গভীর রাতের নির্জন কলকাতার বুক চিরে ছুটে যায় একটা লাল স্কুটি। জনহীন হাতিবাগানের মোড়ে নাচতে থাকে দুই অবিকল একইরকম দেখতে কিশোরী। অনেক দূরের গ্রামে ভুলে যাওয়া কোনও উৎসবের রাতে খুন হয়ে যায় আরেক যুবতী। বেচারাম কলকাতার পরিচ্ছন্ন মুখে কারা যেন গভীর রাতে এঁকে দিয়ে যায় ব্যঙ্গচিত্র। মদের গন্ধ মাখা শিরায় ব্লেড চালানোর আগে মেয়েটিকে কানে কানে কেউ বলে যায়—হেথায় তুকে মানাইসে নাই রে... আর এই সবকিছুর মাঝে এক জরাজীর্ণ শহরের রাস্তায় সাদা ফুল হাতে একা দাঁড়িয়ে থাকে নামগোত্রহীন এক কাকতাড়ুয়া। সায়ক আমানের রোম্যান্টিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস―কাকতাড়ুয়া।
এখন ভাবলে লজ্জায় চুন ঘষা দেওয়ালে মাথা ঠুকতে ইচ্ছে হয়, কিন্তু মধ্য কৈশোরে সায়ক আমানের ওপর আমার এক বেয়ারা ধরনের crush ছিল । শব্দটা বড্ড প্রলেতারিয়েত, গালভরা "মনোমুগ্ধতা" হয়তো আরও কাছাকাছি হবে। মা বাবার ঠাট্টা বীরবদনে সহ্য করে midnight horror station এ নিয়ম করে কান গোঁজা থেকে শুরু করে ভদ্রলোকের প্রকাশিত বইয়ের ক্যাটালগ মুখস্ত করা... এককালে সবই করেছি । তারপরে করোনার ক্রমান্বয়ী স্রোত এসে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে মানবসভ্যতা, মাস্ক স্যানিটাইজারের অব্যবহ্রিত বাক্স উঠে গেছে চিলেকোঠার ঘরে, কৈশোরের শেষ লগ্নে এসে পৌঁছেছি । পুরনো সেই দিনের কথা ভেবে বইটা শুরু করেছিলুম । কিন্তু এই কয়েক বছরে গাঁজাখুরি মফস্বল মার্কা "রোমান্টিক ফ্যান্টাসি" এর উপরে অ্যালার্জিটা যে এরকম সাঙ্ঘাতিক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে তা ঠাহর করতে কিছুটা দেরী হয়ে গেল । বছরের প্রথম বইটাই DNF, আশা করছি এটা একপ্রকার অশনির সঙ্কেত । যত কম সময় গল্পের বইয়ের পিছনে ব্যয় করি, তত ভালো আর কি।
একটা বিষন্ন মেয়ে বাইরে থেকে দেখে যতটা শক্ত বলে মনে হয় ভেতর থেকে সে ততটাই একা। নিজের বলতে তার শুধু বাবা আর কার্টুন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তার জীবন থেকে বাবাকে ক্যান্সার ও কার্টুন কে কর্পোরেট জীবন কেড়ে নেয়।
অন্যদিকে শহর থেকে কিছুটা দূরে তিন বান্ধবী নিজের মতন করে সময় কাটাবে বলে ঘুরতে এসেছিল। হঠাৎ করেই তাদের মধ্য থেকে একজন খুন হয়ে যায় এবং কে খুন করল বা কিভাবে খুন করল সেটা প্রায় রহস্যই থেকে যায় এবং সবথেকে অবাক করার ঘটনা সেই ক্যাম্পের মাঠ থেকে একটা কাকতাড়ুয়া হঠাৎ করে উধাও হয়ে যায়। হঠাৎ হঠাৎ মধ্যরাতে কেউ বা কারা যেন কলকাতার সব থেকে দর্শনীয় স্থান গুলিতে কার্টুন থেকে যাচ্ছে। সব থেকে অবাক করার ব্যাপার হচ্ছে জায়গা ও ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড আলাদা থাকলেও মূল চরিত্র দুটি একই থেকে যাচ্ছে বারবার। মেয়েটিকে খুন করল কে? কাকতাড়ুয়াটি বা কোথায় চলে গেল? কে রাতের কলকাতায় কার্টুন একে বেড়াচ্ছে এবং কেনই বা আঁকছে? বিষন্ন মেয়েদের জীবন থেকে কি কেউ বিষন্ন নামক বস্তুটি সরিয়ে ফেলবে নাকি সারা জীবন নিজের না পাওয়া নিয়েই থাকতে হবে তাকে? এই নিয়েই একটি ফ্যান্টাসি রোমান্টিক উপন্যাস কাকতাড়ুয়া। এই গেল উপন্যাসের কথা ,এবার আসা যাক উপন্যাস পড়ে আবার কেমন লাগলো সায়ক আমানের লেখা প্রথম বই আমার। বইটি আমার পড়তে পড়তে মাঝখানে একটু এলোমেলো মনে হলেও, বইটি শেষের দিকে যত আমি এগিয়েছি ততই একটা ভালো লাগা আমার মধ্যে তৈরি হয়েছে। আমরা প্রত্যেকেই নিজেদের সব শখ, ইচ্ছা বিসর্জন দিয়ে কর্পোরেটের মায়াতে ফেসে গেছি । হয়তো আমাদের মধ্যে যে নাচ করতে ভালোবাসে । তার আর অফিসের চাপে পড়ে নাচ করা হয় না, বা যে মেয়েটি খুব সুন্দর কোন এক সময় কবিতা বলতো, তাকে আজকাল সিনিয়রদের চাপে মুখ বুঝে থাকতে হয়। এই সব অপূর্ণ ইচ্ছারাই বইটির মাধ্যমে গর্জে উঠেছে আমাদের সামনে।
সায়ক আমানের “কাকতাড়ুয়া”, তাঁর আগের লেখা ও Midnight Horror Station বা Sunday Suspense-এ শোনা শিহরণ জাগানো গল্পগুলোর থেকে একেবারেই আলাদা স্বাদের।
এই বই পড়ার অভিজ্ঞতা বেশ অন্যরকম। এই বইয়ের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক, অন্তত আমার মতে, এর বাক্য নির্মাণ—প্রতিটি বাক্য নিখুঁতভাবে গড়া, শব্দগুলোর মধ্যেই গল্পের আবহ ধরা আছে। গল্পও সরলরেখায় চলেনি, narrative style ভীষণ ভাবে অসংলগ্ন মনে হবে, কিন্তু গল্পের শেষে সব বেশ সুন্দর মিলে যায়। খুব কম ক্ষেত্রেই লেখকরা চরিত্রদের মধ্যেকার দ্বন্দ্বকে এমনভাবে দেখাতে পারেন। বেড়াতে গিয়ে ফেরার সময়, ঈশানীর সাথে সাথে ফেরে একটা কাকতাড়ুয়াও। ঈশানীর বন্ধু হতে চায় সে, আর চায় মুক্তি পেতে। কিন্তু সত্যিই কি কোনো কাকতাড়ুয়া আছে? নাকি সবটাই নেশার ঘোরে দেখা ভুল? নাকি সত্যি আর ভুলের মাঝে যে জায়গা, সেখানে থাকে সেই কাকতাড়ুয়া? স্বপ্ন, কল্পনা আর সত্যির এক অদ্ভূত মিশেল এই উপন্যাস। তার সাথে জুড়েছে বর্গি ইতিহাস, আর দূরের মিশর দেশের মিথ। প্রথম দিকে গল্পের খেই নেই মনে হলেও, শেষের দিকে খুব সুন্দর করে সুতো গুটিয়ে নেওয়া। “কাকতাড়ুয়া”-তে লেখক subtly কয়েকটা প্রশ্ন ছড়িয়ে রেখেছেন - যা একইসাথে আমাদের এই কোনমতে বয়ে চলা জীবনে একটু হলেও আঘাত করে আর, আমাদের ভাবতে শেখায়। আমরা সবাই কি যা চাই তা পাই? সব ভুলে নতুন করে শুরু করতে পারি? এই উত্তরগুলোই ঈশানী খুঁজেছে, আর ওর সাথে আমরাও খুঁজতে গিয়ে থমকে গেছি বারবার। এটা নিঃসন্দেহে “হিট অর মিস” ধরনের বই—সব পাঠকের পছন্দ হবে এমন নয়। কারণ narrative style বেশ ছড়ানো ছিটানো। তবে আমি একটানে পড়ে শেষ করেছি, তাই লেখা সাবলীল লেগেছে তা বলাই বাহুল্য। পছন্দ হলে, পাঠকরা দীর্ঘদিন ধরে এই লেখাকে মনে রাখবেন। উপন্যাসটিতে অনেক জায়গাই আমার মনে হয়েছে ভালো হতে পারত আরো, তবে যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। এই লেখার জঁর নির্ধারণ করা কঠিন। জাদুবাস্তবতার রেশ আছে অনেক জায়গায়, আবার যুক্তি দিয়ে বুঝে ফেলারও অবকাশ আছে। শেষাংশে অনেকেরই হয়তো মন খারাপ হবে, তবে এই গল্প ভালোবাসার গল্প - তাই সব ভালোবাসার গল্পের মতন, আশা রাখারও গল্প। সায়ক আমানের অন্যধারার বই এই প্রথম পড়লাম, আগে শুধু ভয়ের গল্পই পড়েছি বা শুনেছি - সেগুলি আমার পছন্দেরও, তবে “কাকতাড়ুয়া” আমার বেশ লেগেছে।
Definitely was a page turner for me, as I read I tried to guess what might happen next , only to be met with something completely different and surprising.
It made me feel all the emotions, a truly great read that stays with you long after you have finished it!
🛵⛳ কি ভাবছেন বইটা নেবেন কিনা? কিংবা পড়বেন কিনা। কী আছে এই বইতে? আসুন দেখে নিই.......
🛵📕সদ্য পড়ে শেষ করলাম সাহিত্যিক সায়ক আমান-এর লেখা ‘কাকতাড়ুয়া’ উপন্যাসটি। লেখকের লেখা প্রায় সব বই ই আমি পড়েছি আগে।
~এবার আসি কাকতাড়ুয়া আলোচনায়~
🛵📕উপন্যাসের শুরুটাই হয় ঠিক এই ভাবে, প্রত্যন্ত গ্রাম্য এলাকায় জঙ্গলের মাঝে ছোট তিনটে কটেজ। শহর থেকে বন্ধুদের গ্রুপ কিংবা ফ্যামিলি নিয়ে এসে প্রকৃতির মাঝে দিন দুয়েকের ছুটি কাটিয়ে যাওয়ার একেবারে আদর্শ জায়গা। নাদু নস্কর এই বিজলিমারি গ্রামে একটা সামারক্যাম্প চালায়। নাদুর বয়স পঁয়তাল্লিশের আশেপাশে। সংসার ধর্ম করেনি, ফলে বউ- বাচ্চার বালাই নেই। আগে কলকাতায় একটা ভাতের হোটেল চালাত সে। ঈশানী গার্গী আর অভিরূপা তিনজনেই একেবারে ছোটবেলার বন্ধু। এমনকী স্কুল আর কলেজও এক। তারাই এই নাদু নস্করের সামারক্যাম্প-এ এসেছে। এখানে এসে অভির খুন হয়, পরদিন সকালে লাস পুকুরে ভেসে ওঠে। তারপর ইন্সপেক্টর আসে এবং তদন্ত শুরু হয়.......
🛵📕দ্বিতীয় পর্বের শুরুতেই দেখতে পাই ঈশানীকে। ঈশানীর বাবা ক্যান্��ারের পেশেন্ট। পেনশনের টাকায় সংসার চলে, ঈশানীর মা চায় মেয়ে একটা চাকরি করুক। সংসারে একটু দায়িত্ব নিক। কিন্তু ঈশানী সে সব কিছুই শোনে না। ���াই ঈশানীর মা মেয়ের বিয়ের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে, প্রতি সপ্তাহে একটি করে পাত্র এনে হাজির করছে। পাত্র হিসাবে তুহিরণ আসে ঈশানীকে দেখতে, ঠিক এই সময় ঈশানীর ই-মেলটা আসে। এবং ঈশানীর আর্ট গ্যালারিতে চাকরিটা ফাইনাল হয়ে যায়। ঠিক এই দিনেই ঈশানীর বাবা মারা যায়!
🛵📌“ ব্যক্তিগত মতামত ”📌🛵 এই পর্যন্ত উপন্যাসের গল্প বেশ ভালোই ছিলো। এরপর থেকে যতো আজগুবি গল্প শুরু হলো। আমি ১৫০ পেজ মতো অনেক কষ্টে পড়তে পেরেছি। এতো গালাগালি কেনো যে লেখা হয়েছে কথায় কথায় বুঝলাম না। উপন্যাসের গল্প যে ভাবে শুরু হয়েছিলো মনে হয়েছিলো ভালোই হবে ৬০ পেজ যেতে না যেতেই পড়ার ইচ্ছে চলে গেলো। যাই হোক এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। আপনার যদি সায়ক আমানের লেখা পড়তে পছন্দ করেন তবে অবশ্যই বইটি পড়ে দেখতে পারেন। বেশকিছু লাইন ভালো লাগলো সেটাও নীচে তুলে ধরলাম!
📌একটাই আফসোস রয়ে গেল জীবনে তেমন দুঃখই বা পেলাম কোথায়? যে দুঃখে কোনও নির্জন স্টেশনে প্রায় যাত্রীহীন ট্রেনের কামরার দিকে চেয়ে হাত নাড়াতে পারতাম অনেকক্ষণ? কিংবা কোনও ব্যস্ত এয়ারপোর্টের সামনে, যেখানে শেষ দেখেছিলাম তাকে, সেখানে দাঁড়িয়ে বুড়ো হয়ে যেতে পারতাম হাসতে হাসতে? নাঃ, জীবনে সুখ এল, দুঃখ এল, প্রেম যন্ত্রণা রোগ এল, শুধু কোনটাই চিরকাল থাকল না। কোনটার সঙ্গেই ঘর করা হল না!
📌দুনিয়ায় কারও দুঃখ হয় বলে কারও আনন্দ হয়, পৃথিবীর একদিকে অন্ধকার হয় বলে অন্যদিকে দিন আসে। আর কেউ বড়লোক হবে বলে কাউকে জোর করে গরিব করে রাখা হয়...
📥🗒️2024 Book Review ~ 41 যদি এই বইটি পূর্বেই কেউ পড়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের ব্যক্তিগত মতামত জানাবেন। এছাড়াও আমার রিভিউ কেমন লাগছে সেটাও জানাবেন নিচের কমেন্ট বক্সে। যদি কিছু ভুল ত্রুটি হয় সেটাও জানতে ভুলবেননা। 🛵🍀 আবারো দেখা হবে পরের রিভিউতে। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন আর অনেক অনেক বই পড়ুন। 🙂 🙏🏻 !! ধন্যবাদ !! 🙏🏻
এই বছর বইমেলা থেকে যা বই কিনেছি তার এটা প্রথম পাঠ এবং রিভিউ। অবশ্য ঠিক রিভিউ বলতে যা বোঝায় যা এটা নয়। কারণ পোস্টমর্টাম করতে আমি জানিনা, বরঞ্চ পড়তে গিয়ে এবং পড়ার পরের অনুভূতিটুকু বলতে পারি। আমাদের চারপাশে বা আমাদের মধ্যেই এমন অনেক মেয়ে থাকে প্রচণ্ড রাফ এণ্ড টাফ, অনেকটা টম বয় গোছের। আপনি তাদেরকে ভাঙতে পারবেন না কিছুতেই। দূর থেকে মনে হবে এর বোধহয় জীবনে সবাইকে হম্বি তম্বি করেই কেটে যায়। শুধু রাতে বাড়ি ফেরার পর পোশাক পাল্টানোর সময়, সকালে স্নানের সময় পোড়া সিগারেটের দাগ, কাটাছেঁড়া দাগ, কোমরের কাছের সবুজ হয়ে যাওয়া কালশিটে আলাদা একটা গল্প বলবে। এই সব কিছুতে জড়ানো একটা মেয়ে একটা অসম্ভবের স্বপ্ন দেখে, তার জীবন বদলে দেবার মত স্বপ্ন। ধীরে ধীরে যখন এক এক করে সবকটা স্বপ্ন তার পূরণ হয় সত্যি সত্যিই তখন সে মুক্ত। মায়ের আফসোস, বসের অপমান, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে হওয়া ঝামেলা, বয়ফ্রেন্ডের অত্যাচার, বাবার মৃত্যু এই সবকিছু থেকে মুক্তির আনন্দ গায়ে মেখে ঈশানী বাঁচতে চাইছে।
সায়ক আমানের লেখা রোমান্টিক ফ্যান্টাসি উপন্যাস কাকতাড়ুয়া। প্রেম, প্রতিবাদ, স্বপ্ন, জীবন, মৃত্যু, রহস্য এই সবকিছু নিয়ে জমজমাট উপন্যাস এটা।
গল্প শুরু হয় একটি রহস্য দিয়ে , শহর থেকে দূরে কোলাহল হীন গ্রামে সময় কাটাতে যায় তিন বান্ধবী , হঠাৎই খুন হয় একজন । অন্যদিকে কলকাতার বিখ্যাত সব জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় একটা মেয়ে আর একটা কাকতাড়ুয়া কে ঘিরে ছোট ছোট গল্পের মতন দৃশ্য কেউ যেনো দেওয়ালে এঁকে দিয়ে গেছে রাতের গভীরে । ইশানী ছবি আঁকতে ভালোবাসত অথবা খুব নিখুঁত ভাবে বললে সে হতে চাইতো কার্টুনিস্ট , তবে মধ্যবিত্তের ঘরে চাকরি ছাড়া কোনকিছু নিয়ে স্বপ্ন দেখাকে বিলাসিতা মনে করা হয় এখনও , অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করতে না পারার গ্লানি কুড়ে কুড়ে খেতে থাকে তাকে, স্বপ্ন গুলোর গলা টিপে সমাজের বেঁধে দেওয়া ভালো জীবনের সঙ্গা খুঁজতে ইঁদুর দৌড়ে সামিল হয় সে । কিন্তু জীবন হঠাৎই বদলে যায় এক কাকতাড়ুয়ার হঠাৎ তার জীবনে আগমনের মধ্যে দিয়ে , কাকতাড়ুয়ার একতারার ছন্দে নিজের ব্যাথা গুলো এক এক করে জলাঞ্জলী দিতে শুরু করে মেয়েটা ।
বইটা যখন পড়তে শুরু করেছিলাম আমি ভাবিনি বইটা আমার এত টা ভালো লাগবে গুমোট গরমে হঠাৎ ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শে মন কেমন করা একটা যেমন ভাব আছে , এই গল্পটা আমাকে ঠিক তেমনই একটা অনুভূতি দিয়েছে 🥺🌼।
ঈশানী মেয়েটাকে বড্ড চেনা চেনা লেগেছে এই বইটা পড়তে গিয়ে। জোনাক আর সুস্মিতার সাথে কথা বলে জেনেছি ওদেরও তাই মনে হয়। আসলে আমাদের অনেকের মধ্যেই ঈশানীরা আছে, থাকে, থেকে যায়।
জোনাক একটা কথা বলল যেটার সাথে আমিও একমত। কথাটা হল, খুব কম লেখকই মেয়েদের মনোজগতে এমন সাবলীলভাবে ঢুঁ মারতে পেরেছেন। প্রায় সবকটা টানাপোড়েন, আনন্দ, কষ্ট, চাওয়া, পাওয়া, রাগ, ঘেন্না, আমার চেনা। নারী-চরিত্র বিন্যাসে কোনও অবজেক্টিফিকেশন বা অবান্তর জেনারালাইজেশন নেই, প্রত্যেকে স্বতন্ত্র ও সাবলীল।
গল্পের বয়ান সরলরৈখিক নয়, তাই এটা অনেকের ভালো নাও লাগতে পারে। তবে, আমার বেশ লেগেছে। গল্পটা ভাবায়। আমার মনে হয়েছে যে এইরকম গল্পের জন্য এমন বয়ানই ভাল।
ভালোবাসার গল্প। একটা পরাবাস্তব চিত্র। তার সঙ্গে একটা একক মেয়ের লড়াই। যে তার দ্বিতীয় সত্বার সঙ্গে আপোষ করে। আমাদের প্রত্যেকেরই একটা দ্বিতীয় সত্বা আছে। কিন্তু সেই সত্বা আমাদেরকে অতিক্রম করে না। কিন্তু এখানে করেছে। আমরা সবাই নিজেকে নিয়ে প্রথম থেকে শুরু করতে চাই। কিন্তু পারি না। এখানে হয়েছে। গল্পের শেষে একটা সূর্যাস্তের সঙ্গে আর একটা নতুন সূর্যোদয় হয়েছে। সূর্যাস্তের রং আমাদের বেদনা বিধুর করে তোলে। তার সঙ্গে নতুন সূর্যোদয়ে একটা ক্ষীণ আশার আলো ফুটে ওঠে।
অনেকটা সুরিয়েলিস্টিক ঢঙে লেখা এই বইটার মাধ্যমে লেখক সায়াক আমানের সাথে পরিচয় হলো। সেই সাথে পরিচয় হলো কলকাতা শহরের ইয়ুথদের সাথে। শেষের পরিণতিটা দু:খজনক, তার সাথে মনে এই প্রশ্নও এনে দেয় যে এইসব পরিণতির মাধ্যমে লেখকেরা কি এই যুগের তরুণের মধ্যে সুইসাইডাল ফ্যান্টাসি জাগিয়ে দেন না?