পুরাণের যে গল্পগুলো ধর্মের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ফলে প্রায় হাস্যকর ও উপেক্ষণীয় হয়ে গেছে, তেমন একগুচ্ছ কাহিনিকে এই বইয়ে নতুন চেহারায় পরিবেশন করা হয়েছে। 'ভূমিকা'-তে দেখি, এই পরিবেশনের মূল লক্ষ্য হল কাহিনিগুলোকে আধুনিক বিজ্ঞানের নানা বৈশিষ্ট্য দিয়ে ব্যাখ্যা করা— যাতে মার্ভেলমোদী নবীন প্রজন্ম তাদের মতো করে এই গল্পগুলোর রসাস্বাদন করতে পারে। তারই সঙ্গে থেকেছে নিখাদ বাঙালির ট্রেডমার্ক সরসতা, যা মূল কাহিনির কিছুমাত্র বিনির্মাণ না করেও তাদের একান্তই সমকালীন করে তোলে।
এই বইয়ে যে-সব আখ্যান এমন প্রযুক্তি ও উচ্চতর বিজ্ঞানের আলোয় চর্চিত হয়েছে, তারা হল~
১. সমুদ্রমন্থন;
২. রক্তবীজ;
৩. ধূম্রলোচন;
৪. চণ্ড-মুণ্ড;
৫. আবার রক্তবীজ;
৬. শুম্ভ-নিশুম্ভ বধ;
৭. ত্রিপুরাসুর বধ।
এই বই পড়তে গিয়ে তিনটি জিনিস বুঝলাম। তারা হল~
প্রথমত, ভক্তি ও ভীতির অকারণ আবরণে পুরাণকে দেখতে চাইলে এই বই আপনার জন্য নয়। বরং এ একান্তভাবে বিজ্ঞানমনস্ক পাঠকের জন্যই।
দ্বিতীয়ত, বইটা পড়ার সময় ও তার আগে-পরে পদার্থবিদ্যার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সৃষ্টিতত্ত্ব এবং জীবতত্ত্ব একটু বুঝে নেওয়া দরকার। নইলে অনেক ব্যাখ্যাই মাথার বহু উপর দিয়ে যাবে।
তৃতীয়ত, এ বই আসলে এক বিশুদ্ধ মাতৃকথন। যুগে-যুগে মায়েদের হাতেই সৃষ্টির লালন ও তাদের ক্রোধেই বিনাশের এক অপার্থিব বিবরণ রয়েছে এই বইয়ের নানা অধ্যায়ে।
এই বইটি সবার জন্য নয়। তবে লেখক জ্ঞান না দিয়ে বরং পাঠকদের মনে পৌরাণিক আখ্যানের নবব্যাখ্যা নিয়ে কৌতূহল জাগাতেই চেয়েছেন। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে যদি বইটি পড়তে পারেন, তাহলে অভিজ্ঞতাটি অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক হবে বলেই আমার বিশ্বাস।