ভবিষ্যতের পৃথিবী সামলে উঠেছে ভয়াবহ ধ্বংসলীলা। মারণবিষ, ড্রোন, কেমিক্যাল অস্ত্র, নিউক্লিয়ার শক্তি... অজস্র সব মৃত্যুনাচনের পালা পেরিয়ে টিকে থাকা মানুষেরা সামাল দিয়েছে বহু কষ্টে, নতুন নিয়মে অভ্যস্ত হয়েছে, দিন কাটাচ্ছে সুন্দর, সুপরিচালিত জীবনের ছন্দে।
তারপর ঘটেছে ছন্দপতন। তাদের অজান্তে কোথাও ঘটে গেছে পালাবদল। যদি আচমকা কেউ জেনে যায় যে তাদের বাস্তবের আড়ালে রয়েছে কুটিল যন্ত্রণারা, কী করবে সে? সব জেনেও চুপ করে থাকবে, অন্ধ হয়ে মেনে নেবে নতুন কালের নিয়মকে? নাকি সেই ছেলেহারানো মা ঘুরে দাঁড়িয়ে মরণপণ চেষ্টা করবে 'প্রত্যাঘাত' করতে?
পরের গল্পে 'অন্তপ্রহর' আবারও নেমেছে পৃথিবী জুড়ে। মহাযুদ্ধ কেড়ে নিয়েছে সব; এমনকী নিশ্বাসের বাতাসটুকুও। অথচ, এমন হওয়ার কোনো দরকার ছিল না।
এক খনিজ আহরণকারী, এক কিশোরী নব্য কর্মী, এক বেপথু যুদ্ধবিমানচালক। নাকি শুধুই এক মা, তার মেয়ে এবং তাদের নিশ্চিন্ত জীবনের সামনে এক অবিশ্বাস্য অসততার মুখোশ খুলে ধরা এক পুরুষ- আর তাদের অনুসরণ করে আবারও মানুষের পথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা? ডিস্টোপিয়ান পৃথিবীর বুকে, নষ্ট প্রকৃতির রাজত্বে লোভ আর ক্ষমতার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মানুষের চিরন্তন হার-না-মানা লড়াইয়ের এই দুই গল্প শোনাতে তৈরি-ক্রান্তিপর্ব।
ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্সটিটিউটের ছাত্রী অনুষ্টুপ শেঠের জন্ম ও পড়াশুনো কলকাতায়; বর্তমানে কর্মসূত্রে মুম্বইবাসী। গদ্য-পদ্য দুই ধারার লেখাই লেখেন। নিয়মিত লেখেন কিশোর ভারতী, নবকল্লোল, শুকতারা, পরবাস, জয়ঢাক সহ নানান পত্রপত্রিকায়। বইপত্র ছাড়া ভালোবাসেন বেড়াতে ও সমমনস্ক বন্ধুদের সাহচর্য।
প্রথমেই বলে রাখি, এই বইয়ের কভার টা আমি আগের বছর ফেসবুক পোস্টে দেখতে পাই, ঠিক করেছিলাম এটা কিনব। কভারে মেয়েটার চোখে মডার্ন চশমা আর হেডফোন ভেবেছিলাম, কিন্তু আসল গল্প লুকিয়ে আছে এই ছবিতেই ! ভবিষ্যতের ভারতবর্ষ, সমাজ বদলেছে আর বদলেছে পৃথিবী। মহাযুদ্ধে অনেক মানুষ নিহত তাই মানুষের জীবনের দাম ও বেড়েছে। একটি ইউটোপিয়া তৈরি হয়েছে, হাক্সলে r Brave New World মনে পড়বে আর মনে পড়বে All that glitters is not gold, আর ঠিক তখনই সব টুইস্ট আর টার্ন শুরু হবে। গল্পটি এগিয়েছে একটি নারী চরিত্র, আম্বা কে নিয়ে। একজন সিঙ্গেল মাদারের জীবন নিয়ে। সে কর্মঠ, অনেক কষ্টে নিজের ছেলে শিবা কে মানুষ করেছে। লেখিকা অনুষ্টুপ শেঠ খুব নিপুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এই আগামী দুনিয়ার ছবি আর তার কর্মকাণ্ড। টান টান উত্তেজনার সাথে প্লট এগিয়েছে, আমার পড়তে লেগেছে পাকা দুই ঘণ্টা, পাঠক হিসেবে অম্বা চরিত্র আর তার লড়াই আপনার নজর কাড়বে আর কল্পবিজ্ঞান হিসেবে এটার যাচাই করতে গেলে, সবেতে ১০/১০. আছে Futuristic Technology(যেটা সরিয়ে নিলে, গল্প দাঁড়াবে না) রয়েছে দুর্দান্ত Speculation আর সবার শেষে ইউটোপিয়ান স্বপ্ন ভঙ্গ ! প্রথম পর্ব – প্রত্যাঘাত শেষ করেছি এবার দ্বিতীয় পর্ব শুরু করবো ! অবশেষে ক্রান্তিপর্ব শেষ করে ফেলেছি ! দুটো কল্পবিজ্ঞান লেখা, প্রথম ভাগে ছিল প্রত্যাঘাত, তার ব্যাপারে আগেই বলেছি, এবারে অন্তপ্রহর নিয়ে দুই চার কথা বলি! এখানেও নারী চরিত্রের জয় জয়কার; দিশারী আর গার্গীর গল্প, মা আর মেয়ের গল্প ! বেশ কয়েকটা মহাযুদ্ধে পৃথিবী বিদ্ধস্ত, বাতাসে আর অক্সিজেন নেই, ফলে চাষবাস নেই! পুরো পৃথিবী একটি মরুভূমিতে পরিনত হয়েছে ! জনগণ এখন একটি কোম্পানির নির্মিত গম্বুজের ভেতরে জীবন নির্বাহ করে। সবাইকে ওই গম্বুজের ভেতরে কাজ করে খেতে হয়, আর আছে খোঁজারু ! এই খোঁজারু কে ঘিরে লেখিকা একটি থ্রিলার কাহিনী লিখেছে! কাহিনীর মোড় বেশ কয়েক বার ঘুরেছে আর বার বার পাঠক কে নতুন কিছু উপহার দিয়েছে! বেশি শব্দ বা বাক্য খরচা না করে, ভরপুর সংলাপ আর অ্যাকশনে প্লট পেয়েছে warp speed, দারুণ গতিতে এগিয়ে গেছে ! এই post-apocalyptic দুনিয়ার একজন মানুষ, রনি দেখিয়েছে এক প্রাকৃতিক সবুজ স্বপ্ন!!.. সেই স্বপ্ন কি পূরণ হবে ? মানুষ কি চিরকাল আর্টিফিশিয়াল অক্সিজেন নেবে নাকি সে ন্যাচারাল অক্সিজেন পাওয়ার জন্যে করবে শেষ লড়াই ? কী করে এক যুদ্ধবিমান পাইলট, এক কিশোরী আর এক খোঁজারু মা এই post-apocalyptic দুনিয়ার Dystopian সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করবে? পারবে কি? নাকি অন্য কিছু হবে? Socialism আর Capitalism নিয়ে এক ভয়ানক লড়াইর নাম হলো : Revolution. বাংলায় বললে : ক্রান্তিপর্ব ! Yep This work must be translated in English! Anushtup Sett
অনতিদূর ডিস্টোপিয়ান ভবিষ্যতের প্রেক্ষাপটে দু'টি সুখপাঠ্য বড়গল্প। দুইয়ের মধ্যে অনেক মিল, পার্থক্য বলতে দু'টি ডিস্টোপিয়ার গঠনের ইতিহাস বর্ণনায়, এবং কিছু প্রযুক্তিতে। এই প্রযুক্তিগুলো গল্পের প্লটের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বিশেষ আনন্দদায়ক।
সাবলীল গতিতে এগোয় দুই গল্প। আপাত শান্তির পরিবেশে দেখতে দেখতে সন্দেহ প্রবেশ করে। ক্রমশ প্রমাণের পর প্রমাণের মধ্য দিয়ে সেই সন্দেহ ভয়াবহ নিশ্চয়তার দিকে পাঠককে ঠেলে দেয়। অশুভের কবল থেকে সমাজ ও প্রকৃতিকে উদ্ধার করতে রুখে দাঁড়ায় কেন্দ্রীয় চরিত্ররা। তারা বীর, এবং তাদের বীরত্ব কোনো উচ্চ আদর্শসঞ্জাত নয়, বরং জগৎ ও জীবনের প্রতি স্বাভাবিক মমতা থেকেই উৎসারিত। নাকি এই মমতাই মানুষের উচ্চতম আদর্শ? দুই গল্প এই প্রশ্নটাও সামনে রেখে যায়।
গল্পে বলা প্রযুক্তিতে নজরদারির ভূমিকা বিপুল। কে কাকে কীভাবে দেখতে পাচ্ছে বা পাচ্ছে না এবং কে কাকে কীভাবে দেখতে দিচ্ছে বা দিচ্ছে না, তার উপর উভয় ডিস্টোপিয়ার অস্তিত্ব নির্ভর করছে। এই পরিস্থিতি প্রবলভাবে বর্তমান সমাজের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভরতার দিকে ইঙ্গিত করে।
গল্পের ভাষা ব্যক্তিগত সম্পর্কের মায়া, সামাজিক সম্পর্কের দায়িত্ব, পেশাদার সম্পর্কের খুঁটিনাটি থেকে অশুভের বিরুদ্ধে ক্রোধ, জিঘাংসা ও প্রতিস্পর্ধা পর্যন্ত অনুভূতির পূর্ণ প্রকাশক্ষেত্র জুড়ে স্বচ্ছন্দ। কয়েকটি করে শব্দের আঁচড়ে এক একটি চরিত্রের হৃদয় উন্মোচিত হয়েছে বার বার।
ইতিহাসের অন্তত একটি বিতর্কিত ঘটনার ছায়া রয়েছে একটি গল্পে এক প্রারম্ভিকভাবে শুভাকাঙ্ক্ষী মহাসংস্থার ক্রমশ ক্ষমতালোভী এক শোষণ ও পীড়নযন্ত্রে বিবর্তনের মধ্যে।
সব মিলিয়ে ছিমছাম কল্পবিজ্ঞানভিত্তিক থ্রিলার চাখতে ক্রান্তিপর্বের গল্পদুটি অবশ্যই পড়ে ফেলুন।