Jump to ratings and reviews
Rate this book

মাতৃকথন: তপ্ত ধূলার পথে, যাব ঝরা ফুলের রথে

Rate this book
Spiritual Tales, Folk Traditions, and Reminiscences of Bengak as recounted by Babathakur— a Revolutionary fighting for motherland, who had spent his later days worshipping the Mother Goddess.

184 pages, Hardcover

First published January 18, 2024

1 person is currently reading
17 people want to read

About the author

Tamoghna Naskar

15 books20 followers

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
7 (77%)
4 stars
2 (22%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 6 of 6 reviews
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,880 followers
May 24, 2024
এই বইয়ের রিভিউ করা আমার পক্ষে খুব কঠিন কাজ।
আসলে প্রিয় লেখক যখন প্রিয় বিষয় নিয়ে লেখেন, তখন তার নিস্পৃহ ও নির্মোহ মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় দূরত্বটি তৈরি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। তবু দেখি, ভালো-মন্দ মিলিয়ে বইটি কেমন লাগল তা লেখা যায় কি না।

একদা বিপ্লবী, পরে মাতৃসাধক ও দার্শনিক বাবাঠাকুরকে গ্রামের ছেলেরা ভারি ভালোবাসে। নানা কারণে, নানা ঘটনায় সাহায্য চেয়ে বা অর্থের সন্ধানে তারা হানা দেয় মানুষটির ছোট্ট ঘরে। তিনিও বুকের মধ্যে ঘন হয়ে থাকা কথাগুলো তাদের শোনান— যাদের মধ্যে গল্পে, ব্রতকথায়, ইতিহাসে আর পুরাণে জীবন্ত হয়ে ওঠেন আমাদের মাতৃভূমি, এই বাংলা।

লেখকের অতি স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভূমিকার পর লেখাটি বিন্যস্ত হয়েছে এইক'টি অধ্যায়ে~
১. অপ্রচলিত মাতৃপূজন;
২. অভয়া মা;
৩. কাল রূপা;
৪. নবপত্রিকা ও লৌকিক চণ্ডী কথা;
৫. সনকা সর্বমঙ্গলা;
৬. বাণিজ্য-ব্রত ও সমাজচিত্র;
৭. সন্তোষী মা— বাঙালির চাকরি-যাত্রা;
৮. শুভ দুর্গা, রাল দুর্গা;
৯. অপরাজিতা মা ও ইতিহাস;
১০. শংকরতারণী ব্রত— অলক্ষুনে নারীর কথা;
১১. পশুত্বে চেতনা চিলনি-মা;
১২. দেবতার লাম্পট্য;
১৩. লাল দুর্গা;
১৪. মলুটির মা;
১৫. নারীর দশা— ইতুপূজা;
১৬. চৌদ্দশাক-চৌদ্দদীপ কথা;
১৭. অঘ্রাণের পালা— পার্বণ ও প্রকৃতি রক্ষা;
১৮. অশ্বত্থ ব্রত;
১৯. ছড়া বৃত্তি।
বাবাঠাকুরের কথায় অনুচ্চ স্বরে অথচ অগ্নি-আখরে ফুটে ওঠে স্বাধীনতা আন্দোলনের কিছু ছবি। পরিচয় পাওয়া যায় রিপুতাড়িত অথচ অসহায় মানুষের চাওয়া-পাওয়ার চিরন্তন সংগ্রামের— যা কখনও ভয়ে, কখনও ভাবে, কখনও বা অভাবে জন্ম দেয় নানা দুর্বলতার। কিন্তু ঈশ্বরী তখন শুধুই ভক্তের বিপত্তারিণী হন না; বরং বাবাঠাকুরের বয়ানে তিনি মায়েরই মতো নীতি ও লোকশিক্ষা দেন, যাতে ব্যক্তির উপকার ব্যপ্ত হয় সমষ্টিতে।
পড়তে-পড়তে মনে হচ্ছিল, এ শুধুই বিস্মৃতির সামনে দাঁড়ানো লৌকিক দেবী, হারিয়ে যেতে বসা ব্রত, বা ইতিহাস-বিচ্ছিন্ন কিছু রীতির দলিল নয়। এ আসলে ভক্তি আর ভালোবাসার রঙ দিয়ে আঁকা বাংলা মায়েরই ছবি— যা আজ হারিয়ে যেতে বসেছে আমাদের অজ্ঞতা ও লোভের শিকার হয়ে৷
লেখকের আশ্চর্যরকম সজল ও মায়াভরা গদ্যের জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়। এমন একটি বিষয়ের জন্য ঠিক এমন গদ্যেরই প্রয়োজন ছিল। এটির সাহায্যে চাইলে তিনি ফাঁপা আবেগ দিয়েই লেখাগুলো বোঝাই করে দিতে পারতেন। কিন্তু তা তিনি করেননি; বরং দর্শন ও প্রথার বর্ণনায় বিশ্বস্ত থেকেও যুক্তি ও ইতিহাসের আলোয় তাদের বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই বইয়ে। সশ্রদ্ধ অথচ স্বচ্ছ এমন একটি প্রচেষ্টার জন্য কোনো প্রশংসাই যথেষ্ট নয়।

কিন্তু চাঁদেও কলঙ্ক আছে৷ সেভাবেই এই বই নিয়ে তিনটি বিষয়ে আক্ষেপ থেকে গেল। সেগুলো হল~
প্রথমত, উপরোক্ত উনিশটি অধ্যায়ের (এমন বিচিত্র সংখ্যা কেন, কে জানে) প্রতিটির সঙ্গে অলংকরণ থাকা উচিত ছিল। ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যের যেক'টি অদ্বিতীয় অলংকরণ এতে আছে, তারা এই অপ্রাপ্তির অনুভূতিটি প্রবলতর করে তুলেছে।
দ্বিতীয়ত, বইটিতে মুদ্রণ-প্রমাদ তেমনভাবে দৃষ্টিগোচর না হলেও 'সুয়ো-দুয়ো ব্রত' প্রসঙ্গে ব্রতকথার মাঝামাঝি জায়গায় সুয়োরানি আর দুয়োরানির নাম অদলবদল হয়ে গেছে। পরের মুদ্রণে এটা ঠিক করা অত্যাবশ্যক।
তৃতীয়ত, সন্তোষী মা-র আখ্যানটি এই বইয়ের ভাবের সঙ্গে একেবারেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বরং বাংলার আরও অন্তত একটি ব্রত, বিশেষত ষষ্ঠীর ব্রত নিয়ে আলোচনা করলে অনেক বেশি ভালো হত।

তবে এগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত অনুযোগ-অভিযোগ। এর সঙ্গে এই বইটি পড়ে হওয়া সুখানুভূতির কোনো সম্পর্ক নেই। দারুণ গরমে তেতেপুড়ে ঘরে ঢোকার পর কাঁসার গ্লাসে কুজোর জল আর তারপর বাতাসা বা ক'টা নকুলদানা খেতে পেলে যেমন লাগে, এই বই তেমনই অনুভূতিতে মন ভরিয়ে তোলে।
যদি বাংলা মায়ের চরণে রক্তজবার মতো নিজের অন্তরটিকে একবার ছোঁয়াতে ইচ্ছে হয়, তাহলে এই নাতিদীর্ঘ বইটি হাতে তুলে নিন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, হতাশ হবেন না।
Profile Image for রিয়া (ঋ_আ) মন্ডল.
24 reviews1 follower
January 13, 2025
কিছু বই পড়ার পর মনের বেদনা, জীবনের জ্বালা- যন্ত্রণার উপশম হয়। কিছু শব্দ, কিছু বাক্য , কিছু বর্ণনা এতটাই সাবলীল হয় যে ধীরে ধীরে তা অন্তঃকরণে প্রবেশ করে চেতনার জাগরণ ঘটায়। লোককথা, লোকসংস্কৃতি, ব্রতকথা সবটুকুই আমাদের অস্তিত্বের গোড়ার কথা মনে করিয়ে দেয়। সঙ্গী হয় বৈজ্ঞানিক চেতনা, ব্যবহারিক আচার-আচরণ, রীতি-নীতি সংক্রান্ত উপদেশ, ছড়া কাটা বুলি ও এই সমস্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া দার্শনিক উপাখ্যান যা একাধারে মানুষের বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়েছে আবার অপরদিকে তত্ত্বের নির্মাণ ঘটিয়েছে। তমোঘ্নবাবু একজন জাদুকর এবং অত্যন্ত শক্তিশালী গদ্যকার যিনি গল্পের কাল্পনিক স্তরটুকু অবিচ্ছিন্ন রেখেও বাস্তবের গভীরে ডুব দিতে পারেন। তাঁর জাদুকলমে আমাদের ব্রতযাপন, মেয়েদের মানসিক দ্বন্দ্ব, সময়কালীন রাজনৈতিক টানাপোড়েন সবটুকু মিলেমিশে গেছে। মাতৃপূজন যেপ্রকার মাতৃত্বের স্বাদ আমাদের দেয় তা এই বইয়ের প্রতি পাতায় রয়েছে। মা-প্রকৃতি-সৃষ্টি-ইতিহাস সমন্বিত এমন রচনা অন্ধকার জীবনে আলোর সন্ধান দেয়...🙏🙏
Profile Image for Rupam Das.
77 reviews2 followers
February 16, 2025
কিছু লেখা পড়লে পুরোনো দিনের অনেক কথা মনে পড়ে যায়। সেরকম‌ই অভিজ্ঞতা হলো মাতৃকথন ব‌ইটি পড়ে। ছোটবেলায় দাদু ঠাম্মা দিদা মামার কাছে অনেক গল্প শুনতাম। অনেকটা সেরকম গল্প শোনার মতো পরিবেশে ফিরে গেছিলাম এই ব‌ই এর মধ্য দিয়ে। গল্প কথক বাবা ঠাকুর যিনি প্রথমে ছিলেন বিপ্লবী পরে হয়েছেন সাধক , শোনালেন বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলের মাতৃ পুজোর কথা যা হয়তো অনেকের কাছে অজানা ও স্বল্প পরিচিত।কত রকমের লৌকিক আচার, ব্রতকথা ও সে‌ই সব উপকথার সঙ্গে জড়িত কাহিনি বাবা ঠাকুর বলে‌ চলেন ছোটদের একদম সহজ ভাবে। অভয়া মা,কাল রূপা, শুভ দূর্গা,লাল দূর্গা, অপরাজিতা মা, বনদুর্গা এরকম কতো অচেনা মাতৃদেবীর সাথে পরিচিত হলাম। ইতু পুজো, চৌদ্দ শাক- চৌদ্দ দীপের এই লৌকিক আচার এবং নব পত্রিকার ব্যাখা আগে জানা থাকলেও পড়তে খুব ভালো লেগেছে।কত সরলভাবে বাবা ঠাকুর বুঝিয়ে দেন লৌকিকতা‌ই আমাদের বাংলায় সাধনার মূল ভিত্তি সেই কারনেই এত লৌকিক দেবদেবী । ভয় অপেক্ষা ভক্তি ভালোবাসা ও সমর্পণের বেশী গুরুত্ব পায় এখানে।

প্রচলিত ছড়া ও অপ্রচলিত ব্রতকথা ও উপকথা আসলে রূপক বা প্রতিকী মাত্র এর অন্তর্নিহিত অর্থ সহজ উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এছাড়া পৌরাণিক কাহিনী কিভাবে লৌকিক ঘটনার সাথে মিলেমিশে যায় ,কুসংস্কার কিভাবে সমাজে ধীরে ধীরে আরোপিত হয় এই সব বিষয়গুলি খুব সহজে তুলে ধরেছেন।ইতিহাসের মতো নয় সুন্দর গল্প করার মতো করে লেখা তা‌ই একঘেয়ে কখনো‌ই মনে হয় না।
লেখকের লেখনী সম্পর্কে আলাদা করে বলতেই হয়। কারন এই সমস্ত বিষয়গুলি এতোটাই সহজ ও সাবলীল ভাবে লেখা হয়েছে যাতে কিশোর বয়সের পাঠকরাও অনায়াসে বুঝতে পারবে। এটা‌ই এই ব‌ইএর সার্থকতা বলে মনে হয়। ব‌ই এর প্রচ্ছদ ও অলংকরণ খুব সুন্দর হয়েছে ।তবে আরও কিছু স্কেচ ও ছবি থাকলে ভালো হতো।আজকের ইনস্টা, রিলস সুপার ফাস্ট লা‌ইফ স্টা‌ইলের এর সময়ে নিজেদের পুরোনো লোকসংস্কৃতি সম্পর্কে সংক্ষেপে হলেও জেনে রাখা উচিত।
।ধন্যবাদ লেখক আশা করবো মাতৃকথন এইভাবে চলতে থাকবে।☺️
জয় মা 🙏
4 reviews
May 27, 2024

মাতৃ কথন
আজ পাঠকদের এক অন্য স্বাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব।
এই স্বাদ আর গন্ধ বাংলার মাটির , বাংলা র মাটি মায়ের পথ চলা , সেই পথ চলতে চলতে বাংলা র অজস্র লোক গাথা , লোক কাহিনী গ্রামের লাল রুক্ষ মাটির থেকে গঙ্গার পলি মাটির দেশে সর্বত্র মায়ের লীলাক্ষেত্র। আমাদের মত নশ্বর জীবের মুখে মায়ের সেই হারিয়ে যাওয়া কাহিনী, যা কিনা ছোটবেলা য় মা ঠাকুমার মুখে শোনা।
সাধক , পরিব্রাজক ভূপেন্দ্র নাথ গোঠ বিশ্বাস মহাশয় , বাবা ঠাকুর একাধারে বিপ্লবী ও মাতৃসাধক , এর থেকে প্রাপ্ত মায়ের এক এক করে উনিশটি রূপের কাহিনী অভয়া মা থেকে লাল দুর্গা।

প্রত্যেক লোক কথা পড়ার সাথে মায়ের প্রতি যেন সন্তানের অপত্য স্নেহ কোথাও লৌকিক ও অলৌকিক তার দোলাচলে র মাঝে চোখে জল এনে দেয়...
এ শুধু সে পরম মমতা ময়ী মা কে মনে করায় তা শুধু নয়, রক্ত মাংসের তৈরী নিজের মায়ের কথা মনে করিয়ে দেয়। কোন কিছুর প্রত্যাশা না করে যে মা অবিরাম নিজের শরীর এর কথা খেয়াল না করে তিল তিল করে তার সন্তানকে বড় করে তোলে , এই মনের প্রকাশ যেন মাতৃ কথন শেষ করে পেলাম । সুদূর বাঁকুড়া থেকে উত্তর দিনাজপুর থেকে সুন্দরবন অবধি প্রতিনিয়ত মায়ের রূপ ফুটে উঠেছে এই কাহিনী গুলো র মধ্যে দিয়ে।।
তমোঘ্ন নস্কর দাদা র সাথে বই মেলায় যখন দেখা হয়েছিল তখন একটাই কথা বলেছিলেন দাদা এর স্বাদ অন্য রকম , সত্যিই দাদা অনন্য এর স্বাদ ঠিক যেন মায়ের হাতের রান্না করা পরমান্ন এর স্বাদের মতো।।।
শেষ করব একটাই কথা দিয়ে~
।। আমায় একটু জায়গা দাও মায়ের মন্দিরে বসি আমি অনাহুত একজন , জয় মা ।।
Profile Image for Pratik Kumar Dutta.
85 reviews1 follower
July 24, 2025
গ্রাম বাংলার টান বড় অমোঘ টান। বাতাসের প্রতিটি কণায় ছড়িয়ে রয়েছে এক দুর্নিবার আকর্ষণ। গ্রাম বাংলার ফসলে ভরা সবুজ ক্ষেত, রাঙা মাটির ধুলো, মুক্ত নীল আকাশ আর নদীর স্বচ্ছ জল ছাড়াও যা আমাদের প্রাণে গেঁথে রয়েছে তা হল বাংলার লোককথা। বাংলার বিভিন্ন পথে-ঘাটে, মন্দিরে-চাতালে, অলি-গলিতে ছড়িয়ে রয়েছে বাংলার বিভিন্ন পুজো-পার্বণ ও দেবী মায়ের কথা। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন লোকাচার, উপকথা ও বিভিন্ন লৌকিক অলৌকিক ঘটনার কথা পাঠকের সামনে যত্ন করে পরিবেশন করেছেন লেখক তমোঘ্ন নস্কর। তাঁর লেখা "মাতৃকথন" বইটিতে তিনি বর্ণনা করেছেন লোকমুখে শোনা বিভিন্ন স্থানীয় দেব-দেবীর ঘটনা ও মাহাত্ম্য। এই বইটিতে কথকের ভূমিকায় লেখক এনেছেন এক পরিব্রাজককে। তিনি ভূপেন্দ্রনাথ গোঠ বিশ্বাস। লোকমুখে পরিচিত বাবাঠাকুর নামে। তাঁর কথার গুণে অজানা-অচেনা কাহিনীই হয়ে উঠেছে রোমাঞ্চে ভরা লোকশিক্ষা ও গ্রাম্য উপকথা। বাংলার বিভিন্ন গ্রামের জানা-অজানা দেব-দেবীর কথা, প্রচলিত প্রথা ও ব্রতকথা সবই লেখক তুলে ধরেছেন তাঁর এই "মাতৃকথন" বইটিতে। সেখানে যেমন উঠে এসেছে নবপত্রিকা ও সন্তোষী মায়ের কথা, তেমনভাবেই উঠে এসেছে চিলনি মা, ইতুপূজা আর চৌদ্দশাকের কথাও। গ্রাম বাংলার নিজস্ব এক গন্ধ আছে। সবুজ ক্ষেত, রাঙা মাটি, নদীর জল আর মায়ের ভালবাসার এক মিশ্র গন্ধ। পাঠক যদি সেই গন্ধ সেবনের জন্য এই বই হাতে তুলে নেন, তবে এই সুখপাঠ্য তাকে হতাশ করবে না।
Profile Image for Monolina Sengupta.
133 reviews20 followers
April 23, 2025
"গভীরে ভাবলে, মায়েরই সন্তানই মা। কারণ মা থেকেই মা আসেন। মা একটি জীয়ন্ত, শাশ্বত কিংবদন্তি, যাঁর আধার স্নেহ ও শক্তি।"

বাবাঠাকুর বলেছেন "তোমার আমার ভিতরে যে ধনাত্মকতা আছে, যা কিছু যতটুকু ভালো আছে সেই ভালোর উপরেই তিনি বসেন। তুমি যখন মন দিয়ে পড়াশোনাটা করছ, তখন তোমার এই পড়াশোনাটা হলেন তোমার মা কালী। আবার আমি যখন মন দিয়ে ধ্যান করি, তখন ধ্যান আমার মা কালিকা"। ঠিক সেভাবেই এই বইটা পড়ার মাধ্যমেই যেন সাধারণ মানুষের একবার মাতৃসাধনা সম্পন্ন হলো। প্রচলিত ছড়া, অপ্রচলিত ব্রতকথা ও উপকথা আসলে রূপক বা প্রতিকী মাত্র, সহজ উদাহরণের মাধ্যমে অন্তর্নিহিত অর্থ, পৌরাণিক কাহিনীর লৌকিক ঘটনার সাথে মিশে যাওয়া, সমাজে কুসংস্কারের ছড়িয়ে পড়া...সব কিছুর সাথে সরলভাবে বাবা ঠাকুর এও বুঝিয়ে দিয়েছেন বা বলা ভালো চোখ খুলে দিয়েছেন যে লৌকিকতা‌ই আমাদের বাংলায় সাধনার মূল ভিত্তি, ভয় অপেক্ষা ভক্তি,ভালোবাসা ও সমর্পণের বেশী গুরুত্ব এখানে।

পড়ুন, এই বই পড়ুন। আপনি আস্তিক-নাস্তিক যাই হোন না কেন, অন্ততঃ বাংলার ইতিহাস, লৌকিকতাকে জানতে পড়ুন। তবে ভাববেন না ইতিহাস বা আধ্যাত্মিকতার গুরুগম্ভীর আলোচনা রয়েছে, রয়েছে লেখকের কলমে-বাবা ঠাকুরের বাচনভঙ্গিতে অত্যন্ত সহজ সরল ভাষায় ছোটবেলায় দাদুর কাছে গল্প শোনার মতো পরিবেশ। বইটা আমার কাছে বিশেষ বিশেষ কারণে অনেকটাই মনের কাছের, তাই লেখকের অন্যান্য বই আমার সংগ্রহে থাকলেও খুব করে চেয়েছিলাম ওই আশীর্বাদধন্য কলমের একটা স্বাক্ষর যেন এই বইটাতেই থাকে। খুব বেশি কিছু গুছিয়ে বলা সাজেনা এই বইয়ের সম্পর্কে, শুধু বলবো আপনার পছন্দের Genre যাই হোক না কেন, এটা পড়ুন, অবশ্যই পড়ুন।
তমোঘ্ন দাদা, মায়ের আশীর্বাদে তোমার কলম অক্ষয় হোক।
Displaying 1 - 6 of 6 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.