একটি পাহাড়শ্রেণী। জনমানবহীন দুর্গম। বধ্যভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিলো ১৯৭১ সালে। আশেপাশের বিভিন্ন জনপদ থেকে স্বাধীনতাকামী মানুষদের ধরে এনে এখানে হত্যা করতো পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা। স্বাধীনতার পর অগনিত হাড়গোড়, দেহাবশেষ দেখা গেছে শুধু। মানুষদের চিহ্নিত করা যায়নি। প্রাণ হারানো অগনিত মানুষের মধ্যে অন্তত কয়েকজনের পরিচয় খোঁজার জন্য শুরু হয়। এক অনুসন্ধান। ৫৩ বছর পর। মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধানে কেবল সেই বধ্যভূমি নয়, একটি জনপদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস উঠে আসে। সেই ইতিহাসে প্রতিরোধ যুদ্ধের গৌরব আছে, আছে আরো হত্যাযজ্ঞ আরো নৃশংসতার কড়চা। এই আখ্যান একটি বধ্যভূমির। এই আখ্যান আমাদের সামগ্রিক বিস্মৃতির।
হাসান মোরশেদের বেড়ে ওঠা এবং স্থায়ী আবাস সিলেট শহরে। পড়ালেখা এবং কর্মসূত্রে থেকেছেন ভারত ও যুক্তরাজ্যে। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর করেছেন। সিলেট অঞ্চলের পর্যটন উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছেন।
জগতজ্যোতি দাস ও তাঁর গেরিলা দলের যুদ্ধের কথা সংগ্রহের জন্য, দাসপার্টির জীবিত গেরিলাদের সাক্ষাতের জন্য প্রায় একবছর ধরে ঘুরেছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, দিরাই হয়ে হবিগঞ্জের বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জ পর্যন্ত।
'দাস পার্টির খোঁজে' হাসান মোরশেদের তৃতীয় গ্রন্থ, এর আগে রাজনৈতিক ফিকশন 'শমন শেকল ডানা' এবং অরুন্ধতী রায়ের আলাপচারীতার অনুবাদ 'দানবের রূপরেখা' প্রকাশিত হয়েছে ২০০৯ সালে।