মানিকের আবির্ভাব ছিল ঝড়ের মতো। তিনি বিশ্বাস করতেন, অন্যের তৈরি করা পথে নতুন সৃষ্টি সম্ভব নয়। সৃষ্টিকে চলতে হয় নিজস্ব পথে, নিজস্ব অবয়ব তৈরি করতে করতে। আজীবন সেটাই তিনি করেছিলেন। মানিকের জীবনযাপনে কি কোনো নাটকীয়তা ছিল না? ছিল। বৃদ্ধ বয়সে পিতা হরিহর বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়ি বিক্রি করে সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছিলেন সমস্ত অর্থ। মানিক তাঁর ভাগের অংশ অবলীলায় দান করেছিলেন পার্টি ফান্ডে, যদিও সেই সময় কোনো কোনো দিন তাঁকে মুড়ি খেয়েও কাটাতে হচ্ছিল! পরিবারের দাবীকে উপেক্ষা করে তাঁর সাহিত্যিক অভিযাত্রা ছিল দুঃখদগ্ধ এক স্রষ্টার অনন্ত যুদ্ধের ইতিকথা। বছরের পর বছর সময় ব্যয় করে এই উপন্যাসে সমীরণ দাস চেষ্টা করেছেন সেই স্বপ্নময় স্বপ্নভুকের যুদ্ধময় জীবন ও অন্তরাত্মার কান্নাকে ধরতে।