গভীর অন্ধকার রাতে সাগরে ডুবে মরার সময় বাঁচার জন্য একটা প্রমিজ করেছিলো তুমুল জনপ্রিয় এক রকস্টার। বেঁচে গিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই মুহূর্ত থেকে বদলে যায় তার জীবন, নিজেকে তার মৃত মনে হয়। সে জানে না, এখন কীভাবে রক্ষা করবে তার প্রতিজ্ঞা। সেটা জানার জন্য সে পথে নামে। পথ খোঁজার জন্য যারা পথে নামে, তারা আসলে পথ তৈরি করে। আর বাকিরা সেটা অনুসরণ করে। তাই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ পাঠশালার নাম— ভ্রমণ। ভ্রমণের মধ্যেই সে খুঁজে পায় একজন ইমামকে। তিনি তাকে জানিয়েছিলেন কীভাবে পূরণ করতে হয় প্রতিজ্ঞা। আর জানিয়েছিলেন— ভঙ্গুর জীবনে বিচ্ছেদই সত্য। The fiction based on fact.
পয়লা বৈশাখের এক কাকডাকা ভোরে জন্ম নিয়েই দেখে, বাংলাদেশে চলছে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি। ফুলছড়ি, বাহাদুরাবাদ ঘাটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনির অবস্থানের ওপর যখন ইন্ডিয়ান মিগ থেকে বোমা ফেলা হচ্ছিল, তখন মুক্তিযোদ্ধা বাবার সঙ্গে বাঙ্কারে বসে শিশুটি বলছিল, 'আল্লাহ্, রক্ষা কর'—গল্পটি শিবলীর মায়ের কাছে শোনা। তখন যুদ্ধ না বুঝলেও নব্বইয়ের দশকের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের ভেতর দিয়েই তাঁর বেড়ে ওঠা। ইন্টারমিডিয়েটে পড়াকালেই স্বৈরশাসকের জেল জুলুম আর হুলিয়া মাথায় নিয়ে চলে আসেন নাটোর থেকে ঢাকায় । অভিনয়ের উপর এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স শেষে গ্রুপথিয়েটার নাট্যচক্রের সঙ্গে মঞ্চনাটকে কাজ করতে করতেই ধীরে ধীরে বিকশিত হতে থাকেন শিল্পের অন্যান্য মাধ্যমে।অভিভাবকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে একদল গানপাগল তরুণ ব্যান্ড সংগীতের মাধ্যমে বাংলা গানের ধারায় যে-পরিবর্তন এনেছে, শিবলী তাদেরই অন্যতম। যুগযন্ত্রণার ক্ষ্যাপামো মজ্জাগত বলেই প্রথা ভাঙার যুদ্ধে শিবলী হয়ে ওঠেন আপাদমস্তক 'রক'। আধুনিক জীবনযন্ত্রণাগ্রস্ত তারুণ্যের ভাষাকে শিবলী উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত সহজসরল 'রক' এর ভাষায়। তাঁর সাফল্য এখানেই । তাই অল্প সময়ের মধ্যেই শিবলী পরিণত হয়েছেন এদেশের ব্যান্ড সংগীতজগতের কিংবদন্তি গীতিকবিতে । শিবলীর লেখা (প্রায় ৩০০) জনপ্রিয় গানের মধ্যে কয়েকটি: জেল থেকে বলছি | কথা-সুর: শিবলী, ফিলিংস /নগরবাউল তুমি আমার প্রথম সকাল | তপন চৌধুরী-শাকিলা জাফর কষ্ট পেতে ভালবাসি | আইয়ুব বাচ্চু (এলআরবি) হাসতে দেখো, গাইতে দেখো | আইয়ুব বাচ্চু কত কষ্টে আছি | জেমস পালাবে কোথায় | জেমস একজন বিবাগি | জেমস রাজকুমারী | আইয়ুব বাচ্চু হাজার বর্ষা রাত । সোলস পলাশী প্রান্তর। মাইলস কী ভাবে কাঁদাবে তুমি (যতটা মেঘ হলে বৃষ্টি নামে) | খালিদ (চাইম) আরও অনেক অনেক গান......... 'কমপ্লিট ম্যান' খ্যাত ঝুঁটিবাঁধা সেঞ্চুরি ফেব্রিকসের দুর্দান্ত সেই মডেল শিবলী ছিলেন তাঁর সময়ের ফ্যাশন-আইকন।তিনি একজন সফল নাট্যকার। বিটিভির যুগে তাঁর লেখা প্রথম সাড়া জাগানো নাটক 'তোমার চোখে দেখি'(১৯৯৫)। আরও লিখেছেন- রাজকুমারী, হাইওয়ে টু হেভেন, গুড সিটিজেন, নুরু মিয়া দ্যা পেইন্টার, যত দূরে থাকো, বৃষ্টি আমার মা,রান বেইবি রান,আন্ডারগ্রাউণ্ড,শহরের ভিতরে শহরসেকেন্ড চান্স,স্পন্দন,মিলিয়ন ডলার বেইবি,দ্যা ব্রিফকেস।নিজের লেখা নাটক 'রাজকুমারী'তে(১৯৯৭) মির্জা গালিব চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় এখনও অনেকের মনে থাকার কথা।শিবলীর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থগুলো 'ইচ্ছে হলে ছুঁতে পারি তোমার অভিমান' (১৯৯৫), 'তুমি আমার কষ্টগুলো সবুজ করে দাও না'(২০১০), মাথার উপরে যে শূন্যতা তার নাম আকাশ, বুকের ভেতরে যে শূন্যতা তার নাম দীর্ঘশ্বাস'(২০১৪)।বাংলা একাডেমী প্রকাশ করেছে তাঁর 'বাংলাদেশে ব্যান্ড সংগীত আন্দোলন'(১৯৯৭) নামে ব্যান্ড সংগীতের ওপর লিখিত প্রথম এবং একমাত্র গবেষণাধর্মী প্রবন্ধগ্রন্থ।শিবলী'র কাহিনী সংলাপ এবং চিত্রনাট্যে ও গীতিকবিতায় প্রথম পূর্ণদৈঘ্য চলচ্চিত্র 'পদ্ম পাতার জল'(২০১৫)।শিবলী'র প্রথম এবং বেস্টসেলার উপন্যাস- দারবিশ (২০১৭)।স্বভাবজাত বোহেমিয়ান, ঘুরেছেন ইউরোপে সহ পৃথিবীর পথে পথে।।
বেশ কিছু বছর এই লেখকের বই পড়ার সময় আমার মনে হয় এই বই কি আমি অযু করে পড়বো নাকি অযু ছাড়া পড়লেই হবে? কারণ উনি এত কোরআনের আয়াত, হাদিস দেয় মনে হয় না এইটা কোন উপন্যাস নাকি কোন ধর্মের বই, সে যাক এই বইয়ের কথাতে আসি- এই বইটা কে আমি ৩টা ভাগ করেছে, প্রথম ভাগটা ভালো ছিলো সুন্দর ভাবে যাচ্ছিলাম, মাঝের ভাগ টা আসলে কি ছিলো সেটাই বুঝলাম না, মনে হচ্ছিলো রোজার মাঝে একটা ধর্মীয় মোটিভেশনাল বই শুরু করেছি (মোটিভেশনাল বই আমার ভালো লাগে না) আর শেষ পার্ট ভালো ছিলো। লেখক যদি শেষ পার্টের মত করে সম্পূর্ণ বইটা লিখত তাহলে অনেক ভালো একটা বই হতে পারত। আমার কাছে মনে হয়েছে উনি তার ফ্যানবেজ কে আলাদা করে ফেলেছেন, আমার কাছে মনে হয় উনি মাদ্রাসা ছাত্রদের জন্য বই লেখন।
Quite disappointed with this one tbh. I loved almost all of the previous books by this author, and was expecting this to be an epic novel like Asman. But 70% of the books feels like being forced to read a non-fiction. There was so much scope for plot development but the author just didn't seem interested in even creating a plot.
I understand that conveying the message was his main goal here, and I understand that he wrote for a specific target audience. But there could have been better ways to do that. If I had felt like reading an Islamic non fiction, I wouldn't have picked up a novel.
আসমান দিয়ে শিবলীর লেখা পড়া শুরু করেছিলাম। এখন ইমাম পড়লাম। আমি ব্যক্তিগতভাবে ইদানীং এই লেখাগুলো পড়ে প্রশান্তি অনুভব করছি। কি সুন্দর একটা চমৎকার ফিকশনের মাধ্যমে ইসলামীক জীবনব্যবস্থার সুন্দর সুন্দর মেসেজ কনভে করে যাচ্ছেন।
আসমানের সাথে তুলনা করলে ইমাম ফিঁকে হবে কিছুটা, কিন্তু ইমাম ইন্ডিভিজুয়ালি ৩-৪ তারা পাওয়ার মতোন প্রশান্তিদায়ক একটা বই। অনেকটা জালালুদ্দিন রুমি এবং শামস অব তাবরিজের সম্পর্ক থেকে ইন্সপায়ার হয়ে গল্পটা লেখা তাই এই বইয়ের মূল চরিত্রের নামও রুমি। প্রবল জশ, খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশের গায়ক রুমির জীবনে হঠাৎই একটা ঘটনার মাধ্যমে স্পিরিচুয়াল পরিবর্তন আসে আর সাথে সাথে তার কাছে ফিকে হয়ে যায় জাগতিক এইসব সম্মান আর মোহ। সে আল্লাহর জন্য কাজ করবে বলে আল্লাহর কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়। কিন্তু কি কাজ করবে কীভাবে করবে কিছুই সে জানে না। কারণ এতদিন তার জীবন ছিল জাগতিক ভোগবিলাস এবং মোহ মায়ায় আচ্ছন্ন। কিন্তু আমাদের নিয়ত যখন শুদ্ধ থাকে এবং আমরা আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার জন্য মন থেকে চাইতে থাকি তখন আল্লাহই সব সহজ করে দেন। রুমির জন্য তাই পথপ্রদর্শক হিসেবে আল্লাহ ব্যবস্থা করলেন বারো দুবাই এর এক পুরাতন মসজিদের ইমাম বিলাল আব্দুল আহম্মদকে। যার সাথে রুমির এমন এক স্পিরিচুয়াল বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠলো যেমন আত্মিক সম্পর্ক ছিলো জালালুদ্দিন রুমি এবং তার আধ্যাত্মিক গুরু শামস অব তাবরিজের। ইমাম বিলাল রুমিকে এমন এক জীবনের সন্ধান দিলেন যার জন্য তার হৃদয় তৃষিত ছিলো। ভোগ বিলাস থেকে মুক্ত অত্যন্ত সাধারণ নির্লোভ এক জীবন যেখানে বেঁচে থাকার জন্য শুধুমাত্র আল্লহর অনুগ্রহটুকুই যথেষ্ট। প্রবল অর্থবিত্ত, জশ এবং খ্যাতির মধ্যে থেকে এতদিন জীবন ধারণ করে আসা রুমি এই সাধারণ জীবনের স্বাদ পেয়ে শুধু আল্লহর প্রতি কৃতজ্ঞই হলেন না সেই সাথে বুঝতে পারলেন এই পুঁজিবাদী সমাজপব্যবস্থা অযথাই আমাদের জীবনকে কতোটা এক্সপেন্সিভ করে তুলেছে। বুঝতে পারলেন জীবনের সকল সন্তুষ্টি কত অল্পতেই পাওয়া সম্ভব।
কিন্তু রুমিকে নিয়ে আল্লাহর হয়তো আরও বৃহৎ পরিকল্পনা ছিল যেটা বুঝতে পেরেছিলেন ইমাম বিলাল আবদুল আহম্মদ। ইমাম বিলাল তাকে বুঝান আল্লাহ তাঁর হেদায়েতের মাধ্যমে রুমির মধ্যে পরিবর্তন এনেছেন যেনো তার মাধ্যমে আরও হাজারো মানুষের মাঝে আল্লাহর কাছে ফেরার এই আহবান পৌঁছে যায়। জনপ্রিয়তা এবং খ্যাতি আল্লাহর দেয়া আমানত, এবার সময় এসেছে আল্লহর রুমিকে দেয়া সেই আমানত তাঁর কাছে ফিরিয়ে দেয়ার। রুমি বন্ধুর কথামত তার উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পাদন করতে ফিরে আসেন আবার দেশের মাটিতে।
ফিকশনের মাধ্যমে স্পিরচুয়াল প্রশান্তিদায়ক কিছু পড়তে চাইলে পড়ে ফেলতে পারেন বইটি। সময়টা মন্দ কাটবে না।
“আমি রাজনীতি শিখে ফেললাম। জানলাম মানুষের সার্বভৌমত্ব এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বের মধ্যে কী পার্থক্য। যে সমাজে জনগণ সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, সেই সমাজকে বলা হয় গণতান্ত্রিক সমাজ। তা হলে যিনি আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে মানবেন, তিনি সেই সমাজে বাস করবেন কীভাবে?” ইমাম উত্তর দিলেন, “তখন সেই ব্যক্তির কাজ হবে সমাজকে বদলানো।”
আহসানুল হক রুমি। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় রকস্টার। শুধু বাংলাদেশ না, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার নাম ডাক অনেক। তার নাম শুনলেই যেকোনো দেশের ভক্তরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে। রুমি তার টিমের অন্যান্য সবার সাথে সেদিনও মৌজ মাস্তিতে ছিল। এমন সময় কল আসে বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খানের কল। শাহরুখের লাস্ট মুভির অরিজিনাল সংটা রুমিই গেয়েছিল। যেই জন্য শাহরুখ রুমিকে ফোন দিয়েছে, সেটা শোনার পর সবাই খুশিতে ফেটে পড়ে। তার গাওয়া সেই মুভির গানটা অস্কারের জন্য নমিনেটেড হয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে যে এই বছর অরিজিনাল গানের অস্কারটা তার কাছেই আসবে।
সেই রাতটা কাটলো অন্যান্য দিনের তুলনায় আরো মাতলামিতে। আরো খুশিতে। অবশ্য রুমি তবে ঘুমিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ রাতের দিকে হঠাৎ ঘেমে ঘুমে ঘুম থেকে উঠল সে। বদ্ধ বাতাস আর ভালো লাগছে না তার। একটু খোলা বাতাসের আশায় বেরিয়ে গেল কক্সবাজারে বানানো তার বিশাল দালান থেকে। খোলা বাতাসে আসার পর যেন একটু ভালো লাগছে। সমুদ্রের তীর ধরে হাঁটতে লাগল সে। হাটতে হাঁটতে সেই জায়গাটায় পৌঁছল যেখানে সমুদ্রের ভাটার উল্টো স্রোতের মধ্যে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাবধানবাণী লেখা ব্যানারটাও তার চোখে পরলো না। ঠিক যেখানে সমুদ্রে ভাটার উল্টো স্রোত হয় সেখানে বসে পড়লো। আর তখনই চলে এলো সেই ভয়াবহ সমুদ্রের ভাটার শক্তিশালী উল্টো স্রোত।
সাঁতার জানা মানুষও এই উল্টো স্রোতের মধ্যে করার মত কিছু পায় না। সেখানে রুমের মতো সাঁতার না জানা মানুষ আর কি পারবে। কিন্তু সেই মুহূর্তেই রুমি কোন কিছু না ভেবে একটা ওয়াদা করে বসলো। যেটার কথা রুমি হয়তো কখনোই চিন্তা করেনি। অথচ মৃত্যুর মুখে পড়ে কেন জানি সে ওয়াদাটি করে ফেলল। বলল—“আল্লাহ বাঁচাও, আল্লাহ বাঁচাও। আমি তোমার জন্য কাজ করব। আমাকে বাঁচাও আল্লাহ।” আর এখান থেকেই শুরু হলো রুমির নতুন ফিরে পাওয়া জীবন।
◽ পাঠপ্রতিক্রিয়া :
লতিফুল ইসলাম শিবলী ভাই আমাদের মধ্যে অত্যন্ত পরিচিত একজন লেখক। এর আগে উনার লেখা আসমান বইটা আমি পড়েছিলাম। এরপর একজনের সাজেশনে “ইমাম” বইটিও করে ফেললাম। এখন যদি আমাকে তুলনামূলক আলোচনা করতে বলা হয় তাহলে অবশ্যই আমি “ইমাম-এর আগে “আসমান” বইটিকে রাখবো। যাইহোক, মূল আলোচনায় আসা যাক।
প্রথমে যেটা বলে রাখা ভালো, এই বইয়ের এক চতুর্থাংশ ঠিক আসমান বইয়ের মত। অর্থাৎ ঘটনা প্রবাহ প্রায় একই রকম। আসমান বইয়ে যেমন মূল চরিত্র একটা অন্ধকার জগত থেকে ফিরে আসে এবং আলো অর্থাৎ দ্বীনের মধ্যে পদার্পণ করে, ইমাম বইতেও ঠিক একই ঘটনার পুনরা���ৃত্তি ঘটেছে। ফলে গল্পের শুরুটা আমার খুব ভালো লাগেনি। মনে হচ্ছিল যেন, পড়া জিনিস আবার পড়ছি। আবার লেখক যেহেতু ব্যক্তিগত জীবনে গানের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত, সেটার ছাপ তার লেখাতেও পড়েছে। গল্পের খাতিরে হলেও আমার কাছে বিষয়টা একটু অতিরঞ্জিত লেগেছে যে, একজন চরিত্র শুধু বাংলাদেশ না বরং পুরো পৃথিবীর মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
যাইহোক, বইয়ের মোটামুটি দুই ভাগের এক ভাগ অংশই মূল চরিত্রের ভ্রমণ, দ্বীনের দিকে ফিরে আসা ইত্যাদির মধ্যেই গিয়েছে। গল্পের মাঝখান থেকে শুরু হয়েছে ইমামের গুরুগম্ভীর কথাবার্তা ও বক্তব্য। সাধারণত মুখোমুখি কথাবার্তায় এত গুরুগম্ভীর আলোচনা হয় কিনা, জানি না। তবে গল্পের মাঝে এমন বক্তব্য গল্পতে ভালোই ফাটল ধরিয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি একটা ভালো গল্প পড়ার জন্য বইটা ধরেন , তাহলে আপনি বৃহদাংশে হতাশ হবেন। আর যদি গল্পের মধ্যে কিছু গুরুগম্ভীর কথার দ্বারা প্রভাবিত হতে চান তাহলে বইটি পড়া যেতে পারে। বিশেষত প্রবৃত্তির দাসত্বের উপর বেশি কথা রয়েছে। পুঁজিবাদ, সমাজতন্ত্র এগুলোর মধ্যে আসলেই শান্তি আছে কিনা সেটা নিয়েও কথা রয়েছে।
সবমিলিয়ে রাজনীতি, প্রবৃত্তির দাসত্ব, সার্বভৌমত্ব, নেতৃত্ব ইত্যাদি নিয়ে বেশ কিছু কথা রয়েছে এবং কথাগুলো বেশ গুরুত্বপূর্ণও বটে। তবে গল্প, কোনো প্রবন্ধ না, সে হিসেবে ডিটেইলসে জানতে চাওয়াও বোকামি। বাহ্যিক বিষয়গুলো নিয়ে খুব সুন্দর আলোচনাই আছে।
তবে আরেকটা ব্যাপার দৃষ্টিকটু লেগেছে যে, রুমির বাংলাদেশ থেকে দুবাইয়ে ভ্রমণের সময় ক্যাপ্টেন আসিফের সাথে পরিচয় হয়। সেখানে আসিফ চরিত্রটাকে এমন ভাবে তুলে ধরা হয়, যেন সেই ইসলাম নিয়ে অনেক ভালো জ্ঞান রাখে অথচ সে গানের প্রতি অত্যন্ত আসক্ত। গল্পটা পড়ার সময় হয়তো একটু ভালো বুঝতে পারবেন আপনারা। এখানে গান শোনাটাকে নরমালাইজ করা হয়েছে। অথচ আমরা জানি যে অন্যান্য হারাম কাজগুলোর মত গান শোনাও একটা অত্যন্ত নিন্দিত কাজ ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে। সে হিসেবে ক্যাপ্টেন আসিফ কে একটু অন্যরকম দেখালেও চলত।
যাইহোক, সবমিলিয়ে এভারেজ লেগেছে। গল্পের গতিশীলতা, ঘটনাপ্রবাহ খুব একটা ভালো লাগেনি। বেশ কিছু জিনিস অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে। তবু একবার পড়ার মতো বই হিসেবে খারাপ না।
◽বই : ইমাম ◽লেখক : লতিফুল ইসলাম শিবলী ◽প্রকাশনী : কেন্দ্রবিন্দু ◽পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৬০ ◽ব্যক্তিগত রেটিং : ৩/৫
ইমাম লেখক-লতিফুল ইসলাম শিবলী ভাই প্রকাশনী:কেন্দ্রবিন্দু
#হালকা_স্পয়লার_এলার্ট এক বসাতেই শেষ করার মতো একটি বই। শিবলী ভাইয়ার পূর্বের দুটো বই পড়া থাকলেও এই বইটা এদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে থাকবে কারণ ইসলাম ও সফর এই দুটো ব্যাপারের সংমিশ্রণে বইটা অনেক ভালো লেগেছে আমার যদিও এন্ডের টুইস্ট টা প্রথমেই আমি ধরতে পেরেছিলাম কিন্তু শেষ অব্দি শিওর ছিলাম না।তবে আমি এটাও মানি একটা শক্ত চরিত্র এতো দ্রুত শেষ হতে পারেনা।একজন রকস্টারের প্রত্যাবর্তন এতোটাই সুন্দর ছিলো যা আমাকে মুগ্ধ করেছে।কিছু জায়গায় ইমোশনাল হয়েছি আর মনে হচ্ছিলো এই জীবনটা যদি আমার হতো।নতুন সভ্যতা সম্পর্কে জানা বা সফর রিলেটেড স্টোরি আমার সবসময় সুন্দর লাগে এটাও তাই।
আশা করি শিবলী ভাইয়ার কাছ থেকে প্রাচীন ইসলামি সভ্যতা ও ইসলাম সম্পর্কে আরো বেশ কিছু তথ্য খুবই স্পষ্ট ও বোধগম্য ভাষ্য তে বই আকারে ভবিষ্যতে পাবো ইনশাআল্লাহ যেমনটা ইমামের ক্ষেত্রে পেয়েছি।আর সিকুয়েলের জন্য অপেক্ষায় রইলাম😊
বি:দ্র:কেউ বইটি কিনতে ফ্ল্যাপ বা আরো রিভিউ দেখে কিনবেন কারণ সবার পছন্দ এক নাও হতে পারে।😊
আসমানের ইমাম চরিত্রের কথা মনে আছে? অথবা দখলের ইমাম ক্যারেক্টার? লতিফুল ইসলাম শিবলীর লেখায় একটা ইমাম ক্যারেক্টার সবসময় থাকে যে পথ বাতলে দেয় নায়ককে। যে জোর করে ধর্ম পালন করায় না,বরং আচরন ও নসিহার মাধ্যমে মন পরিবর্তনের চেস্টা করে। মনে জমে থাকা অন্ধকার দূর করে।মুশকিল হলো নায়কের জীবন দেখাতে গিয়ে এই ইমাম লোক গুলো বারবার দুইতিন পেইজেই হারিয়ে যাচ্ছিলেন। এবার শিবলী সাহেব সেই ইমাম কেই ফোকাস করেছেন,এমনকি নায়ককে গড়ে তুলেছেন ইমামেরই শিষ্যের আদলে।হুট করে বইটা পড়লে একটু অসংলগ্ন লাগতে পারে,কিন্তু শিবলীর আগের বই পড়া থাকলে এই বইটাই হয়ে উঠবে আগের বইগুলোতে না পাওয়া বেশকিছু প্রশ্নের উত্তর। আর সবশেষে বলবো শিবলী সাহেবের এন্ডিংগুলো নিয়ে একটু কাজ করা উচিত।রিয়েলিস্টিক হয়েছে অনেক,বাট স্যাড এন্ডিং অনেক বেশি কমন হয়ে যাচ্ছে।শেষের দিকে গেলেই বোঝা যাচ্ছে কি হতে যাচ্ছে।একটু ভ্যারাইটি আনলে ভালো হবে।শুভ কামনা রইলো। আরো অনেক এমন বই চাই লেখকের কাছে!💝
Different from his other write ups like Asman, Darbish & other. Read all his writings but this one is quite different & seems disappointing to me. This book isn’t really fiction based on fact but a book packed with full of islamic quotes from Quran & Hadith. After reading his many books earlier, day by day expectations were rising to the sky but from that point of view it brought little disaster. Though the beginning was praiseworthy as always but lost its melody from second half. Happy reding 😊
খুব চমৎকার একটা লেখা। ধর্মীয় বই যারা পড়তে চান তাদের জন্য এটা অবশ্যই পড়নীয় একটা বই। এই বইয়ে শেখার অনেক কিছুই আছে। যারা ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে গিয়েছে তাদের মধ্যে ধর্মীয় চেতনা ফিরিয়ে আনার জন্য খুব চমৎকার একটা গাইড হিসেবে এটা কাজ করবে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মুখোশ উন্মোচন। শেষের ফিনিসটা অনেকের পছন্দ হবে না। তবে এটাই মানুষের ব্যক্তিগত চরিত্রের নোংরা দিককে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ধন্যবাদ ভাইকে এত সুন্দর একটা বই উপহার দেওয়ার জন্য।
ইমাম বইটা আসমানের সাথে অনেকটুকু রিলেটেড তবে আসমানের সাথে তুলনা করলে কিছুটা বোরিং। শুরুর প্লট পারফেক্ট ছিলো। মাঝের অংশে অবশ্যই অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তবে, কিছুটা একঘেয়ে ছিলো বলতেই হয়। শুধুমাত্র একজনের সংলাপই ১/১.৫ পৃষ্ঠা চলে গিয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ টপিকটাই আরেকটু সুন্দর, সরলভাবে ফুটিয়ে তোলা যেত। এন্ডিংটা সুন্দর ছিলো। মাঝের একঘেয়েমি কাটিয়ে উঠার মতো একটা পরশন ছিলো এন্ডিং। ওভারঅল মোটামুটি ছিলো বইটা
অন্যরকম ধাঁচের বই। উনার লিখা এই প্রথম একটা বই পড়লাম। সব ই ভালো। অনেক ডিটেইলিং। সব ই ঠিকঠাক ছিলো। কিন্তু শেষের দিকে এসে মনে হচ্ছিল গল্পটা খুব দ্রুত টেনে নেয়া হচ্ছে। যেন দ্রুত শেষ হয় এমন একটা তাড়া। স্যাড এন্ডিং হলেও এন্ডিংটা আরও ভালো হতে পারতো। প্রথম দিকে পড়ে আরও ভালো এন্ডিং আশা করেছিলাম। শেষটা আরেকটু সুন্দর হলে 5/5 রেটিং হয়ে যেতো আমার কাছে।
প্রথম দিকটা ভালো ছিলো। তবে শেষের পার্টের দিকে প্রবন্ধের মতো মনে হচ্ছিলো৷ কিছু মেসেজ দেয়ার চেষ্টা ছিলো, যেটা আরো জগাখিচুরি হয়ে গেছে। খেলাফত vs গণতন্ত্র! জিনিসটা খিচুড়ি পাকিয়ে ফেলেছেন লেখক। শেষের লাইনের টুইস্ট ভালো ছিলো। কামালের বেঈমানী, এটাও একটা ভালো মেসেজ দে।
বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের এক সময়কার বিখ্যাত তারকার হাতে এমন আধ্যাত্মিক চেতনার লেখাও যে বের হতে পারে; সেটা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য! এই গীতিকবির বিখ্যাত গানের কিছুর নমুনা হচ্ছে, "জেল থেকে আমি বলছি", "হাসতে দেখো গাইতে দেখো", "কেউ সুখী নয়"...। আমার দৃঢ় অনুমান, তার ভেতরের এই হাহাকার বহু আগের থেকেই না হলে এই "ইমাম" লেখা সম্ভব না। এখানে "রুমী" চরিত্রটিতে কোথাও কি নিজেকে খুঁজে ফেরেন? এটা প্রশ্ন!
অনেকেই ইসলামিক মোটিভেশনাল অর্থে এই বই নিচ্ছে কিংবা বলেই ফেলে একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে লেখা এই "ইমাম", শুধুমাত্র কিছু কোরান ও হাদিস থেকে কোট করা হয়েছে বলে। সেই দৃষ্টিতে আমি বলবো এর সাথে ন্যায্য, যৌক্তিক বিচার হলো না। "চাপরাশ"কে কেউই "বৈদিক" মোটিভেশনাল বই বলে না। এমনিই অনেক বই আছে যা বুদ্ধিষ্ট কিংবা ক্রিশ্চিয়ান মোটিভেশনাল বই হিসেবে ট্যাগ হয় না।
ইসলামিক নাম দিয়ে সাথে মোটিভেশনাল ট্যাগ দিয়ে ওয়ানসাইডেড করে দেয়াটা যথাযথ নয় বরং হয়ত আন ইনটেনশনালি, কন্ডিশনড মাইন্ডসেট থেকে আসা। প্রধান ক্যাটাগরি হিসেবে "আ্যধাত্নিক" এ ফেলা যায় বটে তবে এখানে প্রশ্ন আছে সামাজিক, রাষ্ট্রীয় প্রেক্ষাপট নিয়েও। সেখানে প্রশ্নগুলো যৌক্তিক। আফ্রিকার মরুর বুকে, ধূসর আবহে সেই প্রশ্নগুলো নিয়ে আলাপচারিতা একটু কল্পনা করুন।
আমার কাছে এই বই জীবনবোধের। একে পড়া উচিত। হয়তবা অশান্ত মন শান্ত হবে সেই আশায়।
যারা আসমান পড়েছেন তারা পড়লে তেমন একটা মজা পাবেন না। প্লটে অনেক মিল। যারা না পড়েছেন তাদের জন্য রিভিউ:
মনে ইসলামোফোবিয়া, অতিমাত্রায় সুশীলগিরি বা কলকাতা-পাশ্চাত্যের গোলামী থাকলে ভালো লাগবে না। মনে হবে ধর্মীয় কি এক বই পড়ছি। এতো আয়াত আর হাদিস ..... তবে, যারা মোটামুটি ইসলামী মাইন্ডসেটের তাদের কাছে অবশ্যই ভালো লাগবে বলে আশা করছি, যেহেতু কাহিনীটা একজন বে-দ্বীন ব্যক্তির দ্বীনে ফেরার গল্প।