখানন যে উন্নয়ন পরিকল্পনা হাজির করেন, সেখানে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতির কোন মূল্য নির্ধারণ করা হয়নি। প্রকৃতি ও জনগোষ্ঠীর বিবরণের বাইরে এই ভ্রমণ কাহিনীটির অন্য একটি তাৎপর্যও আছে। ফ্রান্সিস বুখাননের সৎ, সরল, জ্ঞানগর্ভ এবং নিষ্ঠাপূর্ণ ও অনাড়ম্বর এই দিনপঞ্জিটি একইসাথে আদিম একটা অরণ্যসঙ্কুল জনপদকে মুনাফার চোখ দিয়ে দেখার অকপট বিবরণও। এই বিবরণটিকে পাঠ করা যেতে পারে প্রকৃতিকে দেখার আধুনিকতাবাদী ঔপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গির একটা সূচনা হিসেবে, যার ধারবাহিকতা কম বেশি আজও অব্যাহতই আছে
চট্টগ্রাম নিয়ে যেকোনো লেখাই আমি বেশ আগ্রহ সহকারে পড়ি। আর দক্ষিণ পূর্ব বাংলায় ফ্রান্সিস বুকানন (১৭৯৮) বইটিও যখন দেখলাম ঠিক তেমনই একটা বই তাই পড়া শুরু করেছিলাম বইটি। ফ্রান্সিস বুকানন ব্রিটিশদের তত্তাবধানে ভারতবর্ষের নানান অঞ্চলে জরিপ কাজ করেছেন। ১৭৯৮ সালে চট্টগ্রাম অঞ্চলে মসলা চাষ সম্ভব কি না, সেটা যাচাই করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তাকে দক্ষিণ পূর্ব বাংলার চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী অঞ্চলে পাঠিয়েছিলো। আর এসব অঞ্চলে ভ্রমণের সময়কার দিনলিপি হলো দক্ষিণ পূর্ব বাংলায় ফ্রান্সিস বুকানন (১৭৯৮) বইটি।
বইটিতে লেখক তারিখ ক্রমানুসারে তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত বর্ণনা করে গেছেন। যেখানে এই অঞ্চলগুলোর ভৌগোলিক অবস্থা, আবহাওয়া, চাষবাস, এবং এসব অঞ্চলে বসবাসরত মানুষদের কথাই সবথেকে বেশি উঠে এসেছে। বুকানন কোন অঞ্চলে কীভাবে গিয়েছেন, যেতে যেতে কী কী দেখেছেন, যেখানে গিয়েছেন সেখানকার মানুষগুলো কেমন, তারা কোন উপজাতি, তাদের চাষপদ্ধতি এবং এসব অঞ্চলের মাটি চাষবাদ তথা মসলা চাষে উপযোগী কি না তা নিয়েই মূলত দক্ষিণ পূর্ব বাংলায় ফ্রান্সিস বুকানন (১৭৯৮) সম্পূর্ণ বইটি।
যার ফলে বইটির অধিকাংশ জুড়েই একঘেয়ে একই বর্ণনা হওয়ায় বইটি শেষ করতে প্রচুর সময় নিয়েছি৷ বইটি পড়তে গিয়ে দক্ষিণ চট্টগ্রামে তখনকার সময়ে বসবাসরত নানান উপজাতি, যাদের কথা এখন আর তেমন শুনা যায় না তাদের সম্পর্কে জেনেছি। সেই সাথে তখনকার ভৌগোলিক অবস্থা অর্থাৎ দক্ষিণ চট্টগ্রামের পুরোটা যে পাহাড়ি এলাকা ছিলো তা জেনে অবাকও কম হইনি। তবে জায়গার নাম আর বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা মানুষদের বর্ণনা ছাড়া বাকি সব বর্ণনাই আমার কাছে একঘেয়ে বিরক্তিকর লেগেছে।
এই বইটি আসলে সবার জন্য নয়, হজম করাটাও বেশ কঠিন। চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের বসবাসরত তখনকার উপজাতি আর তখনকার সময়ের জায়গাগুলোর নাম সম্পর্ক জানা ছাড়া আর কোনো বিষয়ই আমার আগ্রহ তৈরি করতে পারেনি বইটি। তাছাড়া এটা দিনলিপি না বলে সম্পূর্ণ লেখাটা কেমন যেনো প্রতিবেদনের মতো লেগেছে। বইটির শেষদিকে নির্ঘন্ট দেওয়া আছে বর্ণনায় ব্যবহৃত নানান ভৌগোলিক অবস্থান, নদ-নদী, নৃগোষ্ঠী, উদ্ভিদ ইত্যাদি বিষয়ে।
বইটির অনুবাদ যথেষ্ট সাবলীল, তবে অনুবাদকের প্রচলিত ইংরেজি শব্দ যেগুলো বাংলায়ও ব্যবহার হয় সেইসব শব্দ অনুবাদ না করলেও চলতো। বইটির প্রোডাকশন চমৎকার, প্রচ্ছদটা বিশেষ করে আমার প্রচন্ড ভালো লেগেছে। কারো যদি চট্টগ্রাম নিয়ে আগ্রহ থাকে তাহলে বইটি পড়তে পারেন, তবে আগেই বলে দিচ্ছি এই ধরনের বই পড়তে পারাট বেশ কঠিন। যেহেতু এখানে আগ্রহ তৈরি করে এমন বর্ণনা খুব কমই পেয়েছি।
প্রত্নতাত্ত্বিক যে কোনো বিষয় নিয়েই আমার আগ্রহ আছে। এ বই পড়ার পিছনে ইতিহাস জানার আগ্রহ যত না ছিল, তারচেয়ে বেশি আমাকে আকর্ষণ করেছিল এর এন্টিকুয়ারিয়ান দশা। এমন একটা জিনিস, বহু বছর ধরে যার অস্তিত্ব আছে এটাই কেউ জানত না। একটা আর্কাইভ থেকে উদ্ধারকৃত এই বিবরণী আমাকে টানতোই।
পড়তে গিয়ে টের পেলাম, এ ঠিক ভ্রমণকাহিনী নয়। কারণ এর উদ্দেশ্যই ছিল ভিন্ন। বুকানন ইংরেজ সরকারের কমিশনড প্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ছিলেন, যিনি উনিশ শতকের শেষ দিকে বাংলাদেশের (তৎকালীন বাংলা) বৃহত্তর নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চল ভ্রমণ করেন বৃটিশরাজের পরিকল্পনা অনুসারে। উদ্দেশ্য ছিল দুটি। প্রকাশ্য উদ্দেশ্য মশলা চাষের উপযোগী জমি এসব এলাকায় আছে কিনা তার তদা��কি, পাশপাশি দ্বিতীয়টি গোপন, ঐ সময়ে এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, মানুষের আচরণ ও সংস্কৃতি, রাজনৈতিক সহাবস্থান ও বিভাজন এইসব বুঝে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
এই দ্বিতীয় উদ্দেশ্যের কারণেই বইটা পড়তে পড়তে জানা যায় বাংলার কৃষকদের কাছে স্বর্ণযুগ বলে কিছু ছিল না, তারা ঐ সময়েও অভাবী ছিল, বার্মিজদের আগ্রাসনে এ দেশে আশ্রয় নেওয়া আরাকানের বিভিন্ন জাতের মানুষের কথা, চট্টগ্রাম নোয়াখালী অঞ্চলের লোকজনের মামলাপ্রবণতা, পার্বত্য এলাকায় হিন্দু ও মুসলমানদের ধর্মপালনের বিবরণ, বিভিন্ন আদিবাসিদের লোকাচার, সংস্কৃতি ও জীবিকা। বিশেষ করে গর্জন গাছ থেকে তেল সংগ্রহ বা সমুদ্রের জল থেকে লবণ উৎপাদনের বিশদ বর্ণনা চমকপ্রদ লাগে।
কুকি ও লাংদের একটা গোত্রের কথা বুকানন লিখেছেন যারা নিজেদের এলাকায় দিগম্বর হয়ে চলাফেরা করত তখন। আর এমন কিছু লোকাচারের কথা লিখেছেন, যা নিয়ে আলাদা করে পড়ালেখার আগ্রহ জাগে, বিশেষত মৃতের সৎকার নিয়ে এক জায়গায় দেখা যায় মৃতদেহকে তিনচারদিন সাজিয়ে রেখে দেয়া হয়েছে একটা ঘরে, আর উৎসব চলছে সেই মৃত্যু ঘিরে (খেয়াল হচ্ছে না এটা ম্রো/মারমাদের নিয়ে লিখেছেন কিনা)।
তবে এ বই পড়ার অভিজ্ঞতাটা কেমন? সেও মাটি খোঁড়ার মতো। টানা পড়ে যাওয়া চলে না, খুব একটা সুখপাঠ্যও না বর্ণনার ধরণ। কোথাও কোথাও বুকাননের বর্ণবাদি ও সাম্রাজ্যবাদী মনের চিন্তাও মেলে। তার সব মন্তব্যে একমতও হওয়া যায় না। পড়াটা চলে ক্লান্তিকর একটা প্রক্রিয়ায়। আর সেসবের মাঝখানে স্পার্কের মতো মন কাড়ে বিচিত্র সব তথ্য।
সোজা কথায় বইটা বোরিং। কিন্তু ব্যক্তিভেদে খুবই, খুবই জরুরি হয়ে উঠতে পারে - আমার কাছে যেমন লেগেছে। পুরাতন ঐ সময় নিয়ে এত সুতো আমি পাবো এ বইয়ে, ভাবিনি।
দুইশ বছর আগের দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় মসলা চাষের উৎকৃষ্ট জমির সন্ধান করতে জরিপে বের হন ফ্রান্সিস বুকানন। এই জরিপের পেছনে ব্রিটিশ বাণিজ্যবোর্ডের অর্থ খরচের উদ্দেশ্য ছিলো স্থানীয় অর্থব্যবস্থার উন্নতি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলকে আরো নিরাপদ ও সুরক্ষিত করার ব্যাপারে চাক্ষুষ অভিজ্ঞতা ও পর্যালোচনা হাজির করা।
বুকাননের এই জরিপটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে যে, তিনি নিজেই হেঁটে হেঁটে মানুষের কাছে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন, দুর্গম অঞ্চলে উপস্থিত হয়ে সেখানকার ভূপ্রকৃতি সম্পর্কে ধারণা নিয়েছেন। যা আগের দিনের অনেক জরিপের চেয়ে বুকাননের এই জরিপটিকে আলাদা করেছে।
অবাক করার মতো ব্যাপার হলো, তৎকালীন স্থানীয় বাঙালিদের কাছ থেকে তিনি এই বইয়ের খুব কমই তথ্য পেয়েছিলেন। এর কারণ ছিলো ইউরোপিয়ান হওয়ার কারণে ফ্রান্সিস বুকাননের প্রতি বাঙালিদের বিরূপতা। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বুকানন বেশ রোষ প্রকাশ করে বলেছেন, 'বাংলায় ইংরেজরা যেমন উদার ব্যবহার করেছে, অন্য কোথাও কোনো বিজয়ী জাতি অমনটা করেনি।' বুকাননের এই উক্তিটা বেশ ইন্টারেস্টিং।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় ফ্রান্সিস বুকাননের এই জরিপের বর্ণনা অনেকটা সাধারণ সফর কাহিনীর সাথে মিলে যায়। রোজনামচার মতো তারিখ দিয়ে দিয়ে বুকানন যা লিখেছেন তার মধ্যে এসেছে তৎকালীন দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার ধর্ম, সংস্কৃতি, সামাজিকতা, কুসংস্কার ও শাসনপ্রথাসহ আরো অনেক কিছুই। ঠিক এ কারণেই বুকাননের এই জরিপটি ট্রাভেলারদেরও মনের খোরাক হওয়ার দাবি রাখে।
মোটাদাগে জরিপের কার্যক্রম নিয়ে বেশি আলাপ আসায় বইটি সাধারণ পাঠকদের জন্য অতটা সুখপাঠ্য নয়। তবে, দুইশ বছর আগের দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সার্বিক অবস্থা গবেষণাধর্মী কাজে বোঝার জন্য এই বইটি যথেষ্ট সহায়ক হবে।
Francis Buchanan’s work on Southeast Bengal is a remarkable exploration of the region’s rich history, culture, and natural beauty. His meticulous research and keen observations provide a comprehensive and engaging account that transports readers back in time.
The book delves into the intricate details of the area’s geography, flora, fauna, and the vibrant lives of its people. Buchanan’s vivid descriptions and thoughtful analysis offer a deep understanding of the socio-economic conditions and the intricate tapestry of cultures that have shaped Southeast Bengal.
What sets this book apart is Buchanan’s ability to weave together historical narratives with personal anecdotes, creating a compelling and informative read. His passion for the region is evident on every page, making it a must-read for anyone interested in the history and culture of Bengal.
Overall, Francis Buchanan’s book is a valuable contribution to the field of historical and cultural studies. It is not only an informative resource but also an enjoyable read that leaves a lasting impression. Highly recommended for historians, researchers, and anyone with a curiosity about Southeast Bengal.
১৭৯৮ সালে কোম্পানি দক্ষিণ পূর্ব বাংলার ভূমি ও কৃষি ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ড. হ্যামিল্টন ফান্সিস বুকাননকে পাঠান। তিনি দীর্ঘ প্রায় ২ মাস যাত্রা করেন বর্তমান ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, মহেশখালী, টেকানাফ ও কুমিল্লা। তার ভ্রমণ বিবরণ ছিলো মূলত কোম্পানির স্বার্থে। কোম্পানি সমগ্র যাত্রার খরচ বহন করে। এ যাত্রায় কোম্পানির স্বার্থটি ছিল মূলত। দক্ষিণ পূর্ব বাংলার ভূমিতে মসলা চাষ করা যায় কিনা! এ ভ্রমণ বিবরণে কয়েকটি এলাকাকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন - রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম, চকোরিয়া, মহেশখালী, টেকনাফ। এ গ্রন্থটি মূলত ১৮ শতকের ইতিহাস রচনা কারী গবেষকদের একটি প্রাথমিক দলিল হিসাবে কাজ করবে। গ্রন্থে এমন কিছু বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। যা দক্ষিণ পূর্ব বাংলার মানুষের ইতিহাসকে সমৃদ্ধি করে। এ গ্রন্থে আরও উল্লেখ আছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন বৃত্তান্ত।