What do you think?


বালিকা বধূ
121 pages, Hardcover
Published January 1, 2022
About the author
Bimal Kar
136 books38 followersBimal Kar (Bengali: বিমল কর) was an eminent Bengali writer and novelist. He received 1975 Sahitya Akademi Award in Bengali, by Sahitya Akademi, India's National Academy of Letters, for his novel Asamay.
বিমল কর-এর জন্ম ৩ আশ্বিন ১৩২৮। ইংরেজি ১৯২১। শৈশব কেটেছে নানা জায়গায়। জব্বলপুর, হাজারিবাগ, গোমো, ধানবাদ, আসানসোল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। কর্মজীবন: ১৯৪২ সালে এ. আর. পি-তে ও ১৯৪৩ সালে আসানসোলে মিউনিশান প্রোডাকশন ডিপোয়। ১৯৪৪-এ রেলওয়ের চাকরি নিয়ে কাশী। মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘পরাগ’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক, পরে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকা ও ‘সত্যযুগ’-এর সাব-এডিটর। এ-সবই ১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে। ১৯৫৪-১৯৮২ সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮২-১৯৮৪ ‘শিলাদিত্য’ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক। বহু পুরস্কার। আনন্দ পুরস্কার ১৯৬৭ এবং ১৯৯২। অকাদেমি পুরস্কার ১৯৭৫। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার ১৯৮১। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নরসিংহদাস পুরস্কার ১৯৮২। ‘ছোটগল্প—নতুন রীতি’ আন্দোলনের প্রবক্তা।
প্রয়াণ: ২৬ আগস্ট ২০০৩।
বিমল কর-এর জন্ম ৩ আশ্বিন ১৩২৮। ইংরেজি ১৯২১। শৈশব কেটেছে নানা জায়গায়। জব্বলপুর, হাজারিবাগ, গোমো, ধানবাদ, আসানসোল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। কর্মজীবন: ১৯৪২ সালে এ. আর. পি-তে ও ১৯৪৩ সালে আসানসোলে মিউনিশান প্রোডাকশন ডিপোয়। ১৯৪৪-এ রেলওয়ের চাকরি নিয়ে কাশী। মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘পরাগ’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক, পরে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকা ও ‘সত্যযুগ’-এর সাব-এডিটর। এ-সবই ১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে। ১৯৫৪-১৯৮২ সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮২-১৯৮৪ ‘শিলাদিত্য’ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক। বহু পুরস্কার। আনন্দ পুরস্কার ১৯৬৭ এবং ১৯৯২। অকাদেমি পুরস্কার ১৯৭৫। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার ১৯৮১। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নরসিংহদাস পুরস্কার ১৯৮২। ‘ছোটগল্প—নতুন রীতি’ আন্দোলনের প্রবক্তা।
প্রয়াণ: ২৬ আগস্ট ২০০৩।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 35 reviews
September 4, 2023
আমি মানুষটা পান চিবুই না। কস্মিনকালেও ও জিনিস মুখে দিই নি। তবুও এই গল্পটি পড়তে পড়তে, কখন যেন পিপারমিন্টের লঘুতা আস্বাদন করে উঠলাম। ঠাণ্ডা, সরস ও নেহাৎই মিষ্টি। এটিকে উপন্যাস বলতে নারাজ ছিলেন বিমল কর। মেরেকেটে দীর্ঘ একটি গল্প। বলি-টলি দুই 'উড'-এরই খোরাক।
ছোট্ট হলেও, এতেই কত কিছু পুরে দিয়েছেন তিনি। বুড়ো মানুষে কৈশোরের প্রেম নিয়ে গল্প লিখেছেন, তবুও কি নিষ্পাপ সবটা। একটুও ক্রিপি নয়। নব-বিবাহিত দুটি কিশোর-কিশোরীর শিশুতোষ পাগলামি পড়ে হাসিও পেলো, আবার দুটোতে আলাদা থেকে ভুগলে, কষ্টও। সাহচর্যের সরল টানে কতো মান-অভিমান।
মায়া। মায়ার খেলা বই তো কিছু নয়।
এরই সাথে, বিমল করের আশ্চর্য দর্শনবোধ ও সূক্ষ কলমে বাংলার গ্রাম্য ঋতু-বৈচিত্রের শৈল্পিক বহর। যা সাধু-ভাষায় লেখা হলেও, যথেষ্ট প্রাঞ্জল। সবটাই সুন্দর। মন খারাপ হলে, এই জিনিস পড়ুন। মন ভালো থাকলে, আরো বেশি করে পড়ুন। নির্ভেজাল মিষ্টি একটি ক্লাসিক। এমন সুখাদ্য 'বড়ে আচ্ছে' না লেগে উপায় আছে কি?
৩.৫/৫
ছোট্ট হলেও, এতেই কত কিছু পুরে দিয়েছেন তিনি। বুড়ো মানুষে কৈশোরের প্রেম নিয়ে গল্প লিখেছেন, তবুও কি নিষ্পাপ সবটা। একটুও ক্রিপি নয়। নব-বিবাহিত দুটি কিশোর-কিশোরীর শিশুতোষ পাগলামি পড়ে হাসিও পেলো, আবার দুটোতে আলাদা থেকে ভুগলে, কষ্টও। সাহচর্যের সরল টানে কতো মান-অভিমান।
মায়া। মায়ার খেলা বই তো কিছু নয়।
এরই সাথে, বিমল করের আশ্চর্য দর্শনবোধ ও সূক্ষ কলমে বাংলার গ্রাম্য ঋতু-বৈচিত্রের শৈল্পিক বহর। যা সাধু-ভাষায় লেখা হলেও, যথেষ্ট প্রাঞ্জল। সবটাই সুন্দর। মন খারাপ হলে, এই জিনিস পড়ুন। মন ভালো থাকলে, আরো বেশি করে পড়ুন। নির্ভেজাল মিষ্টি একটি ক্লাসিক। এমন সুখাদ্য 'বড়ে আচ্ছে' না লেগে উপায় আছে কি?
৩.৫/৫
February 19, 2019
আধুনিক জটিলতা থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য কি শুধুই রহস্যরোমাঞ্চ বা ভূতের গল্প পড়তে হয়? আমার মনে হয় বিশুদ্ধ রোমান্সের গল্পও সাময়িকভাবে আমাদের এই ধোঁয়া-ধূলো-কদর্যতা আর অবিশ্বাসে ভরা জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে।
আর সেই ভূমিকা পালন করার ক্ষেত্রে এই ছোট্ট, চিরসবুজ বা সোনালি ক্লাসিকটির কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বাস করুন, অফিসে বসে ইন্টার্নাল অডিট আর অন্য নানা জটিলতার সঙ্গে লড়তে গিয়ে আমি আবার বইটা পড়ে ফেললাম! বোধহয় এই নিয়ে চতুর্থবার বইটা আমার পড়া হল।
রসে, রোমান্সে, প্রেমে, শরীর ছাপানো ভালোবাসায় এমন বই বাংলা সাহিত্যে খুব বেশি লেখা হয়েছে বলে আমার অন্তত মনে হয় না। তাই আপনি যদি আজও এই বইটি না পড়ে থাকেন, সে আপনার কোথাও পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে হোক বা না-হোক...
এই বইটা দয়া করে পড়বেন।
এমন জিনিস আজকাল লেখা হয় না!
আর সেই ভূমিকা পালন করার ক্ষেত্রে এই ছোট্ট, চিরসবুজ বা সোনালি ক্লাসিকটির কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বাস করুন, অফিসে বসে ইন্টার্নাল অডিট আর অন্য নানা জটিলতার সঙ্গে লড়তে গিয়ে আমি আবার বইটা পড়ে ফেললাম! বোধহয় এই নিয়ে চতুর্থবার বইটা আমার পড়া হল।
রসে, রোমান্সে, প্রেমে, শরীর ছাপানো ভালোবাসায় এমন বই বাংলা সাহিত্যে খুব বেশি লেখা হয়েছে বলে আমার অন্তত মনে হয় না। তাই আপনি যদি আজও এই বইটি না পড়ে থাকেন, সে আপনার কোথাও পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে হোক বা না-হোক...
এই বইটা দয়া করে পড়বেন।
এমন জিনিস আজকাল লেখা হয় না!
November 26, 2025
'বালিকা বধূ' খুবই পরিচিত ক্লাসিক, কিন্তু এতদিন পড়া হয়নি। তপন মজুমদারের সিনেমা বানানোর কাহিনী পড়ে বইটা নিয়ে বসলাম; খুবই ছোট বই, এক বসায় শেষ করা যায়। দারুণ রোমান্টিক গল্প, তবে এখনকার মত নয়, আগেকার আমলের মতই। কাহিনীতে কোন নাটকীয়তা বা উত্থান-পতন নেই, একেবারে দৈনন্দিন জীবনের গল্প, এবং মডার্নিস্টদের কাছে খুবই রক্ষণশীল সেকেলে বলে মনে হতে পারে। তবে আমার ভাল লেগেছে। ইদানিং সব গল্প-উপন্যাস-নাটকে এত অহেতুক অস্থিরতা-হতাশা-ভায়োলেন্সের ছড়াছড়ি আর সেগুলো নিয়ে এত আদিখ্যেতা যে, মনে হয় মানুষ সারাদিনরাত শুধু হতাশ হয়ে ধ্বংসই করে যাচ্ছে। তার মাঝে এরকম স্বাভাবিক মানুষের স্বাভাবিক জীবনের গল্প পড়তে খারাপ লাগে না।
August 30, 2022
অমলের পিতা একখানা বই লিখেছেন যার মূল বিষয়বস্তু হলো, কৈশোরকালীন বিবাহ ও পরবর্তী জীবনে এর প্রভাব সম্পর্কে। উনার ভাষ্যমতে, কৈশোরে মানুষের মন থাকে নরম। তখন জীবনে যেই সঙ্গী বা সঙ্গিনী আসবে তার সাহচার্যে জীবন হবে সুন্দর। অমলের রাশভারী পিতা যেমন ভাবেন তেমনই কার্যে রূপান্তরিত করেন। যার ফলস্বরূপ অমলের মন্দমধুর জীবনে 'চিনি'র আবির্ভাব।
অমলেরা তিন ভাই-বোন। ছোটটা বেশিই ছোট আর তাই অমলের যতো ভাব পিঠাপিঠি চন্দ্রার সাথে। অমলের বিয়ের অল্প কিছু আগে বিয়ে হয় চন্দ্রার। বাড়ি জুড়ে চারটি তরুণ প্রাণ.. দুইটি নব দম্পতির খুনসুটি, প্রেম, বিরহ, বন্ধুত্ব, ওদের বেড়ে উঠা সব মিলিয়ে মিষ্টি একটা বড় গল্প বিমল করের 'বালিকা বধূ'। কয়েক মাস আগে আমি প্রথমে ১৯৭৬ সালে নির্মিত সিনেমাটি দেখি। খুবই অবাক হয়ে আবিষ্কার করি অতি বিখ্যাত গান Bade Achhe Lagte hain এই মুভিটার! (আমি আসলেই জানতাম না গানটার অরিজিন সম্পর্কে) এরপর এই বইটা পড়া। বইটায় এন্ডিং সুন্দরভাবে দেয়া, তাই বোধ হয় আরেকটু বেশি ভালো লেগেছে। সরল একরৈখিকভাবে বর্ণনা করা জীবনের গল্পটাকে রোমান্টিক কমেডিও বলা চলে। মুড অফের সময়ে কিংবা রিডার্স ব্লক কাটানোর জন্য ওকে।
অমলেরা তিন ভাই-বোন। ছোটটা বেশিই ছোট আর তাই অমলের যতো ভাব পিঠাপিঠি চন্দ্রার সাথে। অমলের বিয়ের অল্প কিছু আগে বিয়ে হয় চন্দ্রার। বাড়ি জুড়ে চারটি তরুণ প্রাণ.. দুইটি নব দম্পতির খুনসুটি, প্রেম, বিরহ, বন্ধুত্ব, ওদের বেড়ে উঠা সব মিলিয়ে মিষ্টি একটা বড় গল্প বিমল করের 'বালিকা বধূ'। কয়েক মাস আগে আমি প্রথমে ১৯৭৬ সালে নির্মিত সিনেমাটি দেখি। খুবই অবাক হয়ে আবিষ্কার করি অতি বিখ্যাত গান Bade Achhe Lagte hain এই মুভিটার! (আমি আসলেই জানতাম না গানটার অরিজিন সম্পর্কে) এরপর এই বইটা পড়া। বইটায় এন্ডিং সুন্দরভাবে দেয়া, তাই বোধ হয় আরেকটু বেশি ভালো লেগেছে। সরল একরৈখিকভাবে বর্ণনা করা জীবনের গল্পটাকে রোমান্টিক কমেডিও বলা চলে। মুড অফের সময়ে কিংবা রিডার্স ব্লক কাটানোর জন্য ওকে।
November 19, 2017
একদা একটি কিশোর আর একটি বালিকার বিয়ে হয়েছিল পারিবারিক যোগাযোগে। তারপর মান অভিমান আর সময়ের পথ বেয়ে একে অপরকে তারা করল আবিস্কার। বাল্য বিবাহ এ যুগে অচল, এমনকি সে যুগে ও ছিল না খুব কাম্য কিছু। মিস্টি প্রেমের গল্প মনে হয় একেই বলে। আছে বিভিন্ন ঋতুতে বাংলার প্রকৃতির অপরুপ বর্ণনাও । প্রণয়ী যুগলের মধ্যে বিচ্ছেদ ছিলো কিন্তু বিষাদ ছিলো না কোথাও, কাছে পাবার আকাঙ্খা বরং ছিলো। আর শেষটায় আছে চিরন্তন মানব মনের হাহাকার, প্রতিটা সুখের মুহুর্তের সাথে জীবনের সময়ও যে একটু একটু করে ফুরিয়ে যায়। ওপারে কি সত্যি কিছু আছে, হায় জীবন এতো ছোট কেন।
May 22, 2024
গ্রন্থখানার নাম 'বালিকা বধূ'। একদিন আনানের বাসায় গিয়ে আন্টির সাথে বই নিয়ে অনেক গল্প হচ্ছিলো। দুইজন বিভিন্ন বইয়ের নাম বলছি আর কে কোনটা পড়েছি বা পড়িনি, কোন বইটা কত চমৎকার, কেন পড়া উচিত ইত্যাদি নিয়ে গল্প। গল্পশেষে আন্টি আমাকে এই বইটা দিয়ে বললেন, পড়ে দেখ। আমার খুব প্রিয়!
শিশু বই। একরাতেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু সত্যি কথা হল গল্পের শুরুতেই দু'টা কিশোর কিশোরির বিয়ে আর সেইসব নিয়ে রঙ্গতামাসা দেখে আর সহ্য হল না। বইটা ব্যাগে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম।
কিন্তু ক্রিয়াপদের একটা বড় সমস্যা হল, তার যদি কোন শুরু থাকে তাহলে অবশ্যই শেষটাও থাকতে হয়। সেই তাগিদে বইটাকে আলোর মুখ দেখালাম। কিন্তু অতি আশ্চর্য ব্যাপার! বইটার সমাপ্তি অসাধারণ!
'অন্ধকার থাকিলে দূরান্তের নক্ষত্রগুলি যেন আমার এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গৃহটির দিকে তাকাইয়া দেখে এবং বোধ করি ভাবে, আমি এতটুকু অল্পে কেমন করিয়া শান্তি পাইলাম।'
এই লাইন টা! শান্তির কোন আন্তর্জাতিক বাটখারা নেই। ভদ্রলোক একটা জীবন সম্পুর্ণ জড়ো করে তার বালিকাবধূর প্রৌড় হওয়া দেখেছে। ঘরের পাশের আমগাছটার সাথে একসাথে বৃদ্ধ হয়েছে। তেপান্তরের মাঠ ছাড়িয়ে অনন্ত বিশ্বব্রহ্মান্ডের এক ধুলিকণা জীবন কেও আনন্দে কাটিয়ে দিল। ছোট্ট একটা প্রাপ্তিস্বীকারের এক রকম নিউক্লিয়ার রিয়্যাকশন!
কেন যেন মনে হচ্ছিলো এই নামে কোন সিনেমাও থাকার কথা। ইউটিউবে পেয়ে গেলাম। সেই ১৯৬৭ সালের সাদাকালো ছবি। সেই সিনেমাটাও চমৎকার। সম্ভবত বইটা পড়া ছিল বলে আরো বেশি ভালো লেগেছে।
শিশু বই। একরাতেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু সত্যি কথা হল গল্পের শুরুতেই দু'টা কিশোর কিশোরির বিয়ে আর সেইসব নিয়ে রঙ্গতামাসা দেখে আর সহ্য হল না। বইটা ব্যাগে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম।
কিন্তু ক্রিয়াপদের একটা বড় সমস্যা হল, তার যদি কোন শুরু থাকে তাহলে অবশ্যই শেষটাও থাকতে হয়। সেই তাগিদে বইটাকে আলোর মুখ দেখালাম। কিন্তু অতি আশ্চর্য ব্যাপার! বইটার সমাপ্তি অসাধারণ!
'অন্ধকার থাকিলে দূরান্তের নক্ষত্রগুলি যেন আমার এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গৃহটির দিকে তাকাইয়া দেখে এবং বোধ করি ভাবে, আমি এতটুকু অল্পে কেমন করিয়া শান্তি পাইলাম।'
এই লাইন টা! শান্তির কোন আন্তর্জাতিক বাটখারা নেই। ভদ্রলোক একটা জীবন সম্পুর্ণ জড়ো করে তার বালিকাবধূর প্রৌড় হওয়া দেখেছে। ঘরের পাশের আমগাছটার সাথে একসাথে বৃদ্ধ হয়েছে। তেপান্তরের মাঠ ছাড়িয়ে অনন্ত বিশ্বব্রহ্মান্ডের এক ধুলিকণা জীবন কেও আনন্দে কাটিয়ে দিল। ছোট্ট একটা প্রাপ্তিস্বীকারের এক রকম নিউক্লিয়ার রিয়্যাকশন!
কেন যেন মনে হচ্ছিলো এই নামে কোন সিনেমাও থাকার কথা। ইউটিউবে পেয়ে গেলাম। সেই ১৯৬৭ সালের সাদাকালো ছবি। সেই সিনেমাটাও চমৎকার। সম্ভবত বইটা পড়া ছিল বলে আরো বেশি ভালো লেগেছে।
January 10, 2026
এক কথায়, ভরপুর রোমান্স। মিষ্টি!
February 21, 2022
সরল একরৈখিক গল্প৷ এক কিশোর আর তার বালিকা বধূর প্রেমের, তাদের একসাথে জীবন কাটানোর সূচনার৷ এই গল্পকে এত মধুমাখা করে উপস্থাপন করা যায়? এক অনাস্বাদিত রসে মনটা পরিপূর্ণ হয়ে ছিল পড়ার সময়৷ লেখার সৌন্দর্য বেশি নাকি গল্পের মাধুর্য বেশি আমি বুঝতে পারছিলাম না, কেবল মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়ে যাচ্ছিলাম।
কাহিনীতে কোন উঠাপড়া নেই, কোন দুশ্চিন্তা নেই, কোন টানাপোড়েন নেই, অথচ পড়তে এত ভালো লাগছিল যে ইচ্ছে করছিল না রাখি হাত থেকে।
কৈশোরকালীন প্রেম, ধীরে ধীরে নিষ্পাপ ভালোবাসার সৃষ্টি, খুব সন্তপর্ণে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ এত সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন লেখক!
রজনী মানে বালিকাবধূটির নানান মুহূর্তের বর্ণনা, গ্রাম্য প্রকৃতির অসম্ভব সুন্দর ছবি সব মিলিয়ে বালিকা বধূ আমার অনেক পছন্দের একটা উপন্যাসিকা হয়ে থাকবে আজীবন। খুব সুন্দর, অনুভূতির একটা পূর্ণতা দেয়।
কাহিনীতে কোন উঠাপড়া নেই, কোন দুশ্চিন্তা নেই, কোন টানাপোড়েন নেই, অথচ পড়তে এত ভালো লাগছিল যে ইচ্ছে করছিল না রাখি হাত থেকে।
কৈশোরকালীন প্রেম, ধীরে ধীরে নিষ্পাপ ভালোবাসার সৃষ্টি, খুব সন্তপর্ণে দাম্পত্য জীবনে প্রবেশ এত সুন্দর ভাবে বর্ণনা করেছেন লেখক!
রজনী মানে বালিকাবধূটির নানান মুহূর্তের বর্ণনা, গ্রাম্য প্রকৃতির অসম্ভব সুন্দর ছবি সব মিলিয়ে বালিকা বধূ আমার অনেক পছন্দের একটা উপন্যাসিকা হয়ে থাকবে আজীবন। খুব সুন্দর, অনুভূতির একটা পূর্ণতা দেয়।
October 2, 2020
মিষ্টি একটা প্রেমের গল্প। হয়ত ভাববেন কত শতই না প্রেমের গল্প আছে, কিন্তু এটা একদম অন্যরকম বালক বালিকার চপলতা,খুনসুটি কি যে মিষ্টি লাগবে বোঝানো মুশকিল। দুই বালক বালিকার প্রতিটা কথা কি মায়া মাখানো,কি অপূর্ব তাদের দাম্পত্য। সাধুভাষায় লেখা, তাহলেও চটপট পড়ে ফেলা যায়। লেখকের মতে, এটা দীর্ঘ কাহিনী, উপন্যাস নয়। তিনযুগ আগেকার সময়ের গল্প, তাও কত ভালো লেগেছে পড়তে।
কাহিনী সংক্ষেপ : গল্পটি নায়কের জবানিতে বর্ণিত। তারা দুই ভাই এক বোন, তবে আমাদের গল্পের নায়কই বাড়ির জ্যেষ্ঠ পুত্র। পিতার কথামতো ১৬বৎসর বয়সেই তার বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হয়। তার ছোট্ট বধূটির (১৪বৎসর) নাম রজনী ওরফে চিনি।শ্বশুর বাড়িতে ননদ চন্দ্রার সাথেই তার ভাব। চন্দ্রার স্বামী শরৎও নায়কের বন্ধুর মতোই। সেই ছোট্ট বেলায় বিয়ে, তাদের খুনসুটি, প্রেম, তারপর যৌবনে পদার্পণ,সন্তান লাভ, শেষমেষ দেখতে দেখতে বার্ধক্যে পৌঁছায়। নায়কের বাল্য থেকে বার্ধক্য জীবনের মধুর গল্পই নিয়েই এই কাহিনী।
কাহিনী সংক্ষেপ : গল্পটি নায়কের জবানিতে বর্ণিত। তারা দুই ভাই এক বোন, তবে আমাদের গল্পের নায়কই বাড়ির জ্যেষ্ঠ পুত্র। পিতার কথামতো ১৬বৎসর বয়সেই তার বাল্যবিবাহের আয়োজন করা হয়। তার ছোট্ট বধূটির (১৪বৎসর) নাম রজনী ওরফে চিনি।শ্বশুর বাড়িতে ননদ চন্দ্রার সাথেই তার ভাব। চন্দ্রার স্বামী শরৎও নায়কের বন্ধুর মতোই। সেই ছোট্ট বেলায় বিয়ে, তাদের খুনসুটি, প্রেম, তারপর যৌবনে পদার্পণ,সন্তান লাভ, শেষমেষ দেখতে দেখতে বার্ধক্যে পৌঁছায়। নায়কের বাল্য থেকে বার্ধক্য জীবনের মধুর গল্পই নিয়েই এই কাহিনী।
November 2, 2017
হায় পাপি লাভ, আহা! :P
October 22, 2017
|| বালিকাবধূকে লেখা ছেঁড়াকাটা গদ্য ||
১
পার্শ্ববর্তী পুজামন্ডপের সমস্ত কোলাহল, সমস্ত কলরব এতক্ষণে রাত্রির নিস্তব্ধতার কাছে নতি স্বীকার করিয়াছে! জগত সংসারে রাত্রিকালীন চিরপরিচিত যে নৈঃশব্দ, যাহার সাথে আমাদের পরিচয় সেই আদিমতম কাল হইতে, সেই আবার যেন জাঁকাইয়া বসিয়াছে। এ ঘরে, দেওয়াল ঘড়ির চিরকর্তব্য বোধে টিকটিক করিয়া অন্তহীন সময়ের সাথে তাল মিলাইয়া চলিবার প্রয়াস ভিন্ন আশেপাশে আর কোন শব্দ নাই! মাঝে মাঝে কেবল কিছু দূর হইতে রেলের আওয়াজ ভাসিয়া আসিতেছে, আর বিটি রোড ধরিয়া ভারি ট্রাক-লরীগুলি গো গো শব্দে ছুটিয়া যাইতেছে! দু একটা বাজী এখনো যে সহর্ষে আর্তনাদ করিয়া উঠিতেছে, তাহারা কেবল রাত্রির নিস্তব্ধতাকেই গাঢ় করিয়া তুলিতেছে। এ রজনী শান্ত, শ্যামল, কোমল কিন্তু রহস্যময়ী!
কিন্তু, রজনী যদি সে বালিকা বধূর মতন কোনো কিশোরী হইত, তাহলে বোধকরি এ ঘরে এত নিস্তব্ধতা ছাইত না! তাহার হাতে চুড়িগোছের রিনঠিন আওয়াজ বাজিত, তার চপল পায়ে মলের রুনুঝুন, আর শাড়ির আঁচলের খসখস শব্দের সাথে তাহার ছটফটে কথারা এ ঘরের আনাচ কানাচ ভরাইয়া তুলিত! সে এতক্ষণে সংসারের কাছ থেকে ছুটি লাভ করিয়া ঘরে আসিয়া, দ্রুত হস্তে দোর দিয়া, তবে যেন শ্বাস পাইত! সে কি জানিত, সমস্তটা দিন আমি তাহার অপেক্ষায় থাকি! তাহার আঁচল এখনো চাবির গোছায় ভারি হয় নাই, তাহার মনও এখনো ভারিক্কী হয় নাই, তাই সে সমস্তটা দিন বিরহ সহিবার পরেও কেমন অনায়াসে সরল মনে মুখ ঝামটা দিয়া বলিতে পারিত ‘অমন করে কি দেখছো? আমায় যেন আগে দেখো নি!’ ভাবি, রজনীর ‘চিনি’ ডাকনাম সার্থক, চিনির মতই তার মন, শাদা, মিঠা, ও অল্পতেই গলিয়া যায়!
২
এবারের আশ্বিনের অকাল প্লাবন যেন সময়ের পূর্বেই বাতাসে শীতভাব জাগাইয়া তুলিয়াছে! কিশোরী বধূ রজনী, সেকাল হইলে এতক্ষণে কাঁথা টানিয়া লইয়া গভীর ঘুমে মগ্ন হইয়া যাইত! পালঙ্ক না হোক, এ কিং সাইজ বেডে সে পাশ মুড়িয়া বুকপেটের কাছে পা দুখানি টানিয়া লইয়া নিদ্রা যাইত। ঘরে সেজের বাতি মৃদু আভায় জ্বলিত, তাহার নিষ্কম্প শিখা প্রভায় রজনীর মুখ স্বপ্নাতুর মনে হইত। তাহার সন্ধ্যার সুচারু কবরী, বন্ধন ভাঙিয়া এখন স্রোতস্বিনী নদীর মত বালিশের কিনারা আপ্লুত করিত! দেখিতাম স্বপ্নের মগ্নতায় তার রক্তিম ওষ্ঠপুটে মৃদু বঙ্কিম হাসি ফুটিয়া উঠিয়াছে, ভ্রপল্লবে মাঝে মাঝে শিহরন খেলিতেছে, শ্বাসের গভীরতায় তার নাসারন্ধ্র স্ফুরিত হইতেছে, তাহার বক্ষখানি ধীরললিত ছন্দে ওঠাপড়া করিতেছে! রজনী, তুমি এমনিই সুন্দর স্বপ্নবৎ থেকো চিরকাল, তোমার বড় হয়ে কাজ নেই!
৩
অথচ রজনী যে কোন কোন রাত জাগিয়া থাকে না, তা তো নয়! সেবারে যে সে পূর্ণিমার রাতে দেখা করিয়াছিল! তাও লুকাইয়া, কলাবাগানে! শরৎ আর চন্দ্রাও দেখা করিতে গিয়াছিল একে অপরের সাথে! কেউ দেখিয়া ফেলিলে যে কি কেলেঙ্কারি হইত, সে কথা আন্দাজও করিতেও ভয় হয়!
এবারে লক্ষ্মী পুজার আগের রাতে যেমন জোৎস্না ফুটিয়াছিল, রজনী থাকিলে নিশ্চই সে রাতে ঘুমাইতে পারিত না। দক্ষিনের জানালা দিয়ে রজনীর পায়ে এসে লুটাইত সে শ্বেতশুভ্র আলো! রজনী জাগিয়া ফিসিফিস করিয়া ভালবাসার কথা বলিত। অন্ধকারে তাহার চোখের শাদা যেন নিশির মত মন্ত্রমুগ্ধ করিয়া জাগাইয়া রাখিত! বুকের পাশটিতে শুইয়া থাকিত সে, হঠাৎ হাওয়া আসিয়া জানালার পর্দা উড়াইলে তাহার মুখে আলো আবছায়ার আলপনা খেলিয়া যাইত! তাহার বুকে কেমন অপরিচিত সুগন্ধ, তাহার হাতে কেমন ঘোর লাগা উষ্ণতার মাদক! বালিকা বধূ রজনী খুনসুটি করিত হয়ত, অন্ধকারেই জিভ ভ্যাঙাইত, বলিত, ‘তোমায় ভালবাসতে আমার বয়েই গেছে!’
৪
রজনীর অমন কথা যে মিথ্যে, সে আমি জানি, অমনটা সে বলেই! কৈশোর এখনো যেন তার যায় নি! কিন্তু এমন কথা শুনলে তাও বুক দুরুদুরু করিয়া ওঠে! রজনীর মনের তল পাই না যেন! বালিকা যে কখন কিশোরী হয়, কখন যৌবনা, সে তাহার রূপবৃদ্ধিতে আন্দাজ চলে, কিন্তু রজনীর মন? সে তো শাদাচোখে দেখা যায় না! রজনী পিতৃগৃহে গেলে মনে হয় দম বন্ধ হইয়া আসিল! কিছু নাই, কোথাও কিচ্ছু নাই, চতুর্দিকে শূন্যতা বোধ হয়! রজনী চিঠি না পাঠাইলে ক্ষোভ হয়, মনে হয়, থাক বাপের বাড়ি! কিন্তু পরক্ষণেই ভয় হয়, রজনীর কি আমার কথা মনেই পড়ে না? না কি, রজনী কি অভিমান করিয়াছে?
৫
রজনী তুমি ফিরিয়া এস। সামনে শীত! তোমার উষ্ণতা ছাড়া এ হিমাক্রান্ত হৃদয় শ্বাস লইতে পারে না! সমস্তটা রাত যখন বাহিরে কুয়াসাবৃত, শিশিরের জল যখন নারিকেল সুপারির গা বাহিয়া নামিয়া আসে, সমস্ত ঘাসজমি যখন শিশির জলে ভিজিয়া, উত্তুরে হাওয়ার দাপটে কুঁকড়াইয়া যায়, তখন তুমি দুইহাতে জড়াইয়া কাছে না টানিলে, তোমার বুকের ওমে তপ্ত না করিলে সে শীত অসহনীয় বোধ হয়। বাহিরে ঘন কুয়াসায় চাঁদের আলো ঘোলাটে হইয়া ঠিকরাইয়া যায়, দশদিক অস্পষ্ট বোধ হয়, রাতপাখি বিভ্রান্ত হইয়া ডাকিয়া ওঠে, তখন এ জীবনকে তুমিই কেবল দিশা দেখাইতে পার। রজনী, তুমি আর বালিকা নও, তুমি এখন পরিপূর্ণ বধূ, তোমার প্রণয়, তোমার বাহুডোরের সুনিশ্চিত বাঁধনেই এখন জগত সংসার হইতে মুক্তি মেলে! রজনী তুমি এমনিই থাকিয়ো চিরকাল। তোমার ওই বালিকা, কিশোরী, বধূ, সকল রূপই হৃদয়কে ভরসা দেয়, বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ভালবাসার রসদ জোগায়। রজনী, তুমি এমনিই থাকিয়ো, হৃদয়ে চিরনবীনা এক বালিকাবধূ হইয়া!
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
(কিন্তু না! এখন আর সে যুগ নাই যে বিমল করের বালিকাবধূ উপন্যাসের মত, পিতাঠাকুর আমাদের কৈশোরেই বিবাহ দেওয়া সমুচিত বোধ করবেন! এ কালে পড়ালিখা করিয়া নিজের অন্ন উপার্জনের ব্যবস্থা করিতে করতে কৈশোর তো ভাল, যৌবনও ফাঁকি দিয়া যায়! তাছাড়া, রজনীও তো আর চতুর্দশ বৎসরে বিবাহ করে না আজিকাল! যদিও বা এখন রজনীর সাথে সাক্ষাৎ হয়, কৈশোরের চাপল্য তো আর তাহার থাকিবে না! কিন্তু কল্পনা করিতে সাধ হয়! বালিকা বধূর সাথে ঘর করিয়া তাকে দেখিতে বড় ইচ্ছে হয় যে, কেমন করিয়া এক বালিকা কুসুম হইতে দল মেলিয়া চতুর্দিকে রঙ ছড়াইয়া আপন সুবাসে অন্যের হৃদয় মথিত করিয়া, কোন অশ্রুত অদৃষ্ট জাদুমন্ত্রে একজন নারী একজন ঘরণী হইয়া ওঠে! রজনী, তোমাকে জানিতে বড় সাধ হয়!)
১
পার্শ্ববর্তী পুজামন্ডপের সমস্ত কোলাহল, সমস্ত কলরব এতক্ষণে রাত্রির নিস্তব্ধতার কাছে নতি স্বীকার করিয়াছে! জগত সংসারে রাত্রিকালীন চিরপরিচিত যে নৈঃশব্দ, যাহার সাথে আমাদের পরিচয় সেই আদিমতম কাল হইতে, সেই আবার যেন জাঁকাইয়া বসিয়াছে। এ ঘরে, দেওয়াল ঘড়ির চিরকর্তব্য বোধে টিকটিক করিয়া অন্তহীন সময়ের সাথে তাল মিলাইয়া চলিবার প্রয়াস ভিন্ন আশেপাশে আর কোন শব্দ নাই! মাঝে মাঝে কেবল কিছু দূর হইতে রেলের আওয়াজ ভাসিয়া আসিতেছে, আর বিটি রোড ধরিয়া ভারি ট্রাক-লরীগুলি গো গো শব্দে ছুটিয়া যাইতেছে! দু একটা বাজী এখনো যে সহর্ষে আর্তনাদ করিয়া উঠিতেছে, তাহারা কেবল রাত্রির নিস্তব্ধতাকেই গাঢ় করিয়া তুলিতেছে। এ রজনী শান্ত, শ্যামল, কোমল কিন্তু রহস্যময়ী!
কিন্তু, রজনী যদি সে বালিকা বধূর মতন কোনো কিশোরী হইত, তাহলে বোধকরি এ ঘরে এত নিস্তব্ধতা ছাইত না! তাহার হাতে চুড়িগোছের রিনঠিন আওয়াজ বাজিত, তার চপল পায়ে মলের রুনুঝুন, আর শাড়ির আঁচলের খসখস শব্দের সাথে তাহার ছটফটে কথারা এ ঘরের আনাচ কানাচ ভরাইয়া তুলিত! সে এতক্ষণে সংসারের কাছ থেকে ছুটি লাভ করিয়া ঘরে আসিয়া, দ্রুত হস্তে দোর দিয়া, তবে যেন শ্বাস পাইত! সে কি জানিত, সমস্তটা দিন আমি তাহার অপেক্ষায় থাকি! তাহার আঁচল এখনো চাবির গোছায় ভারি হয় নাই, তাহার মনও এখনো ভারিক্কী হয় নাই, তাই সে সমস্তটা দিন বিরহ সহিবার পরেও কেমন অনায়াসে সরল মনে মুখ ঝামটা দিয়া বলিতে পারিত ‘অমন করে কি দেখছো? আমায় যেন আগে দেখো নি!’ ভাবি, রজনীর ‘চিনি’ ডাকনাম সার্থক, চিনির মতই তার মন, শাদা, মিঠা, ও অল্পতেই গলিয়া যায়!
২
এবারের আশ্বিনের অকাল প্লাবন যেন সময়ের পূর্বেই বাতাসে শীতভাব জাগাইয়া তুলিয়াছে! কিশোরী বধূ রজনী, সেকাল হইলে এতক্ষণে কাঁথা টানিয়া লইয়া গভীর ঘুমে মগ্ন হইয়া যাইত! পালঙ্ক না হোক, এ কিং সাইজ বেডে সে পাশ মুড়িয়া বুকপেটের কাছে পা দুখানি টানিয়া লইয়া নিদ্রা যাইত। ঘরে সেজের বাতি মৃদু আভায় জ্বলিত, তাহার নিষ্কম্প শিখা প্রভায় রজনীর মুখ স্বপ্নাতুর মনে হইত। তাহার সন্ধ্যার সুচারু কবরী, বন্ধন ভাঙিয়া এখন স্রোতস্বিনী নদীর মত বালিশের কিনারা আপ্লুত করিত! দেখিতাম স্বপ্নের মগ্নতায় তার রক্তিম ওষ্ঠপুটে মৃদু বঙ্কিম হাসি ফুটিয়া উঠিয়াছে, ভ্রপল্লবে মাঝে মাঝে শিহরন খেলিতেছে, শ্বাসের গভীরতায় তার নাসারন্ধ্র স্ফুরিত হইতেছে, তাহার বক্ষখানি ধীরললিত ছন্দে ওঠাপড়া করিতেছে! রজনী, তুমি এমনিই সুন্দর স্বপ্নবৎ থেকো চিরকাল, তোমার বড় হয়ে কাজ নেই!
৩
অথচ রজনী যে কোন কোন রাত জাগিয়া থাকে না, তা তো নয়! সেবারে যে সে পূর্ণিমার রাতে দেখা করিয়াছিল! তাও লুকাইয়া, কলাবাগানে! শরৎ আর চন্দ্রাও দেখা করিতে গিয়াছিল একে অপরের সাথে! কেউ দেখিয়া ফেলিলে যে কি কেলেঙ্কারি হইত, সে কথা আন্দাজও করিতেও ভয় হয়!
এবারে লক্ষ্মী পুজার আগের রাতে যেমন জোৎস্না ফুটিয়াছিল, রজনী থাকিলে নিশ্চই সে রাতে ঘুমাইতে পারিত না। দক্ষিনের জানালা দিয়ে রজনীর পায়ে এসে লুটাইত সে শ্বেতশুভ্র আলো! রজনী জাগিয়া ফিসিফিস করিয়া ভালবাসার কথা বলিত। অন্ধকারে তাহার চোখের শাদা যেন নিশির মত মন্ত্রমুগ্ধ করিয়া জাগাইয়া রাখিত! বুকের পাশটিতে শুইয়া থাকিত সে, হঠাৎ হাওয়া আসিয়া জানালার পর্দা উড়াইলে তাহার মুখে আলো আবছায়ার আলপনা খেলিয়া যাইত! তাহার বুকে কেমন অপরিচিত সুগন্ধ, তাহার হাতে কেমন ঘোর লাগা উষ্ণতার মাদক! বালিকা বধূ রজনী খুনসুটি করিত হয়ত, অন্ধকারেই জিভ ভ্যাঙাইত, বলিত, ‘তোমায় ভালবাসতে আমার বয়েই গেছে!’
৪
রজনীর অমন কথা যে মিথ্যে, সে আমি জানি, অমনটা সে বলেই! কৈশোর এখনো যেন তার যায় নি! কিন্তু এমন কথা শুনলে তাও বুক দুরুদুরু করিয়া ওঠে! রজনীর মনের তল পাই না যেন! বালিকা যে কখন কিশোরী হয়, কখন যৌবনা, সে তাহার রূপবৃদ্ধিতে আন্দাজ চলে, কিন্তু রজনীর মন? সে তো শাদাচোখে দেখা যায় না! রজনী পিতৃগৃহে গেলে মনে হয় দম বন্ধ হইয়া আসিল! কিছু নাই, কোথাও কিচ্ছু নাই, চতুর্দিকে শূন্যতা বোধ হয়! রজনী চিঠি না পাঠাইলে ক্ষোভ হয়, মনে হয়, থাক বাপের বাড়ি! কিন্তু পরক্ষণেই ভয় হয়, রজনীর কি আমার কথা মনেই পড়ে না? না কি, রজনী কি অভিমান করিয়াছে?
৫
রজনী তুমি ফিরিয়া এস। সামনে শীত! তোমার উষ্ণতা ছাড়া এ হিমাক্রান্ত হৃদয় শ্বাস লইতে পারে না! সমস্তটা রাত যখন বাহিরে কুয়াসাবৃত, শিশিরের জল যখন নারিকেল সুপারির গা বাহিয়া নামিয়া আসে, সমস্ত ঘাসজমি যখন শিশির জলে ভিজিয়া, উত্তুরে হাওয়ার দাপটে কুঁকড়াইয়া যায়, তখন তুমি দুইহাতে জড়াইয়া কাছে না টানিলে, তোমার বুকের ওমে তপ্ত না করিলে সে শীত অসহনীয় বোধ হয়। বাহিরে ঘন কুয়াসায় চাঁদের আলো ঘোলাটে হইয়া ঠিকরাইয়া যায়, দশদিক অস্পষ্ট বোধ হয়, রাতপাখি বিভ্রান্ত হইয়া ডাকিয়া ওঠে, তখন এ জীবনকে তুমিই কেবল দিশা দেখাইতে পার। রজনী, তুমি আর বালিকা নও, তুমি এখন পরিপূর্ণ বধূ, তোমার প্রণয়, তোমার বাহুডোরের সুনিশ্চিত বাঁধনেই এখন জগত সংসার হইতে মুক্তি মেলে! রজনী তুমি এমনিই থাকিয়ো চিরকাল। তোমার ওই বালিকা, কিশোরী, বধূ, সকল রূপই হৃদয়কে ভরসা দেয়, বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ভালবাসার রসদ জোগায়। রজনী, তুমি এমনিই থাকিয়ো, হৃদয়ে চিরনবীনা এক বালিকাবধূ হইয়া!
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
(কিন্তু না! এখন আর সে যুগ নাই যে বিমল করের বালিকাবধূ উপন্যাসের মত, পিতাঠাকুর আমাদের কৈশোরেই বিবাহ দেওয়া সমুচিত বোধ করবেন! এ কালে পড়ালিখা করিয়া নিজের অন্ন উপার্জনের ব্যবস্থা করিতে করতে কৈশোর তো ভাল, যৌবনও ফাঁকি দিয়া যায়! তাছাড়া, রজনীও তো আর চতুর্দশ বৎসরে বিবাহ করে না আজিকাল! যদিও বা এখন রজনীর সাথে সাক্ষাৎ হয়, কৈশোরের চাপল্য তো আর তাহার থাকিবে না! কিন্তু কল্পনা করিতে সাধ হয়! বালিকা বধূর সাথে ঘর করিয়া তাকে দেখিতে বড় ইচ্ছে হয় যে, কেমন করিয়া এক বালিকা কুসুম হইতে দল মেলিয়া চতুর্দিকে রঙ ছড়াইয়া আপন সুবাসে অন্যের হৃদয় মথিত করিয়া, কোন অশ্রুত অদৃষ্ট জাদুমন্ত্রে একজন নারী একজন ঘরণী হইয়া ওঠে! রজনী, তোমাকে জানিতে বড় সাধ হয়!)
November 6, 2017
শান্ত স্নিগ্ধ একটা গল্প :)
July 28, 2024
অতি সাধারণ একটা প্রেমের গল্প, সাধু ভাষায় অতি সাবলীলভাবে লেখা একটি বই। বইয়ের শেষ ভাগে এসে কিঞ্চিৎ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। বিমল কর এর লেখা আগে কখনো পড়িনি, প্রথমটা দারুণ গেলো। হ্যাপি রিডিং!
September 16, 2017
এক জীবনে সমস্ত সাহিত্যিকদের সাহিত্যরসের আস্বাদন সম্ভব নয়। সমঝদার সাহিত্যরসিক মাত্রেই একথা স্বীকার করবেন। বিভূতি বাড়ুজ্যে পড়া হয় তো , বিভূতি মুখুজ্যে বাদ থেকে যান। শরৎ চাটুজ্যের কাছে ব্রাত্য হন শরৎচন্দ্র পণ্ডিত। অমিয় চক্রবর্তী পড়ি তো, ভাস্কর চক্রবর্তী পড়ার আর সময় হয় না।সঞ্জীব চাটুজ্যে বেস্টসেলার হন আর সঞ্জীব চন্দ্র চাটুজ্যে 'one book author' হয়েই থেকে যান। আমার ক্ষেত্রে যেমন হয়েছে- বিমল মিত্র আমার পড়া। কিন্তু বিমল করের 'কিকিরা' সিরিজ আর গুটিকয়েক ছোটগল্প ছাড়া আর তেমন কিছু পড়ার সুযোগ হয়নি। ইদানীং বাদল বসু'র 'পিওন থেকে প্রকাশক' পড়তে গিয়ে বিমল করকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম। সাহিত্যখ্যাতির চূড়ায় থাকা মানুষটি ব্যক্তি জীবনে কি আটপৌঢ়েই না ছিলেন! স্ত্রী-পুত্র-কন্যা-নাতি-নাতনী নিয়ে এক্কেবারে family man। বড্ড ভাল্লেগে গেল মানুষটিকে। ভাবলাম নাঃ এবার ওনার উপন্যাস গুলো পড়ে ফেলতে হবে। ওনার 'বালিকা বধূ' উপন্যাস অবলম্বনে তৈরী হিন্দি চলচ্চিত্র 'বালিকা বধূ' আমি দেখিনি। তবে 'বড়ে আচ্ছি ল্যগতে হ্যয়' গানটা আমার অন্যতম প্রিয়। ভাবলাম ওনার 'বালিকা বধূ' উপন্যাস দিয়েই পড়া শুরু করিনা কেন? যেমন ভাবা তেমনি কাজ। ............ কি অপূর্ব এক দাম্পত্য প্রেমের উপাখ্যান। এ দাম্পত্য প্রেম, উপন্যাসের নায়িকা 'চিনি'র (ভাল নাম রজনী) থেকেও ঢের গুণে মিষ্টি। ত্রিশ-চল্লিশের দশকের দুই বাঙালী সম্ভ্রান্ত পরিবার আবদ্ধ হয়েছে বিবাহ-বন্ধনে। পাত্র সদ্য ম্যাট্রিক পাশ। আর পাত্রী? সদ্য পুতুল খেলা ছেড়ে রান্নাবাটি ধরেছে। শিশু থেকে হয়েছে কিশোরী। নারীত্বের প্রথম ধাপে পদার্পণ। শৈশবের সারল্যের সাথে অল্প অল্প মিশছে কৈশোরের চাপল্য। সেসময়কার বাঙালী বিয়ে মানে- বিশাল এক কর্মকান্ড। রুমালে বিয়ের পদ্য লেখা, বরযাত্রীদের জন্য এলাহি আয়োজন, রান্নার ঠাকুরের তাগাদা, নহবত, সানাই, ভিয়েন বসানো, আলোর রোশনাই, শুভদৃষ্টি, মালা-বদল, সাতপাক, বাসর ঘরে সদ্য বিবাহিত দম্পতিকে ঘিরে কনের সদ্য বিবাহিত বান্ধবী ও বরের বউদিদির চটুল রসিকতা, গুজ গুজ , ফিস-ফাস, মৃদু হাসির দমক....। অবশ্য নব পরিণয়ে আবদ্ধ এই কিশোর-কিশোরীর এসব দিকে মন নেই। তাঁদের কাছে এই বিবাহ উৎসব বাড়ির আর পাঁচটা মহোৎসবের মতোই বড় মজার। কিন্তু এ উৎসবে তারাই যে সমস্ত আয়োজনের প্রাণ এ তারা বেশ বুঝতে পারে। এই মায়াময় উৎসবের মধ্যেই কিশোরটির চোখে ভালোলেগে যায় কিশোরীটিকে। তার সদ্য বিবাহিত ‘বালিকা বধূ’কে। এই ভালোলাগাই পরিণতি প্রায় যৌবনের প্রেমে। পূর্ণতা পায় বার্ধক্যের ভালোবাসায়। বিমল কর তো আধুনিক যুগের লেখক। আধুনিক মনস্ক পাঠকদের কাছে জনপ্রিয়তার দাবী মেনে ঘোরাতেই পারতেন এ উপন্যাসের মোড়। সে সুযোগও ছিল। দাম্পত্য প্রেমের সুখকর সমাপ্তির পরিচিত ফর্মূলায় না গিয়ে আনতেই পারতেন নায়ক-নায়িকার বিচ্ছেদ। কিংবা নায়িকার জীবনে অন্য কোনো পুরুষ বা নায়কের জীবনে অন্য কোনো রমনীকে। তাতে তার জনপ্রিয়তা বাড়ত। একশচব্বিশ পাতার উপন্যাস হাজার চব্বিশ পাতায় গড়াত। প্রেমের জটিল সমীকরণ নজর কাড়ত সাহিত্য সমালোচকদের। কিন্তু বিমল কর এ রাস্তায় হাঁটলেন না। তিনি হয়ত অনুসরণ করলেন তার পূর্বসুরি সাহিত্যিক বিভূতি মুখুজ্যেকে। বিভূতি মুখুজ্যে যেমন ‘পৃথ্বীরাজ’ গল্পে মিলিয়ে দিয়েছিলেন রসিক আর অমলাকে, বিমল করের কলেমও মিলন ঘটল এ উপন্যাসের নায়ক-নায়িকার। বিচ্ছেদ মূলক গল্প-উপন্যাস পাঠক হৃদয়ে ফ্যান্টাসি জাগায় বটে, কিন্তু বাস্তব জীবনে প্রত্যেকেই হয়ত সুখকর দাম্পত্যেরই স্বপ্ন দেখে। চায় তাদের ভালোবাসাকে পূর্ণতা দিতে। এ উপলব্ধি বিমল করের মতো জাত সাহিত্যিকের উপলব্ধি। তার সাহিত্য বোধ। এ উপন্যাস পড়তে গিয়ে বার বারই মনে হচ্ছিল, সাহিত্যিক মহাশয় স্বয়ং হয়ত নিজের দাম্পত্য জীবনের মান-অভিমান, বিরহ-মিলনের অম্ল-মধুর কোলাজ দিয়েই বুনেছেন এ উপন্যাসখানা। সেই সঙ্গে আক্ষেপও হচ্ছিল দুটি কারণে। প্রথম কারণটি- ঈশ... আরও আগে কেন বিমল কর পড়লাম না। এ আমার পাঠক মনের উপর আমার অবিচার।
আক্ষেপের দ্বিতীয় কারণটি অবশ্য ব্যক্তিগত। এ উপন্যাসটা পড়ার পর থেকে আমার মনে একটা শখ জেগেছে। ভবিষ্যত জীবনে যে কন্যেটির সাথে আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হব... সে যদি ছোট্ট বালিকাটি হত, তা হলে নেহাত মন্দ হত না। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তো পাত্রটিকেও বালক হতে হয়!! তার আর উপায় কই!! বুড়ো দামড়া হতে চললুম যে!
আক্ষেপের দ্বিতীয় কারণটি অবশ্য ব্যক্তিগত। এ উপন্যাসটা পড়ার পর থেকে আমার মনে একটা শখ জেগেছে। ভবিষ্যত জীবনে যে কন্যেটির সাথে আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হব... সে যদি ছোট্ট বালিকাটি হত, তা হলে নেহাত মন্দ হত না। কিন্তু সে ক্ষেত্রে তো পাত্রটিকেও বালক হতে হয়!! তার আর উপায় কই!! বুড়ো দামড়া হতে চললুম যে!
August 25, 2019
বলিতে সংকোচ করিব না যে আনন্দ প্রকাশনী হইতে প্রকাশিত বইটির আকৃতি ও লাল মখমল সদৃশ কাপড়ে মোড়ানো বাহ্যিক অলংকরণ দেখিয়া আকৃষ্ট হইয়াই বইটি কিনিয়া ফেলিয়াছিলাম। কাভার দেখিয়া জাজমেন্ট তৈরী করা সত্ত্বেও বইটি আদতে কোন হতাশা তৈরী করেনাই। বরং বেশ কিছু নিহিলিস্টিক কিংবা পোস্টমডার্ন সিনামা দেখিবার পর যেমন করিয়া হঠাৎ দু'একটা রোমান্টিক কমেডি দেখিবার বাসনা হয় তেমনি করিয়াই অনেক বিদ্রোহ বিপ্লব ও নিরেট জাগতিক শূণ্যতা সম্পর্কিত বই দিয়া বেষ্টিত থাকিবার পর এই বইটি পাঠ করিয়া কিছুক্ষণের জন্য হঠাৎ এমন একটি স্থানে ফিরিয়া গিয়াছিলাম, যেইখানে জীবন, চাহিদা ও বাস্তবতা সারল্য দিয়া পরিপূর্ণ।
বিমল কর কর্তৃক বইটির প্রথম প্রকাশ ১৯৬৫-সন এ। যখন বাল্যবিবাহ ঠেকাইবার ও বিধবাবিবাহ চালু করিবার জন্য তৎকালীন বিদ্যাসাগর অনুসারী সুশীল সমাজ কষ্টসৃষ্ট করিতেছিলেন। প্রথম পুরুষে চলিত গল্পটির বক্তা, নভেলের মূল চরিত্রের পিতা শশধর সিংহ বাল্যবিবাহের পরিবর্তে কিশোরবিবাহ প্রথা চালু করিবার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি বই লিখিয়া ফেলেন ও শুধু লিখিয়াই ক্ষান্ত হন না, বরং তার প্রয়োগ ঘটান তার পুত্র কন্যাকে যথাক্রমে ষোড়শ ও ত্রয়োদশ বয়সে বিবাহ দেওয়ার মাধ্যমে। তাহাদের শ্বশুরবাড়িতে "কৈশোর বিবাহ এবং সমাজহিত" বইটির এক কপি করিয়া পাঠাইয়াও দেয়া হয়। বইটিতে কৈশোর বিবাহ সফল করিবার সাপেক্ষে কিছু নিয়মকানুন বর্ণিত আছে যাহা শশধর সিংহ গুরুতরভাবে মানিয়া চলেন। বই হইতে উদ্ধৃত কোন নিয়ম 'বালিকা বধূ'তে দেয়া নাই বটে তবে কাহিনীতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বিবাহ কৈশোরে হইলেও স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্যজীবন কিংবা প্রণয় ও ভালোবাসার প্রকাশ ইত্যাদি ইত্যাদিতে সাবালক/সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত একটা নিষেধাজ্ঞা রইয়াছে। মূলত এই নিয়মটিই কাহিনী অগ্রগতির নিয়ামক।
দুষ্টু মিষ্টি একটা সম্পর্ক দ্বারা আবদ্ধ দুই কিশোর কিশোরীর কৈশোরকালীন বিরহ দিয়া ভর্তি বইটি কৈশোরের পর লাফ দিয়া শেষ অধ্যায়ে বৃদ্ধকালে প্রবেশ করে।
"অন্ধকার থাকিলে দূরান্তের নক্ষত্রগুলি যেন আমার এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গৃহটির দিকে তাকাইয়া দেখে এবং বোধহয় ভাবে, আমি এতটুকু অল্পে কেমন করিয়া শান্তি পাইলাম।"
উক্ত চরণদুটো পড়িয়া বক্তার প্রতি খানিকটা ঈর্ষাবোধ যে জন্মাইয়াছে তা নাহয় আজ এই পর্বে অস্বীকারই করিয়া যাই।
বিমল করের ভাষার নৈপূন্য ও শব্দের প্রয়োগ মনোমুগ্ধকর। এই জন্যেই বোধকরি বইটি লইয়া খানিক কিছু লিখিতে ইচ্ছা করিল।
বিমল কর কর্তৃক বইটির প্রথম প্রকাশ ১৯৬৫-সন এ। যখন বাল্যবিবাহ ঠেকাইবার ও বিধবাবিবাহ চালু করিবার জন্য তৎকালীন বিদ্যাসাগর অনুসারী সুশীল সমাজ কষ্টসৃষ্ট করিতেছিলেন। প্রথম পুরুষে চলিত গল্পটির বক্তা, নভেলের মূল চরিত্রের পিতা শশধর সিংহ বাল্যবিবাহের পরিবর্তে কিশোরবিবাহ প্রথা চালু করিবার গুরুত্ব সম্পর্কে একটি বই লিখিয়া ফেলেন ও শুধু লিখিয়াই ক্ষান্ত হন না, বরং তার প্রয়োগ ঘটান তার পুত্র কন্যাকে যথাক্রমে ষোড়শ ও ত্রয়োদশ বয়সে বিবাহ দেওয়ার মাধ্যমে। তাহাদের শ্বশুরবাড়িতে "কৈশোর বিবাহ এবং সমাজহিত" বইটির এক কপি করিয়া পাঠাইয়াও দেয়া হয়। বইটিতে কৈশোর বিবাহ সফল করিবার সাপেক্ষে কিছু নিয়মকানুন বর্ণিত আছে যাহা শশধর সিংহ গুরুতরভাবে মানিয়া চলেন। বই হইতে উদ্ধৃত কোন নিয়ম 'বালিকা বধূ'তে দেয়া নাই বটে তবে কাহিনীতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, বিবাহ কৈশোরে হইলেও স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্যজীবন কিংবা প্রণয় ও ভালোবাসার প্রকাশ ইত্যাদি ইত্যাদিতে সাবালক/সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত একটা নিষেধাজ্ঞা রইয়াছে। মূলত এই নিয়মটিই কাহিনী অগ্রগতির নিয়ামক।
দুষ্টু মিষ্টি একটা সম্পর্ক দ্বারা আবদ্ধ দুই কিশোর কিশোরীর কৈশোরকালীন বিরহ দিয়া ভর্তি বইটি কৈশোরের পর লাফ দিয়া শেষ অধ্যায়ে বৃদ্ধকালে প্রবেশ করে।
"অন্ধকার থাকিলে দূরান্তের নক্ষত্রগুলি যেন আমার এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র গৃহটির দিকে তাকাইয়া দেখে এবং বোধহয় ভাবে, আমি এতটুকু অল্পে কেমন করিয়া শান্তি পাইলাম।"
উক্ত চরণদুটো পড়িয়া বক্তার প্রতি খানিকটা ঈর্ষাবোধ যে জন্মাইয়াছে তা নাহয় আজ এই পর্বে অস্বীকারই করিয়া যাই।
বিমল করের ভাষার নৈপূন্য ও শব্দের প্রয়োগ মনোমুগ্ধকর। এই জন্যেই বোধকরি বইটি লইয়া খানিক কিছু লিখিতে ইচ্ছা করিল।
January 7, 2019
গল্প এর নায়কের বাবা এর খেয়াল ছিল ছেলে মেয়ে এর কৈশোর এ বিবাহ দিয়ে দেয়া উচিত।বাবার খুশিমত তাই ম্যাট্রিক পরিক্ষার আগেই মাত্র ১৬ বৎসর বয়সেই বিবাহ হয়ে যায় তার। তার বধূটি ছিল ১৪ বৎসরের বালিকা। কৈশোর এ বিবাহ করার পর এর নায়ক নায়িকাকে ঘিরেই গল্পটি।
কিশোর বয়সটা অনেক আগে পার করে আসছি দেখেই হয়ত কাহিনিটা মনে বাজছে।একটি সাধারন ঘটনা নিয়ে যে সুন্দর একটি কাহিনি হতে পারে তা এই বই দেখলে বোঝা যায়।
বেশির ভাগ কৈশোর বা বাল্যবিবাহ এর গল্পে বিবাহটাকে ঘিরে বিভিন্ন পারিবারিক জটিলতা বা সমস্যা রুপায়িত করা হয়। কিন্তু এই গল্পটিতে লেখক একদম ভিন্নভাবে ঘটনা উপস্থাপন করেছেন। নিত্যকার দিনের ঘটনাবলির মাঝে হাল্কা কৈশোর এর রোমান্টিকতা এবং কৈশোরের বিবাহের একটি সুখকর পরিণতি দেখা যায় গল্পটিতে।
কিশোর বয়সটা অনেক আগে পার করে আসছি দেখেই হয়ত কাহিনিটা মনে বাজছে।একটি সাধারন ঘটনা নিয়ে যে সুন্দর একটি কাহিনি হতে পারে তা এই বই দেখলে বোঝা যায়।
বেশির ভাগ কৈশোর বা বাল্যবিবাহ এর গল্পে বিবাহটাকে ঘিরে বিভিন্ন পারিবারিক জটিলতা বা সমস্যা রুপায়িত করা হয়। কিন্তু এই গল্পটিতে লেখক একদম ভিন্নভাবে ঘটনা উপস্থাপন করেছেন। নিত্যকার দিনের ঘটনাবলির মাঝে হাল্কা কৈশোর এর রোমান্টিকতা এবং কৈশোরের বিবাহের একটি সুখকর পরিণতি দেখা যায় গল্পটিতে।
September 19, 2025
কিছু কিছু বই হয় যেগুলো দেখলেই মন ভোরে যায়। এত্ত সুন্দর করে বইগুলোর উপস্থাপনা করা হয় যে না পড়ে থাকার উপায় থাকেনা। ঠিক তেমনই হলো বালিকা বধূ বইটি। বেশ অনেক দিন ধরেই খুজছিলাম। কারণ হিন্দিতে বালিকা বধূ দেখেছিলাম বেশ অনেক বছর আগে। বাবা এসে জিজ্ঞেস করলো বালিকা বধূ দেখছিস, হিন্দি টা ভালো তবে বাংলা টা আরো সুন্দর। আর এটা তো বিমল কর এর লেখা পার্লার পড়ে দেখিস। ব্যাস যেমন বলা তেমন কাজ। লেগে পড়লাম বই টা খুঁজতে হবে। বাংলা সিনেমা টা তো দেখা যাবেনা, কারণ প্রিন্ট নেই। কোথাও পাবনাSome books are such that the very sight of them fills the heart with joy. They are presented so beautifully that it becomes impossible not to read them. Balika Badhu is exactly that kind of book. I had been searching for it for quite some time—because years ago, I had watched Balika Badhu in Hindi. My father once asked me, “Are you watching Balika Badhu? The Hindi one is good, but the Bengali one is even more beautiful. And since it’s written by Bimal Kar, you should read the novel.” That was it—I made up my mind to find the book.
The Bengali film, of course, couldn’t be watched because no proper print was available anywhere (though recently, a copy has surfaced on YouTube 🙂). While searching, I had almost found the book but that too went out of stock. Finally, thanks to Bichitra, I managed to get a copy. What I didn’t realize was just how sweet-looking the book itself would be. It’s so beautiful that words can’t quite capture it—such a tiny, cute little book.
Now, coming to the real point—how it felt to read it. Some novels bring an instant smile to our faces as we read them, filling our hearts with happiness. Balika Badhu gave me exactly that kind of joy. It is a heartfelt reminiscence of an elderly man about his child bride. Married in adolescence, the couple goes through their share of little mischievous quarrels, playful arguments, small joys, a touch of sulkiness—and gradually, their bond grows stronger. Staying together, standing by each other—journeying from youth to old age, hand in hand. That is the essence of Balika Badhu.
It takes us back to a time without phones, internet, or social media—when even writing a letter would make boys and girls think ten times, fearing the elders at home might discover it. Apart from Rajani and her husband, there are also Chandra and Sharad in the story. Their friendship is beautifully portrayed, adding warmth to the tale. Reading it feels delightful.
So, if you enjoy stories of friendship, playful banter, and unspoken love, Balika Badhu is surely a book you must read.
। খুঁজতে খুঁজতে পেয়েওছিলাম বইটার কিন্তু সেটাও আউট অফ স্টক হয়ে যায়। বৈচিত্র এর দৌলতে পাওয়া গেলো বইটার। যেটা বুঝতে পারিনি যে বইটার এত্ত মিষ্টি দেখতে। কি সুন্দর যে বলে বোঝানো যাবেনা। একদম ছোট্ট মতো কিউট একটা বই।
এবার আসি আসল কথায়। পড়ে কেমন লাগলো। একটা একটা গল্প উপন্যাস পড়লে আমাদের মুখে সব সময় হাসি লেগে থাকে। মনটা খুব ভালো হয়ে যায়। এত্তোটাই মিষ্টি হয় একটা সেই খুশি খুশি ভাব ভোর করে যায়। এই বইটা পড়ে আমারও ওই রকম অবস্থা। একজন বয়স্ক মানুষের স্মৃতিচারণা তার বালিকা বধূ কে নিয়ে। কৈশোর বয়সে বিয়ে, তারপর ছোট্ট ছোট্ট দুস্টু মিষ্টি ঝগড়া, কথা কাটাকাটি, ছোট ছোট আনন্দ আর একরাশ অভিমান, আর আস্তে আস্তে সম্পর্কটাকে শক্ত করে তোলা। দুজনে দুজনের সাথে থাকা পাশে থাকা। কৈশোর থেকে বার্ধক্য দুজনে একসাথে হাসিখুশি কাটিয়ে দেওয়া আর তারই স্মিতিচারণা, আর উপলব্ধি হলো বালিকা বধূ।
ফোন, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া একটা সময় যেখানে একটা চিঠি লিখতেও ছেলে মেয়েরা দশবার ভাবতো। যদি বাড়ির বড়োরা দেখে নেয়। শুধু রজনী আর যার স্বামী না চন্দ্রা আর শরৎ ও আছে এই গল্পে। এই চারজনের বন্ধুত্ব ও অত্যন্ত সুন্দর। পড়েও ভালো লাগে। তাই বন্ধুত্ব, খুনসুটি, না বলা ভালোবাসর গল্প যদি ভালো লাগে নিশ্চই পড়তে হবে বালিকা বধূ।
Some books are such that the very sight of them fills the heart with joy. They are presented so beautifully that it becomes impossible not to read them. Balika Badhu is exactly that kind of book. I had been searching for it for quite some time—because years ago, I had watched Balika Badhu in Hindi. My father once asked me, “Are you watching Balika Badhu? The Hindi one is good, but the Bengali one is even more beautiful. And since it’s written by Bimal Kar, you should read the novel.” That was it—I made up my mind to find the book.
The Bengali film, of course, couldn’t be watched because no proper print was available anywhere While searching, I had almost found the book but that too went out of stock. Finally, thanks to Bichitra, I managed to get a copy. What I didn’t realize was just how sweet-looking the book itself would be. It’s so beautiful that words can’t quite capture it—such a tiny, cute little book.
Now, coming to the real point—how it felt to read it. Some novels bring an instant smile to our faces as we read them, filling our hearts with happiness. Balika Badhu gave me exactly that kind of joy. It is a heartfelt reminiscence of an elderly man about his child bride. Married in adolescence, the couple goes through their share of little mischievous quarrels, playful arguments, small joys, a touch of sulkiness—and gradually, their bond grows stronger. Staying together, standing by each other—journeying from youth to old age, hand in hand. That is the essence of Balika Badhu.
It takes us back to a time without phones, internet, or social media—when even writing a letter would make boys and girls think ten times, fearing the elders at home might discover it. Apart from Rajani and her husband, there are also Chandra and Sharat in the story. Their friendship is beautifully portrayed, adding warmth to the tale. Reading it feels delightful.
So, if you enjoy stories of friendship, playful banter, and unspoken love, Balika Badhu is surely a book you must read.
The Bengali film, of course, couldn’t be watched because no proper print was available anywhere (though recently, a copy has surfaced on YouTube 🙂). While searching, I had almost found the book but that too went out of stock. Finally, thanks to Bichitra, I managed to get a copy. What I didn’t realize was just how sweet-looking the book itself would be. It’s so beautiful that words can’t quite capture it—such a tiny, cute little book.
Now, coming to the real point—how it felt to read it. Some novels bring an instant smile to our faces as we read them, filling our hearts with happiness. Balika Badhu gave me exactly that kind of joy. It is a heartfelt reminiscence of an elderly man about his child bride. Married in adolescence, the couple goes through their share of little mischievous quarrels, playful arguments, small joys, a touch of sulkiness—and gradually, their bond grows stronger. Staying together, standing by each other—journeying from youth to old age, hand in hand. That is the essence of Balika Badhu.
It takes us back to a time without phones, internet, or social media—when even writing a letter would make boys and girls think ten times, fearing the elders at home might discover it. Apart from Rajani and her husband, there are also Chandra and Sharad in the story. Their friendship is beautifully portrayed, adding warmth to the tale. Reading it feels delightful.
So, if you enjoy stories of friendship, playful banter, and unspoken love, Balika Badhu is surely a book you must read.
। খুঁজতে খুঁজতে পেয়েওছিলাম বইটার কিন্তু সেটাও আউট অফ স্টক হয়ে যায়। বৈচিত্র এর দৌলতে পাওয়া গেলো বইটার। যেটা বুঝতে পারিনি যে বইটার এত্ত মিষ্টি দেখতে। কি সুন্দর যে বলে বোঝানো যাবেনা। একদম ছোট্ট মতো কিউট একটা বই।
এবার আসি আসল কথায়। পড়ে কেমন লাগলো। একটা একটা গল্প উপন্যাস পড়লে আমাদের মুখে সব সময় হাসি লেগে থাকে। মনটা খুব ভালো হয়ে যায়। এত্তোটাই মিষ্টি হয় একটা সেই খুশি খুশি ভাব ভোর করে যায়। এই বইটা পড়ে আমারও ওই রকম অবস্থা। একজন বয়স্ক মানুষের স্মৃতিচারণা তার বালিকা বধূ কে নিয়ে। কৈশোর বয়সে বিয়ে, তারপর ছোট্ট ছোট্ট দুস্টু মিষ্টি ঝগড়া, কথা কাটাকাটি, ছোট ছোট আনন্দ আর একরাশ অভিমান, আর আস্তে আস্তে সম্পর্কটাকে শক্ত করে তোলা। দুজনে দুজনের সাথে থাকা পাশে থাকা। কৈশোর থেকে বার্ধক্য দুজনে একসাথে হাসিখুশি কাটিয়ে দেওয়া আর তারই স্মিতিচারণা, আর উপলব্ধি হলো বালিকা বধূ।
ফোন, ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া একটা সময় যেখানে একটা চিঠি লিখতেও ছেলে মেয়েরা দশবার ভাবতো। যদি বাড়ির বড়োরা দেখে নেয়। শুধু রজনী আর যার স্বামী না চন্দ্রা আর শরৎ ও আছে এই গল্পে। এই চারজনের বন্ধুত্ব ও অত্যন্ত সুন্দর। পড়েও ভালো লাগে। তাই বন্ধুত্ব, খুনসুটি, না বলা ভালোবাসর গল্প যদি ভালো লাগে নিশ্চই পড়তে হবে বালিকা বধূ।
Some books are such that the very sight of them fills the heart with joy. They are presented so beautifully that it becomes impossible not to read them. Balika Badhu is exactly that kind of book. I had been searching for it for quite some time—because years ago, I had watched Balika Badhu in Hindi. My father once asked me, “Are you watching Balika Badhu? The Hindi one is good, but the Bengali one is even more beautiful. And since it’s written by Bimal Kar, you should read the novel.” That was it—I made up my mind to find the book.
The Bengali film, of course, couldn’t be watched because no proper print was available anywhere While searching, I had almost found the book but that too went out of stock. Finally, thanks to Bichitra, I managed to get a copy. What I didn’t realize was just how sweet-looking the book itself would be. It’s so beautiful that words can’t quite capture it—such a tiny, cute little book.
Now, coming to the real point—how it felt to read it. Some novels bring an instant smile to our faces as we read them, filling our hearts with happiness. Balika Badhu gave me exactly that kind of joy. It is a heartfelt reminiscence of an elderly man about his child bride. Married in adolescence, the couple goes through their share of little mischievous quarrels, playful arguments, small joys, a touch of sulkiness—and gradually, their bond grows stronger. Staying together, standing by each other—journeying from youth to old age, hand in hand. That is the essence of Balika Badhu.
It takes us back to a time without phones, internet, or social media—when even writing a letter would make boys and girls think ten times, fearing the elders at home might discover it. Apart from Rajani and her husband, there are also Chandra and Sharat in the story. Their friendship is beautifully portrayed, adding warmth to the tale. Reading it feels delightful.
So, if you enjoy stories of friendship, playful banter, and unspoken love, Balika Badhu is surely a book you must read.
This entire review has been hidden because of spoilers.
December 24, 2018
ঘরের দিকে দৃষ্টি ফিরাইয়া আনি ; দেখি , আমার সেই বালিকাবধূটি আজ প্রৌঢ়া ,তথাপি সে আমার পাশে আছে সে পরম নিশ্চিন্তে নিদ্রা যাইতেছে।
মনে হয় , আমাদের ঘরটুকু বড়ই পরিমিত ও সঙ্কীর্ণ হইলেও এখানে যত কিছু পাইয়াছি , তাহার পরিমাণ কিছু কম নয়।
কি পাইয়াছি তাহা আমি অনুভব করতে পারি মাত্র , প্রকাশ করিতে পারি না।
মনে হয় , আমাদের ঘরটুকু বড়ই পরিমিত ও সঙ্কীর্ণ হইলেও এখানে যত কিছু পাইয়াছি , তাহার পরিমাণ কিছু কম নয়।
কি পাইয়াছি তাহা আমি অনুভব করতে পারি মাত্র , প্রকাশ করিতে পারি না।
November 21, 2024
স্নিগ্ধ এক ভালবাসার দীর্ঘ কাহিনী। কথকের পিতামশাই কিশোর বিবাহে বিশ্বাসী ছিলেন এবং সেই কারণেই তিনি তার বড় ছেলের(গল্পের কথক) বিবাহ দেন কৈশোরে। রজনী (চিনি) আসে ঘর তথা জীবন আলো করে। মেয়ে চন্দ্রার বিয়ে দেন শরতের সাথে। কিন্তু পিতামশাই স্থির করেন যে রজনী কিছু বছর পিত্রালয়ে থাকবে ও পরে শ্বশুরবাড়ি আসবে। যদিও চন্দ্রা শুরু থেকেই থাকত শ্বশুরবাড়িতে। রজনী আসত বিশেষ বিশেষ উপলক্ষ্যে।
মিষ্টি প্রেম, আনন্দ, মজা, খুনসুটি, ভালবাসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অভিমান, বিরহ কাতর দুটি প্রাণ- এই নিয়েই গল্প। এই বইটির মূল আকর্ষণ হল শ্রদ্ধেয় শ্রী বিমল করের লেখার ভাষা। সুন্দর, সাবলীল, আবেগপ্রবণ এবং গতিশীল।
এই বইটির উপর ভিত্তি করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল অনেক বছর আগে, যেটি নিজগুণে বিখ্যাত। চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে আরও কিছু ঘটনা সেটিতে যুক্ত করা হয়েছিল যা মূল গল্পের অংশে নয়।
অনেক দিন পরে আনন্দ পাবলিশার্স বইটি আবার প্রকাশিত করেছে আর এখন দাম করেছে ৩৫০ টাকা। আমি কিনেছি ২৫% ছাড়-এ।
মিষ্টি প্রেম, আনন্দ, মজা, খুনসুটি, ভালবাসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অভিমান, বিরহ কাতর দুটি প্রাণ- এই নিয়েই গল্প। এই বইটির মূল আকর্ষণ হল শ্রদ্ধেয় শ্রী বিমল করের লেখার ভাষা। সুন্দর, সাবলীল, আবেগপ্রবণ এবং গতিশীল।
এই বইটির উপর ভিত্তি করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়েছিল অনেক বছর আগে, যেটি নিজগুণে বিখ্যাত। চলচ্চিত্রের প্রয়োজনে আরও কিছু ঘটনা সেটিতে যুক্ত করা হয়েছিল যা মূল গল্পের অংশে নয়।
অনেক দিন পরে আনন্দ পাবলিশার্স বইটি আবার প্রকাশিত করেছে আর এখন দাম করেছে ৩৫০ টাকা। আমি কিনেছি ২৫% ছাড়-এ।
March 7, 2026
মৌসুমী চ্যাটার্জির ‘বালিকা বধূ’ সিনেমার কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু এতো পরিচিত বইটি পড়া হয়ে উঠলো এতদিন বাদে! আফসোস হচ্ছে কেনো আগে পড়িনি! কী মিষ্টি নিষ্পাপ প্রেমের গল্প ! গল্পকার অমলের মধ্য দিয়ে এতো সুন্দর করে পুরো গল্প শুনিয়েছেন! আর নতুন প্রেমের ছোট্ট ছোট্ট নিষ্কলঙ্ক অনুভূতিগুলো আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেলো। অমল- রজনীর বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, প্রেম,খুনশুটি, সরলতা, নৈকট্যের আকাঙ্ক্ষা,অভিমান - সবমিলিয়ে এক পরিপূর্ণ ক্লাসিক রোমান্টিক বই। এরম সহজ সুন্দর লেখনী আজকের দিনে বড্ড বিরল।
June 21, 2018
অসাধারণ একটি romantic গল্প ...সুন্দর কৈশোর র ভালোবাসার গল্প ....বইটি পড়ার পর মনটা অদ্ভুতভাবে হুহু করে.. প্রতিটা লাইন এত সুন্দর করে লেখা ...
Read
June 24, 2021খুব মিষ্টি প্রেমের কাহিনী।
September 12, 2021
বিয়ে সংসার এসব নিয়ে ভাবতে গেলে এক ধরনের ভয় কাজ করে।
কিন্তু বইটা পড়ে মনে হল একটা বালিকা বধু থাকলে মন্দ হত না। (আমি কিন্তু বাল্যবিবাহ বিরোধী :D )
কিন্তু বইটা পড়ে মনে হল একটা বালিকা বধু থাকলে মন্দ হত না। (আমি কিন্তু বাল্যবিবাহ বিরোধী :D )
April 3, 2022
আবেগহীন মাধুর্যপূর্ণ প্রেমের নিটোল কাহিনি।
August 28, 2023
খুব সুন্দর, স্নিগ্ন একটা বই পড়লাম। দুই কিশোর-কিশোরীর বিবাহিত জীবনের মান-অভিমান, খুনসুটি, একজনের প্রতি আরেকজনের ভালোবাসা, প্রকৃতির অপরূপ রূপ- সবকিছু মিলিয়ে মনোরম একটি গল্প।
August 29, 2023
খুবই মিষ্টি একটা বই।
November 23, 2023
চোখ বন্ধ করে পড়া শুরু করুন। মন ভাল করে দেবে৷ মনে থাকবে একধরণের প্রশান্তি।
March 25, 2024
অসাধারণ! এখন আর এরকম উপন্যাস কি লেখা হয়?
জানি না।
যেসব লেখকেরই লেখা পছন্দ হয় , গুগলে, উইকিপিডিয়ায় সার্চ দেই, দেখি উনি আর বেঁচে নেই। দুঃখ হয় এইরকম লেখকের সময়ে আমি কেন বাঁচি নাই
জানি না।
যেসব লেখকেরই লেখা পছন্দ হয় , গুগলে, উইকিপিডিয়ায় সার্চ দেই, দেখি উনি আর বেঁচে নেই। দুঃখ হয় এইরকম লেখকের সময়ে আমি কেন বাঁচি নাই
May 6, 2024
নিব্বা-নিব্বিদের বেশ একটা লুরুতপুরুত প্রেমের গল্প। তবে পড়তে মিষ্টি লাগল।
Displaying 1 - 30 of 35 reviews































