জীবন কি কোনও বাঁধা নিয়মে চলে? অসহায় দু’জন মানুষ যদি একসঙ্গেও থাকে, তবু কি তারা হয়ে উঠতে পারে একে অন্যের সহায়? কতটা পারে, কতদিন পারে? বিপর্যস্ত দুই নরনারীর সঙ্গ-নিঃসঙ্গতার এই কাহিনীতে এমন বহু প্রশ্ন। দেখা হবার কথা ছিল না, তবু হল। কখনও-কখনও জীবন বোধহয় এমনই অবধারিত। রেল-কামরায় সর্বস্ব-হারানো কমলিকার পাশে এসে দাঁড়াল প্রমথেশ। সেই থেকে একসঙ্গে। সইসাবুদ করে স্বামী-স্ত্রী। প্রমথেশের জীবনেও বহু ঘাত-প্রতিঘাত, জটিলতা। ক’বছর আগে চোখের সামনে একটা দুর্ঘটনা ঘটতে দেখে মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেছিল। এখনও থেকে-থেকে সেই ধাক্কাটা আক্রমণ করে। মায়ের স্মৃতিও মধুর নয় মোটেও। তদুপরি স্বভাবে রয়েছে বাউণ্ডুলেপনা। একদা কুখ্যাত ‘শীলের গলি’তে যখন কমলিকাকে নিয়ে থাকতে এল প্রমথেশ, তখন থেকেই তিলক তাদের নিত্য সহচর। একদিকে প্রমথেশ-কমলিকা, অন্যদিকে তিলক—এই তিন জনকে নিয়ে গড়ে-ওঠা এই অন্যস্বাদ উপন্যাসে শুধুই বাইরের জীবনের কাহিনী নয়, মানুষের অন্তর্জীবনেরও অসামান্য উন্মোচন।
Bimal Kar (Bengali: বিমল কর) was an eminent Bengali writer and novelist. He received 1975 Sahitya Akademi Award in Bengali, by Sahitya Akademi, India's National Academy of Letters, for his novel Asamay.
বিমল কর-এর জন্ম ৩ আশ্বিন ১৩২৮। ইংরেজি ১৯২১। শৈশব কেটেছে নানা জায়গায়। জব্বলপুর, হাজারিবাগ, গোমো, ধানবাদ, আসানসোল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। কর্মজীবন: ১৯৪২ সালে এ. আর. পি-তে ও ১৯৪৩ সালে আসানসোলে মিউনিশান প্রোডাকশন ডিপোয়। ১৯৪৪-এ রেলওয়ের চাকরি নিয়ে কাশী। মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘পরাগ’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক, পরে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকা ও ‘সত্যযুগ’-এর সাব-এডিটর। এ-সবই ১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে। ১৯৫৪-১৯৮২ সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮২-১৯৮৪ ‘শিলাদিত্য’ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক। বহু পুরস্কার। আনন্দ পুরস্কার ১৯৬৭ এবং ১৯৯২। অকাদেমি পুরস্কার ১৯৭৫। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার ১৯৮১। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নরসিংহদাস পুরস্কার ১৯৮২। ‘ছোটগল্প—নতুন রীতি’ আন্দোলনের প্রবক্তা।
মা, দাদা-বৌদি আর ছোট্ট ভাইপো কে নিয়েই তিলকচাঁদের পরিবার। বাবা গত হয়েছেন বেশ আগেই, মা কর্পোরেশনের স্কুলে পড়ান। দাদা একটা ভালো চাকরি জুটিয়ে ফেলেছে শ্বশুরের কল্যাণে। 'শীলের গলি' র মতন জায়গায় দাদা-বৌদি আর থাকতে চাননা বলে বদলি নিয়ে চলে যাচ্ছেন। 'শীলের গলি'র বদনাম তো আজকালকার কথা নয়, শোনা যায় এ পাড়ায় আগে কয়েকঘর বাজারি মেয়ের বসবাস ছিল। কালের ফেরে আজ আর সেসব নেই বটে, তবু দুর্নাম পুরোপুরি ঘোচেনা।
তিলকচাঁদ পড়াশোনা ছেড়েছে উচ্চ মাধ্যমিকের পরপরই, এখন বাড়ি বাড়ি দুধ বিলি আর ক্যান্টিনে ডিম সাপ্লাই করে বেড়ায়। অবসরে বন্ধু লালীর সাথে আড্ডা।
হঠাৎ তাদের পাড়ার সবচেয়ে পরিত্যক্ত বাড়িটায় মানুষ এসে পড়ে। তিলকচাঁদ কর্মঠ ছেলে, সাহায্য করতে গিয়ে সখ্যতা গড়ে ওঠে প্রমথেশ দা আর কমলিকা বৌদির সাথে। পাড়ায় কানাঘুষা শোনা যায় ওই বাড়িটা ছিল বেশ্যাবাড়ি, এক ব্যবসায়ী পূর্ণিমা বলে এক বাইজি কে যুদ্ধের বাজারে বাড়িটা কিনে দিয়েছিলেন। সে বাড়িতে হঠাৎ এতোবছর পর প্রমথেশ রা এলোই বা কেন? প্রমথেশ আর কমলিকার সম্পর্কের মাঝে ফাঁকটা কোথায়? তারা একত্রে থেকেও একসাথে থাকে না কেন? দেখা হবার কথা ছিল না তবু হলো। কখনও কখনও জীবন বোধহয় এমনই অবধারিত।
তিলকের জন্য মায়া হয়, কমলিকাদের জন্য দুঃখ হয় আর প্রমথেশদের জন্য হয় করুণা। বিমল কর মানব মনের জটিল অংক কষলেন নির্বিকারে। কখনও আশা জাগে, কখনও হতাশ হই।
This entire review has been hidden because of spoilers.