ভ্রষ্টতন্ত্রের ভয়ঙ্করতা নয়, 'মন তোর তন তোর' উপন্যাস শুদ্ধতন্ত্রের প্রকৃত সাধনপথের সন্ধান দেয়। এই তন্ত্রসাধনার সঙ্গে বৈদিকসাধনের বিরোধ নেই। থাকার কথাও নয়। কারণ তন্ত্রের উচ্চাবস্থায় সাধক পায় প্রকৃত প্রেমের সন্ধান...
জয়দীপ চক্রবর্তী-র জন্ম ১৯৭৪ সালে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার দক্ষিণ রামনগর, কালীবাড়িতে। এখন তিনি বারুইপুরের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের শিক্ষক হিসেবে বারুইপুর হাই স্কুলে কর্মরত। ছোটবেলায় স্কুল ম্যাগাজিনের পাতায় লেখালেখির হাতেখড়ি হলেও মূলত বিগত শতকের নয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকেই বাংলা ভাষার জনপ্রিয় পত্র-পত্রিকাগুলির পাতায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতির সূত্রপাত। ছোট, বড় দু’ ধরনের পাঠকের কাছেই সমান জনপ্রিয় জয়দীপ নিজে ছোটদের জন্যে লিখতেই বেশি পছন্দ করেন। তাঁর ছোটদের জন্যে লেখা প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ‘কিশোর জ্ঞান বিজ্ঞান’ পত্রিকায়। ছোটদের প্রথম উপন্যাস ‘আনন্দমেলা’-র পাতায়। কবিতা এবং গদ্যের জন্যে তিনি পেয়েছেন ‘কবিতা পাক্ষিক সম্মান’, ‘দেবযান সাহিত্য পুরস্কার’ এবং ‘অদ্রীশ বর্ধন স্মারক পুরস্কার’। লেখালেখি ছাড়া জয়দীপ চক্রবর্তী ভালবাসেন গল্পের বই, রবীন্দ্রগান এবং নিখাদ আড্ডা।
মিতভাষী মিঠু কেমন যেন বদলে যাচ্ছে। তার চোখের দৃষ্টিতে ক্রূরতা, কথাবার্তা তীব্র... ঋষি অবাক হয়ে যায় স্ত্রীর এই হঠাৎ পরিবর্তনে। ঘটনার অলৌকিকতা ঋষিকে টেনে নিয়ে যায় এক তান্ত্রিকের প্রতিহিংসার মূলে। যার ফল ভুগতে হচ্ছে মিঠুকে। কি সেই কাহিনী যার প্রভাবে এক অশরীরী আত্মার কালো ছায়া ঘিরে ধরেছে ঋষির সুখের সংসার? নিজের জীবন বাজি রেখে সে কি মিঠুকে ফিরিয়ে আনতে পারবে সেই কালো-জাদুর কবল থেকে?
গল্পটা অতিপ্রাকৃত এবং সচারাচর যেসব তান্ত্রিকদের গল্প আমার শুনে থাকি। কঠিন তন্ত্র সাধনা, সেই কঠিন সাধনা দিয়ে সব দূর্ভেদ্য কাজ করা। তেমনি এটাও। কিন্তু এই গল্পে কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। এই গল্পে রয়েছে প্রেম ভালোবাসা। তেমনি রয়েছে তান্ত্রিকের ইর্ষা, ক্রোধ, আনুশোচনা। সব মিলিয়ে অসাধারণই বলা যায়। তবে গল্পটা টেনে মনে হচ্ছে একটু লম্বা করা হয়েছে। রেটিং ৩.৫/৫