খান ফ্যামিলির বড় সন্তান সাকিবকে সবাই একনামে ‘ডগ লাভার’ হিসেবে চেনে। তবে পরিবারের লোকজন তাকে আদর করে ডাকে ‘কুত্তার বাচ্চা’। চোখ কপালে উঠল? ভাবছেন- এ কেমন আজব পরিবার? আরে এ তো কিছুই না। ছোট সন্তান সুমাইয়ার নাটক দেখলে পায়ের চুল পর্যন্ত ছিঁড়তে ইচ্ছে করবে। তাদের বাবা শাকের খান, যার অদ্ভুত কার্যকলাপ দেখে মনে হবে- ব্যাটা নির্ঘাত গাঁজাখোর। ঘটনা সত্যি, তিনি আসলেও গাঁজাখোর! আর মা সালমা খান রীতিমতো অন্য লেভেলের মানুষ। তার রান্নার আইটেম দেখে খেতে ইচ্ছে হোক-বা না হোক, ঠিকই ভিরমি খাবেন। এই পরিবারে, আরও স্পষ্ট করে বললে- এই পাগলের কারখানায় আপনার আমন্ত্রণ রইল।
‘খান ফ্যামিলি’ মূলত হাসি-আনন্দের রোলার কোস্টার রাইড। এদের প্রত্যেকের কাণ্ড-কীর্তি আপনার মুখে যেমন হাসি ফোটাবে, তেমনি জীবনের ছোট ছোট বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করবে। মন খারাপের দিনে বইটি হয়ে উঠবে আপনার মন ভালো করার অব্যর্থ টনিক!
জামসেদুর রহমান সজীব এর জন্ম রাজবাড়ী জেলাশহরে। ছোটবেলা থেকেই জাতীয় পত্রিকায় লেখালেখি করেন। রাজবাড়ীতে ‘আড়ম্বর’ শিশু সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমানে সাহিত্যের ছোটকাগজ ‘মুদ্রণশিল্প’ সম্পাদনার দায়িত্বে রয়েছেন। চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবেও সফল এ তরুণ সংগঠক। বেশ কয়েকটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত ‘শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ ২০১৭’তে শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরস্কার পেয়েছে তার নির্মিত ‘বাড়ি ফেরা’ চলচ্চিত্রটি।
খুব ছোট্ট একটি সূত্র অনুসরণ করেন জীবনে। নিজে হাসিখুশি থাকতে হবে, আশপাশের সকলকেও হাসিখুশি রাখতে হবে। একারণেই বেছে নিয়েছেন লেখালেখি। নিয়মিত রম্য লিখছেন। পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হাসি-আনন্দ।
প্রথম থেকেই চমৎকার ছিল। যেমন গল্পের গতি, তেমন সাবলিল। মনেই হচ্ছিল না নতুন কোনো লেখকের বই পড়ছি। ঠিকই ভুল টা ভাঙলো কিছুদূর পড়ার পর। মাঝের আগ মুহূর্তে লেখক মনে হলো একটু খেই হারিয়ে ফেলেছিলেন। তারপর গোটা ১৫ পেজ পরে আবার ক্যামব্যাক! Well Done!
সত্যি বলতে রম্য বলতে আমরা ভারামীই বুঝি। লেখক সেটাকে কাটিয়ে বইটিকে সুন্দর একটা যায়গাই নিয়ে গেছেন যেখানে রম্য ভাড়ামীহীন সুখপাঠ্য। কিছু যায়গাই একটু ক্রিঞ্জ হয়ে গেছিল কমেডির বদলে কিন্তু আমরা উদার পাঠক! সবমিলিয়ে মাত্র ১২৮ পেজের বই এর সাথে দারুন একটা জার্নি হলো।
রাইটারের প্রথম বই (উপন্যাসিকা)। মুগ্ধ হয়েছি বলেছি একটু বেশিই বলা হবে, তবে বইটা মোটামুটির চেয়ে ওপরের লেভেলে। বইটা যেভাবে হাসিয়েছে তাতে মোটাদাগে তাকে কমেডি বললেও হাসতেই হাসতেই হঠাৎ করে আপনার হাসি বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ হাস্যরসের মাঝেও লেখক খুব হালকা টোনে হলেও রেখেছেন ভাববার অবকাশ। তবে বইটার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো লেখকের লিখনশৈলী। যে কারণে ১২৮ পৃষ্ঠার বইটা কখন কোনদিক দিয়ে শেষ হয়ে গেল বুঝতেই পারিনি, এতটাই স্মুথ। সবমিলিয়ে 'খান ভিলা'য় আমার সময়টা বেশ ভালো কেটেছে।
*ফুটনোট : ক্লাসিক্যাল রম্য আর ভাঁড়ামির মাঝে একটা সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আমি ভেবেছিলাম বইটা দুটোর যেকোন একটার কাতারে পড়বে। কিন্তু আমি ভুলেই গিয়েছিলাম এর বাইরেও রম্যের একটা কোয়ালিটি আছে। সেই কোয়ালিটিকে আসলে কোন মাপকাঠিতে মাপা যায় না (অন্তত আমি পারিনা আর কি)। সেটা হলো, শাহরিয়ারের 'বেসিক আলী' কোয়ালিটি। এই বইটা ঠিক সেই কোয়ালিটির৷ হালকা কিন্তু বেশ উপভোগ্য। আশা করি, এই কোয়ালিটিতে লেখক ভবিষ্যতে আরো কিছু উপহার দেবেন।
honestly, i didn't expect so much. but after reading this novel, my mind was blown away. such an impressive story with a great point of view. there is a strong massage, people should take care of animals instead of hurting them. i appreciate the writer for bringing this issue in that novel. this book not only brings smile on your face, it also shows you some values of life. it's a must read.
আমাদের জীবনে কমেডি বলুন, কিংবা রম্য অথবা হাস্যরস, এর রকমফের কিন্তু একটু অদ্ভুত বটে। এটার অন্যতম কারণ হলো অন্যান্য অনুভূতির চাইতে হাসি অনেক দ্রুত কাজ করে। বেশিরভাগ সময় আমাদের খুব অল্পতেই হাসি পেয়ে যায়, একারণেই বোধহয় জীবনে কমেডির উৎসে দেখা যায় এত রকমের বৈচিত্র্য। ছোটবেলার সাধারণ সব কৌতুক, হাসির গল্প বা কমিকস থেকে শুরু করে কৈশোরে প্রবেশের সময় কিছুটা এডাল্ট জোকস, তারপর ধীরে ধীরে ডার্ক কমেডির দিকে যাওয়া। আরও আছে স্মার্ট সারকাজম কিংবা স্যাটায়ার, যা বিনোদনের পাশাপাশি ভাবতেও শিখায়। আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মিম—এসব আমাদের জীবনের কমেডির একটা বড় উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সেখানে রোস্টিং এর নামে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ কিংবা গালিগালাজের মাঝে আর কতটুকু সুস্থ বিনোদন পাওয়া যায় সেটাও একটা কথা।
তবে নিজের কথা বললে, আমি প্রায় সবধরনের কমেডি-ই মোটামুটি পছন্দ করি, স্ল্যাপস্টিক কমেডিও। সাময়িক বিনোদনের জন্যে সস্তা নাটক কিংবা তামিল মুভির ক্রিঞ্জ কমেডি দেখতেও আমার খারাপ লাগে না। কারণ অল্প সময়ে এতো কার্যকরী অনূভুতি হিসেবে কমেডির কোনো প্রতিপক্ষ নেই। বই কিংবা সিনেমায় থ্রিল, ভয়, রোম্যান্স কিংবা আবেগঘন অনূভুতিগুলো আমরা মূলত সেই গল্প, চরিত্রদের অভিজ্ঞতার দ্বারা অনুভব করি। সেটা নির্ভর করে লেখক কতটা দক্ষতার সাথে সেই আবেগটা পাঠকের মনে পৌঁছে দিচ্ছে, তার ওপর। কিন্তু এক্ষেত্রে হাস্যরস বা কমেডি একটু আলাদা। এটা এমন একটা অনুভুতি যা একান্তই নিজের। আগে তো বললামই, এটা অন্যসব আবেগ থেকে অনেক দ্রুত আর বেশ অদ্ভুতভাবে কাজ করে।
কয়েক জোকসের বইকে গোনায় না ধরলে, কেন জানি কোনো রম্য বই কখনো পড়া হয় নি আমার। সত্যজিৎ রায় বা হুমায়ূন আহমেদের মতো অসাধারণ কিছু লেখকের লেখায় স্মার্ট হিউমার পেয়েছি ঠিকই, তবে সেগুলোকে বিশুদ্ধ হাসির বই বলা যায় না। আর আমার দুর্ভাগ্যই বলা চলে, এখনও শিবরাম চক্রবর্তী বা সুকুমার রায়ের মতো লিজেন্ডারি রম্য সাহিত্যিকদের লেখা পড়া হয়ে উঠেনি। বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে কমেডি জিনিসটা অনেক বেশী ছড়ালেও, অতিরিক্ত সস্তা অতিরঞ্জনের ফলে দিনকে দিন দূর্বল হতে শুরু করেছে। তাই বর্তমান সময়ের কোনো লেখকের লেখা কমেডি বই পড়বো, এটা আমি চিন্তাও করতে পারতাম না।
তারপরও এবারের বইমেলা থেকে জামসেদুর রহমান সজীবের লেখা 'খান ফ্যামিলি' সিরিজের বইদুটো কিনলাম। কারণ Goodreads এর কল্যাণে বইগুলোর সম্পর্কে বেশ কিছু ভালো কথা শুনেছিলাম, তারচেয়েও বেশী ভালো লেগেছে লেখকের পাঠকদের প্রতিক্রিয়ার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি। তাই ভাবলাম, একটু ট্রাই করে দেখা যাক। 'খান ফ্যামিলি' এর গল্পটা হচ্ছে অনেকটা বেসিক আলীর মতো, একটা পরিবারের কিছু সদস্য ও তাদের আসেপাশের নির্দিষ্ট কয়েকটা চরিত্রের পাগলামি আর হাস্যকর কার্যকলাপের মাধ্যমে কমেডির উপস্থাপন। চরিত্রকেন্দ্রিক এই বইয়ে লেখক সাধারণ জোকস থেকে শুরু করে স্ল্যাপস্টিক, শক হিউমার, সিটকম, রমকম সব গুলে মিশিয়ে দেবার চেষ্টা করেছেন। তবে লেখকের উপস্থাপনা শেষ পর্যন্ত অনেকটা ফেসবুকে ঘুরে বেড়ানো সস্তা কমেডি গল্পের মতোই হয়ে গেল।
বইটা পড়ার পুরোটা সময় মনে হয়েছে লেখক আমাকে হাসানোর অনেক চেষ্টা করছেন, সুড়সুড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে অনলাইনে ভাইরাল জোকস বলা, কিছুই বাকি রাখছেন না। তবে এর কোনোটাই আমার ক্ষেত্রে সেভাবে ওয়ার্ক করে নি। কারণ হিসেবে বলবো এই বইয়ে লেখকের ইউজ করা ট্রোপগুলো অনেক টিপিক্যাল আর ক্লিশে লেগেছে, আর সবমিলিয়ে লেখকের লেখায় আমি সেরকম সেন্স অব হিউমার পাই নি। সত্যি বলতে লেখায় ভালো সেন্স অব হিউমার থাকলে, সিরিয়াস থ্রিলারের মাঝে আসা সিচুয়েশনাল কমেডি কিংবা সারকাজমও অনেক উপভোগ্য হয়। তবে এই বইয়ে সেটা ছিল না, যার অভাব লেখক ভাঁড়ামো দিয়ে পূরণ করতে চেয়েছেন। তবে সেটা কোনো কাজে আসে নি।
মাঝখানে বাংলা নাটকের মতো একতরফা প্রেম নিয়ে যেভাবে কমেডি ক্রিয়েট করার চেষ্টা করা হয়েছে সেটা খুবই ক্রিঞ্জ ছিল। আর মানছি কমেডি গল্প, তারপরও সাকিব ছাড়া অন্যান্য সব চরিত্রের একই ভাঁড়ামি মার্কা আচরণ বিরক্তিকর লেগেছে। এই বইয়ের একেবারে সব দিকই যে খারাপ লেগেছে তা নয়। লেখনী অনেক প্রাণবন্ত আর সাবলীল ছিল। এজন্য পুরো বইটা পড়তে একটুও বোরিং লাগে নি, একটানে পড়ে গিয়েছি। আর বইটা শেষ করে চরিত্রগুলোর প্রতি কিছুটা ভালোলাগা সৃষ্টি হয়েছে বলতে হবে। সেইসাথে কমেডির পাশাপাশি লেখক পশুপ্রেম নিয়ে যে সোশ্যাল মেসেজটা দিতে চেয়েছেন আর একটু ইমোশনাল টোন সৃষ্টি করতে চেয়েছেন, তা বেশ ভালো ছিল। আর যৌন বিষয়ক কাতুকুতু মার্কা কমেডি সেভাবে না রাখায় লেখককে ধন্যবাদ। তারপরও কমেডি বই হিসেবে 'খান ফ্যামিলি' আমার সেরকম ভালো লাগে নি, দুয়েকটা জায়গা বাদে সেভাবে হাসি পাই নি একেবারে। সবমিলিয়ে এই বইটা ওই কোনোমতে চলে টাইপের। দেখা যাক, এর পরের পর্ব 'খান ফ্যামিলি ইজ ব্যাক' বইটাতে লেখক কেমন কাজ করেছেন���
📚 বইয়ের নাম : খান ফ্যামিলি
📚 লেখক : জামসেদুর রহমান সজীব
📚 বইয়ের ধরণ : কমেডি ফিকশন, ফ্যামিলি ড্রামা, স্লাইস অব লাইফ
বই: খান ফ্যামিলি লেখক: জামসেদুর রহমান সজীব জনরা: রম্য প্রচ্ছদ: রাকিব রাজ্জাক প্রকাশনী: অক্ষরবৃত্ত প্রথম প্রকাশ: ফেব্রুয়ারী ২০২১ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৮ মুদ্রিত মূল্য: ২৫০/-
রম্য খুবই কম পড়া হয়। বলতে গেলে হাতে গোনা কয়েকটাই পড়া হয়েছে। তাই বইটা নিয়ে এক্সপেকটেশন অনেক বেশি ছিলো।
খান পরিবারের পাঁচজন সদস্যের কাহিনী নিয়ে বই। শাকের খান, গাঁজা খাওয়ার ওস্তাদ। শ্যালক শিহাব খানকে নিয়ে আজব সব ব্যবসা করে বেড়ান। সালমা খান, সারাদিন ফেসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে পড়ে থাকেন সাথে চলতে থাকে অদ্ভুত সব খাবারের এক্সপেরিমেন্ট। ছেলে সাকিব কুকুরপ্রেমী ও মেয়ে সুমাইয়ার জীবনটাই মেকআপ নিয়ে। শান্তি কিন্তু অশান্তি করার ওস্তাদ। আরও কিছু চরিত্র রয়েছে। মজার চরিত্রগুলো মজার কান্ড ঘটিয়ে ফেলে। অবস্থা যত সিরিয়াসই হোক না কেন লেখকের উপস্থাপনার জন্য বারবার হাসতে হয়েছে। সহজ-সাবলীল লেখনশৈলীর জন্য টানা পড়ে গেছি। তবে যতটা আশা করেছিলাম সে অনুযায়ী পূরণ হয়নি। ওভারঅল মোটামুটি ভালোই বলা যায়।
জঙ্গলের মতোই দালানকোঠায় ভরে উঠা ঢাকা শহরে কত বিচিত্র রকম মানুষ যে বাস করে তা আমাদের কল্পনারও বাইরে, এসব মানুষ তাদের আচরণ, চিন্তাধারা সবকিছুতেই একজন আরেকজন থেকে একেবারেই আলাদা। কোনোটা আবার দেখে আমাদের হাসি ফেটে পড়ে তো কাউকে দেখলে দুঃখ লাগে আবার কোনো অনূভুতিই কাজ করে না এমন মানুষ তো অনেক দেখি।
তেমনই ঢাকা শহরের দালানকোঠায় বসবাস করা এক ফ্যামেলির গল্প এটি। যেহেতু এই পরিবারের সবার নামেই খান আছে তাই বলতে পারেন এই পরিবারের নাম খান ফ্যামিলি।
পরিবারের সবার নামের সাথে খান থাকলেও এদের আচরণে আপনার মাঝে মাঝে মনে হবে এরা আসলেই খানদানি বংশের কি না। কেন বলছি এই কথা! আসেন এই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জানাই আপনাদের তাহলেই বুঝতে পারবেন আমার কথার মর্ম।
এই বিল্ডিংয়ের মালিক খান পরিবারের কর্তা শাকের খান দিয়েই শুরু করা যাক, ভদ্রলোক দিনের অধিকাংশ সময়ই থাকে গাঞ্জায় বুদ হয়ে। আর যতক্ষণ হুঁশে থাকেন ততক্ষণ তার শালার সাথে পরামর্শ করেন ব্যবসা নিয়ে। কিছুদিন পরপরই আজব আজব সব ব্যবসার আইডিয়া নিয়ে হাজির হয় শালা শিহাব খান, সেই ব্যবসায় আবার প্রথমদিকে লাভও হয় আর তারপর শুরু হয় জান নিয়ে টানাটানি। কখনো কখনো থানাহাজতের সাথেও দেখাসাক্ষাৎ করতে হয়। তারপর কানে ধরে সব ছেড়ে দেওয়ার শপথ নিলেও শালায় আরেকটা আইডিয়া নিয়ে আসতেই শপথের কথা আর মনে থাকে না।
শাকের খানের বউয়ের নাম সালমা খান, তিনি আবার সারাদিনের অর্ধেক সময় কাটান আশপাশের নানান বিষয়আশয় নিয়ে ফেইসবুকে মতামত দিতে আর নানান রকম রান্নার এক্সপেরিমেন্ট করতে। আর এসব এক্সপেরিমেন্ট এতোই ভয়ানক হয় যে মাঝে মাঝে পরিবার শুদ্ধ ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে।
সালমা খান আর শাকের খানের পরিবারে দুই ছেলেমেয়ে একজন নামে সাকিব হলেও তার কুত্তার প্রতি এতোই টান যে তার নামটা হয়ে গেছে কুত্তার বাচ্চা। তাই হয়তো এই বিল্ডিংয়ে বাড়িভাড়া তাদেরই দেওয়া হয় যাদের কুত্তা আছে। আর এই কুত্তার বাচ্চাকে জ্বালিয়ে মারে শান্তিও নামের আরেক অশান্তি। এদিকে তার বোন সুমাইয়ার একমাত্র হবি হচ্ছে দিনের অর্ধেক আয়না নিজেকে দেখা তো বাকি অর্ধেক মেকাপ করা।
এই হলো পরিবারের একেবারে বায়োডাটা। এই খান পরিবারের আজব কিসিমের এই সদস্যদের দৈনন্দিন আজব সব কাজের ফিরিস্তি নিয়েই 'খান ফ্যামিলি' পরিবার। যেখানে লেখক চেষ্টা করেছেন মজার ছলে এমন কিছু ঘটনাকে তুলে ধরতে যা পাঠক পড়ে আনন্দ পান।
আমার কাছে মনে হয় লেখালেখির ক্ষেত্রে লেখকরা ঠিক যত সহজে কাঁদাতে পারে, ঠিক তত সহজে হাসাতে পারেন না পাঠকদের। গেলেও সেই হাসির স্থায়িত্ব থাকে কমই। আবার লেখালেখির ক্ষেত্রে রম্য রচনা এমন একটা সাহিত্যের বিষয় যেখানে খুব কম লেখকই বিচরণ করেন, হৃদয়ে দাগ কাটতে পারেন। তাছাড়া সাহিত্যের এই সেক্টরে লেখালেখিও খুব একটা চোখে পড়ে না।
আর সেই জায়গায় জামসেদুর রহমান সজীবের রম্য লেখার এই প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই। খান ফ্যামিলি আহামরি কোনো গল্প নয়, পড়লেই বুঝতে পারবেন এটা হাল্কা ধাঁচে মজার ছলে লেখা। কিন্তু আমার সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে লেখকের লেখনশৈলীর দিকে। গল্পটা মোটামুটি মানের হলেও সেই গল্প বর্ণনাটা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে।
গল্প বর্ণনায় কোনো আনাড়িপনা কিংবা জড়তা নেই বললেই চলে। লেখক তার গল্পটা বেশ সাবলীলভাবেই উপস্থাপন করেছেন। গল্পের কিছু কিছু অংশ জোর করে হাসানোর চেষ্টা মনে হলেও কিছু অংশ খুবই মজা পেয়েছি। এই যেমন সাকিবের কুকুর প্রেমি হওয়া, শান্তির ভালোবাসা, শালা দুলাভাইয়ের সম্পর্ক এসব কিছু আমি বেশ উপভোগ করেছি।আবার মজার ছলে পশু প্রেমের যে দিকটা লেখক তুলে এনেছেন তা বেশ প্রশংসার দাবি রাখে। এই দিকটা পাঠকদের জন্য শিক্ষনীয়ও, আমরা পশুদের হয়তো অপছন্দ করতে পারি তাই বলে তাদের কষ্ট দেওয়া উচিত নয়।
মাঝে মাঝে যখন ভারি ভারি থ্রিলার, হৃদয়বিদারক উপন্যাস কিংবা একাডেমিক চাপে নুয়ে পরেন তখন এই বইটা হাতে নিয়ে পড়া শুরু করে দিতে পারেন। আমার মনে হয় এসব মুহুর্তে বইটি একটা বোস্ট হিসেবে কাজ করবে।
লেখকের জন্য শুভকামনা রইলো, আশাকরি ভবিষ্যতে লেখক আরো চমৎকার, পরিপক্ব আর মজার গল্প উপন্যাস পাঠকদের উপহার দিবেন। রম্য রচনায় তিনিও একদিন হয়ে উঠবেন সিদ্ধ।
বই: খান ফ্যামিলি লেখক: জামসেদুর রহমান সজীব প্রচ্ছদ: রাকিব রাজ্জাক প্রকাশক: বেনজিন প্রকাশন মূল্য: ২৫০৳ পৃষ্ঠা: ১১২
এই বইটা নিয়ে আলোচনায় যাবার আগে ছোট একটা কাহিনি বলি। এই বইটা থেকেই হয়তো প্রভাবিত হয়েছিলাম পরে। কবছর আগে বইগ্রুপে পরিচিত কক্সবাজারের জনপ্রিয় ছাত্রনেতা নুরু ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তীব্র রোদের মাঝে ঘুরছিলাম, গরমে বেশ কাহিলও হচ্ছিলাম। এর মাঝে কিছুক্ষণ এক জায়গায় যাত্রা বিরতি নিলাম। দেখলাম রাস্তার পাশে সর্বসাকুল্যে মোটে ৩ টা দোকান । আশেপাশে কোনো মানুষের দেখা মিললো না, কাকেরা ডাকাডাকি করে মনে হয় এই এলাকায়। উদাস মনে বসে বসে কোমল পানীয় আর কেক খাচ্ছিলাম তখন পাশে একটা কুকুর এসে দাঁড়ায়। আমার আবার কিঞ্চিৎ কুকুর ভীতি আছে, ১৪ টা ইঞ্জেকশ�� পাছায় দিতে হয় কিনা!!
দেখতে পেলাম কুকুরটা গরমে জিব বের করে রীতিমতো হাপাচ্ছে। বিচের আশে পাশে এরা থাকলে খাবার মিলে কিন্তু এই জায়গায় তো একদম নির্জন। হৃদয়ে সত্যান্বেষী হলেও অন্তর আমার দয়ার শরীল। একটুখানি কেক আর কোক খেতে দিলাম। দেখি মুহুর্তের মাঝেই গপাগপা চালান দিল পেটে। বুঝতে পারলাম অভুক্ত গরমে ক্লান্ত কুকুর আরো খাবারের আশায় আছে। লেজটা হেলিকপ্টারের রোটরের মতো ঘোরাচ্ছিল। আরো খাওয়ানোর পর মুখে বোধহয় হাসি দেখতে পেয়েছিলাম সেদিন।
গতকাল 'খান ফ্যামিলি' নতুন সংস্করণটা পড়ে মনে পড়ে যায় উপরের কাহিনীটা। বইটা ২০২২ সালেও আমার পড়া হয়েছিলো তখনো বইটা অনেক হাসিয়েছে। এখন নতুন মলাটে নতুন ভাবে আবার পড়লাম বইটা। আগের মতই দারুণ হাসলাম।
খান ফ্যামিলিতে শারুক্কানের বদলে আছেন শাকের খান, সালমা খান,সুমাইয়া খান আর ডগ লাভার সাকিব খান তুড়ি এটা তুফান সিনেমার সাকিব খান না। এ হচ্ছে আমার মত সিএসসিতে পড়েও মেমোরি কার্ডে লোড দেয়া সাকিব খান।
হাস্যকর সব কর্মকান্ডে পরিবারের এই ৪ সদস্য মেতে থাকে। নিজের অজান্তে করে অনেক ভুল যেগুলোর জন্য পড়তে হয় অনেক ঝামেলা। সেগুলোর বর্ণনা পাঠককে না হাসিয়ে পারে না। খান ফ্যামিলির এদের প্রথম স্টেজের পাগলা গারদও বলা যায়। একেকজনের কাজে বেচারা সাকিবের নাস্তানাবুদ হতে হয়। এক মুহুর্তের জন্য শান্তিও নাই। এই যা এই শান্তিতেও তো ওর অশান্তি। শান্তি খন্দকার। পাশের বাড়ির মেয়ে সাকিব খানকে বিয়ে করার জন্য এক আঙ্গুলে খাড়া। এক আঙ্গুলে বলছি কারণ ওই এক আঙ্গুল দিয়েই ও নিজের বাড়ির সাথে যুক্ত থাকে আর বাকি সময় ও খান ফ্যামিলির ঘাড়ের উপর বসে থাকে।
একেকজনের সংলাপ অ্যাটম বোমের মত ফুটে উঠে। সালমা খানের অদ্ভুত রেসিপি আর ফেসবুকের নে*শা বড়ই ভয়ংকর অন্যদের জন্য। যা গলাধঃকরণ করতে দেখে হেসেছি প্রতিবার। শাকের খান আর উনার শালা শিহাব খানের ব্যবসার ধরণ দেখে পাঠক বলবেন একি রে বাবা!
এতো অদ্ভুত পরিবারের গল্পের সাথে লেখক জুড়ে দিয়েছেন বোবা প্রাণীদের প্রতি অনেক অনেক ভালোবাসা। যাদের দেখার জন্য এই যান্ত্রিক শহর বসে নেই। এদের নিয়ে দারুণ সব সিকোয়েন্স মেলে ধরেছেন বইয়ে।
বইয়ের প্রথম থেকে ক্লাইম্যাক্স এর আগ পর্যন্ত রম্যে ভরপুর থাকলেও শেষের দিকে সিরিয়াস টোন ধরেছে যা সমাপ্তিটাকে দারুণ করেছে।
মন ভালো করে দেবার মত বই এটা। নেই কোনো টুইস্ট আর সাসপেন্স তার বদলে ছোট ছোট করে সাবলীলভাবে গল্পের ডানা মেলে দিয়েছেন।
লেখকের গদ্যশৈলী অতীবো দ্রুতগামী। ইহা শেষ করিতে আমার একবার আসন গ্রহণ করিতে হইয়াছে।
ধুরু গুরুচণ্ডালী করছি অনেক। ইয়ে শেষে বলতে চাই যারা তুলার মত হালকা কোনো বই পড়তে চান, নিজের মনকে হাসাতে চান কিংবা রিডার্স ব্লকে আছেন তাহলে তুলে নিতে পারেন খান ফ্যামিলি। কারণ Failure is the খাম্বা of success.
বইয়ের প্রডাকশন নিয়ে কিছুটা আশাহত হয়েছি। পাতাগুলো অনেক পাতলা। আশা করি পরের প্রডাকশন আরো উন্নতমানের হবে।
বই : খান ফ্যামিলি লেখক: জামসেদুর রহমান সজীব(খান পদবী ছাড়া) প্রকাশনী: বেনজিন পৃষ্টা সংখ্যা: ১১২ মুদ্রিত মুল্য: ২৫০৳
খান ফ্যামিলি: অদ্ভুত এক পরিবার, আর অদ্ভুত সব কান্ডকারখানা তাদের।
এ পরিবারের কর্তা শাকের খান, যিনি ক'দিন পর পর শ্যালক শিহাব খানের সাথে নতুন নতুন ব্যবসায় জড়ান এবং পরিশেষে লোকসান গুনেন। শাকের সাহেবের আরো একটা শখ আছে, গাঁজা খাওয়ার শখ। বাড়ির কর্তী সালমা খান ব্যস্ত থাকেন তার অদ্ভুত সব রেসিপি আর বিব্রতকর ফেসবুক পোস্ট নিয়ে। ছেলে সাকিব একজন পশুপ্রেমী এবং ছোট মেয়ে সুমাইয়া সবসময়ই থাকে চাঞ্চল্য নিয়ে।
• পাঠ প্রতিক্রিয়া: • উপন্যাসটা বেশ সহজ-সাবলীল ভাষায় লেখা। ফলে, পড়তে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।
• প্রথম দিকে শাকের সাহেব ও গাঁজা নিয়ে স্বাভাবিকতা এবং সাকিবের ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি বেশ আরোপিত লেগেছে। সাকিবের প্রতি শান্তির অবসেশন কিছু ক্ষেত্রে ন্যাকামোই লেগেছে।
• আমার মতে গল্পটা ট্র্যাকে ফিরেছে 'মনির' চরিত্রের উপস্থিতির পর। এমন একটা এন্টাগোনিস্ট চরিত্রের দরকার ছিলো উপন্যাসে। মনিরের মতো চরিত্র কিন্তু আমাদের সমাজেও অনেক আছে, যারা অযথাই অন্যকে খোঁচা দেয়ার সুযোগ খুঁজে আনন্দ পায়, নিরীহ পশুকে ঘৃনা করে বেড়ায় অকারনেই। লেখক তার লেখার মাধ্যমে অল্প উপস্থিতিতেই মনির চরিত্রটাকে ঘৃণ্য করে তুলতে পেরেছেন।
• খান ফ্যামিলি একটি রম্য উপন্যাস। স্বাভাবিকভাবেই এখানে কৌতুক থাকবে, থাকবে হাস্যকর ঘটনার ছড়াছড়ি। উপন্যাসে তেমনটাই আছে। তবে আমার মতে, কৌতুকগুলো কনটেক্সট অনুযায়ী যথাযথভাবে ফিট হলেও, বেশ কিছু কৌতুক সমসাময়িক নয়। যেহেতু বইটা প্রথম প্রকাশিত হয়েছে আরো তিন বছর আগে, সে হিসেবে এখনের চেয়ে তখন এই হাস্যরস আরো বেশি কাজ করেছে বলে আমার ধারনা।
• উপন্যাসের সবচেয়ে পজিটিভ ও শক্তিশালী দিক আমার মতে পশুপ্রেম। নিরীহ প্রাণীরা কথা বলতে জানে না, কিন্তু তাদেরও অনুভূতি আছে, জীবনের মূল্য আছে। এদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে লেখক এক প্রকার আলোকপাত করেছেন। শাকের সাহেবের গাঁজার প্রতি আসক্তির একটা নেতিবাচক দিক আলোকপাত করলেও মন্দ হতো না।
সব মিলিয়ে 'রম্য উপন্যাস' হিসেবে 'রম্য' অংশটা আমার উপর পুরোপুরি ওয়ার্ক না করলেও 'উপন্যাস' টা ভালোই লেগেছে।
• ব্যক্তিগত রেটিং: ৩.২৫/৫ (বইটার প্রোডাকশন নিয়ে বললে বলবো, বাইন্ডিং একটু টানটান। তবে প্রচ্ছদ ও কাগজের মান ভালো লেগেছে। প্রচ্ছদটা অবশ্য বেশি রঙিন লাগছে, প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদটা একটু সাদামাটা ছিলো।)
এক নজরে, • বই: খান ফ্যামিলি • লেখক: জামসেদুর রহমান সজীব • ধরণ: রম্য উপন্যাস • প্রকাশনী: বেনজিন প্রকাশন • প্রচ্ছদ: রাকিব রাজ্জাক • সম্পাদক: উমর ফারুক আকাশ • পৃষ্ঠা: ১১২ • মুদ্রিত মূল্য: ২৫০ টাকা
পাঠ-প্রতিক্রিয়াঃ বই:খান ফ্যামিলি লেখক:জামসেদুর রহমান সজীব প্রকাশকঃবেনজিন প্রকাশন এক-বসায় পড়ে শেষ করলাম জামসেদুর রহমান সজীব ভাইয়ের লেখা রম্য উপন্যাস খান ফ্যামিলি।পড়তে পড়তে ছোটবেলায় হারিয়ে গিয়েছিলাম।বলে রাখা ভালো আমিও খান ফ্যামিলির একজন সদস্য এমনকি আমাদের বাড়িটার নামও খান-ভিলা। গল্পের প্রতিটি চরিত্র খুবই জীবন্ত এবং লেখক খুবই সাবলীল ভাষায় সব গুলো চরিত্রকে উপস্হাপন করেছেন,এটুকু সিউর কারো পড়তে পড়তে একঘেয়ে লাগবেনা মোটেও।খান ফ্যামিলির কর্তা শাকের খান,তার স্ত্রী সালমা খান,সাকিব,সুমাইয়া,শান্তি, শিহাব খান প্রতিটা চরিত্রই লেখক দারুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই বইকে শুধু রম্য উপন্যাসই বলা চলেনা বরং এখানে লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন পশুদের প্রতি ভালোবাসার দিকটিকে।কুকুর-পশুরাও মানুষের উপর নির্ভরশীল তাদের প্রতিও আমাদের নৈতিক দায়িত্ববোধ থাকা উচিত।নচেৎ কেউ নিজেকে প্রকৃত মানুষ দাবি করতে পারেনা কখনোই। সবমিলিয়ে দারুন একটি রোলার কোস্টার রাইড এবং বলা যায় কপ্লিট একটা প্যাকেজ এবং এন্ডিং টাও হ্যাপি এন্ডিং। তাই যারা পড়েন নি অথবা রিডার্স ব্লকে আছেন তাদের জন্য দারুন একটি বই হবে খান ফ্যামিলি। দেরী না করে দ্রুত সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন।�� সবশেষে ধন্যবাদ Zamsedur Rahman Sajib ভাইয়াকে সুন্দর একটি বই পাঠকদের উপহার দেয়ার জন্য। রম্যরচনার জগতে আপনি সুদুরপ্রসারী প্রভাব ফেলুন এই কামনাই করছি।🙏💙 পার্সোনাল রেটিং:৪.৫/৫
বইটা পড়ার সময় ডোপামিনের নিঃসরন অটুট ছিল। এক বসায় শেষ করে ফেলেছি। বিমল হাস্যরসের যেন অফুরান এক ডেটা-ব্যাংক এটা৷ সেই সাথে লেখকের হিউমার জাস্ট দারুণ ছিলো।
বাড়ির বড় কর্তা যদি গাঁজাতে ডুবে গিয়ে বেশামাল আচরণ করে, তাহলে পরিবারের কপালে যে দুর্গতি আছে; তা হয়তো সহজ��ই অনুধাবন করা যায়। খান পরিবারের এই গল্পটি আজ বলব। চলুন শুনে নেওয়া যাক…
খান পরিবারের বড় কর্তা শাকের খান; যিনি গাঁজাতে বাঁচেন, গাঁজাতে মরেন। গাঁজা ছাড়া যেন কিছুই বোঝেন না। তাই গল্পের শুরুতে এক ভাড়াটিয়ার সাথে গাঁজা নিয়ে রসিকতা পর্যন্ত করেন। তার গিন্নি সালমা খান ভয়ংকর একজন ব্যক্তিত্ব। না, তিনি কাউকে মরেন বা আক্রমণ করেন এমন না। তিনি মানুষের তৃপ্তি দিয়ে খাবারের শখ একেবারে মিটিয়ে ফেলেন। খাবার নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। এমন সব ভয়াবহ জিনিস খেয়ে পেটের ব্যামো যে হবে নিশ্চিত। পরীক্ষার নিমিত্তে যেসব খাবারে পরীক্ষা তিনি চালান, তা যেমন হয় বিস্বাদ, তেমনই অস্বাস্থ্যকর। সালমা খানের আরেকটি গুণ আছে। তিনি ফেসবুক চালান। যা কিছু ঘটে সবকিছুই ফেসবুকে পোস্ট দেন। ফলে একদিন হিতে বিপরীত হয়। ভাইরাল হয়ে যায় সে। যা হয়তো ভালোর চেয়ে খারাপই করে বেশি।
কর্তা- গিন্নি তো গেল। এবার তাদের ছানাপোনার কথা হোক। ছোট মেয়ে সুমাইয়া কাজের কাজ কিছু করে না। খালি রূপচর্চায় ব্যস্ত। পড়াশোনার ব্যাপারে লবডঙ্কা। বড় ছেলে সাকিব খান (না, বাংলার মেগাস্টার সাকিব খান না। বা এই অধম সাকিবও নয়) বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। বাবার গাঁজার অত্যাচার, মায়ের রান্নার অত্যাচার আর বোনের রূপচর্চার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে বাসায় না থেকে মেসে থাকে। সেখানেও অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে সে। তবে সাকিবকে মানুষ চেনে অন্য কারণে। সে কুকুরপ্রেমী। কুকুরদের খুব ভালোবাসে। তাই তাদের বাসার কোনো ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে হলে একটা হলেও কুকুর থাকা চাই। কুকুরদের অভয়াশ্রম যেন সাকিব। নিজে অভুক্ত থাকলেও কুকুরদের খাওয়ানো তার নিত্য নৈমত্তিক ব্যাপার।
এই পরিবারে আরো একজন আছে। সালমা খানের ভাই, শাকের খানের শালা — শিহাব খান। যার মাথায় একের পর এক ব্যবসায়িক চিন্তা ঘোরে। সেই চিন্তা খুব সূক্ষ্মভাবে ঢুকিয়ে দেয় দুলাভাইয়ের মাথায়। ফলে নতুন নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে শাকের খান। শুরুতে ব্যবসা ভালো চললেও পরে লোকসান গুনতে হয়। তবুও শালা-দুলাভাইয়ের এই ব্যবসায়িক জোট অভিন্ন ও অটুট।
এই পরিবারের বাইরেও একজন আছে, যার কথা না বললেই নয়। মেয়েটির নাম শান্তি। নামে শান্তি হলেও সাকিবের জীবনে যেন এক অশান্তি এই মেয়েটি। সাকিবের পেছনে আঠার মতো লেগে থাকে। শান্তির এই কাজকর্ম পছন্দ করে না সাকিব। শান্তি কেই ঠিকঠাক পছন্দ হয় না। সাকিবকে জয় করতে না পেরে সাকিবের পরিবারের সবার মন জয় করে নিয়েছে শান্তি। কিন্তু সাকিব? তাকে জিততে না পারলে তো সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যাবে।
“খান ফ্যামিলি” জামসেদুর রহমান সজীবের রম্য উপন্যাসিকা। লেখকের রচিত আমার পড়া দ্বিতীয় বই এটি। লেখকের লেখা আমার ভালো লাগে। সহজ সাবলীল ভাষায় লিখেন। ফলে পড়তে আরাম লাগে। ছোট বইটি পড়তে বেশি সময় লাগে না। খুব দ্রুতই শেষ করা যায়।
বইটিতে খান ফ্যামিলির উদ্ভট কর্মকান্ডের সাথে পরিচয় ঘটে। যেখানে বাবা গাঁজা নিয়ে ভাড়াটিয়ার সাথে রসিকতা করেন, ছেলের সাথেও। মা উদ্ভট সব রান্নাবান্না ব্যস্ত, বোন ব্যস্ত রূপচর্চায়। আর এই পরিবারের চাপে পিষ্ট সাকিব কুকুরদের কাছে সুখ খোঁজার চেষ্টা করে।
লেখকের হাসানোর চেষ্টা ভালো লেগেছে। লেহকের হিউমারের প্রশংসা করতে হয়। তবে কিছু জায়গায় রম্য দৃশ্যগুলো আরোপিত মনে হয়েছে। মনে হয়েছে লেখক জোর করে হাসানোর চেষ্টা করেছেন। যেমন শুরুর দিকে গাঁজা নিয়ে যে রসিকতা ছিল। অবশ্য বইটা বেশ উপভোগ্য ছিল। লেখকের প্রথম বই হিসেবে বেশ ভালো বলা যায়।
আমি লেখকের প্রথম বই পড়েছিলাম খোকা ডেঞ্জারাস। দুটি বইয়ের মধ্যে সামান্য কিছু মিল রয়েছে। যেমন সেখানে খোকার পেছনে অর্পার মতো করে এখানে সাকিবের পেছনে শান্তি আঠার মতো লেগে থাকে। যেকোনো লেখকের দুটি বইয়ে এরূপ মিল থাকে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করে, লেখকের লেখার গণ্ডি সীমিত না তো? তাই আমি মনে করি মিলগুলো যেন না থাকে, এই দিকে লেখক নজর দিবেন।
তবে সাকিবকে বারবার কুত্তার বাচ্চা বলে ডাক কেমন যেন অপমানজনক মনে হয়েছে। একটু কমকম থাকলে হয়তো এই অনুভূতি হতো না। তবে সেটা দারুণ। এই শেষটা লেখক চাইলে আরেকটু রাঙাতে পারতেন। কিছুটা তাড়াহুড়ো করেছেন বলে মনে হলো। লেখক বইটিতে অবলা প্রাণীদের প্রতি যে প্রেম দেখিয়েছেন, তাই সবচেয়ে বেশি পছন্দ হয়েছে।
বানান ভুল ছিল না বললেই চলে। সম্পাদনা ভালো হয়েছে। বেনজিন প্রকাশনীর প্রোডাকশন কোয়ালিটি নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নেই।
পরিশেষে, এই ছোট্ট জীবনে একটু আধটু পাগলামী করুন। ম্যাচিউর হতে গিয়ে নিজের আনন্দ বিসর্জন দিবেন না। হাসিখুসি থাকলে বেঁচে থাকাটা আরেকটু দীর্ঘায়িত হতে পারে।
▪️বই : খান ফ্যামিলি ▪️লেখক : জামসেদুর রহমান সজীব ▪️প্রকাশনী : বেনজিন প্রকাশন ▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৫/৫
৩-৪ ঘন্টা আগে প্রাপ্তি পোস্ট দিয়েছিলাম। এখন 'খান ফ্যামিলি' শেষ করেছি পড়ে। মন খারাপ থাকলে এই বইটি ভ্যাকসিন হিসেবে কাজ করবে আপনার জন্য। প্রতিটি পৃষ্টা আপনাকে হাসাবে। অসাধারন মজার ছিলো বইটি। শান্তির আগমনের পর সাকিবের কান্ড পড়ে হাসতে আপনি বাধ্য হবেন। একটি গালিকে কিভাবে হাস্যরসাত্মক করা যায় সে ব্যাপারে লেখক দারুণ লেখনী দেখিয়েছেন। সাকিবের কুকুরের প্রতি ভালোবাসা, শাকের খান ও শিহাব খানের ব্যাবসা চিন্তা, সালমা খানের ফেসবুকের কান্ডকারখানা, সুমাইয়ার বিশ্বসুন্দরী হওয়া এবং শান্তির অশান্তির কাজ। একসময় তোহেরী হুজুরও বইটিতে আসেন অন্যভাবে যা পড়ে হাসতে হাসতে চোখে পানি আসবে। রম্য উপন্যাস হলেও শেষটা দারুণ লেগেছে। প্রাণ খুলে হাসতে চাইলে বইটি অবশ্যই পড়তে পারেন।
❛দুনিয়ার নানা রঙ্গের কথা আর কী বলি! এই রঙ্গের একটার নাম খান ফ্যামিলি।❜
একটা পরিবারে চারজনের মধ্যে একজনের মাথায় একটু গন্ডগোল থাকা অস্বাভাবিক না। কিন্তু পুরো পরিবারের মাথায় যদি বিভিন্ন রকমের ছিট থাকে তবে কী দশা হয় একবার ভাবেন! এমনই এক ফ্যামিলির নাম খান ফ্যামিলি। পরিবারের কর্তা শাকের খান। তাকে নিয়ে একটাই কথা বলা যায়,
❛গাঁ জায় আমি গাঁ জায় তুমি গাঁ জায় যায় চেনা গাঁ জা ছাড়া কারো সাথে ভাব হবেনা!❜ এই লোক সিগারেট আর গাঁ জার পুড়িয়া খান। এমনকি বাসায় এই নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন। গাঁ জা যেন তার বাড়িতে আর দশটা বাজারের সদাইয়ের মতোই আসে। বউকে জনম ডর ডরান। বউয়ের তৈরি মুখে না দেবার যোগাড় সুখাদ্য অনেক কষ্টে গেলেন। ঢাকা শহরে বাড়ির মালিক হলে নাকি আর চিন্তা থাকে না ইনকাম নিয়ে। শাকের খানের তাই হয়েছে। কয়েক তলা এক বাড়ি তৈরি করে দিব্যি আছেন। মাঝেমাঝে ব্যবসা করেন আর একটু লাভের মুখ দেখার পর সেটা টাটা বাই। বাড়িভাড়া ��েন শুধুমাত্র যাদের কুকুর আছে তাদের। তার ছেলে কুকুর ভালোবাসে বলে এই নিয়ম। শাকের খানের বিবি সালমা খান। হেবি চিজ। বাড়ির আসল কর্তা সেই। নিত্যু নতুন রান্নার নামে পরীক্ষা করেন আর সেটা বাড়ির লোক গিলতে গিয়ে বেহাল দশা হয়। বাকিরা মুখ ফুটে বলতেও পারেনা। কেকা আপার সাথে একটা প্রতিযোগিতা করলে কে জিতবে বলা যাচ্ছে না। তিনি এক দেড় বছর ধরে ফেসবুক চালান। আর তাতেই যা অবস্থা। যাই পান তাই তিনি ❛��েটে ছাইড়া দেন❜। তার ফেসবুক পোস্ট নিয়ে কখনো তিনি ভাইরাল হয়ে যান তো কখনো এমন পোস্ট দেন যা দেখে শাকের সাহেব কাইন্দা কুল পায় না। বলা যায় সালমা খানের রান্না আর পোস্ট নিয়ে সবাই একরকম জ্বালায় আছে। সালমা এবং শাকেরের মেয়ে সুমাইয়া। সে আরেক পিস। লেখাপড়া চাঙ্গে, কিন্তু মুখ মাখে রঙ্গে। রূপচর্চা নিয়ে সেই সচেতন। ভাইয়ের ওয়াশরুমে নাকি আয়না বেশি ভালো এজন্য ঘন্টার পর ঘন্টা সেখানে সাজগোজ করতে থাকে। এটা সেটা মাখতে থাকে। লেখাপড়ার কথা শুনলেই তার চাঁদবদন মুখ ঝলসানো রুটির মতো হয়ে যায়। পরিবারের বড়ো সন্তান সাকিব খান। মোটামুটি এই পাগ লের কারখানায় সে একটু স্বাভাবিক। চেহারা চুহারা মাশাআল্লাহ। কুকুর ভালোবাসে সে। এজন্য বাসার লোকে তাকে আদর করে ❛কু ত্তার বাচ্চা❜ বলে ডাকে। শুনতে বেমানান লাগলেও এটাই সত্য। বাপেও তার পোলাকে ❛কু ত্তার বাচ্চা❜ বলেন। বাড়ির বিভিন্ন কিসিমের মানুষের জ্বালায় সে মেসে থাকে। কিন্তু সেখানেও নানা জ্বালা। তবুও সেটা বাড়ির জ্বালা থেকে কম। বাবা কিঞ্চিৎ কৃপণ বলে নিজের হাতখরচ নিয়েই চালায়। চাকরির চেষ্টা করছে। এলাকায় ভালো ছেলে বলে সুনাম আছে। প্রিয়া নামের একজনের উপর ক্রাশ খাওয়া সে। এই এত অশান্তির মধ্যে আরেক অশান্তি আছে তার জীবনে। সে শান্তি নামধারী। মেয়েটা তাকে ভালবাসে। কিন্তু সাকিবের কাছে সে জলজ্যান্ত অশান্তির নাম। শান্তি খন্দকার খান ফ্যামিলির অঘোষিত বউ। সাকিবকে সে ভালবাসে। তার জন্য সে সব কিছু করে। উচ্ছ্বল এই মেয়েটা খান ফ্যামিলির কেউ হবে কি? সালমা খানের ভাই শিহাব খানও এই পরিবারের আরেক সদস্য। বাকিদের মতো সেও স্বাভাবিক না। নিত্য নতুন ব্যবসার ধান্দা নিয়ে আসে দুলাভাইয়ের কাছে। তারা তাধীন করে ব্যবসা করে। প্রথমে লাভের মুখ দেখে এরপর আর লাভ লস নাই পুরোটাই লস। তল্পিতল্পা গুটিয়ে কয়েকদিন চুপ করে থাকে। এরপর আবার তেলেসমাতি বুদ্ধি নিয়ে হাজির হয়। এভাবেই চলছে। এরা সবাই একটু অস্বাভাবিক হলেও মানুষ হিসেবে ভালো। খানের বাইরে একজনের কথা বলা যাক। এলাকায় কিছু থাকেনা ফা তরা পোলাপান। এরকমই একজনের নাম মুনীর। সে অসভ্য ধরনের। নোংরা কথা বলে। মনেও কাদা। সাকিবের সাথে যেচে ঝামেলা করতে উৎসুক। এই মানুষগুলো নিত্যদিন নানাভাবে চালিয়ে নিচ্ছে। সালমা বেগম পোস্ট করছেন, রান্না করছেন আর তা গিলতে জান তামা হয়ে যাচ্ছে বাকিদের, সাকিব মাঝে একটু ছ্যাঁকা খেয়েছে তাই নিয়ে কেঁদে বালিশ ভিজিয়েছে আবার শান্তি যেন কেমন অশান্তি থেকে আসলেই শান্ত হয়ে গেলো বোঝা যাচ্ছে না। আর বখাটে মুনীর জঘন্য এক কাজ করেছে সাকিবকে রাগাতে। কুকুর প্রিয় সাকিবের এই প্রীতি নিয়ে সে সবসময় বাজে কথা বলে। এরমধ্যে সে একদিন এলাকার কিছু কুকুরের খাবারে বি ষ মিশিয়ে দেয়। সদা শান্ত সাকিব এবার আর থেমে থাকে না। প্রতিবাদ করে এবং বেশ মারাত্মক পর্যায়ে যায়। একেবারে জে লে ঢুকতে হয় তাকে। কিন্তু এলাকায় ভালো ছেলে সুনাম থাকা সাকিবের জন্য মানুষ এগিয়ে আসে, ❛সাকিব্বাই রাজপথ ছাড়ি নাই❜ দশা হয়। এই অবস্থাতেই সাকিব আর শান্তির সবথেকে অদ্ভুত কাজটা হয়! এমন যেন শুধু খান ফ্যামিলিতেই সম্ভব।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝খান ফ্যামিলি❞ জামসেদুর রহমান সজীবের লেখা রম্য উপন্যাসিকা। আমার পড়া লেখকের প্রথম বই এটি। অনেকদিক থেকে ইচ্ছা লেখকের বই পড়বো। আমি আগ্রহী ছিলাম ❛ফার্স্ট টাইম সেকেন্ড ম্যারেজ❜ বইটা নিয়ে। তবে শুরু করলাম লেখকের লেখা প্রথম বই দিয়েই। রম্য উপন্যাসে কাহিনি থেকে হাস্যরসের দেখা পাওয়াটাই মুখ্য। আমি মনে করি রম্য উপন্যাসে হাসির মধ্যে দিয়েই হিউমার আর এমন কিছু ব্যাপার দেখানো উচিত যা হাস্যকর হলেও সত্য। এই উপন্যাসে হিউমার ব্যাপারটা তেমন নেই। তবে এজন্য খারাপ হয়েছে এমন নয়। শুরুতে আমার কাছে হাসির উপাদান গুলো আরোপিত লাগছিল। মনে হচ্ছিলো জোর করেই হাসাতে চাচ্ছেন। হাসি আসছে না। তবে কথাগুলো আবার সিরিয়াসও না। কিছুটা ভাড়ামো ধরনের। বাড়ীওয়ালার শুরুর দিকের মজা গুলো একটু বেশিই লাগছিল। শাকের খানকে উৎফুল্ল একজন চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। মনে হয়েছে সেটা মোটামুটি সফল। সালমা খানের পুরো ব্যাপারটা হাস্যকর হলেও আমার কাছে বাস্তব লেগেছে। লেখক বাস্তব জীবন থেকেই সালমা খানকে তৈরি করেছেন। তার ফেসবুক পোস্টগুলোর টপিকও একেবারেই বাস্তব। সুমাইয়া চরিত্রটাও একই রকম। তবে বড়ো ভাইকে সবাই বলে তাই সেও ❛কু ত্তার বাচ্চা❜ ডাকছে ব্যাপারটা দৃষ্টিকটু। রম্য হিসেবে যদিও দৃষ্টির ধার ধারার দরকার নেই। একইভাবে বারবার এই শব্দের প্রয়োগও কেমন জানি লাগছিল। এরপর কিছু বুঝতে না পেরে ❛ব ল দের মতো❜ এই কথাটাও অনেক স্থানে ব্যবহার হয়েছে। এখানে একই শব্দ না দিয়ে আলাদা শব্দ ব্যবহার করা যেত। সাকিব চরিত্রটা ভালো লেগেছে। ভালো লেগেছে পরিবারের বাকিদের পশুর প্রতি প্রেম। লেখক এখানে খুব সুন্দরভাবে এই ব্যাপারটা তুলে ধরেছেন। সবাই উল্টাপাল্টা করলেও পশুর জন্য তাদের প্রত্যেকের নিখাঁদ প্রেম সত্যিই দারুণ লেগেছে। শেষের দিকে মুনীরের কান্ড আর সাকিবের যে প্রতিক্রিয়া ছিল সেটা খুব ভালো লেগেছে। শান্তি আর সাকিবের শেষ দৃশ্যটা সিনেমেটিক ছিল। তবে সেখানে এত তাড়াহুড়ো না করলেও হতো। হুট করে এসেই হুট করেই শেষ হয়ে গেলো। কিছু জায়গায় আমার অদ্ভুত লেগেছে। হোমমেড হট-ডগ যে রেসিপিকে বলা হয়েছে ওটাকে আদতে হোমমেড স্যান্ডউইচ বলা হয়। বইটা একেবারে হেসে পেটে খিল ধরানোর মতো না আবার একদম বাজে না। আমার মোটামুটি লেগেছে। আরোপিত ব্যাপারগুলো না থাকলে হয়তো ভালোলাগা বৃদ্ধি পেতো। বইটির দ্বিতীয় খন্ড এসেছে আশা করি সেখানে লেখার মান আরো উন্নত হবে। লেখকের লেখার ধরন ভালো লেগেছে আমার। খুব দ্রুত লেখা। আমি রাতে বইটা শুরু করে এক দেড় ঘন্টার মাঝেই শেষ করে ফেলেছি।
প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:
প্রচ্ছদ ভালো লেগেছে। তবে জ্যাকেটে সেখানে কাহিনি সংক্ষেপ আর লেখক পরিচিতি দেয়া হয়েছে সেখানে আলাদা চিত্র থাকে কারণে লেখা বোঝা যাচ্ছিল না। সেখানে এক কালার রাখা যেত। সম্পাদনা বেশ ভালো হয়েছে। বইটির প্রোডাকশন সুন্দর।
❛খান ফ্যামিলি থাকবে। থাকবে তাদের অদ্ভুত কর্মকান্ড। হাসি ঠাট্টায় আর অদ্ভুত রান্নায়।❜
খান ফ্যামিলি পড়তে পড়তে অনেক দিন পর এতটা হাসলাম। বহুদিন আগে বইটা কিনে রেখেছিলাম, কিন্তু নানান ঝামেলায় শেষ করতে পারছিলাম না। কয়েক পৃষ্ঠা পড়েই বুঝতে পারলাম, বইটা এক বসায় না পড়লে মজাটা পুরোপুরি পাওয়া যাবে না।
অদ্ভুত এক পরিবার ‘খান ফ্যামিলি’। গল্পের নায়ক সাকিব। সাকিবের বাবা শাকের খান, মা সালমা খান, আর বোন সুমাইয়া খান। সাকিবের বাবা ভালোবাসেন গাঁজা খেতে, মা অখাদ্য খাবার রান্না করতে এবং ফেসবুকে সেগুলোর ছবি পোস্ট করতে, বোন ভালোবাসে মেকআপ করতে, আর সাকিব ভালোবাসে কুকুর। আর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাকিবকে ভালোবাসে শান্তি। শান্তি কে? সেটা জানতে হলে বইটা পড়তে হবে।
গল্পে একের পর এক মজার মজার ঘটনা ঘটে। পরিবারের কিছু বিষয় আমার নিজের কাছেও রিলেটেবেল লাগে। শেষ পর্যন্ত একটু ট্র্যাজেডিঘেঁষা ক্লাইম্যাক্স পেরিয়ে গল্প পৌঁছায় চূড়ান্ত এবং মিষ্টি একটা পরিণতিতে।
· পাঠ-প্রতিক্রিয়া:
গল্পটি পড়তে পড়তে মনে হয়েছে খান ফ্যা���িলির একজন হয়ে গেছি। গল্প পানির স্রোতের মতো এগিয়ে গেছে, সব দিকেই যেন এক ধরনের ভারসাম্য ছিল। আর এর জন্য প্রশংসা করতে হয় লেখকের সরল ও মসৃণ লিখনশৈলীর। প্রতিটি চরিত্রই নিজের জায়গা থেকে অসাধারণ প্রভাব বিস্তার করেছে।
পুরো উপন্যাসটিকে এতটা হাস্যরসাত্মক করে তুলেছে লেখকের শব্দচয়ন, কিছু অতি সাধারণ অথচ শক্তিশালী রসাত্মক শব্দ। এছাড়া সমকালীন কিছু বিষয়ও লেখক চমৎকারভাবে হাস্যরসের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। সব মিলিয়ে বইটির সাথে ভালো একটা সময় কেটেছে মাঝে মাঝে রিডিং ব্লক ছাড়ানোর জন্য এমন বই অনেক কার্যকর।
ইচ্ছা আছে খান ফ্যামিলির পরের বইটিও পড়বো। পরের বইয়ের প্রচ্ছদ দেখেই বুঝতে পারছি কাহিনি হানিমুনে পর্যন্ত চলে গেছে 🤭।
রম্য উপন্যাসকে কেন জানি আমার মনে হয় উপন্যাসের জনরাগুলোর মধ্যে কঠিনতমগুলোর একটা। পান থেকে চুন খসলেই "ক্রিঞ্জ" ট্যাগ লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। রম্য ব্যাপারটা খুব অসাধারণভাবে করতে পারতেন হুমায়ুন আহমেদ। তার পরবর্তীতে সেই স্থান এখনো শুন্যই রয়ে গেছে।
"খান ফ্যামিলি" আহামরি লাগে নি। অনেক জোরে হেসে উঠেছি এমন মুহুর্তও বই পড়ার সময় তেমন আসে নি। আবার পড়তে খারাপও লাগে নি। সব মিলিয়ে চলনসই।
বইটার সবচাইতে পজিটিভ দিক হলো পশুপ্রেম। পশুপ্রেম এর প্রতি লেখক আলাদাভাবে ফোকাস করেছেন। সমসাময়ীক লেখকদের বই পড়তে আমার ভয় লাগে থ্রিলার জনরা ছাড়া। তবে জামশেদ ভাইয়ের বই আমায় হতাশ করেনি। আর গত বছর থেকে ক্ল্যাসিক্যাল উপন্যাস পড়তে পড়তে যে বইই আমি ধরি প্রাকৃতিক সংযোগ খুঁজি বইয়ে। জামশেদ ভাইয়ের এইটা পড়ার পর আমি বলতে চাই, ইয়ং জেনারেশন এর লেখকদের মধ্যে সবুজ-সতেজ প্রকৃতিতে এখন বইয়ের ভাজে আমি পাই না। সেই সবুজ-সতেজ পরিবেশটা বইয়ের পাতায় আবার ফিরিয়ে আনুন আপনারাই।
This book is a mix of comedy, romance, and sadness, all at once. It helped me overcome my reading block. In a nutshell, it is a good book. However, some words used in the book may not be appropriate. I hope the writer will focus on this aspect in the future.
হ্যালো! হ্যালো! মাইক্রোফোন টেস্টিং ওয়ান টু থ্রি ফোর! ভাইসব, ভাইসব কান খাড়া করে শুনুন "খান ফ্যামিলি" নামের আজিব কিসিমের এক পরিবারের গল্প আজকে মাইকে দিনভর শোনানো হচ্ছে। কারো যদি শুনতে ভালো না লাগে কিছু অবশ্য করার নেই আপনার কারণ আপনার বাসার সামনে গেটেই বাজছে মাইক। তাই বরং মাইকের উপর ইট ছুঁড়ে না মেরে মনোযোগ দিয়ে গল্পটা শুনুন। যদি মজা পান একটু আধটু।
"গাঁজার নৌকা পাহাড়তলী যায়, ও মীরাবাঈ গাঁজার নৌকা পাহাড়তলী যায়"
আরে বাপরে! এত্তবড় ইটটা কে মারলি রে মাইকের উপর! এলাকাবাসী মাইন্ড খাবেন না গানটা শুনে, খান ফ্যামিলির কর্তার সাথে গানের অতি মিল। না! না! সে পাহাড়তলী যায় না, তিনি হলেন শাকের খান, তিনি শুধু গাঁজা খান। শুধু গাঁজা না বিড়ি সিগারেট ও চলে। হয় হয় গালাগালি দিতে থাকেন শাকের খানকে কিন্তু যার ওমন বউ আছে বেচারা মনের দুঃখে মিনারেল ওয়াটার আর কী করে খাবে! তিনি নতুন নতুন ব্যবসা করেন শ্যালক শিহাব খানকে নিয়ে কিন্তু শেষটা হয় ওই লস প্রজেক্ট দিয়েই। বেচারার দুঃখ কে বোঝে!
"আমি মিস Calcutta চাই না দিতে tips এখনো তো কেউ জানে না আমার statistics"
জ্বি ভাইসব এনার ব্যাপারে কেউ আগেই কিছু ধরতে পারে না কারণ তিনি সালমা খান। হ্যালো হ্যালো মাইক টেস্টিং জ্বি জ্বি এই সালমা খানকে খান ফ্যামিলির কর্তা শাকের খান পর্যন্ত ভয় পান কারণ তিনি ডেঞ্জারাস সব রান্নাবান্না শিখেছেন কেকা আপার ভিডিওগুলো দেখে দেখে বোধহয়। ফেইসবুকে খবরাখবর দিতে পছন্দ করেন। যেমন নিজেই নিজের ছেলেমেয়ের খবর পোস্ট লিখে আসেন। ভাগ্যিস আপনারা সালমা খানের আশেপাশে নেই। আপনাদের ধরে খাইয়ে দিতো নুডুলসের সেমাই!
"আমি রুপ নগরের রাজকন্যা রুপের জাদু এনেছি ইরান তুরান পাড় হয়ে আজ তোমার দেশে এসেছি"
আরে আরে চাচা মিয়া আপনি নাচেন কেন! হ্যালো হ্যালো মাইক টেস্টিং! যার কথা বললাম সে রুপের আগুনে পুড়ে শেষ মানে রুপবতী হয়ে বোধহয় খান ফ্যামিলিকে উদ্ধার করে দিয়েছে। সুমাইয়া নামের এই পুঁচকে মেয়েটার বড় গুণ ঘন্টার পর ঘন্টা রূপচর্চা করে যেতে পারে যেকোনো আয়নার সামনে। মাঝে মাঝে ঘন্টার পর ঘন্টা বাথরুমের আয়নাতেই কাজ সারে যদি অন্য আয়না না পায়। এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এবার কিন্তু রেজাল্ট নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই এই মেয়ের।
"কুত্তার বাচ্চা ফুটফুটে সুন্দর যদি তারে কারো আদর মন খুলে, আসবে ছুটে তোমার কাছে পথ ভুলে!"
আআআআ! মাইকের উপর ইট ছুঁড়েছে আবার! আরে ভাই থামেন থামেন, এই গান শুনেই খেপে গেলেন যদি বলি খান ফ্যামিলির বড় ছেলের ডাক নামই "কুত্তার বাচ্চা "! এ্যাঁ এভাবে দেখছেন কী! বড় ছেলে সাকিব কুকুর খুব পছন্দ করে। নিজের বাড়িতে ভাড়াটিয়া ভাড়া দেয়ার প্রধান শর্ত হচ্ছে তাঁদের কুকুর থাকতে হবে। রাস্তায় কোনো বেওয়ারিশ কুকুর, অভুক্ত কুকুর দেখলেই পরম মমতায় তাঁদের খাওয়ায় সে। বাপের এতবড় বাড়ি থাকতেও মেসে থাকে। কারণ বাড়ির এত হাঙ্গামা তাঁর ভালো লাগে না। তাঁর দরকার শান্তি।
শান্তির কথা উঠলো যখন আসুন শান্তি খুঁজি। হ্যালো হ্যালো মাইক টেস্টিং শুনছেন তো সবাই? বোরিং লাগছে? আচ্ছা একটা গান শোনেন,
"সাকিব যেখানে, শান্তি সেখানে এটা জানেন কী আপনি!"
শান্তি মেয়েটার পুরো নাম শান্তি খন্দকার। সাকিবের জন্য পাগল মেয়েটি সাকিব বললে দিন, সাকিব বললে রাত মানতে প্রস্তুত। সালমা খানের অখাদ্য রান্নার অত্যাচার থেকে শান্তি মাঝে মাঝে রান্না করে এনে সাকিবকে আর বাকিদের বাঁচায়। আগেভাগেই পাকাপাকি শ্বশুরবাড়ি ভাবতে শুরু করেছে সাকিবের বাসাকে! সাকিব অবশ্য একটাই ক্রাশ নিয়ে চলছে প্রিয়া।
খান ফ্যামিলির আজব কর্মকাণ্ডে আরেকজন যুক্ত আছেন শ্যালক শিহাব খান। প্রধান কাজ দুলাভাই শাকের খানকে নতুন নতুন ব্যবসার বুদ্ধি দেয়া।
সুমাইয়ার প্রাইভেট টিচার এই পরিবারের কাজকর্ম অবশ্য বোঝে কম। সে কুকুরের ভয়েই তটস্থ হয়ে পড়াতে এসে সালমা খানের রান্না খাবার খান।
খান ফ্যামিলিতে চলছে আজব কর্মকাণ্ড। যেখানে আপনি একজনকে শান্ত পেলে আরেকজন পাবেন অশান্ত। ঘেউ ঘেউ ঘ��উ ঘেউ ঘেউ ঘেউ ঘেউ। এ্যাঁ এই আওয়াজ আসে কেন মাইক থেকে!
"খান ফ্যামিলি " বইটি নিয়ে মাইকে কিছু বলার আগে আরেকটা ঘোষণা দেই বুঝতে সুবিধা হবে। রম্য রচনা বলতে আমরা এক বিশেষ রচনারীতিকেই বুঝে থাকি। বলা যেতে পারে, যে রচনায় জীবনের নানান দিকগুলো কিংবা অবান্তর কোনো প্রসঙ্গ নিয়ে হাস্যরসাত্মক রচনা হয়, সেই রচনাই রম্য রচনা। এবং রম্য রচনা কিন্তু অনেক ধরনের হতে পারে, রম্য রচনায় অনেক ভেরিয়েশন থাকে। কিছু রম্য রচনা এমনও আছে শুধু সংলাপ ভিত্তিক। আবার কিছু ক্ষেত্রে দেখেছি কথক বর্ণনা করে চলেছেন চরিত্রদের ভূমিকা নেই বললেই চলে। তেমনি বাস্তব ঘটনার সঙ্গে মিল রেখে সাজিয়েছেন লেখক এটাও এক ধরনের লেখন শৈলী।
আমি প্রচুর রম্য রচনা পড়ি। টেনিদা হোক ঘনাদা, শিবরাম থেকে পরশুরামের বিখ্যাত "বিরিঞ্চি বাবা " আমি খুঁজে খুঁজে চেষ্টা করি সব পড়তে। রম্য রচনা উপভোগ করতে পারি এর হাস্যরসাত্মক দিকগুলো বা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমাজের নানান দিকগুলো এমনভাবে তুলে আনা হয় যেন সমাজের অসঙ্গতির উপর বড়সড় একটা চপেটাঘাত এটা।
যদি "খান ফ্যামিলি" বইটির প্রথম দিকটি বলি এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে সমাজের নানান ছোট ছোট অসঙ্গতি। কিংবা পাওয়া যাবে পশুপ্রেমী সাকিবকে।
দেখা যাবে প্রযুক্তির কল্যাণে মানুষ কতটা আসক্ত হয়ে গেছে। এখন প্রযুক্তি মানুষকে সামলায়। কিংবা মানুষের জঘন্য নিষ্ঠুরতা অবলা পশুদের উপর। "খান ফ্যামিলি" বাস্তব ঘটনার আড়ালে হাসি ফোটাতে পারবে পাঠকের মুখে।
এখানে লেখকের দায়বদ্ধতা এইটুকুই থাকবে তিনি যেন ঘটনার আড়ালে হাস্যরস দিতে পারেন এবং পাঠকের কাছে হাসির পাশাপাশি থাকতে পারে কোনো বার্তা। এক্ষেত্রে লেখক এই বইয়ে বলা যায় মোটামুটি ভালোই সফল। এবং লেখকের এই বইটি প্রথম বই তো লেখনীতে কিছুটা অবশ্য কমতি লক্ষনীয়।
এক্ষেত্রে বর্ণনার সাথে ভাষাগত শব্দচয়নে আরেকটু যত্নবান হওয়া আবশ্যক মনে করছি। রম্য রচনায় আসলে হিউমার খোঁজা বোকামি মনে করি। এখন আপনি যদি গাঁজা খাওয়া বাপ দেখে কপাল কুঁচকে থাকেন তাহলে আপনার পক্ষে মাতাল বাপের মাতলামি হাস্যকর ঘটনা ভালো লাগবে না। এখানে চরিত্রায়নে আমি মনে করি লেখকের দূর্বলতা নেই।
এই বইয়ে অনেকের অভিযোগ ছিলো জোর করে হাসানোর চেষ্টা। কিছু কিছু অংশে আরো ম্যাচুরিটি খুঁজেছেন কিন্তু আমি আসলে রম্য রচনা হিসেবে বইটিকে বিবেচনা করেছি। তাই আসলে বেশ উপভোগ করেছি।
লেখকের গল্প বলার ক্ষমতা আছে সেটা ওনার লেখা আগের বইয়ের রিভিউতেই আমি বলেছি। এখানেও রিপিট করলাম। আশা করছি আরো একটু ভেরিয়েশনে উনি চমৎকার করে গল্প সাজাতে পারবেন। লেখকের বর্ণনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেন্স অফ হিউমার খুব ভালো।
আআআআআ আরে! আরে! মাইক ভাংচুর করছেন কেনো! বাঁচাও! পুলিশ! পুলিশ! আমি তো ভালোই আলোচনা করলাম মাইকে! মাইক ভাঙার আগে বলি "খান ফ্যামিলি" আপনাকে হাসাবে, ইমোশনাল করবে, হালকা ভালোবাসার অনুভূতিগুলো জানান দেবে। রম্য রচনা হিসেবে বেশ ভালো।
🌺বইয়ের নাম: "খান ফ্যামিলি" 🌺লেখক: জামশেদুর রহমান সজীব 🌺 প্রকাশনী: বেনজিন প্রকাশন 🌺 ব্যক্তিগত রেটিং: ৪/৫
আমি রিভিউ সুন্দর করে লিখতে জানি না।শুধু কিছু অনুভূতিই বলে যাচ্ছি। ঈদের দিনের বিকেলটা আমার সবসময় মনমরা যায়।তাই এবার ঠিক করলাম এই চান্সটা নেবো না।তাই একমাস আগেই খান ফ্যামিলি বইটা হাতে পাওয়ার পরও রেখে দিয়েছিলাম যাতে ঈদের দিন ঐ নিঃসঙ্গ মুহূর্তে বইটা আমার একটু আনন্দের, একটু হাসির খোরাক হয়।বলাই বাহুল্য বইটা নিয়ে যে ভীষণ এক্সপেকটেশন ছিল। পড়তে গিয়েও তেমন ফিল করেছি।তবে শেষেরটুকু পুরাই জোস।এতো দারুণ লেগেছে এন্ডিংটা। আমি বোধহয় লেখকের কাছ থেকে এতো সুন্দর এন্ডিং কল্পনা করতে পারিনি।কিন্তু এন্ডিং পড়ে ভীষণ খুশি।আমার কাছে এন্ডিংটা অনেক ম্যাটার করে। কি ছিল জানি না।তবে খান ফ্যামিলির এন্ডিং আমার হৃদয় ছুঁয়েছে।আর পুরো উপন্যাস পড়ার সময় মন খারাপ করার সুযোগই পায়নি।গুছিয়ে লিখতে পারি না বলে তখন কেবল রেটিং দিয়েছি কিন্তু কিছু বলিনি এ বিষয়ে।ভেবেছি পরে কখনো। অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করায় আমি ভীষণ কাঁচা। তবে আজকে শুধু এলোমেলোভাবে এটুকুই বলতে পারলাম।
বই সংগ্রহ করার ৫ মাস পর পড়লাম। কী যে আফসোস হচ্ছে। এই উপন্যাস এতদিন কেন ফেলে রেখেছি খোদাই জানে। এত মজার উপন্যাস আমি আগে কখনো পড়িনি। প্রতিটা পাতায় মজা আর মজা। গল্পটা মনে থাকবে অনেকদিন।
ভীষণ মন খারাপ?কিছু ভালো লাগছে না? তাহলে "খান ফ্যামেলি" তে একবার গিয়ে ঘুরে আসার অনুরোধ রইলো।কারণ খান ফ্যামেলির প্রত্যেকটা সদস্য (সাকিব ব্যাতিক্রম, ও স্মার্ট ছেলে) আপনার মুখে হাসি ফুটাতে বাধ্য।
প্রারম্ভ: ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় "খান ভিলা"নামক বিল্ডিং এ বসবাস করেন খান ফ্যামেলি। তো শুরুর দিকে কাহিনী হলো খান ভিলায় নতুন ভাড়াটিয়া এসেছেন।ভাড়াটিয়া পরিবারের প্রধান অভিবাবক কামরান হুদা মালিকের ফ্ল্যাটে গিয়ে যেনো রীতিমতো ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বসেন। কেনো ভ্যাবাচ্যাকা খায় জানতে চান? এজন্যে আপনাকে তো "খান ফ্যামেলি" তে কয়েক ঘন্টার জন্য ঘুরতে যেতে হবে।
উপন্যাসের কিছু অংশ: ★°'নাস্তা আনলাম তোমার জন্য।বাসায় ফ্রেশ পাউরুটি ছিলো,আজকেই আনা হয়েছে।ডিম ভেজে তা পাউরুটির মধ্যে রেখে সস মাখিয়ে দিয়েছি।এটাকে হোমমেড হট ডগ বলতে পারো।সেই সাথে দেশি গরুর দুধচা'। 'ইয়ে মানে... হোম মেড কী যেনো বললেন?'সালমা খানের পুরো কথাটা বুঝতে না পেরে প্রশ্ন করে তানজির। "ওমা!খাওনি কখনো?হোমমেড হট ডগ।বাংলায় এটাকে কী বলে?ও হ্যাঁ ঘরে তৈরি গরম কুত্তা"। ★°শাকের সাহেব চিৎ হয়ে ঘুমিয়ে আছেন।তার পাশে বসে সালমা খান সদ্য তোলা সাকিবের কান্নারত অবস্থার ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলেন।ক্যাপশন লিখলেন,"আমার ছেলে জীবনে প্রথমবারের মতী ছ্যাকা খেয়েছে।এখন বালিশ ভিজিয়ে কাঁদতেছে বেচারা।আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন যেন এই মানসিক ধকল কাটিয়ে উঠে আবার নতুন করে প্রেম্ব পড়তে পারে। আমিন' ★“তুমি কী আমাকে একটু শান্তিতে থাকতে দিবে না?’ ‘আরে, তারমানে তুমি শান্তি খুঁজতেছিলা! এই যে তোমার শান্তি তোমাকে কল দিয়েছে।’ ‘দেখো শান্তি, এই মুহূর্তে আমি মোটেও শান্তিতে নাই।” ★“স্যার, একটা প্রশ্ন করতে পারি?’ হাসিমুখে প্রশ্ন করে সুমাইয়া। ‘হ্যাঁ হ্যাঁ। অবশ্যই।’ ‘শুনলাম থানায় যারা আটকা থাকে তাদের নাকি ডিম থেরাপি দেয়া হয়! এটা কি সত্যি? না মনে, আপনিও তো দুদিন আটকা ছিলেন।” ★"আপনারা কী মানুষ?এই অবলা বোবা জন্তুগুলোরে মারতে বিন্দুমাত্র হাত কাঁপলো না?আপমাদের কী হৃদয় বলে কিছু নাই?" সাকিবের কথা থামে না। চিৎকার করে বলেই যায় কথা।চিৎকার করতে করতে গলার রগ ফুলিয়ে ফেলে। পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ "খান ফ্যামেলি" খুবই মজার কান্ডকীর্তিতে ভরা উপন্যাস হলেও মাঝে মাঝে আমি কিছু শিক্ষনীয় এবং কিছু সুন্দর বিষয়ও খেয়াল করেছি।এই ধরুন অবলা কুকুরদের প্রতি সাকিবের ভালোবাসা,সাকিবের মা সালমা খানের ফেসবুকের অপব্যবহার, আর শেষ মুহূর্তে সাকিবের প্রতি শান্তির ভালোবাসা।সব মিলিয়ে উপন্যাসটি পড়া অবস্থায় আপনি আপনার সকল ব্যস্ততা ভুলে গিয়ে নিজেকে খান ফ্যামেলির সদস্য ভাবাই শুরু করবেন.(এটা আমার ব্যাক্তিগত অভ্যেস) পারসোনাল রেটিং: ৪.৯/৫ বই: খান ফ্যামিলি লেখক: Zamsedur Rahman Sajib ️ধরন: রম্য উপন্যাস প্রকাশনী: অক্ষরবৃত্ত মুদ্রিত মূল্য: ৳২৫০