शुभदा’ एक ऐसी नारी की मार्मिक कथा है जो गरीबी की यातनाएं भोगते हुए अपने नशेड़ी पति के प्रति समर्पिता ही नहीं, बल्कि स्वाभिमानिनी भी है- शुभदा और उस की विधवा बेटी के माध्यम से शरतचंद्र ने नारी वेदना की गहन अभिव्यक्ति की है। संभवतया इसी कारण उन्हें ‘नारी वेदना का पुरोहित’ कहा जाता है। नारी वेदना प्रधान इस उपन्यास में भी शरतचंद्र की रोमानी प्रवृत्ति की छाप स्पष्ट दिखाई देती है, अपनी इसी विशेषता के कारण वह उन भारतीय रचनाकारों की पहली पंक्ति में गिने जाते हैं, जिन्होंने परंपरागत बंधनों, संकीर्ण मानसिकताओं, हीनताओं और दुर्बलताओं केे मायाजाल से निकाल कर हिंदू समाज, विशेषतया नारियों को उदार एवं व्यापक दृष्टि प्रदान करने का प्रयास किया है। शरतचंद्र की लोकप्रियता का अंदाज इसी से लगाया जा सकता है कि उन की रचनाओं का भारतीय ही नहीं, विश्व की प्रायः सभी प्रमुख भाषाओं में अनुवाद हो चुका है।
Sarat Chandra Chattopadhyay (also spelt Saratchandra) (Bengali: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) was a legendary Bengali novelist from India. He was one of the most popular Bengali novelists of the early 20th century.
His childhood and youth were spent in dire poverty as his father, Motilal Chattopadhyay, was an idler and dreamer and gave little security to his five children. Saratchandra received very little formal education but inherited something valuable from his father—his imagination and love of literature.
He started writing in his early teens and two stories written then have survived—‘Korel’ and ‘Kashinath’. Saratchandra came to maturity at a time when the national movement was gaining momentum together with an awakening of social consciousness.
Much of his writing bears the mark of the resultant turbulence of society. A prolific writer, he found the novel an apt medium for depicting this and, in his hands, it became a powerful weapon of social and political reform.
Sensitive and daring, his novels captivated the hearts and minds of thousands of readers not only in Bengal but all over India.
"My literary debt is not limited to my predecessors only. I'm forever indebted to the deprived, ordinary people who give this world everything they have and yet receive nothing in return, to the weak and oppressed people whose tears nobody bothers to notice and to the endlessly hassled, distressed (weighed down by life) and helpless people who don't even have a moment to think that: despite having everything, they have right to nothing. They made me start to speak. They inspired me to take up their case and plead for them. I have witnessed endless injustice to these people, unfair intolerable indiscriminate justice. It's true that springs do come to this world for some - full of beauty and wealth - with its sweet smelling breeze perfumed with newly bloomed flowers and spiced with cuckoo's song, but such good things remained well outside the sphere where my sight remained imprisoned. This poverty abounds in my writings."
হলুদপুর গ্রামের একটি গরিব ঘরের বউ শুভদা। শুভদার স্বামী চুরির দায়ে চাকরি হারানোর পর সংসারে নেমে আসে অর্থকষ্ট। দুই মেয়ে, অসুস্থ ছেলে, বিধবা ননদ, এবং দায়িত্বহীন, মাতাল স্বামীকে নিয়ে সংসারে টিকে থাকার গল্প "শুভদা"।
উপন্যাসের নাম "শুভদা" হলেও শুভদাকে কখনও কেন্দ্রীয় চরিত্র বলে মনে হয়নি। শুভদার তুলনায় শুভদার বড় মেয়ে ললনা, আর সদানন্দ-- এই দুইটি চরিত্র অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রেখেছে গল্প এগিয়ে নিতে।
উপন্যাসটির প্রথম খণ্ড প্রচণ্ড ধীরগতিতে শুভদার পরিবারের আর্থিক অনটনকে কেন্দ্র করে ঘুরপাক খায়। লেখক পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা ব্যয় করেন পরিবারটির দারিদ্র্য আর দৈন্যদশার নাটকীয় রুপ দিতে। তা সত্ত্বেও চরিত্রগুলো খুব একটা মন স্পর্শ করে না।
কিন্তু দ্বিতীয় খণ্ডে গল্পটি গতি পায়। চরিত্রগুলোর জীবন পুরোপুরি ভিন্ন দিকে বাঁক নেয়। অর্থকষ্ট ছাড়াও তাদের জীবনের অন্য দিকগুলো পরিশেষে পরিণতি লাভ করে। দ্বিতীয় খন্ডে এসে লেখকও তাঁর লেখনীতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেন।
এটা কবে পড়েছি জানেন? ক্লাস থ্রিতে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি থেকে নেওয়া। জমিদারি (কু)প্রথা সম্পর্কে সেই প্রথম আমার পরিচয়! আর শরৎসাহিত্যে নারীর ভূমিকাও সেই সময় আমি পরিচিত হই!
বইয়ের নাম : শুভদা ক্যাটাগরি :উপন্যাস প্রকাশকাল :১৯৩৮ সালের জুন মাস
'শুভদা' অপরাজেয় কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত একটি উপন্যাস।এটি তিনি বাল্যকালে রচনা করেছিলেন।কিন্তু উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় তার মৃত্যুর পরে। কারণ 'শুভদা' উপন্যাসের প্রভাব তার প্রথম বয়সের লেখা 'অন্নপূর্ণার মন্দির' এর উপর পরে।'অন্নপূর্ণার মন্দির ' প্রকাশিত হলে শরৎচন্দ্র পড়ে দেখেন যে 'শুভদা' উপন্যাসের প্রভাব এতে যথেষ্ট রয়েছে।তাই এটা তার মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়।
#কাহিনী_সংক্ষেপ : সহজ সরল কোমল একটা চরিত্র শুভদা।গ্রামে এমন কেউ নেই যে তাকে পছন্দ করে না। সংসারে রয়েছে অত্যাচারী স্বামী হারাণচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ,দুই কন্যা সন্তান ললনা ও ছলনা এক পুত্র সন্তান মাধন ও বড় ননদিনী রাসমণি। কষ্টের সংসার শুভদার।কখনো ভালো যেত কিন্তু অধিকাংশ সময়টা কষ্টের মধ্যেই যেত। হারাণ মানুষটা মোটেও সুবিধার নয়।মানসিক অশান্তিতে রেখেছে পুরো পরিবারকে।নেশা করার অভ্যেসতো রয়েছেই সাথে আরো কিছু বদ অভ্যাস ছিল।দুদিন,তিনদিন কখনো বা পাঁচ/ছয়দিনও তিনি বাড়ি ফিরতেন না।তখন উপবাস করেই কাটাতে হয় সবাইকে।এমনি করে কী আর দিন চলে!তবুও ললনা ও শুভদা মিলে প্রাণপণে চেষ্টা করে সবার মুখে দু চারটা ডালভাত জুগিয়ে দেবার।ললনা শুভদার বড় মেয়ে।বাল্যকালে বিয়ে হয়েছিল।বিয়ের এক বৎসরের মধ্যে বিধবা হয়েছে সে।সেই থেকে বাবার বাসায় আছে। একেতো সংসার টানাপোড়নের মধ্যে চলছে অন্যদিকে মাধব প্রায় বছর খানেক ধরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে।সবার ছোট মাধব।নিয়মিত চিকিৎসায় হয়তবা সুস্থতা ফিরে আসতো কিন্তু সে সামর্থ্য শুভদার নেই। ছলনা শুভদার ছোট মেয়ে ঠিক ললনার বিপরীত।ললনা দু,চারটার বেশি কথা বলে না।আর ছলনার মুখের কথার শেষ নেই।কিছুটা আহ্লাদী স্বভাবের।দেখতে দুজনই রূপসী কিন্তু কাজে কর্মে পুরো বিপরীত। হারাণের সব অপকর্ম শুভদা নীরবে সহ্য করে যায়।কখনো কোন প্রতিবাদ করে না।অধিকাংশ সময় তার না খেয়েই কাটে।হারাণ যখন বাড়ি ফিরে না তখন সেও না খেয়ে দিন রাত পার করে।হারাণের এ নিয়ে কোন চিন্তা নেই মাঝে মধ্যে একটু দুঃখ প্রকাশ করলেও স্বভাবে তার পরিবর্তন নেই। শুভদার ভিতরের সুপ্ত কষ্টগুলো সবার দৃষ্টি এড়িয়ে গেলেও ললনার চোখে প্রতিনিয়ত ধরা পড়ে।মায়ের কষ্ট,যন্ত্রণা সহ্য করতে পারে না সে।তাই যেমন করেই হোক সহায়তা করার চেষ্টা করে। তাদের এই কষ্টের দিনে এগিয়ে আসে সদানন্দ।লোকে তাকে সদা পাগলা বলে ডাকে।সাদা মনের মানুষ সে।সবার বিপদে এগিয়ে যায়।ললনার প্রতি তার একটা মায়া ছিল বলেই হয়তো এই পরিবারের প্রতি তার বিশেষ টান রয়েছে।
হঠাৎ একটা সময় শুভদার এই কষ্টের সংসার আরো করুণ আকার ধারণ করে।হারাণের অধিকাংশ সময় খোঁজ খবর থাকে না,সদানন্দও তার পিসিমাকে নিয়ে কাশিতে চলে যায়,যাওয়ার আগে কিছু টাকা দিয়ে গেলেও তা ফুরিয়ে অনাহারে কাটাতে হয় তাদের,মাধবের শরীরটা দিনদিন খারাপ হতে থাকে। এদিকে ছলনারও আর কয়েকমাস গেলে বিয়ের বয়স পেরিয়ে যাবে।এসবের যন্ত্রণায় শুভদা ভেঙে পড়ে।মায়ের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে ললনা একদিন ভোরের আলো না ফুটতেই গঙ্গার জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে।শুভদার এই কষ্টের সংসারের পরিণতিটা তখন কোনদিকে মোড় নিয়েছিল জানতে হলে পড়তে হবে উপন্যাসটি।
#আমার_উপলব্ধি: শরৎচন্দ্রের লেখা মানে পল্লীসমাজকে ঘিরে সাধারণ মানুষগুলোর জীবন কাহিনীর সুন্দর উপস্থাপন।এটাও এর ব্যতিক্রম নয়।মূলত তার সাহিত্যে নারী চরিত্রের ভূমিকা অনেক বেশি থাকে।নারীদের দুঃস্থ জীবনের গল্পগুলোকে নিপুণতার সাথে তিনি তাঁর লেখার মধ্য দিয়ে উপস্থাপন করেছেন যা পাঠককে সহজে হৃদয়স্পর্শী করে তোলে।।শুভদাও এরকম হৃদয়স্পর্শ করার মত একটি উপন্যাস। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে।পরিবারের প্রত্যেকের প্রতি তার যে আকূলতা তা সহজে হৃদয়কে স্পর্শ করেছে।
**চরিত্রের বিশ্লষণ: ১। 'শুভদা' এমন একটা চরিত্র যে কষ্টের শত কড়াঘাতেও টিকে থাকে শেষ অব্দি।দুঃখ, ভারাক্রান্ত পরিস্থিতিতে সে ভেঙে পড়েছে কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি।যুদ্ধ করেছে পরিস্থিতির সাথে, নিজের সাথে। সাধারণত কোন উপন্যাস পড়লে আমি একটা চরিত্রে নিজেকে কল্পনা করতে থাকি।কিন্তু 'শুভদা' পড়ে নিজেকে সে আসনে বসাতে পারিনি।কারণ এতো কষ্টের জীবন কল্পনা করলেই ভয় লাগছিল।কিন্তু এরকম হাজার হাজার 'শুভদা' আমাদের চারপাশেই রয়েছে যাদের কপালে 'সুখ ভোগ' বলে কোন শব্দ নেই।তাদের নেই কোন আত্মসম্মান। তারা শুধু ত্যাগ করতে জানে,সংসারের মায়ার তারা জীবনযুদ্ধ করে নিজেকে বিসর্জন দিতে জানে।জীবনবধি দুঃখের এক গ্লানি তাদের বয়ে বেড়াতে হয়।তারা অন্তরালে কাঁদে।তাদের এ কান্না কারো কানে পৌঁছায় না।একসময় চোখও শুষ্ক হয়ে যায়।তখন চাইলেও সে চোখ দু ফোটা জল ফেলতে পারে না।
২।'হারাণচন্দ্র' এই চরিত্রটার প্রতি খুব বিরক্তি এসেছে,প্রচন্ড রাগ উঠেছে।এরকম স্বামী থাকার চেয়ে না থাকাই উত্তম।এই চরিত্রের মানুষও আমাদের সমাজে কম নেই।এরা শুধু ভোগ করতে জানে।এদের বিবেকবোধ বলতে কিছু নেই।এই সমস্ত মানুষদের কর্মের ফল আজীবন বয়ে বেড়াতে হয় বাকিদের।ভালবাসা, মায়ার তাড়নায় এদের না যায় ত্যাগ করা না যায় সহ্য করা।
৩।'ললনা' চরিত্রটা আমার কাছের শুভদার মতই ত্যাগী মনে হয়েছে।ললনা চরিত্রটা একটা জীবন্মৃত চরিত্র।বেঁচে থেকেও সে সকলের কাছে মৃত।কোন না কোনভাবে নিজের কাছে কলঙ্কিত,দুশ্চরিত্র।কেউ যদি তাকে কলঙ্কিত করে তবে তা একমাত্র পরিস্থিতি। সহজ সরল ছোট এই নারীটা পরিবারকে সহায়তা করার জন্য কত ভয়াবহ একটা রাস্তা বেছে নিয়েছিল।বারবার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সে সবার দুঃখ ঘুচানোর চেষ্টা করে গিয়েছে।নত হয়ে��ে নিজের ভালবাসার মানুষটার কাছেও।
৪।সবচেয়ে মায়া লেগেছে 'মাধব' এবং 'সদানন্দর' জন্য।কোন রক্তিম সম্পর্ক ছাড়াই সদানন্দ এই পরিবারটার জন���য নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েছিল।এটা প্রশংসার দাবিদার। মনে মনে সে ললনাকে খুব ভালবাসতো সেটা সরাসরি প্রকাশ না পেলেও এড়িয়ে যাবার মতও ছিল না। ছোট মাধবের বেঁচে থাকার প্রবল ইচ্ছা বারবার চোখকে অশ্রুসিক্ত করেছে। এছাড়া আরেকটা চরিত্রের প্রতি রাগ লেগেছে। সেটা হলো শারদা।শারদার সাথে ললনার প্রণয় ছিল।এরপর ললনার বিয়ে হয়ে যায়।বিধবা হবার পর সে শারদাকে একদিন তাকে বিয়ে করে করুণ এই পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করতে বললে শারদা জাতি চলে যাওয়ার ভয়ে আর বাবার আত্মসম্মানেরর কথা চিন্তা করে তাকে ফিরিয়ে দেয়।তারও হয়তো কোন দোষ ছিল না।সবার বিপক্ষে যায় বিয়ে করে সে ললনাকে নতুনভাবে বিপদে ফেলতে চায়নি।ললনার নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ার পিছনে সে নিজেকে দায়ী মনে করতো। তাই ছলনাকে বিয়ে করে এ দায় থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিল। সর্বোপরি মন খারাপ করে দেওয়া একটা উপন্যাস।
এই উপন্যাসের আলোকে ১৯৮৬ সালে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার চাষী নজরুল ইসলাম চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যা বেশ সুনাম কুড়িয়েছে। ছবির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আনোয়ারা, অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক, বুলবুল আহমেদ, জিনাত সহ অনেকে।উপন্যাস আর চলচ্চিত্রের কাহিনীর মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন থাকতে পারে।
औसत दर्जे का उपन्यास जिसमें गाँव की गरीबी,रूढ़ियाँ और तुच्छ राजनीति के धागों के बीच दुःख-दर्द से त्रस्त परिवार का एक वक्त के लिए रोटी के लिए संघर्ष की मार्मिकता को दिखाने का प्रयास किया गया है।
প্রচণ্ড অর্থে কষ্টে ভোগা শুভদা, তার নেশাখোর-বখে যাওয়া স্বামী, দুই রুপসী কন্যা (ললনা-ছলনা) ও এক অসুস্থ পুত্রকে আগলে রেখে চালিয়ে যাচ্ছে দারিদ্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। তার কোন অভিযোগ নেই কারও প্রতি, এত কিছুর পরও সে ভীষণ স্বামী ভক্ত। ললনার নিরব প্রেমিক পাগল সদানন্দর দয়া, দারিদ্র্যের কাছে হার মেনে তার বড় কন্যা ললনার শরীর বেচতে কলকাতার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানো ও পথিমধ্যে এক জমিদারে পাণিগ্রহণ, শুভদার পুত্র মাধবের মৃত্যুর জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা, এবং তার স্বামীর নিজের ঘরে ডাকাতি... সব মিলিয়ে উপন্যাসে দারিদ্র্যের স্বরূপ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন শরৎচন্দ্র।
হলুদপুর গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারের গল্প ঠাই পেয়েছে এই উপন্যাসে। মাতাল স্বামীর অবহেলায় একটা সংসারের যে দূর্দশা বয়ে আনে আবার সেই পরিবারেরই লক্ষ্মীমন্ত, অন্নপূর্ণার মতো বউয়ের হাত ধরে সংসার টিকিয়ে রাখার লড়াই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। নারী চরিত্রের এমন বিশ্লেষণে মন ভরে ওঠে।
কিছু মানুষের জীবন কতটা বেদনাময় হতে পারে–এই বইটা পড়ে সেই অনুভূতিটা নুতন রুপে উপলব্ধি করতে পারলাম। হঠাৎ ঝড় আসলে পরিবেশটা যেমন উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ে;আবার ঝড় থেমে গেলে পরিবেশ স্তব্ধ হয়ে ওঠে–সেইরুপ কিছু মানুষের জীবনে যখন বেদনার ঝড় একধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা বয়ে আনে;আবার সেই উচ্ছৃঙ্খলতাই মূহুর্তের জন্য স্হির হয়ে জীবনটাকে স্তব্ধ করে তোলে।সুখ,দুঃখ সবার জীবনেই কমবেশি আসে;কিন্তু দুঃখ বিষয়টা যখন কোনো মানুষের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে,তখন সেই দুঃখের জন্য নয়;বরং জীবনটা একঘেয়ে হয়ে উঠে বলে সমস্ত হৃৎস্পন্দন রুদ্ধ হয়ে যেতে থাকে।
শুভদা নামক অতি সাধারন মহিলার সংসার তাঁর স্বামীর সামান্য আয়ের দ্বারা কোনোভাবে চলতো।তাঁর সংসারে আছে–স্বামীর বিধবা বড় বোন;বারসমণি,বিধবা বড় মেয়ে;ললনা, ছোট মেয়ে ছলনা,রোগাক্রান্ত ছেলে;মাধব এবং স্বামী হারাণ।হারাণ অর্থ্যাৎ শুভদার স্বামী পাশের গ্রামের জমিদার বাড়িতে ক্যাশিয়ারের কাজ করতো;সেখান থেকে তাকে চুরির দায়ে বরখাস্ত করা হয়।চুরিটা হারাণবাবুই করেছিল–তাঁর আনুষঙ্গিক মোটেও রুচিসম্মত ছিল না;সে প্রায়ই বাসায় ফিরত না,গাঁজা সেবন করত,জুয়াও খেলতো।এমনকি চাকুরি যাওয়ার পরেও সে নির্লজ্জের মতো স্ত্রীর কাছ থেকে টাকা গ্রহন করতো।শুভদা সমস্তই জানতো,বুঝতো;তবুও স্বামীকে কখনো ভর্ৎসনা করতো না,বরং স্বামীর সেবা করতে পারলে তাঁর সমস্ত অন্তঃকরণ মূহুর্তের জন্য শান্ত হয়ে যেতো।শুভদার ধৈর্য্যের মাত্রাটা এতই অধিক ছিল যে–যখন ঘরে কোনো খাবার জুটতো না, তখনোও স্বামীর প্রতি সামান্য রূঢ় ব্যাবহার করতেন না।হারণ মানুষটিকেও সম্পূর্ণ খারাপ প্রকৃতির লোক বলা যেতে পারে না–তাঁর নিজ স্ত্রী ও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা ছিল; কিন্তু সে তাঁর দৈনন্দিন কুকর্মের দ্বারা এতটাই প্রভাবিত হয়ে উঠেছিল যে কখনো সংসারের প্রতি দৃষ্টিগোচর করারও অবকাশ পেতেন না।হঠাৎ একদিন যখন তাদের বড় মেয়ে ললনা দুঃখকষ্ট সহ্য করতে না পেরে হারিয়ে যায় সংসারের বাঁধন থেকে;ঠিক তখনই স্টোরিতে নতুনত্ব প্রকাশ পায়।
এই বইয়ের শেষের অংশটুকু পড়ার সময় নিজের অশ্রু সংবরণ করতে পারিনি;যদিও বই পড়ার সময় শুরু থেকেই একটু একটু চোঁখ দিয়ে অশ্রু নির্গত হয়েছিল।এমন আবেগসম্পূর্ণ বই আমি আগে কখনো পড়িনি। শরৎ সাহেব প্রমাণ করে দিয়েছেন যে,বাস্তবিক এবং অতি জটিল সমস্যাগুলোকেও সহজ ভাবে ফুটিয়ে তুলতে ওনার মতো কেউ পারেননি।অতি সাধারণ মানুষকেও তিনি লেখার দ্বারা অসাধারণ করে তুলেছেন।একদিকে যেমন স্বার্থপর মানুষের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ পেয়েছে;অপরদিকে তাঁর বিপরীতধর্মী মানুষের ভালোবাসাও প্রকাশ পেয়েছে।আবার কখনো কখনো খারাপের মধ্যেও প্রচ্চন্ন ভালো দেখা গেছে।স্বাভাবিক জিনিসকে স্বাভাবিক ভাবে দেখানোটাই যে একধরনের অস্বাভাবিক আর্ট;এই উপন্যাসের দ্বারা তিনি সকলের মনে সেটার ছাপ মুদ্রিত করে দিয়েছেন।
সংসার সম্পর্কে উদাসীন ছন্নছাড়া এক পুরুষের কারনে হঠাৎ চরম দারিদ্রতায় নিমজ্জিত এক পরিবারের মাধ্যমে লেখক শুভদা আর ললনার মত নারীদেরকে তুলে এনেছেন পটুতার সাথেই। শরৎ সাহিত্যের অন্যান্য নারী চরিত্রের মত এখানেও এক অনন্য নারী���ুপ পাঠককে বিমোহিত করবেই। উপন্যাসটির নাম শুভদা হলেও এর পুরোটা জুড়েই ললনা আর সদানন্দকেই যেন প্রস্ফুটিত হতে দেখি। তবে সবকিছুকে ছাড়িয়ে শুভদা আপন আলোয় উদ্ভাসিত হয় একেবারে শেষে এসে।
শরৎবাবু আমার প্রিয় ঔপন্যাসিক । ওঁনার সব লেখাই মায়াময়। অভাব যে কি আর তার নিষ্ঠুর কষাঘাতে মানুষ কিভাবে জর্জরিত হয় তা এই বইয়ে শরৎবাবু খুব করুনভাবে উপস্থাপন করেছেন যা হৃদয়কে নিঙরে দিয়ে যায় । অনেক আগে পড়েছিলাম বইটা, কাহিনি মনে থাকলেও অনেক চরিত্রের নাম এখন আর মনে পড়ে না। তবে শুভদার করুণ মুখের আড়ালে আশা, হতাশা আর দুঃখের ঝিলমিল মনে পড়লে আজো আমার মনটা ভিজে ওঠে।