বোধিসত্ত্ব মজুমদার ওরফে বুধোদা অ্যান্টিক কালেকটর নন, তিনি একজন অ্যান্টিক-হান্টার। প্রয়োজন পড়লে বাঘের গুহা থেকেও তিনি অ্যান্টিক তুলে আনতে পারেন। এই সংকলনে রইল সেরকমই তিনটি দুর্ধর্ষ অ্যাডভেঞ্চারের কাহিনি। কী সেই দুর্মূল্য বস্তু যার খোঁজে মুম্বইয়ের মাফিয়ারা বারবার হানা দেয় কলকাতার বন্দর এলাকার এক পুরোনো গির্জায়? আজাদ হিন্দ ফৌজের হয়ে লড়াই করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল যে বীর সৈনিকের, কোথায় হারিয়ে গেল নেতাজীর নিজের হাতে তাঁকে পরিয়ে দেওয়া শের-ই-জঙ্গ মেডেল? কলকাতার এক সাদামাটা বাড়ির ভেতরে নাকি রয়ে গেছে গুপ্তধন আর তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে চারশো বছরের পুরোনো এক চিড়িয়াখানার ইতিহাস। বুধোদা কি ধাঁধার রহস্য ভেদ করে সেই গুপ্তধন খুঁজে পেল?
তাঁর জন্ম এবং বড় হওয়া হুগলি জেলার উত্তরপাড়ায়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর উপাধি অর্জনের পরে তিনি রাজ্য সরকারের অধীনে আধিকারিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ দুই-দশকের লেখক-জীবনে তিনি প্রাপ্তবয়স্ক এবং কিশোর-সাহিত্য, উভয় ধারাতেই জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তিনি যখন গল্প-উপন্যাস লেখেন, তখন ঘটনার বিবরণের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন মানব-মনের আলোছায়াকে তুলে আনার বিষয়ে। লেখকের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছাকাছি। তাঁর বহু কাহিনি রেডিও-স্টোরি হিসেবে সামাজিক মাধ্যমে সমাদর পেয়েছে। সাহিত্যে সামগ্রিক অবদানের জন্য তিনি পেয়েছেন দীনেশচন্দ্র স্মৃতি পুরস্কার এবং নান্দনিক সাহিত্য সম্মান।
বেশ কটা দিন গুরুগম্ভীর বইপত্তরে মুখ গুঁজে হাপিয়ে উঠেছিলাম যেন। কতোটা এই একঘেয়েমি কাটাতেই সকাল সকাল এটা তুলে নেওয়া। বুধোদা সিরিজের তৃতীয় বই। প্রিয় লেখকের কলমে প্রিয় চরিত্রের অভিযান। বাকি দুটো বইয়ের ন্যায় এটিতেও তিনটে উপন্যাসিকা বর্তমান। পড়তে লাগলো মেরেকেটে এক কি দুটো ঘণ্টা। সারারাত ঘুম আসেনি, শেষ রাত্তিরে ঘুমের আশা ত্যাগ করে যখন বইটি নিয়ে বসলাম তখন বাইরে বসন্তের স্বাদু রোদে কোকিলেরা সব ডেকেডুকে একাকার হচ্ছে। অমন চমৎকার পরিবেশ, এমন চমৎকার বই। মন ভালো না হয়ে উপায় কি?
সৈকত মুখোপাধ্যায়ের এই দৃঢ়চেতা, সাহসী, অ্যাডভেঞ্চার প্রেমী 'অ্যান্টিক হান্টার'টি ক্রমশ একজন ভীষন প্রিয় মানুষ হয়ে উঠেছেন। সত্যজিৎ পরবর্তী বাংলা সাহিত্যের আইডিয়াল দাদাদের ভীড়ে বোধিসত্ত্ব মজুমদারের সাথে বাস্তবে আলাপ করতে মন চায়। মন বলে, ইশ! বয়সটা আরেকটু কম হলে এসব গল্প পড়ে কি আনন্দটাই না পেতাম! এবারেও অবশ্য যথারীতি সাথে রয়েছে মাল্যবান মিত্র ওরফে ক্লাস ইলেভেনের ফার্স্ট বয়, রুবিক। এবং 'খুনি ম্যাজিক'-এর দুটো গল্পের পর, আবার সেই স্বপ্তদীপা!
সাথে অবশ্য দুই মক্কেলের প্রেম-প্রেম সমীকরনটুকুও সমানতালে বিদ্যমান। বুধোদার টিটকিরি অন দা সাইডস্, বলাই বাহুল্য। এখানেই সিরিজটা আর-পাঁচটা সাধারণ কিশোর কাহিনী থেকে স্বতন্ত্র হয়ে দাঁড়ায়। ছোটদের গল্প হলেই যে নারী চরিত্রের অবস্থান আতস-কাঁচ পাকড়ে খুঁজে বেড়াতে হবে, সেই ট্যাবু ভেঙে বেরিয়ে সৈকত মুখোপাধ্যায় গল্পগুলিকে আজকের নিরিখে অনেকটা যুগোপযোগী করে তুলেছেন। নইলে আর নতুন প্রজন্ম খামোকা ফোনালাপ ছেড়ে কিশোর উপন্যাস পড়বে কেন? আমরা তো স্রেফ চোখ রাঙিয়েই খালাস, ছোটদের মন বুঝে গল্প লিখবে কারা?
সে যাই হোক, সিরিজের গল্পগুলিতে প্লট নিয়ে অসামান্য 'কেরদানি' কোনোদিনই দেখান না লেখক। গল্পের গতিপ্রকৃতি যদি সজাগ পাঠকে মাঝবরাবর আন্দাজ করেও ফেলেন, তাহলেও খুব একটা আশ্চর্য হই না আমি। এই কাহিনীগুলোর ইউ-এস-পি - সুন্দর লেখনী, স্মার্ট সংলাপ ও চরিত্রপিছু মজাদার সমীকরন। সাথে গল্প-প্রতি কন্টিনিউইটি ও বাস্তবসম্মত গল্পকথন! এছাড়াও, ট্রেজার হান্ট ঘরানার অন্তর্ভুক্ত হয়েও গল্পের শেষলগ্নে সোনাদাদের মতন গুচ্ছ গুচ্ছ সোনার মোহর পেয়ে বিজয়ের হাসি হাসেন না আমাদের নায়ক-নায়িকারা। ভালো লাগাটা অনেকটা এই কারণেও।
বইয়ের তিনটে গল্প অবশ্য বিগত দুটি বইয়ের থেকে কিছুটা আলাদা। তিনটেই কলকাতা-ঘেঁষা কাহিনী। তিনটেই অনেকটা গ্রাউন্ডেড। বুধোদারা স্বশরীরে মহানগরী ছেড়ে বাইরে যান না এবারে। নেই কোনো সায়েন্স ফিকশন বা কল্পফ্যান্টাসির ছোয়াও। থাকবার মধ্যে কেবল মন-কেমন করা ইতিহাসের হাতছানি ও আবিষ্কারের একগুঁয়ে নেশা। বিশেষ উল্লেখ্য, বইয়ের দ্বিতীয় গল্প, 'ঝুটা'। যা আমার মতে সিরিজের শ্রেষ্ঠ কাহিনীর একটি। গল্পটির মর্মে আবহমান নেতাজি সুভাষ, পাহাড়ি প্রেম ও প্রতীক্ষার অশেষ আকুতি। লেখাটি শেষ করে, আদ্র মনে জানালার পাশে বসতে ইচ্ছে করে অনেক-অনেকক্ষণ।
তাই ইচ্ছে হলে পড়ে দেখতেই পারেন। সিরিজটা অ্যাদ্দিনে শুরু না করে থাকলে, 'অর্কিড রহস্য'-টা তুলে নেওয়ার অনুরোধ রইলো'খন। খোলা মনে, কিশোর সাহিত্য চেখে দেখলেন নাহয়। পাবেন মানবিক বিনির্মাণে গুপ্তধনের সন্ধান। চিরাচরিত ট্রেজার হান্টের এক ভিন্ন স্বরূপ। মন্দ লাগবে না, আশা করি। বইটির প্রচ্ছদে অবশ্য সৌজন্য চক্রবর্তীর এ.আই-এর ব্যবহার কিছুটা দৃষ্টিকটু ঠেকলো। শিল্পীর অজান্তেই বুধোদা কতকটা 'জেরার পিকে' হয়ে গেলেন, এই যা। খারাপ লাগা বলতে কেবল এটুকুই। নইলে পাঠ-অভিজ্ঞতা যথেষ্ট মনোরম। যথেষ্ট মনোগ্রাহী!
সৈকত মুখোপাধ্যায়কে মোটামুটি গল্পের জাদুকর বলে মনে হয় আমার কাছে। যে জনরাতে উনি হাত দেন সেটাতেই সোনা ফলান। শিশু কিশোর অ্যাডভেঞ্চার, রহস্য, গোয়েন্দা, সায়েন্স ফিকশন, ডার্ক ফ্যান্টাসি এবং রম্যতেও লোকটা রীতিমত সিদ্ধহস্ত। বুধোদা আমার ভীষণ প্রিয় একটা চরিত্র। শারদীয়া কিশোর ভারতীতে নিয়মিত দেখা পাওয়া যায় তার। এই বইয়ে পাবেন ৩ টা কিশোর অ্যাডভেঞ্চার গল্প।
১। বন্দরের অন্ধকার ২। ঝুটা ৩। মন্দিরে কঙ্কালপক্ষি
প্রথম ও তৃতীয় গল্প দুটি শারদীয়া কিশোর ভারতী থেকে পূর্বেই পড়া ছিল। এ দুটোকে রহস্য অ্যাডভেঞ্চার কিংবা গোয়েন্দা ধাঁচের গল্পও বলা যায়। 'অর্কিড রহস্য' কিংবা 'খুনী ম্যাজিক' বই দুটোর গল্পগুলোর মতোই সুন্দর। তবে পুরো বইয়ের সবচেয়ে সেরা এবং আমার কাছে নতুন লেখা ছিল 'ঝুটা'। কোন পত্রিকাতে প্রকাশিত হয়ে থাকলেও চোখে পড়েনি। নেতাজি সুভাষ, প্রেম, ভালোবাসা আর ষড়যন্ত্র মিলিয়ে দারুণ এক উপাখ্যান ছিল এটি। মুলত যারা কিশোর অ্যাডভেঞ্চারের চেয়ে কিঞ্চিৎ বেশি কিছু চান তারা বুধোদার এই বইটি পড়ে দেখবেন। মন্দ লাগবে না ।
Ei boi ta Budho da series er pora amar prothom boi. Boi ta ami amar Ma k gift korechilam karon amar Ma ek jon Rohosyo golper poka. Ma er porbar por, ami boi ta porlam. Saikat Mukhopadhyay amar ekjon khub e priyo lekhok, tai bhebechilam oshadharon kichu ekta pabo. Kintu khub hotas hoyechi. Golpo gulo bhison predictable abong ek gheye. Jehetu bacha der jonnyo lekha , hoyto bachader jonnyo ei golpo gulo bhalo , kintu amar pore bhalo lage ni. R ektu besi kichur asha Chilo. Kao jodi Kaka babur golper sathe porichito thake , tader gache Budho da khub ekta unique lagbe na. Boi tar bhalo dik, lekhoker sundor lekhoni r kichu ojana information. Tai 2 to tara dilam..
বুধোদার আগের দুটো বইয়ের চেয়ে এই উপন্যাসিকা তিনটে মূলত কলকাতা আর তার পার্শ্ববর্তী এলাকাতেই ফোকাস করেছে বেশী, আগের উপন্যাসগুলোর মতো এডভেঞ্চার, থ্রিল না থাকলেও পড়তে এতটুকু খারাপ লাগেনা, কারণ বুধোদা কে আমরা তার চেনা রূপেই দেখতে পাই সব লেখাতেই আর সাথে রুবিক, সপ্তদ্বীপা আছেই।তবে প্রথম উপন্যাসীকা টি আমার ঠিকঠাক লেগেছে, আর বাকি দুটো ভালো বিশেষ করে দ্বিতীয় কাহিনি টা । ওটা এই বইটির অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। তবে প্রচ্ছদ টা আরও আকর্ষণীয় করা যেতো ।
বুধোদা কে আরও একটু চিনতে হলে আগের দুটো বইয়ের সাথে এই বইটাও পড়ে ফেলতে হবে!