আর্কিওলজির সঙ্গে মিস্ট্রি অর্থাৎ রহস্যের সম্পর্ক ইতিহাস সৃষ্টির সময় থেকে। সারা পৃথিবী জুড়ে তাই ছড়িয়ে রয়েছে হাজারো সমাধান না হওয়া প্রত্নতাত্ত্বিক রহস্য। সেইসব রহস্যের খোঁজে কখনও আমরা পৌঁছে গেছি ধু-ধু মরুভূমি থেকে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল। আবার কখনও সন্ধান চালিয়েছি প্রাচীনতম সব আর্কিওলজিক্যাল সাইটগুলোতে। সমাধান না হওয়া সেইসব প্রত্নতাত্ত্বিক রহস্যের কাহিনি জেনে নিতে কখনও ঘুরে বেরিয়েছি মিশর থেকে অ্যান্টার্কটিকা। আবার কখনও বা মেক্সিকো থেকে ইজরায়েল। এই রকম অনেকগুলো আর্কিওলজিক্যাল মিস্ট্রির সত্য ঘটনা নিয়েই এই বই- আর্কিও-মিস্ট্রি…
প্রত্নতত্ত্বের ইতিহাসে এমন বহু প্রশ্ন তথা সমস্যাই আছে, যাদের সন্তোষজনক বা সর্বসম্মত উত্তর পাওয়া যায়নি। তার জন্য দায়ী ঐতিহাসিক উপাদানের অপ্রতুলতা, বিভিন্ন সময়ে অজ্ঞতা বা অন্য কারণের বশে উপাদানের বিনাশ এবং সময়ের সঙ্গে বদলাতে থাকা ধারণা। এই বইয়ে তেমন চব্বিশটি বিষয়ের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছেন লেখক। লেখনী সহজ বলে হুশ করে বইটা শেষও হয়ে যায়। কিন্তু... ১. আলোচনা অত্যন্ত সংক্ষেপে সারা হয়েছে। ইতিহাস, বিশেষত প্রত্নতত্ত্বের ছাত্রেরা এমন 'টিজার'-এ আদৌ সন্তুষ্ট হবেন না। ২. এই বিষয়গুলোর সঙ্গে মিশর, ইজরায়েল-প্যালেস্টাইন, রাশিয়া... এমন নানা দেশের ইতিহাস জড়িয়ে আছে। যদি আলোচনা দেশ-অনুযায়ী বিন্যস্ত হত, তাহলে একটি দেশের এযাবৎ প্রতিষ্ঠিত ইতিহাসের সাহায্যে এই রহস্যময় শূন্যস্থানকে যুক্তির সাহায্যে পূর্ণ করায় পাঠক নিজেও উদ্যোগী হতে পারতেন। কিন্তু এই 'সাড়ে বত্রিশ ভাজা' পড়তে গিয়ে তেমন কিছুর সুযোগ পাওয়া যাবে না। ৩. রোসেটা স্টোনের মহিমা ব্যাখ্যা করার সময় বড়ো আশা করেছিলাম যে লেখক একবার সিন্ধু-সরস্বতী সভ্যতার লিপির উল্লেখ করবেন— যা এমনই এক দ্বি বা ত্রিভাষিক ট্যাবলেট বা পাথরের অভাবে আজও অপঠিত। কিন্তু লেখক সেই নিয়ে কিছুই লেখেননি। একইভাবে, খননের ফলে ভারতের যে প্রত্নতাত্ত্বিক ছবিটি ফুটে ওঠে তার এমন নানা শূন্যস্থান (যেমন~ কোনো ঐতিহাসিক উপাদানে চাণক্যের নাম উল্লিখিত হয়নি কেন? দ্বারলার খনন করে আজও কোনো সিটাডেল পাওয়া গেল না কেন?) নিয়ে তিনি নীরব। এইসব কারণে বইটাকে শুধু 'ভালো' বলেই থামতে হচ্ছে। খুব ভালো হতে গেলে একে আরও বলিষ্ঠ এবং ভারত-কেন্দ্রিক হতে হত। কলেবর অন্তত তিনগুণ বাড়লে বইটা অসাধারণ হত। সে-সবের অবর্তমানে তিন তারা ছাড়া বইটাকে কিছু দেওয়া যাচ্ছে না।
প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন অমিমাংসিত রহস্য নিয়ে লেখা বই। পড়তে মজা লেগেছে, মাঝেমধ্যে ভ্রু কুঁচকে উঠেছে। তবে বইখানা যথেষ্ট বর্ণনামূলক না হওয়ায় আত্মা অতটা তৃপ্ত হতে পারেনি। ইতিহাস এবং প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে আগ্রহী পাঠকেরা অবশ্য ঘাটাঘাটির অনেক দারুণ দারুণ বিষয় খুঁজে পাবে; খেয়াল করে দেখেছি, আত্মা তৃপ্ত হয়ে গেলে পরবর্তীতে নির্দিস্ট বিষয়াদি ঘাটতে ইচ্ছা করে না। সেই হিসেবে, আগ্রহীদের জন্য বইটি না হলেও, এর বিষয়বস্তু নিদারুণ উদ্দীপনার সৃষ্টি করতে সমর্থ।