বইটির চৌদ্দটি গল্পে ঘুরেফিরে এসেছে বুদ্ধিমান সৃষ্টির অসহায়ত্বের কথা। মুখ্য চরিত্রে বেশিরভাগ সময়ই আছে ভবিষ্যতের মানুষ। আবার অনেক সময় দেখা যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্রদেরকে। বুদ্ধিমান সৃষ্টির একটি বৈশিষ্ট্য আছে। এরা কখনো নিজের ইচ্ছায় হেরে যেতে চায় না। কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষ হিসাবে যে থাকছে প্রযুক্তির বিভ্রাট, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব, রহস্যময় মহাকাশ, প্রাকৃতিক বিবর্তন, সময়ের ফাঁদ কিংবা স্বয়ং ঈশ্বরের মতো বিশাল শক্তি!
ইবাইজা মেশিন প্রথম গল্পটাই নাম গল্প, প্রেডিক্টেবল হইলেও ভালোই লিখেছে। বিজ্ঞানী দম্পতি ক্রিরি আর শ্রারা আবিষ্কার করে টেলিপোর্ট মেশিন। কিন্তু এই টেলিপোর্টের ব্যাপারে বিজ্ঞানী ইবাইজার একটা সূত্র আছে। বিজ্ঞানী ইবাইজার সেই অনিশ্চয়তা সূত্রকে অতিক্রম করে যাবার পালা। দেখা যাক কি আছে এই দম্পতির কপালে।
মিথ্যা এই গল্পটা জোস! ভাল্লাগসে। বাজারে নিলাম চলছে। বিক্রির উদ্দেশ্যে যার যার সংগ্রহিত পণ্য নিয়ে এসেছে ব্যবসায়ীরা। একে একে সেসব নিলামে উঠছে। কিন্ত ক্সেকযার হতাশ তার পণ্য নিয়ে সেরকম আগ্রহ এখনও কেউ দেখাচ্ছে না। মঞ্চে এখন যেটা আছে সেটা নিয়ে রীতিমতো ক্রেজ শুরু হয়ে গেছে নিলামে পণ্য কিনতে আসা মানুষদের মাঝে। ঝানু ব্যবসায়ী ক্সেকযার জানে, কোন একটা নির্দিষ্ট পণ্যের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আগ্রহ গোটা নিলামের জন্যই খারাপ। একটা ফন্দি আঁটে সে...
মা এই গল্পটা ঘর-বন্দী মাতা-কন্যার গল্প। গল্পের আবহে করোনার সেই ভয়াবহ আটকে পড়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে যায়। পৃথিবীর বড্ড বিপদ, পৃথিবীবাসীকে বাঁচাবার জন্য তাই অতি দরকারেও ঘর থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে সরকার। আরও বড় একটা বিপদ ধেয়ে আসছে পৃথিবীবাসীর জন্য। তার জন্য সবাই প্রস্তুত তো?
নাল হাইপোথিসিস এইটাও ভালো লিখেছে। চার্লি আর রিচি একটা পরীক্ষা করতে চাচ্ছে। কিছু সিঙ্গুলারিটি ইঞ্জিন বানিয়ে বিভিন্ন স্থানে রেখে আসা হবে আর কিছু মানুষকে বেয়ারিং চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হবে সেই ইঞ্জিনের হদিস। বলে রাখা ভাল, সিঙ্গুলারিটিকে বলা হয় ব্ল্যাকহোলের প্রাণ। অর্থাৎ বুঝে কিংবা না বুঝে সেই ইঞ্জিনের সুইচ টিপে ধরলেই খেল খতম। চার্লি রিচির সাথে পৃথিবীর মানুষের উপর বাজি ধরেছে। কী হয় সেই ভয়ংকর পরীক্ষার ফলাফল..
আগন্তুক না সত্যজিৎ রায়ের আগন্তুক নয়, সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই গল্পের রিভিউ দিতে গেলে স্পয়লার দেয়ার আশংকা আছে। বেশি ভালো!
সময় শকট বাজারে নতুন চালু হওয়া ভবিষ্যৎ-এ যাবার মেশিনগুলো খালি ঝামেলা করছে। মাত্র ছয়দিন পরের ভবিষ্যৎ পর্যন্ত যেতে পারছে। কোম্পানির প্রধান প্রোগ্রামার ল্রুকানের উপর দায়িত্ব পড়ল ব্যাপারটা খতিয়ে দেখার। নির্জলা একটা সত্য আবিষ্কার করে বসে সে! এইটা অনেক সুন্দর একটা গল্প। ভাল্লাগসে।
ফাঁদ বিজ্ঞান একাডেমীর পরিচালক আছেন মহাবিপদে। একটা অচেনা মহাকাশযানে করে কিছু নভোচারী এসেছে। একাডেমীর পরিচালকের ভয় তাদের অস্তিত্ব না আবার ওদের কাছে ফাঁস হয়ে যায়.. অতীতে এমন বিপদ থেকে বারে বারে রক্ষা করা জীববিজ্ঞানী ক্লিওনির দ্বারস্থ হয় সে।
ম্যাজিক কিউব এই গল্পটা ভালো লাগেনি। ছোট্ট জেনজেন খুব জটিল একটা পাজল মিলিয়ে ফেলার পুরষ্কার হিসেবে বিজ্ঞানী বাবার কাছে কম্পিউটারের বিশেষ একটা কী-বোর্ড চাপতে চায়। এই কী-বোর্ডের বিশেষত্বটা কী?
ত্রাতিহানের স্বপ্ন রবোস্যাপিয়েন্সরা এখন পৃথিবী শাসন করছে। কিন্তু ওরা প্রায় মানুষ হলেও আবেগ-অনুভূতি প্রকাশে একটু ঢিলা। রোবোস্যাপিয়েন্সদের দৃঢ় বিশ্বাস ওরা যখন থেকে মানুষের মতো স্বপ্ন দেখতে পারবে, তখন থেকেই উন্নতির চরমে পৌঁছতে পারবে। স্বপ্ন যেহেতু দেখতে পারে না তো কি আর করা... নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে গবেষণাগারে আটকে রেখে ওদের দিয়ে স্বপ্ন দেখিয়ে সেই স্বপ্ন সংরক্ষণ করে রাখে ব্যাংকের ভল্টে। সেসব স্বপ্ন বিকোয় অনেক অনেক ইউনিটের বিনিময়ে। তেমনি এক স্বপ্নদ্রষ্টা ত্রাতিহান। ওর দেখা স্বপ্নের এখন আর এতো দাম নেই বলে নির্দেশ এসেছে সায়ানাইড প্রয়োগে মেরে ফেলার। মৃত্যুর আগে শেষ একটা স্বপ্ন দেখতে চায় ত্রাতিহান। এই গল্পটাও সংকলনের অন্যতম সুন্দর একটা গল্প। শেষ স্বপ্নের কনসেপ্টটা পরিচিত, তাও খুব ভাল্লাগসে।
বিদায় এই গল্পটা অনেক টাচি। গল্পের শুরুতেই নারা আর তার সন্তান রিকানের বিদায়ের দৃশ্য। রিকান কোথাও যাচ্ছে। কোথায়? কেন?
অনুভূতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা অভিযানে মহাকাশযানে করে যাচ্ছে ড. শ্রুল আর ত্রিশিনা। ত্রিশিনার তেমন কোন অভিজ্ঞতা না থাকলেও একমাত্র ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে ওকে অভিযানে পাঠিয়ে দেয়ায় ড. শ্রুল খুবই বিরক্ত। মড়ার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে জানা গেল ত্রিশিনার ভুলের কারণে মহাকাশযানে দেখা দিয়েছে অক্সিজেন সংকট। এখন করণীয় কী?
প্রত্যাবর্তন বিজ্ঞানী ত্রিবার সামনে মহাবিপদ। প্রায় সব কাজ যখন সেরে পৃথিবীতে ফিরবার পালা, তখনই জ্বলজ্যান্ত মৃত্যুদূত হিসেবে সামনেই আবিষ্কার করে একটা ব্ল্যাকহোলকে। পৃথিবীতে রেখে এসেছে সন্তানসম্ভবা স্ত্রী কে। স্ত্রী সন্তানকে অন্তত একবার না দেখে ব্ল্যাকহোলের অতল গহ্বরে ডুবে যেতে চায় না সে। দুটো পথ সামনে। দুটো পথই চরম অনিশ্চয়তায় ভরা। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে হবে। সময় বয়ে যাচ্ছে টিক টিক... টিক টিক...
জীব বুঝলাম না ঠিক। বুঝদার কেউ একটু বুঝায় দিয়েন।
নরক রু-বান আর লাইনা মহাকাশযানে করে একটা অভিযানে যাচ্ছে। লাইনা পেশাগত দিক দিয়ে একজন পাদ্রি হলেও অনিন্দ্য সুন্দরী একজন নারী সে। রু-বান মনে মনে বেশ পছন্দ করে লাইনাকে, কিন্তু পৃথিবীর নিয়ম অনুযায়ী সেটা রীতিমতো নিষিদ্ধ কাজ। একদিন সাহস করে মনের কথা বলেই ফেলে লাইনাকে। গল্প এগিয়ে যেতে থাকে পরিণতির দিকে...
মোট ১৪ টা গল্প নিয়ে লেখা ইবাইজা মেশিন বইটা। আমার মতে, জনরা হিসাব করলে সম্ভবত সাইন্স ফিকশন লেখাটা খুবই জটিল এবং কঠিন কাজ। লেখক দারুণভাবে তার প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। লেখকের জন্য শুভকামনা।
মোট চোদ্দোটি গল্প আছে এই সুমুদ্রিত, শীর্ণকায় সংকলনে। তাদের মধ্যে অনেকগুলোই অত্যন্ত গভীরভাবে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ঘরানার অনুসারী— সে চরিত্রের নামেই হোক, বা তাদের আচরণে। তবে গল্পগুলো পড়তে বেশ ভালো লাগে। বইয়ের দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু গল্পে নানা ধরনের কাল্পনিক প্রযুক্তির বর্ণনায় বড়ো বেশি শব্দ ব্যয় করা হয়েছে। অতিকথনের সমস্যায় ভুগেছে নানা চরিত্র। তবে প্রথম দিকের 'মিথ্যা', 'মা', 'নাল হাইপোথিসিস'-এর মতো বিশুদ্ধ আসিমভীয় গল্পগুলো পড়ে দারুণ লাগল। লেখক ভবিষ্যতে এইরকম বুদ্ধিদীপ্ত আরও গল্প আমাদের উপহার দেবেন— এই আশায় রইলাম।
মোটামুটি লেগেছে। ইবাইজা মেশিন আর বিদায় গল্পটি ছাড়া বাকিগুলো তেমন আহামরি মনে হয় নি। সত্যি বলতে লেখকের লেখার মাঝে তার অগ্রজদের ছায়া এখনো প্রখর। সেই ছায়া থেকে বের হয়ে আসতে পারলে আরো ভালো কিছু পাবো বলে আশা করছি।
কিছু চমৎকার বৈজ্ঞানিক গল্পের সমাবেশ আছে এই বইটিতে। ছোট ছোট বাক্যে সাজানো লেখাগুলো পড়তে ভালো লাগবে। বাক্যগুলো খুব জটিল না, কিছু বৈজ্ঞানিক আর তাত্ত্বিক শব্দ আছে (এটা একটা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর বই - কিছু শব্দ তো থাকবেই)। লেখক কিন্তু প্রতিটা গল্পের শেষে শব্দগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে দিয়েছেন, পাঠককে একেবারেই অন্ধকারে রেখে যাননি। গল্পের কাহিনীগুলো সুচিন্তিত, প্রায় ��্রতিটা গল্পের শেষেই আছে অজানা, অদেখা, অননুমেয় চমক, যেটা পাঠককে চমকিত করবে। মাঝে মাঝে কিছুটা মজাদার কিছু ব্যাপার থাকলে গল্পগুলো আরো রসালো আর মজাদার হতো - কারণ গল্পগুলো নিজেই বেশ ভারী আর বৈজ্ঞানিক - তাই কিছুটা হালকা করার মতো আর কি!
'জীব' গল্পটা ঠিকমতো বুঝতে পারিনি, আরেকবার পড়ে দেখতে হবে। 'নরক' গল্পটা পড়ে সত্যিই খারাপ লেগেছে রু-বানের জন্য - এটা সত্যিই ছিল আশাভঙ্গের চুড়ান্ত - কিন্তু চমৎকারভাবে জিনিসটা ফুটে উঠেছে লেখায়। 'ইবাইজা মেশিন'-এর টেলিপোর্ট গন্ডগোল, 'মিথ্যা' গল্পে নিলামের অনভিপ্রেত কান্ড, 'মা' গল্পের গল্পকথক আসলে কারা, 'নাল হাইপোথিসিস' গল্পের সমীকরণ আর পরীক্ষার ব্যর্থতা, 'সময় শকট' গল্পের ভবিষ্যৎ ভ্রমণে বাধার কারণ, 'ফাঁদ' গল্পের জটিল, কুটিল ফাঁদগুলো, 'ম্যাজিক কিউব' গল্পের মহাবিশ্বের মহাবিপর্যয়, 'ত্রাতিহানের স্বপ্ন' গল্পে চমৎকার সব স্বপ্নের বর্ণনা আর স্বপ্ন দিয়ে প্রতিশোধ নেবার বুদ্ধি, 'বিদায়' গল্পের শেষের চমৎকার টুইস্ট, 'অনুভূতি' গল্পের বুদ্ধির পরাজয়, 'আগন্তুক' গল্পে থিওরি অব ইভোল্যুশান এর রেফারেন্স (পক্ষ/বিপক্ষ পাঠকের ব্যক্তিগত বিচারবুদ্ধির ব্যাপার) - সবগুলো গল্পই বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সাজানো।
বইয়ের মূলভাব - পরিবেশ-পরিস্থিতিটির কাছে বুদ্ধিমান মানুষের পরাজয় - প্রায় সবগুলো গল্পেই সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। 'প্রত্যাবর্তন' গল্পটিকে অবশ্য আশাব্যঞ্জক মনে করা যেতে পারে। ব্যক্তিগতভাবে এটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের। আমার মনে হয় লেখক গল্পটির উপসংহার পাঠকের উপর ছেড়ে দিয়েছেন। আমরা জানি না রকেটের ভেতরের অবস্থা অথবা ত্রিবা-র অবস্থা কিরকম ছিল যখন রকেটটি ল্যান্ড করে - ত্রিবা বেঁচেও থাকতে পারে, মারাও যেতে পারে। হোয়াইট হোল থেকে বের হয়ে আসার মুহূর্তে ত্রিবা এক অলৌকিক আলোর মধ্যে ভেসে যেতে থাকে। বলা হয় মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে আমরা তীব্র আলোর মধ্যে ভেসে যাই। ত্রিবা-র দেখা আলো সেই আলোও হতে পারে, আবার হোয়াইট হোলের তীব্র আলোও হতে পারে। হতে পারে এটাই লেখকের ইচ্ছা (উপসংহার পাঠকের উপর ছেড়ে দেয়া)। আমি অবশ্য আশাবাদী উপসংহারটাই নিতে চাই।
গল্পগুলোতে বিজ্ঞান আর মহাবিশ্বের প্রচুর শব্দের উল্লেখ আছে। আমি নিজেও অনেক শব্দের সাথে পরিচিত ছিলাম না। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখার এটা একটা আবশ্যিক ব্যাপার, আর লেখক সেক্ষেত্রে ভালো মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
বইয়ের ছাপা সুন্দর, ঝকঝকে, ফন্ট সুন্দর এবং সুপাঠ্য।
পরিশেষে বলতে চাই, আপনি যদি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী পছন্দ করেন, তাহলে এটা একটা চমৎকার বই। বইটি সুন্দর সুন্দর কিছু বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর মিলনমেলা - চমৎকার চিন্তা, সুন্দর প্লট, চারুকীয় ভাষা বিন্যাস, চমৎকার সব তাত্ত্বিক বিজ্ঞানের সম্ভার। গল্পগুলো প্রায় সবই বইয়ের মূলভাবের সাথে সম্পৃক্ত - যেটা হচ্ছে, বিভিন্ন পরিস্থিতির মাঝে বুদ্ধিমান মানুষের অসহায়ত্ব। চমৎকার সময় কাটানোর জন্য সুন্দর একটি বই :)!
This is a book with some wonderful science fictions. The writings are in shorter sentences which feels good. Sentences are not complicated; there are some scientific jargons though (well, it is a science fiction, can't deny that). But the writer provided definitions of the words at the end of each story, so the reader is not completely left bewildered with the words. Story lines are good and thoughtful, there are interesting twists at the end of each story which makes it a joyful reading. A little pinch of fun if added that would make the stories juicy and light as the subject itself is gravy and heavy - kind of balance.
I didn't understand 'Jib' (The Creature); might need to read it again. Felt too sad with 'Norok' (The Inferno) as that is really a break of hope - but wonderfully written. Teleport mishap in 'Ibaiza Machine', weird situation at the auction in 'Mithya' (The Lie), who are the protagonists in 'Maa' (The Mother), failure of equation and experiment in 'Null Hypothesis', Reason for failure to travel in future in 'Somoy Shokot' (Time Machine), complicated and mean traps of 'Faad' (The Trap), Armageddon of the universe at 'Magic Cube', wonderful and colourful dreams and revenge with dreams at 'Tratihaner sopno' (The Dreams of Tratihan), excellent twist at 'Biday' (Goodbye), reference of The Theory of Evolution at 'Ogontuk' (The Guest) (accepting/rejecting that is up to the reader) - all of the stories are of so many different contexts!
As per the theme of the book (helplessness of an intelligent species - human beings) the stories are all aligned with the theme; the story 'Prottaborton' might actually gives hope. Actually I liked that the most. But I think the writer left the conclusion of that story to the reader - we don't know what is the situation of inside the rocket, or Triba - he might be alive or dead (as the last he saw was a flood of bright light, which we see before death) when it landed. So it might be death light, or it might be white whole light. May be the writer wanted like that (leaving the conclusion to the reader)? But anyway, I would like to take the optimistic one here 🙂.
There are so many mentions about scince and space - all the different terms. I learned about many of them while reading. That is very important for science fictions to have a wealth of knowledge on theories.
Book's font and size are nice and readable.
If you like science fictions, this is an excellent one for you. This is a collection of some good science fictions - well thought of, well-based, well-versed, well-equipped with scientific theories. Stories are aligned with the theme - helplessness of human beings as an intelligent species, as mentioned by the writer. Have a nice time with a nice book 🙂!
Rushdi Shamsর বই পড়তে আপনাকে উৎসাহিত করবো। কেন করবো? কারন আমি মুগ্ধ হয়েছি , কখনো কখনো চঞ্চল হয়েছি, কখনো আবার কোন গল্প নতুন করে শুরু করতে বাধ্য হয়েছি আর বেশির ভাগ সময়েই বিষন্ন হয়েছি। আমাদের ভবিষ্যত কি বিষন্নতার আধারে ঢাকা? রুশদীর গল্প গুলোতে মানবজাতির অসহায়ত্বের কথা ফিরে ফিরে এসেছে। সে তো আর নতুন কিছু নয়। মানুষ মাত্রই অসহায়।চেনা সময়কে অতিক্রম করে অনেক দূর পর্যন্ত নিয়ে গিয়েও রুশদী আমাদের বলছে অসহায়ত্বই আমাদের নিয়তি। কিন্তু সে অসহায়ত্বের কথা কি দারুন ভাষায় সে লিখেছে।
আমার মনে হয়েছে সে অনেক রকমের পাঠকের কথা ভেবে লিখেছে। কিছু গল্প পড়তে গিয়ে বারবার আপনাকে থামতে হবে,ভাবতে হবে, আবার এগিয়ে যেতে হবে। কিছু গল্পে মানবিকতার কথা বেশি, কিছু গল্পে বিজ্ঞানই প্রাণ , আবার কিছু গল্পে শুধুই ভবিষ্যত। অনেকটা যুক্তি-বুদ্ধি সব বন্ধ রেখে শুধুই কল্পনা করা।
তার গল্পে বৈচিত্রতা অবশ্যই আছে। সেটা একটা শক্তির জায়গা। কিন্তু আমাকে যদি বলা হয় লেখকের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক কোনটা , আমি বলবো, সে পাঠককে নিয়ে লিখতে বসে। অর্থাৎ পাঠককে সামনে কলম দিয়ে লিখতে বসে। কিছু ধাধা মেলানোর মতো করে, অনেক রকম চিন্তা মিশিয়ে নিয়ে আপনি এগুতে থাকবেন আর দেখবেন শেষে গিয়ে রুশদী একটা পাঞ্চ লাইন রেখেছে। সেখানে গিয়ে দুটো জিনিস হতে পারে, লেখকের ভাবনার সাথে আপনার মিল পেয়ে যেতে পারেন। আবার নাও পেতে পারেন। দুটি পথই থ্রিলের মতো। কিন্তু যদি আপনি দেখেন যে, শেষ পর্যন্ত লেখকের ভাবনার সাথে মিল নেই ততক্ষনে আপনিও একটা গল্প মিলিয়ে ফেলেছেন। পাঠের সাথে সাথে ভাবারও একটা সম্পর্ক হয়ে গেছে। কে জানে পরের বছর আপনিও সায়েন্স ফিকশন একটা লেখার চিন্তা করে ফেলতে পারেন।
রুশদীর সংলাপ দেবার ক্ষমতা আমার কাছে দুর্দান্ত লেগেছে। একজনের কথার উত্তরে আরেকজন যখন বলছে, সেটার সমন্বয় এবং যৌক্তিকতা বলিষ্ঠ। মানুষ-রোবট-রোবোস্যাপিয়েন্স নানা রকমের যান্ত্রিক এবং অযান্ত্রিক চরিত্রের মাঝে কথোপকথনের কোন জায়গাতেই দুর্বল মনে হয়নি বরং তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার সাথে ঠিক ঠিক জায়গায় পৌছে গেছে কন্ঠস্বর।
কিছু গল্পের রেশ লেগে আছে আমার মনে।।একেকটা এক্সাইটিং এন্ডিং। লেখক এরপর শান্ত হয়েছেন, কিন্তু আমাকে বানিয়ে দিয়েছেন অশান্ত।
একটা নিলামের বর্ণনা শুনতে শুনতে শেষে গিয়ে পেলাম, নিলামটা হচ্ছে মহাবিশ্বের একমাত্র জীবন্ত মানুষকে নিয়ে? (গল্পঃমিথ্যে) “সময় শকট “ গল্পে যখন টাইম মেশিনটি ১০০ বছর অতীতে যেতে পারছে কিন্তু ভবিষ্যতের দিকে সাত দিনের বেশি আর যেতে পারছেনা? (পৃথিবীর আয়ু কি আর সাত দিনেরই?)
“ত্রাতিহানের স্বপ্ন”র মতো, যেখানে রোবোস্যাপিয়েন্স (বেশ মানবিক বোধ সম্পুর্ন রোবট) মানুষের স্বপ্ন কিনে নিচ্ছে ক্রমাগত তখন একজন মানুষ ঈশ্বরের স্বপ্ন বিক্রি করে দিলো আর তাতেই রোবটের দল নিশ্চিহ্নতার পথে,পরে যায়। একটা গল্প শেষ হলো ঠিক এমন নিষ্ঠুর লাইন দিয়ে “পোষাপ্রাণি হিসাবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে মানবশিশু সেখানে অদ্বিতীয়” (গল্পঃবিদায়) ।
ফরিদ আহমেদের সময় প্রকাশন থেকে প্��কাশিত রুশদীর একটা বই (ইবাইজা মেশিন)এর প্রচ্ছদ একেছেন ধ্রুব এষ। কুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ পাস করে সেখানেই সহকারী অধ্যাপক হিসাবে কাজ করেন, এরপর ইংল্যান্ডের বোল্টন বিশ্ববিদ্যালয় মাস্টার্স এবং কানাডার ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি এইচ ডি শেষ করেছেন। বর্তমানে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস এ জব করছেন। কাজ করছেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়েও। সুতরাং তার হাতের মুঠোয় আরো অনেক অসাধারণ সায়েন্স ফিকশন আছে নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। অপেক্ষায় রইলাম।
'ইবাইজা মেশিন' বইটিতে ছোট বড় ১৪টি কল্পবিজ্ঞান ভিত্তিক গল্প রয়েছে। তার ভেতরে কয়েকটি বাদে বেশিরভাগই প্রেডিক্টেবল লাগলো, গল্পের প্লট গুলো সাই ফাই পড়ুয়াদের খুব একটা অবাক করবে বলে মনে হয় না। কয়েকটি গল্পের এন্ডিং অবশ্য বেশ সারপ্রাইজ করেছে, তবে বেশিরভাগ গল্পের লেখনশৈলী আমার কাছে কিছুটা আড়ষ্ঠ মনে হয়েছে। এছাড়া প্রায় প্রতিটা গল্পে চরিত্র কিংবা টেকনোলজির নামকরণে দুর্বোধ্য শব্দ ব্যবহার করায় সেটাও পড়তে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। দামের দিক থেকে দেখলে বইয়ের বাহ্যিক প্রোডাকশন মোটামুটি আর প্রচ্ছদটা বিলো অ্যাভারেজ। এক কথায়, যারা নতুন নতুন সাই ফাই পড়া শুরু করেছেন এবং গল্পের ভেতরে দুর্বোধ্য শব্দ পড়ায় তেমন সমস্যা হয় না তারা একবার গল্পগুলো পড়তে পারেন।