একটি সুস্থ-সুন্দর সমাজের ভিত্তি হলো পরিবার ব্যবস্থা, আর পারিবারিক জীবনের ভিত্তি হলো একটি সুস্থ-সুন্দর দাম্পত্য জীবন। অথচ সেই পবিত্র দাম্পত্য জীবনে যেন আজ ভাঙনের মহামারি লেগেছে। পরিণতিতে সমাজ জীবনে তৈরি হয়েছে ভয়ানক দায়িত্ববোধধহীনতা। এই বিপর্যয় এমন একটি অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে দিচ্ছে যা মানুষকে স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক করে তুলছে। এই দুষ্টচক্রটি অনেক পরিবারকে ধ্বংস করছে এবং ভাঙনের এই করুণ সুর ক্রমেই যেন নির্মম হয়ে উঠছে।
এই ছোট্ট বইটি, দাম্পত্য জীবনের গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয় সম্পর্কে আমার জ্ঞান ও উপলব্ধি এবং কীভাবে তাকে সুখী-সমৃদ্ধ করা যায় সেসব বিষয় তুলে ধরার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমি আশা করি, বইটিতে দেওয়া পরামর্শ যারা মানবেন তারা সত্যিই উপকৃত হবেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ জীবনযাপনে সক্ষম হবেন।
বইটি মুসলিমদের উদ্দেশ্যে লেখা হলেও অমুসলিমরাও এ থেকে উপকৃত হবেন।
বইটা নিয়ে কিছু বলার নাই,খালি একটা কথাই বলতে চাই একটা হালাল সম্পর্ক গড়ার আগে নিজেকে জিগ্যেস করা আমি কি আসলে তৈরি আছি? বিয়ের সাথে ভালোবাসা একাই জড়িত না তার সাথে আরো অনেক জিনিস জড়িয়ে আছে সম্মান, আত্মমর্যাদা, শ্রদ্ধা, দায়িত্ববোধ ইত্যাদি।
ইসলামিক শরিয়ত মতে বিয়ে ও পরিবার নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে এখানে বলা আছে৷ একটা বিষয় ভালো লেগেছে, এই বইতে স্বামী-স্ত্রী দুইজনের জন্যই একই উপদেশ দেওয়া। আজকাল দেখা যায় যে শুধু স্ত্রীর ক্ষেত্রেই সংসারের হাল ধরে রাখার কথা বলা হয়, কিন্তু এখানে দুইজনকেই সমান দায়িত্ব নিতে বলা হয়েছে। এটাও বলা আছে যে সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব নিতে পারলেই যেন কেউ সন্তান নেয়৷ আর সন্তান যেন সংসার টিকিয়ে রাখার কারণ না হয়। এই ব্যাপারটা কিন্তু সমাজে অনেক বেশি চোখে পড়ে। ধরা যাক কারো সাথে তার স্বামীর বনিবনা হচ্ছে না, কিংবা স্বামী পরকিয়া করছে; স্ত্রীকে বলা হয়, "একটা সন্তান বাচ্চা নিয়ে নাও, তাহলেই জামাই দেখবে সব ভুলে তোমার কাছে আসবে।" এখানে এইটা করতে বারণ করা হয়েছে।
Amazing book, must read for all. Its a collection of very practical and logical tips and techniques to lead successful life by focusing on the right stuffs.
বিয়ের পিড়িতে বসবেন কিংবা সদ্য বিবাহিত ইভেন কি পুরাতন দম্পতি সকলের জন্য ই বইটি পড়া আবশ্যক বলে মনে করছি। 🙂 ইনশাআল্লাহ জানার ইচ্ছা আর প্রয়োগের আগ্রহ থাকলে এর থেকে অবশ্যই উপকৃত হবেন।
মনুষ্যজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়ের সূচনা ঘটে বিয়ের মাধ্যমে। সৃষ্টিগতভাবে বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ থাকার কারণে মানুষের আবেগের অন্যতম একটা আবেদন হচ্ছে বিয়ে। কিন্তু বিষয়টা যতটা না আবেগের তার চাইতেও বেশি দায়িত্ববোধের। নিজের অবস্থান থেকে সৎ ও দায়িত্বশীল থাকাটাই এখানে মুখ্য।
আজকের আধুনিক যুগে যেখানে মানুষের আবেগ আর স্বপ্নের ষোলো আনাই যেখানে এক শ্রেণির লোকের ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র, সেখানে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে লেখকের লেখাগুলো আমার কাছে খুবই যুগপোযোগী ও কার্যকরী মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটি বই ছিল এটি। অনুবাদ হলেও লেখার ভাষাটা খুবই প্রাঞ্জল। পড়ে মনেই হয়নি যে এটা অনুবাদকৃত। বিবাহিত, অবিবাহিত সবার প্রতিই বইটি পড়ার পরামর্শ থাকলো।
বইয়ের একটা কথা এখানে উদ্ধৃতি দিতে চাচ্ছি যেটা আমার কাছে খুবই ভালো লেগেছে, "দাম্পত্য জীবনে আপনি কখনও জিততে পারবেন না। কী করে পারবেন, নিজের বিরুদ্ধে কি নিজে জেতা যায়?"
A must read book those who are planning to get married. I think the emotional state of our mind impedes us to think rational and beyond the marriage. This book helped me shape my thinking.
বই - বিয়ে : স্বপ্ন থেকে অষ্টপ্রহর লেখক - মির্জা ইয়াওয়ার বেইগ ভাষান্তর - আবদুল্লাহ আল মাহমুদ মুদ্রিত মূল্য - ১৩৫ টাকা
লেখকের "Marriage : Making and Living of It" বইয়ের অনুবাদ এই বইটা, সমানভাবে প্রয়োজনীয় বিবাহিত এবং অবিবাহিতদের জন্য। বিয়ের জন্য বর/কনে নির্বাচন থেকে শুরু করে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত জীবণের বিভিন্ন পর্যায়ে মুসলিম দম্পতির করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো খুব সাধারণ কিন্তু সুন্দর উপমা এবং উদাহরণের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে বইটিতে। "আজ আমরা এমন একটি পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে হালালকে ব্যয়বহুল, জটিল এবং কঠিন করে ফেলা হয়েছে; আর হারামকে করা হয়েছে সহজলভ্য - ফ্রি! কিন্তু ইসলাম হালালকে সহজ করেছে আর হারামকে করেছে কঠিন।আর এজন্যই বিয়ে এতটা সহজ, সরল এবং বাহুল্য ব্যয় থেকে মুক্ত।" ইসলামে বিয়ে কতটা সহজ, তার বিবরণ আছে বইটিতে।
আবার যারা তাড়াতাড়ি বিয়ে করতে চাচ্ছেন এবং পরিবার-সমাজের কারণে বিয়ে করতে না পেরে আফসোস করছেন, তারা বইটা পড়ে উপলব্ধি করতে পারবেন যে, বিয়ের পর সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখার জন্য আপনি নিজে তৈরি কি না? সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য পারস্পরিক আচরণ এবং সৎ মানসিকতার গুরুত্ব যে সবচেয়ে বেশি তা উপলব্ধি করা যায়।
কিভাবে বিয়ের ২৫/৫০ বছর পরও প্রতিদিন সকালে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আপনার জীবনসঙ্গীর প্রেমে পড়া পুরোপুরি সম্ভব, লেখক সেটাও দেখিয়ে দিয়েছেন বইটিতে।
শেষ করছি বইটির ভূমিকায় লেখকের লিখা দুটি বাক্য দিয়ে, " দাম্পত্য জীবনের সুখশান্তি কেবল স্বামী-স্ত্রীর মন-মানসিকতা ও আচার-আচরণের উপরই নির্ভর করে। তারা যদি সত্যিই সুখী হতে চায় তাহলে কেউ তা রোধ করতে পারবে না; আর তারা যদি অশান্তি সৃষ্টি করে তাহলে কেউই তাদের শান্তি এনে দিতে পারবে না।"
wonderful advice with clarity. This is one of the few books that gives a pragmatic information about marriage and the expectations and responsibilities of one's married life.
দাম্পত্যজীবন কে কীভাবে সুন্দর করা যায় তা নিয়ে বইটা লেখা। লেখকের মতে, বিয়ের প্রথম ও প্রধান উদ্দেশ্য হল 'সুকূন' বা প্রশান্তি লাভ। এখন প্রথমেই প্রশ্ন আসে কী দেখে বিয়ে করা উচিত? লেখক সাবধান করে দিয়েছেন জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে যথেষ্ট খোজখবর না নিয়ে তাকে বিয়ে করতে যাবেন না। এ ব্যাপারে খোজখবর নেয়ার ও মহরামের উপস্থিতিতে সাক্ষাৎ করার অনুমোদন ইসলাম আপনাকে দিয়েছে। অতিভদ্র যেসন অনুগত 'সন্তান' সিনেমার ডায়ালগ এর মতো মা বাবা কে বলে 'তোমরা যাকে পছন্দ করবে তাকেই বিয়ে করব, তাদের ব্যাপারে লেখকের মন্তব্য, তারা আসলে বিয়ের জন্য প্রস্তুত নয়। কী দেখে বিয়ে করবেন? এর উত্তরে লেখক বলছেন- দীন, চরিত্র আর চেহারা। - দীনঃ সালাত, সাওম ও যাকাত ঠিকমতো আদায় করে কী না। - চরিত্রঃ সাহস, ধৈর্য, আত্মসম্মান, আত্মবিশ্বাস, ধীরস্থির স্বভাব, পুরুষের পৌরষদীপ্ততা, নারীদের লজ্জাশীলতা বিনয়, যেকোন পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারা, নীরবতায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করা। - চেহারাঃ নারীদের পরিপূর্ণ পর্দা আর পুরুষদের দাড়ি। অনেক দু:সাহসী মানুষ আছেন যারা মনে করেন তারা ভালোবাসা দিয়ে অন্যদেরকে বদলে ফেলতে পারবেন। তাদের মনে রাখা উচিত, হিদায়াহ একমাত্র আল্লাহর হাতে। সহজ করে তাই লেখক বলেছেন- সুখী দাম্পত্যজীবনের সূত্রঃ এমন কাউকে বিয়ে করুন যাকে দেখলে অনুকরণ করতে ইচ্ছা হয়, যাকে শ্রদ্ধা করা যায় এবং যার কাছ থেকে ক্ষমা শেখা যায়। আর, অসুখী দাম্পত্যজীবনের সূত্রঃ এমন কাউকে বিয়ে করা যাকে আপনি বদলে ফেলতে পারবেন বলে মনে করেন। সুখী দাম্পত্যের জন্য আরো কিছু গুণের কথা বলেছেন। যেমন- সুন্দর স্মৃতিগুলোকে মনে রাখা আর মন্দ স্মৃতিগুলোকে ভুলে যাওয়া। আরেক জায়গায় মূলমন্ত্র হিসেবে ৩টা গুণের কথা বলেছেনঃ সত্য বলা, যত্ন নেয়া আর পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। তার একটা কথা ভালো লেগেছে- দাম্পত্যজীবনের মধুরতার পরিমাপক হলঃ 'কথোপকথন'। তবে কী করতে হবে, কী করা যাবে না সেই নির্দেশনা দেয়া, অভিযোগ করা, পরনিন্দা করা এগুলো 'কথোপকথন' এর মধ্যে পড়ে না। কথোপকথন বলতে বুঝায়- চিন্তা ভাবনা, আশা-স্বপ্ন ইত্যাদি শেয়ার করা, একে অন্যের কথাগুলো মন দিয়ে শাওনা, সহানুভূতি দেখানো, বুঝতে চেষ্টা করা, হাসি কান্না ভাগাভাগি করে নেয়া। আর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে বইতে। যেমন- প্রশ্নঃ দাম্পত্যজীবনে বাবা-মা এবং শ্বশুরবাড়ির লোকদের কতটুকু জড়ানো উচিত? উত্তর: একটুও না। কারণ এটা সংসারে ঝামেলা ডেকে আনার অন্যতম কারণ। বাবা মা এবং শ্বশুর শাশুড়ি অতিরিক্ত আগ্রহ দেখিয়েছেন এমন কোন সংসার আমি (লেখক) টিকে থাকতে দেখি নি।
প্রশ্নঃ সংসার সুখী করতে টাকাপয়সা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? উত্তর: একেবারেই নয়। মূলতে পারষ্পরিক সম্মান আর সচেতনতাই আসল জিনিষ।
প্রশ্নঃ বৈবাহিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর কাজ কোনগুলো? উত্তর: মিথ্যা বলা, বিশ্বাস ভঙ্গ করা, প্রতারণা করা, কর্তৃত্বের জন্য লড়াই করা। একে অপরকে নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা, অসম্মান করা। অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রীক হওয়া এবং সঙ্গীকে পাত্তা না দেয়া।
প্রশ্নঃ অসুখী দাম্পত্য জীবনে কিভাবে সুখ ফিরিয়ে আনা যায়? উত্তর: আপনার জীবনসঙ্গী যা যা পছন্দ করে তার একটা তালিকা করে ফেলুন। বিয়ের প্রথমদিকে তার কী কী গুণ আপনার যথেষ্ট পছন্দের ছিল তা লিখে ফেলুন। একইসাথে সমস্যার বিষয়গুলোও লেখুন। তারপর উন্নতির চেষ্টা করুন।
Masha Allah. Only 62 pages talked about so much, unbelievable yet true. I'm beyond words to actually write a review about how beautiful and well written this book is, covering all the necessary aspects. Just read it, you'll know. A worth read, a must read! 💕
বিয়ে নিয়ে চমৎকার একটা বই। বিয়ের বাস্তবতা এবং পারিবারিক জীবনকে সুখী করার বিষয় গুলো নিয়ে যেমন আলোচনা করা হয়েছে তেমনই কথা হয়েছে পারিবারিক জীবনের সমস্যা এবং তার সমাধান নিয়ে।
বিয়ে কী? আল্লাহ তায়ালা বিয়ের কথা জানানোর সময় কোন গুণবাচক শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন? বিয়ের পূর্বে কী কী জানতে হয় পাত্র বা পাত্রীর ব্যাপারে? ভালোবাসা-ই কী একটি বিয়ের মূলনীতি হতে পারে? মৌখিক ভালবাসা থাকলেই কী একজন মানুষ আরেকজন মানুষের শ্রদ্ধাভাজন হয়? বিয়ের মূলভাব কী এটাই যে, "আমি তাকে বিয়ের পর বদলে ফেলব"? বিয়ের কয়েকদিন পরেই কী কথা ফুরিয়ে যায়? আমি থেকে আমরা হওয়াটা কী খুব সহজ কিছু? বিয়ের জন্য নিজের ভেতরে কী কী গুণাবলি থাকতে হবে? পাত্র-পাত্রী দেখা থেকে শুরু করে বিয়ের পর আমি থেকে আমরা হওয়ার পুরো প্রক্রিয়াতে অসংখ্য প্রশ্ন, অসংখ্য অজানা ব্যাপার থাকে। যার বেশিরভাগই আমরা মনে করি চোখ বন্ধ করেই আমরা সব বুঝে ফেলব, কারণ সবাই-ই তো বিয়ে করে, করছে! কিন্তু সেই জানার ব্যাপারটা ভুল প্রমাণিত হয় যখন নিজে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যায় এবং ভুল করে। বিয়ের জন্য আগ্রহ থেকে শুরু করে সদ্য বিবাহিতদের চিন্তা-চেতনার ঝালাই করতে হলে এই বইটি আপনাকে পড়তে হবে।
অনেক কিছু জানলাম, শিখলাম। এতো সাবলিল ও সহজ সরল ভাষায় বইটি লিখা যে এক বসাতেই কখন যে বইটি শেষ হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না! ধন্যবাদ মির্জা ইয়াওয়ার বেগকে এতো সুন্দর করে ইসলামের আলোকে বিয়ের মত কমপ্লেক্স একটা টপিক নিয়ে এতো সুন্দর করে লিখার জন্য। বিবাহিত বা অবিবাহিত বলবো না, আমার মতে প্রত্যেকেরই উচিত এই বই পড়ার।
যেকোন নবদম্পতিকে উপহার দেয়ার জন্য নিঃসন্দেহে একটি আদর্শ বই। এছাড়াও বিয়ের আগে পরে সবাইকে একবার হলেও বইটি পড়ে দেখার অনুরোধ রইল। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা'আলা বইয়ের সাথে যুক্ত সকলকে উত্তম প্রতিদান দিক, আমিন।
সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন উপাদান বিয়ে নিয়ে বেশ ভালো একটা ধারনা পাবেন এই বইতে। বই এর গোছানো এবং স্ট্রং রেফারেন্স সহ বিবাহিত জীবনের জন্য বেশ কিছু উপদেশ পাবেন। বিবাহিত জীবনে পদার্পন করতে চান এরকম যে কেউ ই এই বই পড়তে পারেন।
Highly recommended for any practicing Muslim (or even anyone else) planning on getting married. It does open your mind up to exactly what to expect, what to do, and so many other things.