সোমজা দাসের জন্ম উত্তরবঙ্গের জেলাশহর কোচবিহারে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা সেই শৈশব থেকে। জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন এবং কলকাতায় একটি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মজীবন শুরু করেন। লেখকের এখন অবধি প্রকাশিত একক বইগুলি হল ‘এক কুড়ি পাঁচ গল্প’, ‘টাপুরদির গোয়েন্দাগিরি’, ‘কৃষ্ণগহ্বর’ ও ‘নিকষিত হেম’, ‘কাল-কূট’ ও ‘মৃতেরা কোথাও নেই’। আনন্দবাজার এছাড়াও পত্রিকা, আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, বর্তমান পত্রিকা, সাপ্তাহিক বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, গৃহশোভা ও আরও অনেক পত্রপত্রিকা ও গল্প সংকলনে লিখেছেন এবং লিখছেন। লেখালেখি ছাড়াও প্রচুর পড়তে ভালোবাসেন তিনি। নিজেকে তিনি লেখকের চাইতে মগ্ন পাঠক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।
গর্ভধারিণী! শব্দটার মধ্যে এক অদ্ভুত ব্যঞ্জনা আছে, তাই না? 'মা' বলামাত্র যে আবেগ আর ভালোবাসা আমাদের মনে জেগে ওঠে, তার তুলনায় ভিন্নতর, আরও গাঢ় ও রক্তিম এক সম্পর্কের কথা বলা এই শব্দটি। এহেন বিশেষণটি লাভের জন্য বয়ে যায় কত অশ্রু, স্বেদ, রক্ত। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কত চিকিৎসা, কত গবেষণা, কতরকমের ব্যবসা। আর কত না অর্থ! এই বিশেষ ব্যবসার অর্থ ও মোক্ষ নিয়েই লেখা হয়েছে আলোচ্য উপন্যাস। রহস্য কাহিনি হিসেবে এটি অত্যন্ত গতিময়। চরিত্রদের বড্ড চড়া দাগে আঁকা হলেও তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ জাগে না। গল্পটি বেশ কিছু সরলীকরণ ও অতিশয়োক্তি নিয়েও সরলরৈখিক ভঙ্গিতে শুরু থেকে শেষ অবধি মোটামুটি প্রত্যাশিত পথেই চলে। আশীষ ভট্টাচার্যের অলংকরণগুলো ভারি চমৎকার। তবে বইটিতে বেশ কিছু মুদ্রণ-প্রমাদ দৃষ্টিকটু ঠেকল। প্রাপ্তমনস্ক বিষয় নিয়ে লেখা রহস্য কাহিনির অনুরাগী হলে এই বইটিকে আপন করে নিতেই পারেন।
সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখিকা সোমজা দাসের ২০২৪ বই মেলায় শব্দ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত বই "গর্ভ - শর্বর" ।। এর আগে কালকুট পড়ার পর অপেক্ষায় ছিলাম আবার কবে একটা টানটান উত্তেজনাময় থ্রিলাধর্মী লেখা লেখিকা পাঠকদের উপহার দেবেন , লেখিকা পাঠক দের নিরাশ করেন নি এক কথায় অসাধারণ একটা স্টোরি টেলিং এর সাক্ষী হলাম ।। ✨বর্তমান সময়ে প্রচুর থ্রিলার এসেছে মেডিক্যাল সংক্রান্ত বিষয়কে সামনে রেখে সেই হিসেবে দেখতে গেলে পাঠক হিসেবে নতুন কিছু পাবো কিনা সেই নিয়ে সন্দেহ তো মনে উঠবেই এটাই স্বাভাবিক , কিন্তু এই ক্ষেত্রে একটা বিশ্বাস ছিল সত্যি বলতে যারা লেখিকার লেখা আগে পড়েছেন তারা জানেন , একটা অদ্ভুত মসৃণ ব্যাপার লক্ষ করা যায় তার লেখার মধ্যে।। খুব ক্রিটিকাল অথবা বিভৎস ঘটনাকেও খুব সুন্দর ভাবে লেখিকা তুলে ধরেন নিজের লেখনীর মধ্যে দিয়ে, পড়ে মনে হতেই পারে আরে "এ আর এমন কি" কিন্তু এখানেই লেখিকা তার সৃষ্টি নিয়ে গর্ব বোধ করতেই পারেন কারণ এটাই তার বিশেষত্ব ।। পাঠক হিসেবে পরে গিয়ে মনে হয় আহা এত সুন্দর করে এত গুছিয়ে লিখছেন যে কোথাও একটু অস্বস্তি হলো না। ✨যাই হোক এবার আশা যাক মূল বিষয় বস্থুতে - শহরের একটি নামি গাইনোকলজিস্ট ডক্টর মোহনা মিত্র হঠাৎ করেই নিরুদ্দেশ , প্রচন্ড উচ্চাকাঙ্খী এই গাইনোকলজিস্ট ডক্টরের স্বপ্ন তিনি শহরের সব থেকে বড় ফার্টিলিটি ক্লিনিক তৈরি করবেন , এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার স্বামী অর্পণ তাকে সবরকম ভাবেই সাহায্য করেছেন , এদিকে ১৭এ হাইড্রক্সিপ্রজেস্টেরন ক্যাপ্রোয়েট নামক সিন্তেটিক ড্রাগ এর সাথে অন্যরকম কেমিক্যাল কম্পাউন্ড মিশিয়ে কৃত্রিম ভাবে ওষুধ তৈরি করে শহরের কিছু গরীব মেয়েদের শরীরে ইনজেক্ট করে তাদের গর্ভ ধারণ ও মিসক্যারেজ সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে একটি চক্র কাজ করে চলেছে আইনের নরজ এড়িয়ে।।
ডক্টর কেন কিডন্যাপ হলেন ? এছাড়াও ভিন্ন পেশায় নিযুক্ত আরও তিনজন কেই বা কারা খুন করলো? ফার্টিলিটি সংক্রান্ত এই চক্রের বিস্তার কত গভীরে ? এই হলো গল্পের বস্তু ।।
✨✨ ভালো লেগেছে - ১) গল্পের প্লট খুব ইন্টারেস্টিং ২) স্টোরি টেলিং অসাধারণ লেগেছে ৩) মোহনা মিত্রর ও সায়ন্তিকা চরিত্র দুটিকে খুব বাস্তবমুখী লেগেছে । পরিস্থিতি অনুযায়ী তাদের অভিব্যক্তি এই বইয়ের ইউএসপি ।।
৪) গর্ভ ধারণ সংক্রান্ত যা তথ্য এখানে রয়েছে তা খুবই কার্যকরী ও বর্তমান সময়ে দাড়িয়ে এগুলো অবশ্যই জেনে রাখা উচিত।
৫) কোথাও গিয়ে এটা থ্রিলাধর্মী উপন্যাসের থেকে অনেক বেশি সামাজিক উপন্যাস বলে আমার মনে হয়েছে , কারণ "কিছু গল্প গল্পই হয় আর কিছু গল্প বাস্তবের খুব কাছাকাছি"
৬) পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া কে অযথা জটিল না করায় একদিকে পড়ে বেশি ভালো লেগেছে ।
৭) গল্পের শেষের দিকের অতিরিক্ত টার্নিং টা ভালো , একটা স্পেস তৈরী করেছেন লেখিকা পরবর্তী সময়ের জন্যে।।
৮) প্রায় একশ ছাপ্পান্ন পৃষ্টার উপন্যাসে ছিয়াশি পাতা পর্যন্ত শুধু মাত্র ক্লিফ হ্যাঙ্গার দিয়ে খুব গুছিয়ে লেখা এই গল্পের মধ্যে একটা ব্লাইন্ড স্পট রয়েছে যার জন্যে খুব তাড়াতাড়ি শেষ করতে পাঠক হিসেবে সাব-কনশিয়াস পুশ অনুভব করেছি ।।
লেখিকাকে ধন্যবাদ এরকম একটা জানা অথচ অনেকটাই অজানা বিষয়কে কেন্দ্র করে একটা সুন্দর থ্রিলার ধর্মী উপন্যাসে পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্যে।। বইয়ের বাঁধন প্রচ্ছদ ও পৃষ্ঠার কোয়ালিটি ভালই তার জন্যে শব্দ প্রকাশনী কেও ধন্যবাদ। ✨রেটিং - ৪/৫