Jump to ratings and reviews
Rate this book

খারাপ ছেলে

Rate this book
জিনা। পাখির মতো আকাশচারিণী জিনা। আশায় ভরপুর। কল্পনাপ্রবণ কোনও মালিন্য যেন তাকে কখনও স্পর্শ করেনি। জিনার বিয়ে হল মস্ত বড় চাকুরে নিখিলের সঙ্গে। শ্বশুর কল্যাণ বাবুর সংসারে ছোট বউমা হয়ে এল জিনা। কিন্তু বিয়ের পর তার সময় যেন কাটতেই চায়না। নিখিলের মনের মানচিত্র তার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। সময় কাটানোর জন্য কলেজের বান্ধবী মুকুট ও তার স্বামী ঋত্বিকের সংসর্গে জিনা নিজেকে জড়িয়ে নিল সমাজসেবায়। রেডলাইট এলাকায় যৌনকর্মীদের ছেলেমেয়ে পড়ানোর কাজ। এই কাজে জিনা পেয়ে গেল শ্বশুর আর বড়জা মল্লিকার সক্রিয় সহযোগিতা। জিনার এখন সারাক্ষণের চিন্তা—অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়া মেয়েগুলো এবং তাদের সন্তানদের মুক্তির উপায় কী। সন্তানহীনা জিনার জীবন, মাধুর্যে ভরিয়ে তুলল এক যৌনকর্মীর ছোট্ট ছেলে কুটুস। নিখিলের সঙ্গে তার মৃত কল্পসুখহীন দাম্পত্যজীবনে এইসময় হঠাৎ নেমে এল আকস্মিক বজ্রাঘাত। সোনাগাছির যৌনকর্মী এবং ওদের কাজের সহযোগী বনমালার ঘরে জিনা আবিষ্কার করল ও-পাড়ার ফটিকবাবু ওরফে নিখিলকে। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল জিনা। জীবনটা এখন তার কাছে এক জ্বলন্ত বিভীষিকা, দুঃস্বপ্ন। সেই দুঃস্বপ্ন থেকে কীভাবে জেগে উঠবে জিনা? ব্যক্তি এবং তার বহুকৌণিক জটিলতা, সমাজ-সমস্যা ও সংকটের ঘাত-প্রতিঘাত নিয়ে এক দুঃসাহসিক উপন্যাস ‘খারাপ ছেলে’।

134 pages, Hardcover

First published January 1, 2007

9 people are currently reading
198 people want to read

About the author

Bani Basu

87 books114 followers
Bani Basu is a Bengali Indian author, essayist, critic and poet. She was educated at the well-known Scottish Church College and at the University of Calcutta.

She began her career as a novelist with the publication of Janmabhoomi Matribhoomi. A prolific writer, her novels have been regularly published in Desh, the premier literary journal of Bengal. Her major works include Swet Patharer Thaala (The Marble Salver), Ekushe Paa (twenty One Steps), Maitreya Jataka (published as The Birth of the Maitreya by Stree), Gandharvi, Pancham Purush (The Fifth Man, or Fifth Generation?) and Ashtam Garbha (The Eighth Pregnancy). She was awarded the Tarashankar Award for Antarghaat (Treason), and the Ananda Purashkar for Maitreya Jataka. She is also the recipient of the Sushila Devi Birla Award and the Sahitya Setu Puraskar. She translates extensively into Bangla and writes essays, short stories and poetry.

Bani Basu has been conferred upon Sahitya Academy Award 2010, one of India's highest literary awards, for her contribution to Bengali literature.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
41 (29%)
4 stars
64 (45%)
3 stars
29 (20%)
2 stars
4 (2%)
1 star
2 (1%)
Displaying 1 - 30 of 31 reviews
Profile Image for রিফাত সানজিদা.
174 reviews1,356 followers
September 21, 2016
শরীর, শরীর..তোমার মন নাই কুসুম?

খারাপ ছেলে নিয়ে লেখার আগে খারাপ ছেলে দেখার গল্প বলি।

ফেসবুকে বইপড়ুয়া নামে একটা চমৎকার গ্রুপ আছে। সেখান থেকে অসংখ্য বইয়ের নাম জেনেছি, বন্ধু পেয়েছি, বড়/ছোট ভাইবোন পেয়েছি, তাদের কাছ থেকে বই উপহার পেয়েছি। সব মিলিয়ে ঋণের শেষ নেই।

গ্রুপের চট্টলাস্থ সদস্যদের নিয়ে আড্ডার আয়োজন হলো এক ঈদের ছুটিতে, বাতিঘরে। আগেও হয়েছিল তেমন। স্বভাববিরুদ্ধভাবে যোগ দিলাম সেবার।
চবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক 'তরুণ শিক্ষক' উপস্থিত ছিলেন তখন। দলীয় স্কলারলি (মানে টু হাই) আলোচনার এক ভাগে কথা বললেন এখনকার শিশুকিশোরদের হাতে ক্রমঃ সুলভ হয়ে ওঠা ১৮+ ভিডিওক্লিপের প্রতিক্রিয়া ও প্রতিকার নিয়ে।

তার মাস সাত-আট পরের কথা, আমি শহরছাড়া তখন এবং দেশ-ও। নিউজ হেডলাইনে চোখে পড়লো চবির সেই 'তরুণ শিক্ষক' যৌননিপীড়ণের দায়ে অভিযুক্ত।
এবং নিপীড়িতা প্রায় অপ্রাপ্তবয়স্কা। অনলাইনমুগ্দ্ধতা সুত্রে প্রথম যুগল সাক্ষাতের পর বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার পথে সিএনজিতে মেয়েটির শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়।

লোকটার আইডি খুঁজে দেখলাম, ডিএক্টিভেটেড। যা হয় আর কী...
এরপর 'সুশীল', 'সুশিক্ষিত', একটি 'পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক', ঐ 'সম্মানিত' পড়ুয়াটি গা ঢাকা দিয়ে ছিলেন বহুদিন। পরে কী হয়েছিলো কে জানে।

সেই আমার প্রথম সরাসরি কোন খারাপ ছেলে দেখা।

এর আগে দেখিনি? দেখেছি। স্কুলে-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে দেখেছি নোংরা চোখ, শুনেছি গা ঘিনঘিনে মন্তব্য। চাকরিজীবনে সেক্সুয়াল ভায়োলেন্সের অভিযোগের তদন্ত কমিটিতে কাজ করেছি।
কিন্তু এ তো শিক্ষক! এ তো পড়ুয়া!

ঐ প্রথম ধাক্কা খেয়ে বুঝতে পারা নিখিলরা আছে আমার, আপনার আশেপাশেই। বাণী বসুর লেখা এ উপন্যাসে মুখোশ আঁটা এবং বিহীন পুরুষজাতির যে ক্লেদাক্ত মন, যে পাশবিক রুচির গল্প পড়ে মন খারাপ করেছিলাম, মনে হচ্ছিল নাহ, বাড়িয়ে বলা, ফেনিয়ে লেখা, এ সত্যি নয়, আসলে সব সত্যি।
স-ব!
যারা যায়, তারা তো আর নিঃসম্পর্ক নয় রে বাবা। কারও না কারও ছেলে তো বটেই।
বাবা-কাকা, ভাই বেরাদর তো বটে!

যৌনব্যবসা বা পতিতাবৃত্তি নিয়ে বিশদে লেখার সাহস আমার নেই।
আমি একজন অসম্ভব দূর্বল মানুষ, যে বিখ্যাত ফটোগ্রাফার জেএমবি আকাশের তোলা শিশু পতিতার ঝাপসা ছবি দেখলেও পুরো রাত দুঃস্বপ্ন দেখে, সিএনএন বা হাফিংটন পোস্টে আইএসের বন্দী বা যৌন জিহাদীদের ওপর হাফ কলামের ফিচার পড়েই ভয় পায়।

আমি জানি না নৈতিক পতনের সঙ্গে মিলিয়ে যদি এই পেশায় নিয়োজিত নারীদের পতিতা বলা হয়, সেই পতনের দায়ভারের অর্ধাংশ যেই পুরুষের, তাকে পতিত হিসাবে সমাজ থেকে অচ্ছুৎ তালিকায় আনা হয় না কেন!

আমি বুঝতে পারি না মানব সমাজের সবচেয়ে আদিম এই ব্যবসায়, রেডলাইট এরিয়া নামের দগদগে বন্ধনী, রিপুর উপর ভর দিয়ে চলা এই ক্লীব লেনদেন, নারীমাংসের নগ্ন কেনাবেচা আর কতোদিন চলবে?

শুধু প্রার্থনা করি যেন সব মল্লিকারা মুখ খোলার সাহসটুকু অর্জনের জায়গায় এসে দাঁড়াতে পারে।

১৩৪ পাতার এই কৃশকায় কিন্তু কঠিন শক্তিমান বইটি আগামি দীর্ঘদিন আমি আর হাতে নিতে চাই না।
Profile Image for Muhammad .
152 reviews12 followers
March 22, 2016
ইতিহাসের মোটা মোটা বই নয়, প্রতিদিনের খবরের কাগজ ওলটালেই নিজের মানবজন্ম নিয়ে বেশ লজ্জিত হই এখন। পৃথিবীব্যাপী শুধু এক ধর্ষণের সংবাদই এত নিয়মিত হয়ে পড়েছে যে টিভিতে সংবাদ পাঠক যখন অসীমতম বারের মত ঘোষণা করেন “অমুক অঞ্চলে দুজন নারী ধর্ষিত হয়েছেন”, তা “চ্যাম্পিয়ন’স লিগে বায়ার্ন মিউনিখ দু গোল দিয়েছে”র মতই নিয়মিত ও ‘মামুলী’ শোনায়। হায় আদিম রিপু! যে যৌনতায় মানুষের জন্ম, সেই যৌনতায়ই মানবিকতার মৃত্যু। নারীর প্রতি নরের জৈবিক টান, সেতো খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। কিন্তু সেই আদিম কাল থেকে সভ্যতার সব সমাজেই কিছু মানুষ (নাকি বেশীর ভাগ মানুষ?) জৈবিক ক্ষুধার ভীষণ স্বাভাবিক অনুভূতিটিকে অনুভব করেছে ভয়ানক অস্বাভাবিকভাবে। ক্ষুধার এই প্রচণ্ডতাকে সামাল দিতে মানুষ উদ্ভাবন করেছে অদ্ভুত এক ব্যবসার, পতিতাবৃত্তি। পৃথিবীর বুকে এমন কোন মত আজ পর্যন্ত গঠিত হয়নি যার পক্ষে সাফাই গাইবার অন্তত একজনও নেই। যুক্তিবিদ্যা বড় অদ্ভুত এক বিদ্যা। সব মতের পক্ষেই এই বিদ্যার ব্যবহার আছে। যিনি জ্ঞানী, তিনি জ্ঞান বিতরন করবেন। যিনি পরিশ্রমী, তিনি শ্রম বেচবেন। অতএব, যুক্তি দিয়ে তর্ক করাই যায়, যিনি শরীরী, তিনি কেন শরীর বিলোবেন না? যুক্তির এ পথে হেঁটেই পতিতাবৃত্তির ‘ন্যায্যতা’ প্রতিপাদিত হয়েছে। বর্তমানে এটিও একটি স্থাপিত পেশা। হুমায়ূন আহমেদ তাঁর অনেক গল্প-উপন্যাস ও নাটকে প্রচ্ছন্নভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ভিক্ষুকেরা মানুষের আসল চেহারা সবচেয়ে ভালো চেনে। খুব সম্ভব পতিতারাও। ‘খদ্দেরদের’ মনের গোপনতম কামনা আর ফ্যান্টাসিগুলোকে যারা প্রতিনিয়ত বাস্তবায়িত করে চলেছে, তাদেরই তো মানুষ চেনার কথা সত্যিকারভাবে। কেমন সমাজ এই পতিতাদের? শরীর বিকিয়ে খাওয়ার এই গ্লানিময় পেশা কী তাদের খুব পছন্দের? কেন তারা চলে যায় না অন্য পেশায়? (কিংবা যেতে পারেনা?)

বাণী বসুর ‘খারাপ ছেলে’ আক্ষরিক অর্থেই খারাপ এক ছেলের গল্প; এপার-ওপার দু’ বাংলারই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর প্রতিদিনের গল্প, যে পরিবারগুলোতে স্বামী সামনের আলমারিতে রাখা শার্টটি হাতে তুলে দিতে স্ত্রীকে পাশের ঘর থেকে ডেকে এনে ‘আদেশ’ করেন। যে পরিবারগুলোতে স্ত্রীরা প্রকারান্তরে ধর্ষিতই হন স্বামীদের হাতে, প্রেমহীন একপক্ষীয় কামনার ফাঁদে। এই উপন্যাসটি লিখে এক নারীই জানান দিয়েছেন বাংলার লক্ষ নারীর প্রতিদিনের ব্যবহৃত হবার দুঃখগাথা, কী নিজ ঘরে কী পতিতাপল্লীতে। ১৩৪ পৃষ্ঠার ক্ষুদ্রকায় উপন্যাসটির প্রতিটি সংলাপ, প্রতিটি ঘটনাই মনে হয় রীতিমত দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে লেখা। এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জিনা। পতিতাপল্লীর মেয়েদের শিক্ষকতা করাবার কাজ-টা যার জীবনকেই পাল্টে দেয়। জিনা'র চোখ দিয়ে দেখে দেখে পাঠকও যেন একসময় হঠাৎ আবিষ্কার করে বসে মানব জীবন কি ভীষণ কদর্যময়! দাতব্য সংস্থানগুলো পতিতাদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চায় কিন্তু একই সাথে তারা সেই শিক্ষার দৌড় সীমাবদ্ধও করে দিতে চায় একটি নির্দিষ্ট গণ্ডী পর্যন্ত। এর বেশী পড়ালে তারা আর এ ব্যবসায় থাকতে চাইবেনা। আবার, পতিতাদের সংখ্যা কমে গেলে দাতব্য সংস্থাও টাকা দেবে কেন? এ এক অদ্ভুত প্যারাডক্স! (দান-খয়রাতও একটি লাভজনক ব্যবসাই বটে। খাদ্য-বস্ত্র-বাসস্থান এর মত মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে মানুষকে কত সৃষ্টিশীলই না হতে হয়!) পতিতা সমাজে মাসী যারা আছে তারাও চায় না তাদের এ অবস্থা রাতারাতি পাল্টে যাক। বড় ব্যবসায়ীদের হাতে তাদেরও তো টিকি বাঁধা। কোথায় শেষ এই দুষ্ট চক্রের? নিজ ইচ্ছেয় কেউ এসে এ পেশায় জড়ায়নি। বাবা, প্রেমিক, স্বামী এরাই বিক্রি করে দিয়ে গেছে তাদের কন্যা, প্রেমিকা অথবা স্ত্রীদের, চিরশত্রু উদরের আগুন নেভাতে। পতিতাপল্লীর অন্ধকার গলি থেকে যে মেয়েটি পালিয়ে আসতে চায়, ধরা পড়বার পর শাস্তি স্বরূপ তাকে ধর্ষিত হতে হয় সারা রাত, একাধিক পোষা মাস্তানের হাতে। বাধ্যগত হলে 'সোহাগ', আর বেয়াড়া-বিদ্রোহী হলে ধর্ষণ; পুরস্কারের স্বীকৃতি কী তিরস্কারের লাঠি, উভয়েরই মূল্যের প্রকার কী ক্লান্তিকর রকম এক! ১৩৪টি পৃষ্ঠাই মাত্র, এতেই মানুষের যৌনক্ষুধার বিবরণে বড্ড বেশী বিষণ্ণ ও নিশ্চল হয়ে গেছি। মানবজাতির আরেকজন প্রতিনিধি হিসেবেই লজ্জিত ছিলাম ‘��াতভাইদের’ আচরণে। পরিধিটা আরো ছোট হয়ে শুধু পুরুষ জাতিতে এসে ঠেকল কী না কে জানে।
Profile Image for Zunaed.
54 reviews119 followers
June 27, 2017
"খারাপ মেয়েদের কথা ভাবতে বলিনি গো! খারাপ ছেলেদের কথা ভাবো। কারা সেই ধিনিকেষ্ট, যাদের সুখের জন্য পাড়া ভর্তি করে মেয়ে পুষে রাখতে হয়, যে মেয়েদের বাবা নেই, ভাই নেই, স্বামী নেই, ছেলে নেই, ছেলেবেলা নেই, বন্ধু নেই, দিন নেই, রাতও নেই রাতের মত। পেটের দায়ে যারা যৌনাঙ্গ ভাড়া খাটায়।"

'খারাপ মেয়ে' কথাটা বলতে আমাদের মুখে আটকায় না, কোনো মেয়ে সমাজের বেঁধে দেয়া সীমা পেরুতে চাইলেই আমরা তাকে 'খারাপ', 'বাজে', 'বাজারি' অভিধায় অভিষিক্ত করি, কখনও তো আবার এই কারণটারও দরকার পড়ে না। প্রতিদিন টিভি, পত্রিকা খুললেই চোখে পড়ে অসংখ্য ধর্ষণের কথা, যার দায়ভার আবার বিজ্ঞ জনতা ফেলে মেয়েদের ঘাড়ে, 'পর্দা করো না কেন?'। যখন কেউ পর্দা করেও রেহাই পায় না, তখন আবার তারা তত্ত্বতালাশ করে নতুন কারণ খুঁজে বের করে, 'ঘর থেকে বেরুলে কেন বাছা?' কিন্তু ঘরটাও কি নিরাপদ? ঘরেই যে কত মেয়ে নির্যাতনের শিকার হয়— শারীরিক, মানসিক, এমনকি যৌনও— তার কি হিসাব আছে? আমাদের 'কঠিন সামাজিক বন্ধন'এর কারণে সেগুলোর কথা কানে আসে না, কিন্তু মেরিটাল রেপের শিকার হওয়া নারী কি এই বাঙালমুলুকে কম আছে? 'বিবাহবিচ্ছেদ হয় না, আমাদের পরিবার কাঠামো খুব শক্তিশালী' ভেবে আমাদের খুব আত্মতৃপ্তি, কিন্তু এর পেছনে আসল কারণ কি ভালোবাসা-দায়িত্ববোধ, নাকি পরিবারের বাইরের আরো খারাপ অবস্থা?

জৈবিক প্রয়োজন মানুষ আদিকাল থেকেই মেটাত, পরিবার তৈরি হওয়ার আগেও, নইলে তো মানবজাতি টিকে থাকতো না। তাহলে পরিবারপ্রথার তৈরি হয়েছিল কেন? যাতে করে যৌনতা একটা পরিশীলিত রূপ পায়, প্রজননের সাথে সাথে দায়িত্ব এসে পড়ে ঘাড়ে, যাতে করে পূর্ণবয়স্ক লোকটা খুঁজে পায় বাঁচার মানে আর অক্ষম শিশুটা পায় বাঁচার শক্তি। কিন্তু এই প্রথা কি তার উদ্দেশ্যে আজও অবিচল? বা কখনও ছিল? থাকলে পতিতালয়গুলো তৈরি হল কেন? কেন যৌনতা কেবল একটা পণ্য হয়ে দেখা দেয়?

খুব সম্ভব পেশিশক্তিতে এগিয়ে থাকায় পরিবারপ্রথার জন্ম থেকেই সমাজের নিয়ন্ত্রণ পুরুষের হাতে চলে আসে। সাধারণের জন্য যা আইন, তা কি আর শাসকের জন্য খাটে? তাই পুরুষ নারীকে ঘরে বন্দী করে এক পুরুষে সন্তুষ্ট থাকতে বলে। রাণীর 'চরিত্র' একটুও প্রশ্নবিদ্ধ হলেও যে রাজা তার গর্দান নিতে এক মুহূর্ত ভাবতেন না, তার হেরেমেই পাওয়া যেত হাজার সুন্দরী। মধ্যযুগ পেরিয়ে আজকের 'আধুনিক' যুগে তো ব্যাপারটায় আরো 'সাম্য' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, পতিতারা আজ পুরো সমাজের সামর্থ্যের মধ্যে চলে এসেছে।

"পুরুষমানুষ, এসব একটুআধটু করবেই।" এই একটুআধটু করতে করতে 'পুরুষ'মানুষ তার নামের শেষের 'মানুষ' অংশটা বাদ দিয়ে হয়ে উঠছে কেবলি 'পুরুষ'। তাই সমাজের 'কথিত খারাপ মেয়ে' পাওয়া যত সহজ, তার চেয়ে ঢের সহজ হয়ে গেছে 'বাস্তব খারাপ ছেলে' পাওয়া। এমনি এক খারাপ ছেলের গল্প এটা। কিন্তু,
"যারা যায় তারা তো আর নিঃসম্পর্ক নয় রে বাবা। কারও না কারও ছেলে তো বটেই। বাবা-কাকা, ভাই বেরাদর তো বটে!"
তাই খারাপ ছেলের কথা বলতে বলতে চলে আসে আরো অনেকের কথা- চলে আসে জিনা, মল্লিকা, কল্যাণবাবু, মুকুট, ঋত্ত্বিক আর খারাপ ছেলের শিকার 'খারাপ মেয়ে'দের কথা। উঠে আসে তাদের জীবনের সাথের রাজনীতির কথা, তাদের ঘিরে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক ব্যবস্থাটার কথাও।

পড়া শেষে মাথা কেমন ফাঁকা ছিল কিছুক্ষণ, কী বলব, কী করব কিছুই মাথায় ছিল না। মাথা নিচু হয়েছে জাতভাইদের পরিচয় দেখে। পূর্ণিমাদের কোনো পুরুষ আছে এমন ঘরে না যেতে চাওয়ায় আঁতকে উঠেছি, এতটা ঘৃণা আমার জাতটার প্রতি! অবশ্য ওদের জায়গায় থাকলে আমারও কি অন্য কিছু করার থাকতো?
"পুরুষকে এরা মাত্র একটা ভূমিকাতেই চেনে। খদ্দের। পিতা, রক্ষক, পুত্র, পালক, ভাই, বন্ধু আর কোনও পরিচয়েই নয়। যেসব মেয়েরা বাইরে থেকে এসেছে, কেউ স্বামীর অত্যাচারে পালিয়ে এসেছে, কেউ ভালবাসার লোকের কাছে ঠকে এসেছে, কেউ পিতা বা পিতৃতূল্য কারো কাছ থেকে বিক্রি হয়ে এসেছে। এদের সবারই কাছে পুরুষ এক ভয়াবহ বিপজ্জনক প্রবঞ্চক, চতুর ক্রেতা।"

তবু আশা জাগায় জিনা, মল্লিকারা, যারা জেগে উঠে, প্রচণ্ড ধাক্কায় আত্মপরিচয় হারিয়ে যারা নতুন করে পরিচয় গড়ে নেয়। মল্লিকাদের জেগে উঠা, সব অন্যায়ের শোধ নেয়া আশা জাগায়, বিশ্বাস করায় একদিন পৃথিবীতে আর খারাপ ছেলে থাকবে না। ঋত্বিক বা কল্যাণবাবুদের ঢাল করে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করি। ভাবি, এমন একদিন আসবে যেদিন এসব পতিতালয় বন্ধ হবে 'খদ্দের' আর 'দাসী'র অভাবে, দুজন মানুষ শুধু মানুষ পরিচয়েই এক হবে, তাদের এক হওয়ায় পৃথিবীতে আসবে আরেকজন মানুষ। মানুষের চেয়ে সুন্দর, পবিত্র আর কী আছে?
Profile Image for Daina Chakma.
440 reviews774 followers
May 31, 2018
"যারা যায় তারা তো আর নিঃসম্পর্ক নয় রে বাবা। কারও না কারও ছেলে তো বটেই। বাবা-কাকা, ভাই-বেরাদর তো বটে!"


পতিতালয় কিংবা বেশ্যাপাড়া কিংবা খারাপ পাড়া যে নামেই সম্বোধন করি না কেন এসব জায়গায় যায় কারা?? পুরুষরাই তো যায়। অথচ "পুরুষমানুষ", এক আধটু দোষ থাকবেই -এই এক শব্দেই তাদের সাত খুন মাপ। বরং নাম দেয়া হয় পতিতাদের। বেশ্যা, প্রস্টিটিউট, হোর, কল গার্ল সহ নানা গালভরা নাম। পুরুষকে এরা মাত্র একটা ভূমিকাতেই চেনে। খদ্দের। পিতা, রক্ষক, পুত্র, পালক, ভাই, বন্ধু আর কোনও পরিচয়েই নয়। যেসব মেয়েরা বাইরে থেকে এসেছে, কেউ স্বামীর অত্যাচারে পালিয়ে এসেছে, কেউ ভালবাসার লোকের কাছে ঠকে এসেছে, কেউ পিতা বা পিতৃতূল্য কারো কাছ থেকে বিক্রি হয়ে এসেছে। এদের সবারই কাছে পুরুষ এক ভয়াবহ বিপজ্জনক প্রবঞ্চক, চতুর ক্রেতা।

খারাপ ছেলে ভয়ানক মন খারাপ করা একটা বই। নাইট কোচে ঢাকা ফিরেছি আজ সকালে। আগের দিন বিকেলে পড়া শুরু করেছিলাম বইটা। আজ সকালে শেষ করলাম। তখন থেকে মোটামোটি দুঃস্বপ্নের মধ্যে আছি। বারবার বনমালা, পূর্ণিমা, মল্লিকা আর জিনা সামনে এসে দাঁড়াচ্ছে।

মেয়েদেরকে ভোগ্যপণ্য বানিয়ে ব্যবসা করার ব্যাপারটা অত্যন্ত কুৎসিত। এই বিষয়ে লিখতে গেলেও যথেষ্ট মনোবলের প্রয়োজন। Bani Basu লিখেছেন এবং যথার্থই লিখেছেন। বেশ্যাবৃত্তি বিষয়টাকে পুঁজি করে কেবলমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য লিখেননি। বাস্তবিকভাবে তাদের কষ্ট উপলব্ধি করার চেষ্টা করেছেন। তার বেশ খানিকটা আঁচ পাঠকদের গায়েও লাগে।

আজকাল পাশ্চাত্য দেশগুলো "সেক্স ওয়ার্কার" নামকরণের মাধ্যমে পতিতাবৃত্তিকে কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদেরকে খানিকটা সম্মান দেয়ার বৃথা চেষ্টা করছে। গা থেকে দুধের গন্ধ যাওয়ার আগে বিক্রি হয়ে যাওয়া নিরক্ষর মেয়েগুলো এই সম্মানের কি বুঝবে?! ওদের তো কোনো জীবন নেই। জীবনকে চেনার আগেই সেটা শেষ হয়ে গেছে। একটু ভালোভাবে বাঁচার জন্য তাদেরকে অক্ষর শিক্ষা, স্বাস্থ্য শিক্ষা দিয়ে উদ্ধারকর্তা হতে গেলেও বিপদ। প্রচণ্ড শক্তিশালী একটা দল আছে যারা যে কোনো মূল্যে এই লাভজনক ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চায়। যে কেউ চাইলেই একজন পতিতা মেয়েকে শিখিয়ে পড়িয়ে নতুন একটা জীবন দিতে পারেনা। পাহাড় সমান বাঁধা পেরুতে পারলে তবে এদের জন্য কিছু করা সম্ভব। কি নিষ্ঠুর আর মন খারাপ করা একটা সমাজ আমাদের! কারও ভালো করতে চাইলেও পেছনে ক্ষমতাধরের ব্যাকআপ লাগে। নচেৎ নিজের মুণ্ডু খোয়ানোর কিংবা সম্মান হারানোর ভয় প্রতি পদেপদে।

পতিতাবৃত্তি ছাড়াও আরো একটা বিষয় উঠে এসেছে এই গল্পে। যুগেযুগে অবলাজাতি নিজের পরিবারেই নিয়মিত ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে, অথচ পারিবারিক শান্তি লোপাটের ভয়ে টু শব্দও করছেনা!

জিনার প্রতি প্রচণ্ড শ্রদ্ধায় মাথা নুয়ে আসে। যে বঁধু কেবলমাত্র সংসা���ে শান্তি বজায় রাখার জন্য পতিদেবের আবদার(!) মেনে নিয়ে নিজের শখের চুল বিসর্জন দিয়ে আসে সেই মেয়েটিই আবার সময়ের প্রয়োজনে পূর্ণিমা, বনমালাদের পাশে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দ্বিধা বোধ করেনা!

এই বইটি অনেকদিন ভাবাবে। আমি বীরাঙ্গনা বলছি বইয়ের মতো খারাপ ছেলেও দ্বিতীয়বার পড়ার দুঃসাহস হবেনা।
Profile Image for Rumana Nasrin.
159 reviews7 followers
September 18, 2016
বাণী বসুর কয়েকটা বইয়ের পিডিএফ ল্যাপটপ আর ট্যাবে বেশ অনেকদিন ধরেই আছে। আজ অফিসে কাজের ফাঁকে ফাঁকে কেন যেন এই বইটা পড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। সম্ভবত শুক্রবারে লাইব্রেরী শেলফে দেখার কারণে মাথায় ছিলো আর রিফাত আপুর শেলফেও দেখেছিলাম। আমি একসাথে একগাদা বই পড়ি। গুডরিডসের কারেন্টলি রিডিং ছাড়াও সে এক লম্বা তালিকা। :p আজ ভেবেছিলাম এটার একটা স্টার্টিং করে রেখে দেবো। কিন্তু স্টার্টিং গিয়ে এন্ডিং এ ঠেকেছে।

যখন থেকে প্রস্টিটিউশন কি জেনেছি ভীষণ অবাক হয়ে দেখেছি আশেপাশের সবাই মেয়েগুলোর প্রতি কি প্রচণ্ড ঘৃণা নিয়ে কুঁকড়ে যায়, অথচ এই মেয়েগুলো যাদের মন এবং শরীরের ক্ষুধা মেটায় তাদের প্রতি কোন নেতিবাচক মনোভাব কারো নাই। মানুষ বড়ই বিচিত্র প্রাণী। এদের মনের তল পাওয়া বড্ড ভার। আমাদের সমাজে নিখিল আর মল্লিকাদের সংখ্যাই বেশী আর জিনাদের খুঁজে ফেরাই সার হয়। জিনারা এতোটা সাহসী হয় না বলেই কুটুসরা বড় হয়ে রবি গুন্ডাই হয়, পূর্ণিমা, বনমালারা আরো পূর্ণিমা, রাখী, বনমালার জন্ম দেয়। কল্যাণ বাবুরা পরিবারের সম্মান আগে নিয়ে আসেন বলে জিনাদের পাশে দাঁড়াতে পারেন না আর কুটুসরাও অধিকার পায় না।

আমি মল্লিকাদের কথা শুনে বা পড়ে অবাক হই না, কারণ জানি আশেপাশে অনেক মল্লিকা আছে। নিখিল তো প্রায় সব পুরুষের মুখোশের পিছনেই আছে, শুনতে খারাপ লাগলেও। তবুও ঋত্বিক আর কল্যাণ বাবুদের কথা ভেবেই মনে হয় সমাজ এখনো একেবারেই পচেগলে যায়নি। জিনার কথা ভেবে সাহসী হতেও ভালো লাগে।

আর আবোলতাবোল না বকি। যথেষ্ট হয়েছে। :/
Profile Image for Nabila Tabassum Chowdhury.
376 reviews276 followers
June 27, 2015
"পুরুষকে এরা মাত্র একটা ভূমিকাতেই চেনে। খদ্দের। পিতা, রক্ষক, পুত্র, পালক, ভাই, বন্ধু আর কোনও পরিচয়েই নয়। যেসব মেয়েরা বাইরে থেকে এসেছে, কেউ স্বামীর অত্যাচারে পালিয়ে এসেছে, কেউ ভালবাসার লোকের কাছে ঠকে এসেছে, কেউ পিতা বা পিতৃতূল্য কারো কাছ থেকে বিক্রি হয়ে এসেছে। এদের সবারই কাছে পুরুষ এক ভয়াবহ বিপজ্জনক প্রবঞ্চক, চতুর ক্রেতা।"


এই ভয়ানক মন খারাপ করা লাইনটা এ বইয়ের। বোঝাই যাচ্ছে, উপন্যাসটির একটি মুল বিষয় পতিতাবৃত্তি। এই লাইন পড়ে মন খারাপ করার মত বিলাসিতা আমার আছে। তাই আমি মন খারাপ করি, ওদের বাস্তবতা বোঝার ভান করি। কিন্তু আসলেই কী বুঝতে পারি? না পারি না। কারণ প্রথমত, আমি পুরুষের খারাপ রূপ দেখিনি। ওরিয়ানা ফালাচ্চির মত আমার কাছেই "একজন পুরুষ মানে সম্মুখভাগে লেজবিশিষ্ট একটি মানুষ নয়- একজন পুরুষ মানে একজন ব্যক্তি।" এমনকি কেউ যদি আমাকে বলে একজন পুরুষ একজন নারীর চেয়ে কম আবেগপ্রবণ, আমি সেটাও বিশ্বাস করি না। কারণ আমি আব্বুকে দেখেছি, এই লোকটা তার ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া সন্তানদের মুখে তুলে খাইয়ে দেন। আমার ছোট ভাইটার কথা ধরা যাক, ও জন্মের পর আমি সারাক্ষণ বাজে রকম দুশ্চিন্তায় ভুগতাম এইটুকুন বাচ্চা নিঃশ্বাস নিচ্ছে কিভাবে, সকালে ঘুম থেকে উঠে দৌড়ে পরীক্ষা করে আসতাম এই রাতটাও এতটুকুন বাচ্চাটা বেঁচে গেল কিনা, সেই ভাই এখন জীবনের ছোট ছোট প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে সাহায্য করে। শৈশবের একান্নবর্তী পরিবারে ছিল চাচারা, পরিবার আলাদা হলেও তাদের কেউ কেউ এখনও ভুল করে নিজের সন্তানদের আমার নামে সম্বোধন করে বসেন। যাই হোক, ওরা তো বাবা-চাচা-ভাই, ওদের স্নেহের উপর আমার অধিকার জন্মগত, ওদের কথা বাদ দিলাম। আমি আমার চলার পথে পেয়েছি অনেক বন্ধুদের। কী মমতায় ওরা আমার পাশে পথ চলে, প্রত্যেকবার পিছিয়ে পড়াকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করে, যেকোনো জায়গায় কোনও রকম অস্বস্তি ছাড়া আমি নির্ভার হয়ে ওদের সাথে সময় কাটিয়ে দিতে পারি। আমি বড়জোর বুঝতে পারি এই লাইনটা মানে সেই প্রিয় এবং অতিপ্রয়োজনীয় মুখগুলোর অনুপস্থিতি। জীবন কী ভয়ানক মনে হয়। সংখ্যা রেখায় আমার অবস্থান ধনাত্মক আর ওদের অবস্থান ঋণাত্মক। অনেক কষ্টে বড়জোর শূন্য পর্যন্ত নিজের বোধটা নিয়ে যেতে পারি। আর পারি না...। দ্বিতীয়ত, আমি এতটা নির্মল পরিবেশে থাকি, যেখানে বসে যৌনতায় ভরপুর একটা পরিবেশের মানুষদের সাফারিং সম্পর্কে বোঝা সম্ভব না। হতে পারে ওদের মন খারাপ করার মনটাই আর বাকি নেই এখনও। খদ্দেররা খুবলে খেয়েই নিয়েছে...। এই উপন্যাস পড়তে গিয়ে আমার অভিঘাতের প্রথম স্তরে আমি বাজে ভাবে আহত।

যারা যায় তারা তো আর নিঃসম্পর্ক নয় রে বাবা। কারও না কারও ছেলে তো বটেই। বাবা-কাকা, ভাই বেরাদর তো বটে!


চেষ্টা করেছিলাম কল্পনায় আমার পরিবেশ থেকে দুই-একটা মুখ উঠিয়ে সেই যৌনতায় ভরপুর পরিবেশে পাঠাবো। অনেক কষ্ট করেও সে কাজটা করতে ব্যর্থ হলাম। আমি জানিনা এই লাইনটা যাদের ক্ষেত্রে সত্য বলে আবিষ্কৃত হয় এরপরে কি হওয়া সম্ভব। তবে এইটুক বুঝতে পারি এই লাইনটার মানে তাদের পৃথিবী ভেঙ্গে যাওয়া। শুধু ভেঙ্গে যাওয়া নয় সমস্ত ভার নিয়ে ভাঙ্গা অংশগুলো তাদের উপরেই পড়া। আচ্ছা, আর সেটা যদি নিজের জীবনসঙ্গী হয়? তাহলে? উপন্যাসটি আমাকে অভিঘাতের দ্বিতীয় স্তরে নিয়ে যায়। এই স্তরে বসেই আমি জিনার অবস্থানকে শ্রদ্ধা এবং সমর্থন করি।

নারীত্বকে খুবলে খাওয়া নিয়ে বইগুলো পড়লে আমার জ্বর জ্বর লাগে। অনেকক্ষণ স্বাভাবিক হতে পারি না। নিজের চিন্তা থেকে পালিয়ে যাবার পথ খুঁজি, পারি না। উপরন্তু এই বইয়ের বিষয়বস্তু শুধু যৌনকর্মী, পতিতালয়, তাদের নিয়ে নানা উন্নয়ন কর্মসূচি, তাদের খদ্দের এবং খদ্দেরদের পরিবারেই আবদ্ধ ছিলনা। আরেকটি আরও অন্ধকার দিক খানিকটা উঠে এসেছে এই বইতে, সেটা হল পরিবারের সদস্য কর্তৃক ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনা। মেয়েরা যেটা সহ্য করে যায় দিনের পর দিন। আমি সেই সব পুরুষদের চিনি না যাদের উপর যৌনতা এতটাই ভর করে যে...। আমি সেসব নারীদের ও চিনি না যারা দিনের পর দিন টু শব্দটা করে না। কিভাবে?? কিভাবে সম্ভব?? উপন্যাস আমাকে সহ পদার্পণ করে অভিঘাতের তৃতীয় স্তরে। যে অতি সামান্য বোধ-বুদ্ধি-চিন্তার ক্ষমতার দিয়ে প্রকৃতি আমাকে গড়েছে সেটাও কাজ করতে অস্বীকার করে তখন। তাই এখানেই শেষ।

পুনশ্চ: যে বইয়ের চরিত্রদের থট প্রসেস ব্যক্ত থাকে, সেই বইগুলোর একটা বিশেষ অ্যাপিল আমার কাছে সবসময় রয়েছে। এই বইটিতে সেটা ব্যক্ত আছে। কিন্তু 'খারাপ ছেলে'র থট প্রসেসটা অব্যক্তই থেকে গেছে এবং চরিত্রটিও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। কিন্তু আমার জানতে ইচ্ছা হয় ওরা কিভাবে চিন্তা করে, কেন পৃথিবীটা ওদের কাছে বিশাল একটা সেক্সটয় মনে হয়, তাই আমার কাছে বইটার অপূর্ণতা শুধু সেখানেই।
Profile Image for Farhana Sufi.
495 reviews
May 20, 2018
উপন্যাসের সবথেকে দুর্বল বিষয় - উপন্যাসের নাম।
পড়তে এত দীর্ঘ বিলম্বের কারণও সম্ভবত এটাই।

বাণী বসুর লেখা আমার কাছে ববরাবরই সুনীল আর সমরেশের থেকে ভালো, একই চর্বিত চর্বণ না। তবে আশাপূর্ণা দেবীর সমমানের নয়।
Profile Image for Moumita Hride.
108 reviews64 followers
May 18, 2017
অসাধারণ গল্পটা। খুবই বাস্তববাদী গল্প। থ্রিলার না, হরর না কিন্তু একদম শেষে আমার গা কাটা দিয়ে উঠেছে। প্রতিটা মেয়ের এই গল্পটা পড়া উচিত। ভিতরটা ফাকা ফাকা লাগছে, কারন জীবনের সাথে গল্প খুব বেশি মিলে গেলে ভেতর টা ফাকা লাগে সত্যি।
Profile Image for Farzana Raisa.
533 reviews239 followers
February 12, 2021
খারাপ মেয়ে তো কতোই দেখা যায়, খারাপ ছেলে চোখে পড়ে কয়টা? আসলে, আমাদের সমাজ ব্যবস্থাটা এমন হয়ে গেছে যে ছেলে বা পুরুষ এরা অনেকটা পদ্ম পাতার মতো। যতোই পানি পড়ুক না কেন সে পানিটা ঠিক গড়িয়ে পড়ে যাবে। যতো জ্বালা সব মেয়েদের :)

বাণী বসু বলেছেন এমনি এক খারাপ ছেলের কথা। সমাজের চোখে ভালো, দেখতে-শুনতেও মন্দ না, ভালো চাকুরে নিখিল। এই নিখিলের বৌ জিনা। গল্পটা এই নিখিল ও জিনার। সঙ্গে কল্যাণবাবুর, মল্লিকার, এমনকি বনমালারও। জিনার মনে যে প্রশ্ন, যে দ্রোহ তা এমনি এমনি আসেনি। কতোকাল? কতোযুগের? আর মল্লিকা? ওরা তো ভদ্রঘরের মেয়ে। তবে?
Profile Image for Akhi Asma.
232 reviews463 followers
December 24, 2016
বইয়ের নামটা 'খারাপ ছেলে' না হয়ে অন্য কিছু হলে ভালো হতো।'খারাপ ছেলে' নামটা কেমন জানি!
বইয়ের এন্ডিংটা অনেক ভালো ছিল।
তবে বইটা পড়ে আমার অনেক রাগ লেগেছে আবার মন খারাপও হয়েছে...কেমন একটা মিশ্র অনুভূতি।

Disha আপুকে ধন্যবাদ।না হয় আমার Bani Basu-র নাম ই শোনা হত না।
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
547 reviews
February 24, 2025
৩.৫/৫
প্লটটা আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে। বাণী বসু এক্সিকিউশনে নিজের ক্ষমতা দেখাতে পেরেছেন। তবে মাঝখানে প্লটহোল আছে, বর্ণনায় নাটকীয়তা আছে৷ এগুলো বাদ দিতে পারলে দুর্দান্ত উপন্যাস হতে পারতো।
Profile Image for Alfie Shuvro .
241 reviews58 followers
August 3, 2016
প্রচণ্ড শক্তিশালী প্লট। লাস্ট ২৪ পাতাই পুরো উপন্যাসের সেরা অংশ। কেন জানি মনে হল বানী বসু গল্পের প্লট তৈরী করতে একটু বেশি সময় নিয়েছেন। উপন্যাস ১৩২ পাতার না হয়ে যদি ১০০ পাতার হত তবে হয়ত আরো টান টান উত্তেজনা তৈরী হত। মেয়েদের মন, পুরুষদের চিন্তা, বেশ্যাদের জীবন বেশ তুলে ধরেছেন। পার্শ্বচরিত্র গুলো এগিয়েছে নিজস্ব গতিতে । তবে কিছু ক্ষেত্রে মনে হয়েছে একটু অতিরিক্ত বর্ণনা দেয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বর্ননা বাদ দিলে পাচ স্টার পাওয়ার যোগ্য । গল্পের নামকরণটা ও অদ্ভুত মনে হয়েছে।
Profile Image for Israt Zaman Disha.
194 reviews622 followers
July 27, 2016
কিছু বই পড়লে ভিতরটা কিরকম ফাঁকা ফাঁকা লাগে। কিছু কিছু বই খুব ভাবায়। এটা তেমনই একটা বই।
Profile Image for Ësrât .
515 reviews85 followers
November 9, 2019
পুরোনো কাদুনী আবার! কেন রেটিং সিস্টেম পাঁচটা তারাতেই সীমাবদ্ধ? একটু কম বেশি হলে কি খুব বেশি ক্ষতি হত?


খারাপ ছেলে নিখিল, কেমন খারাপ?যার ভূমিকা গল্পের শুরুতে তেমন ভাবে কোথাও নেই,একরোখা রাগী পেশীশক্তি প্রদর্শন কারী নিখিল কখনো দৃষ্টিগোচর হবে না প্রথমে,এর থেকে বরং প্রাণোচ্ছল সদা শান্তিকামী ,মল্লিকার আত্মভোলা স্বভাবের মাঝে একরাশ স্বস্তির জায়গা,কল‍্যানবাবুর জন্য ছেলে আপন না বউমা এরকম উভয় সংকটে ফেলানো, দমদমে প্রবল প্রতাপে বেড়ে ওঠা জিনপরি,নেহাত সময় কাটানোর শখের বশে শুরু করা সমাজসেবা থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের প্রতি অবিচার হওয়ার পর ও বনমালা আর তার ছেলে কুটুসের জন্য লড়াকু জিনাই চোখ আর মন জুড়ে থাকে, ভালোবাসার পাত্রটা একটু বেশিই উপচে পড়ে তার জন্য.

কিন্তু গল্পটা তো খারাপ ছেলের তাহলে অঙ্ক টা তো মিললো না?এ তো শুধু ভালো মেয়ে জিনার গল্প! কিন্তু খুব আলোর মাঝেও তো একফোঁটা কালো চোখে বাধে,তাই নিখিল ওরফে নিষিদ্ধ পল্লী তে বনমালার কাছে দেহসুখ খোঁজা ফটিকবাবু শত করেও নিজের শেষ রক্ষা করতে পারেনি,খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে এলো তার কদাকার চেহারা যেখানে নিজের ঔরসজাত সন্তান কে বারোভাতারির পাপ বলতে তার মুখে বাধে না, নিজের বাবাকে ইঙ্গিত করে কটুক্তি কিংবা মল্লিকার উপর হামলে পড়া হিংস্র পশুর কামনা সব একদম সূর্যের আলোর মত পরিষ্কার সেখানে তাকে কি শুধু খারাপ ছেলে বললেই সবটা ঠিক করে বলা হয়?
Profile Image for Muhi Uddin.
103 reviews3 followers
October 27, 2022
বাণী বসুর লেখা এটা আমার প্রথম বই। বইটা শুরুতে বুঝতে পারিনি। পরে ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম।


কাহিনি সংক্ষেপঃ

লেখাটা পতিতা-দের সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে। দেশের বিশাল পরিমাণ মেয়ে অন্ধকার, দারিদ্র্য আর অশিক্ষার কারণে এপথে নেমে পড়ে। সেখান থেকে এদের তোলার জন্য মুকুট আর ঋতিক এনজিওর মাধ্যমে কাজ করে। ঋতিক বাচ্চাদের নিয়ে আর মুকুট বড়দের (বেশ্যা) নিয়ে কাজ করে। ওদিকে মুকুটের বান্ধবী জিনার বিয়ে হয় কল্যাণবাবুর ছোট ছেলে নিখিলের সাথে। চটপটে জিনা শ্বশুরবাড়ি এসেও বেশ চটপটে থাকে। জিনার স্বামী নিখিল চাকরি নিয়ে ব্যস্ত থাকে ওদিকে জিনার সময় যেনো কাটতেই চায়না।

পরে একদিন মুকুটের সাথে কথা বলে তাদের কাজের কথা জানতে পেরে শ্বশুরের সাথে আলোচনা করে সে বয়স্ক শিক্ষায় জড়িয়ে পড়ে। পতিতা পল্লির বয়স্ক লোকদের বেসিক জ্ঞান দেওয়ার কাজটা করে মুকুটের এনজিও। কিন্তু জিনা যোগ হওয়ার পর থেকে সে এটাতে ভালোভাবে জড়িয়ে পড়ে। কল্যাণবাবু একদিন বাস থেকে দেখতে পান জিনার দুটো ছেলে জিনার পেছন নিয়েছে। এরপর থেকে তিনিও সেখানে শিক্ষাদানের কাজে যোগ দেন। একটা ভালো কাজে থাকাও হলো আবার জিনাকেও পাহারা দেওয়া হলো। তার পড়ানোর কারণে সহজে উন্নতি করে জনকয়েক। বনমালা ও কিশোরী পূর্ণিমার বেশ পরিবর্তন ঘটে। দু'জনে উচ্চ শিক্ষার আকাংখা পেয়ে বসে। তারা কলেজে পড়বে, আইন পাশ করবে এমন স্বপ্ন দেখে।

ওদিকে বেশ্যা পাড়ার মাসিমা এসব শুনে চোখ চড়কগাছ। এভাবে যদি শিক্ষার পেছনে দৌড়ে তাহলে তো ব্যবসা গোল্লায় যাবে। তাই পূর্ণিমাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য ঐ পাড়ার গুণ্ডা পাণ্ডা দিয়ে শায়েস্তা করার জন্য তার উপস্থিতিতে পূর্ণিমাকে রেপ করান মাসি। বনমালা এ খবর পেয়ে তাকে রেহাই দেয়।

জিনা ঋত্বিকের 'রোচনা' নামের ঐ প্রতিষ্ঠানে যাওয়া আসা করে। ওখানে সময় কাটাতে ভালো লাগে। রোচনাতে বনমালার ছোট ছেলে কুটুসও আছে। জিনা ওকে খুব পছন্দ করে, কুটুসও করে।
এদিকে ঐপাড়া থেকে ফেরার সময় কল্যাণবাবুকে কে মাথায় বাড়ি দিয়ে অজ্ঞান করে দিয়েছে। বনমালা আর পূর্ণিমা দেখতে পেয়ে তাঁকে হাসাপাতালে ভর্তি করে।

এই ঘটনা জানার পর মুকুটরা মিলে একটা প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। তারা কেনো এরকমটা করলো এসব নিয়ে আলোচনা হলো, পুলিশ এসে পাড়ার মাসীমা আর এক গুণ্ডাকে ধরে নিয়ে গেলো। বড় গোলমালের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হলো। মুকুট তখন বললো, এরা গেলে হয়তো এই গুণ্ডারর আবার উৎপাত করতে পারে৷ তাই সবাই মিলে বনমালার ঘরে গিয়ে বসলো। বনমালা খুব ঘটা করে সবাইকে বসিয়ে সবাইকে পানীয় খেতে দিলো ঠিক এম��� সময় বনমালার সেই 'বাবু'টি আসলেন। তাকে দেখে জিনার হাত থেকে গ্লাস পড়ে গেলো। জিনা মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিলো তখন বনমালা তাকে ধরে রাখলো। সবাই যখন ভাবছে কেনো এরকম হলো, আর ঐ বাবুটিই কেনো চলে গেলো তখন মুকুট বললো, 'ঐ বাবুটি জিনার স্বামী।'

পাঠক বাকিটুকু জানতে বইটা আপনাকে পড়তে হবে। নিশ্চিত সময় বৃথা যাবেনা।

আমার কথাঃ
কল্যাণবাবু, মল্লিকা আর জিনা। এদের আমার বেশ ভালো লেগেছে। কোনো পরিবার�� এতো ভালো বন্ডিং থাকে তা না পড়লে অজানাই থেকে যেতো। কল্যাণ বাবুর মতো বাবা প্রতিটা ফ্যামিলিতে কল্পনা করাও দুষ্কর। আর জিনা ও মল্লিকা? এই জগতে ঝা হওয়া মানেই একে অপর থেকে যোজন মাইল দূরে থাকার আন্দোলন অথচ এখানে তারা আত্মার বন্ধনে বাধা। সত্যি ভালো ছিলো বইটা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Bahadur Biswas.
38 reviews5 followers
April 7, 2020
নাম দেখেই বুঝেছিলাম এ গল্প কোনো 'খারাপ' ছেলের কিন্তু কি অর্থে খারাপ সেটা আন্দাজ করতে পারিনি ।। পড়ার পরে বুঝলাম গল্পের লোকটি এতটাই জঘন্য ও নিচ যে খারাপ ছেলে কথাটা তার ক্ষেত্রে অনেক লঘু।

কলকাতার সম্ভ্রান্ত পরিবারের দুই গৃহবধূ মল্লিকা ও জিনা। মল্লিকা টিপিক্যাল বউয়ের মত তার স্বামী, শ্বশুর আর মেয়েদের নিয়ে থাকে। জিয়া দুপুরের অবসর সময় কাটানোর জন্য নিষিদ্ধ পল্লীর মেয়েদের পড়ানোর কাজে যোগ দেয়। এই সিদ্ধান্তই পাল্টে দেয় জিনার জীবন। তথাকথিত 'খারাপ' মেয়েগুলোর জীবনে পরিবর্তন আনার জেদ তাকে চেপে বসে। সে কি পারবে যৌনাঙ্গ ভাড়া দিয়ে বেঁচে থাকা অনীলা, বনমালী, লক্ষী, পূর্ণিমাদের জীবনে পরিবর্তন আনতে? 'খারাপ' ছেলে নিখিল কি জন্য খারাপ? জিনার ব্যক্তিত্বে সে কি পরিবর্তন আনবে?
Profile Image for Bidisha Chowdhury.
48 reviews33 followers
August 22, 2021
যে অন্ধকার জগতে হয়তো দুঃস্বপ্নেও আমরা পৌঁছতে পারিনা, সেখানে আমারই বয়সী, আমাদের মতোই মানুষেরা দিনের পর দিন বাস করছে। নিজেদের জীবন-যাপন করছে। স্বপ্ন দেখছে, দুঃস্বপ্ন ও। হয়তো, তথাকথিত সভ্য জগতে থাকা আমরা মানুষরা ভেবেও এই জগতের কূল কিনারা ছুঁতে পারবোনা। কিন্তু এই সমাজের বাইরেও যে যৌনপল্লী নিজেদের অসম্মান কে সম্বল করে একটা একটা করে শতাব্দী কাটিয়ে দিচ্ছে, তা কিন্তু আমাদেরই সৃষ্টি। বড়ো বৃত্ত, তার মাঝে আরো ছোটো বৃত্তের যোগাযোগ, ভাবধারা, দুঃখ, কষ্ট, মান-অপমানের বিশ্লেষণ ঠিক কতটা এক বা আলাদা তা সব নিয়েই 'খারাপ ছেলে '।
সত্যি বলতে নামটা আমার পছন্দ হয়নি, কারণ খারাপ ঠিক কতোটা খারাপ তা নিয়ে অনেক রকম ব্যখ্যায় যাওয়া যেতে পারে। সব খারাপ ছেলেরাই যে একপ্রকার তা নয়। পুরুষ জাতির সব থেকে অন্ধকার অধঃপতনের একটি পর্যায় খারাপ ছেলে হিসেবে চিহ্নিত হওয়াটা বোধহয় ঠিক নয়। বর্বরতা ছাপিয়ে যাওয়াকে শুধু এটুকু বিশেষণে মানায় না।
আর কিছু লেখার ক্ষমতা নেই, মাথা ভোঁ ভোঁ করছে।
Profile Image for DEHAN.
277 reviews80 followers
March 3, 2019
বানী বসুর বই আগে পড়ি নাই। একটু ঝাঁঝালো লাগলো। খারাপ ছেলের কর্মকাণ্ডের যে ফিরিস্তি দেখলুম তাতে বইয়ের নাম জঘন্য ছেলে রাখলে আরো উপভোগ্য হইতো। কিন্তু যাই হোক কিছু কিছু ব্যাপারে একটু নাটকীয়তা ঠেকলো। তাছাড়া ঠিক আছে
Profile Image for Nihar.
14 reviews1 follower
Read
August 6, 2016
আজকে টিউশনীতে যাই নাই, বাহিরে ব্যাপক ঘুরছি, অনেক গুলো কাজ কইরা আইসা গোসল করেই শেষ জায়গাটা শেষ করলাম! দিশা'কে ধন্যবাদ মাঝে মাঝে গুড রিডসে আমাকে স্মরন করার জন্য!
Profile Image for Shotabdi.
820 reviews203 followers
November 21, 2020
সমাজ, তার অভ্যন্তরীণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ঘটনা পরম্পরা এবং অবধারিতভাবে মানুষ নিয়ে বাণী বসুর ভাবনা সবসময়ই হৃদয়স্পর্শী। তিনি একইসাথে ইতিহাস এবং বর্তমান নিয়ে এমন কিছু কাজ করেছেন যা তাঁকে দিয়েছে এক উচ্চ আসন।
'খারাপ ছেলে' নামটা কেমন অনাকর্ষণীয়, মনে হয় হয়তো হালকা কোন উপন্যাস। কিন্তু, না৷ এর বিষয়বস্তু, দর্শন রীতিমতো চমকপ্রদ।
জিনা নামের একটি প্রাণোচ্ছল, আপস করে অভ্যস্ত মেয়েটির নিজস্ব গণ্ডি থেকে বেরিয়ে এসে একটা অন্য জীবন প্রতিষ্ঠা করার এ গল্প বড় সহজ নয়। একটি নরপশু, যে সমাজে ঘুরে বেড়ায় মানুষের রূপ নিয়ে, একটি নারীখাদক বাঘ, যে সমাজে একজন উচ্চপদস্থ সম্মানীয় কর্মকর্তার রূপ নিয়ে ঘুরে বেড়ায়, একজন স্বামী, দেবর, ছেলে সেজে থাকে, এ গল্পটা ঠিক তাকেই নিয়ে।
জিনার স্বামী নিখিল সরকার, একজন তথাকথিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতিনিধিত্বকারী পুরুষ কিংবা তার চেয়েও খারাপ কিছু। জিনা হচ্ছে সেই পুরুষত্বটুকু মেনে নেয়া এক আদুরে মেয়ে, যে এতবেশি প্রগতিশীল নয়। তার বন্ধু ঋত্বিক-মুকুট দম্পতি আবার দারুণ প্রগতিশীল, আধুনিক। তারা চালায় একটা প্রতিষ্ঠান, রূপোপজীবিনীদের একটু শিক্ষিত করে তোলা এবং তাদের সন্তানদের একটা সুস্থ পৃথিবী উপহার দেয়াই তাদের লক্ষ্য থাকে। অলস দুপুরগুলো কাটানোর সুযোগ খুঁজে জিনা আর পেয়ে যায় সেই পতিতাদের পড়ানোর সুযোগ। ধীরে ধীরে তার জীবনে আসে ভাবনার জায়গা, আসে মোড়।
অপরদিকে মল্লিকা, জিনার জা, কেন এমন ভীতু? অগোছালো? একদম শেষে তার কারণটা স্পষ্ট করেন লেখিকা, যা জানতে পেরে গা শিউরে ওঠে, স্তব্ধ না হয়ে পারা যায় না।
কল্যাণবাবু, জিনার শ্বশুর একজন ভালো মনের ভালো মানুষ, সমাজের পরিবর্তন মেনে নেয়ার এবং খারাপকে খারাপ বলার সৎ সাহস আছে যাঁর।
মল্লিকার স্বামী বিমান প্রতিনিধিত্ব করে সেই সব মানুষের যারা সব দেখে, কিন্তু প্রতিবাদ করেনা, কেবল বাঁচে নিজের জন্য, নিজের জীবন নিয়ে।
গোটা উপন্যাসটির সব কটা চরিত্র আসলে এই পুরো সমাজের নানা দিকের প্রতিচ্ছবি।
ভাবায় বইটি। এখনকার এই অস্থির সময়ের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং সম্পূর্ণ প্রাসঙ্গিক একটি বই।
Author 1 book24 followers
June 27, 2017
Dark Afternoons is English version of Bengali novel Kharap Chele by Bani Basu. Nandini Guha is the translator and she has done a good job by keeping some Bengali words intact, giving it a regional flavor as well as retaining the originality of Basu's narrative.

The novel is set in Kolkata in a traditional Bengali household and shocks the reader by indulging in sensitive topics such as illicit relationships at home as well as prostituion practices indulged in the infamous Sonagachi area.

Liked the novel for its unique concept though found it a bit too sermonic at some places. Read more about it on http://scribblesofsoul.com/dark-after...
Profile Image for Sharmita.
7 reviews2 followers
August 15, 2018
Such simple yet haunting story, i finished reading it when it was about 12:00am and my 9 month old girl was fast asleep beside me . I couldn’t fall back to sleep the feeling of disgust and the haunting fear of what life holds for a girl how easy it is to not find love, to be just a piece of meat and above all to be a victim to not only abuse but also to the norms of society which wont let you scream
Profile Image for Sujit Arjun.
45 reviews2 followers
September 8, 2024
একাধিক নারী চরিত্রের মধ্য দিয়ে তাদের যে অবদান তার এক ছাপ রেখেছেন সমগ্র লেখায়। বারবনিতার জীবন এবং তার বিবর্তনের প্রচেষ্টা যেখানে অংশগ্রহণ করেছে পুরুষ এবং একাধিক নারী।সেখানেও সামাজিকতার বেড়াজালে হৃষ্টপুষ্ট কিছু মোচড় রয়েছে।
সর্বোপরি যৌনসামগ্রীরূপে মানুষের যে বহিঃপ্রকাশ এবং তার বিভিন্ন আকার ইঙ্গিত ভীষণভাবে চোখে পড়ার মতো নজির সৃষ্টি করেছে। লেখিকার অধ্যায়ভিত্তিক বিশ্লেষণ আকর্ষণীয় ।
Profile Image for Tisha.
205 reviews1,119 followers
April 14, 2025
প্রথমেই বলি, বইয়ের একদম শেষটা আমার এতো ভালো লেগেছে যে আমি কয়েকবার পড়ে ফেলেছি। শান্তি পেয়েছি শেষটায়, খুব শান্তি! খুব খুশি হয়েছিলাম যখন কল্যাণবাবু তার লাঠি তুলে লিখিলকে মেরেছিলেন। কিন্তু, এসব কি আর বাস্তবে হয়? বাস্তবজীবন তো একদম উল্টো একটি ছবি। এখানে নিখিলের মতো মানুষ তো ঢের আছে! নেই কোন কল্যাণবাবু, আর নেই কোন সাহসী জিনা! আছে শুধু কিছু 'খারাপ মেয়ে।' তাই না? :)
4 reviews
April 10, 2016
A translation work from Bengali to English this book is written in very simple manners and exposes the extent to which a human can go and degrade himself just to satiate his sexual needs.
The story is that of a simple Bengali family from Kolkata and tries to challenge the society orthodox in a very subtle manner.
The novel has tried to strengthen the image, courage and determination of women and live life on their own terms.
The simply layout plot shows the skeletons hidden the closet of this particular family. The main characters of the story the mordern and bold Jina, timid and displaying the persona of common indian married woman Mallika and Bonomalla the sex worker from Sonnagachi. The book tries to potray the idea of feminism in a different light.
Some colloquial bangla words retained during transaltaion makes one feel connected to the sitaution and be a part of conversation.
Profile Image for Dhiman.
179 reviews14 followers
December 17, 2024
অনবদ্য! প্রথম অধ্যায়টি যখন পড়লাম তখন শুরুর দিকটা ঠিক মত বুঝতে পারছিলাম না। মল্লিকার যে বর্ননা দিয়ে গল্পটি শুরু হয়েছে সেটি বোধগম্য হচ্ছিল না। সেই সাথে গল্প যত এগুচ্ছে কিছু কিছু জায়গায় বোঝা যাচ্ছিল যে মল্লিকার কোনো একটা ভয়ানক অতীত বা তার জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়ানক কিছু আছে যা তাকে প্রতিনিয়ত তারা করে বেড়ায়। কিন্তু শেষ দু পৃষ্ঠা দুটো যখন পড়লাম মন দিয়ে তখন বুঝলাম ব্যাপারটা এবং কিছুক্ষন স্তব্ধ দিয়ে রইলাম।
Profile Image for F N.
42 reviews20 followers
May 9, 2024
The plot was too good. Maybe a little bit predictable but the part with Gina's sister-in-law was so unexpected. After knowing the ending the first dream sequence became much more frightening.
This entire review has been hidden because of spoilers.
Displaying 1 - 30 of 31 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.