ব্যঙ্গ নয়, বিদ্রূপ নয়, শ্লেষ নয়, হঠাৎ সিরিয়স দিকে মোড়-ফেরানো নয়, হাসির গল্প নির্ভেজাল হাসির গল্প হিসেবেই যে কতদূর সার্থক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে বিমল করের ‘সরস গল্প’-এর এই সংকলন তারই শ্রেষ্ঠ উদাহরণ। এ যুগের অগ্রগণ্য কথাসাহিত্যিক বিমল করের বহু জনপ্রিয় কাহিনী বইয়ের পাতা থেকে উঠে এসে অসংখ্যবার রূপায়িত হয়েছে নানান দৃশ্য ও শ্রুতিমাধ্যমে। এর অনেকগুলিই দম-ফাটানো হাসির। সেই পুনঃস্মরণীয় গল্পমালায় রয়েছে ‘কালিদাস ও কেমিস্ট্রি’, ‘বসন্তবিলাপ’, ‘বৃদ্ধস্য ভার্যা' কিংবা ‘চার তাস’ ইত্যাদি হুল্লোড়ময় কাহিনী। সেই আগাগোড়া রসময় গল্পগুলির সঙ্গে সমগোত্রীয় আরও একগুচ্ছ কৌতুক রঙিন গল্প মিশিয়ে পরিবর্ধিত সংস্করণে প্রকাশিত হল হাসির কাহিনীর এই অনবদ্য সংকলন। এ যেন বই নয়, হাসির অ্যাটম বোমা। হো-হো শব্দে ফেটে পড়তে হবে। একবার নয়, বারবার। মানবমনের গভীরে যাঁর কলম ডুবুরির মতো অতলস্পর্শী, সেই একই লেখকের কলমের আঁচড়ে এমন জীবন্তভাবে ফুটে উঠতে পারে নির্মল কৌতুকের ঝরনাধারা, এই গল্পাবলী না-পড়লে তা বিশ্বাস করা কঠিন হত।
Bimal Kar (Bengali: বিমল কর) was an eminent Bengali writer and novelist. He received 1975 Sahitya Akademi Award in Bengali, by Sahitya Akademi, India's National Academy of Letters, for his novel Asamay.
বিমল কর-এর জন্ম ৩ আশ্বিন ১৩২৮। ইংরেজি ১৯২১। শৈশব কেটেছে নানা জায়গায়। জব্বলপুর, হাজারিবাগ, গোমো, ধানবাদ, আসানসোল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। কর্মজীবন: ১৯৪২ সালে এ. আর. পি-তে ও ১৯৪৩ সালে আসানসোলে মিউনিশান প্রোডাকশন ডিপোয়। ১৯৪৪-এ রেলওয়ের চাকরি নিয়ে কাশী। মণিলাল বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘পরাগ’ পত্রিকার সহ-সম্পাদক, পরে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ পত্রিকা ও ‘সত্যযুগ’-এর সাব-এডিটর। এ-সবই ১৯৪৬ থেকে ১৯৫২ সালের মধ্যে। ১৯৫৪-১৯৮২ সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮২-১৯৮৪ ‘শিলাদিত্য’ মাসিক পত্রিকার সম্পাদক। বহু পুরস্কার। আনন্দ পুরস্কার ১৯৬৭ এবং ১৯৯২। অকাদেমি পুরস্কার ১৯৭৫। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় পুরস্কার ১৯৮১। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নরসিংহদাস পুরস্কার ১৯৮২। ‘ছোটগল্প—নতুন রীতি’ আন্দোলনের প্রবক্তা।
তারাপদ রায়ের মত একেবারে সম্পূর্ণ রম্য গল্প নয় । সামাজিক প্লটের উপর কিছুটা রম্য ভাব দেওয়ার চেষ্টা করেছে প্রতিটা গল্পে । কিছু কিছু গল্প বেশ ভালো ছিল । কিছু কিছু গল্প মোটামোটি টাইপ ছিল ।
নির্মল হাস্যরস বড়োই দুর্লভ জিনিস। ছোটোদের লেখায় যদিও বা সে জিনিস সম্ভব হয়, বড়োদের জন্য তেমন জিনিস লেখা মোটেই সহজ নয়। শরদিন্দু বা পরশুরাম যা পেরেছেন, তা অধিকাংশ সাহিত্যিকের নাগালের বাইরেই থেকে গেছে ওই মাত্রাজ্ঞানের অভাব বা অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে। এই সংকলনে কিছু গল্প সত্যিই টপ-নচ। পড়ে বিমলানন্দ প্রাপ্তি হয়। কিন্তু একটা বড়ো সংখ্যক গল্প ইনুয়েন্ডো-র ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল। তবুও, সময় কাটানোর পক্ষে বেশ ভালো উপায় এটি। পড়ে দেখতে পারেন।
যদিও আদি রসের গল্প তথাপি লেখক অনেক রাখঢাক রেখেই আদিরসের স্বাদ দিতে চেয়েছেন। ফলে যেটা হয়েছে গল্প পড়ে পরিতৃপ্তি আসি আসি করেও আসেনি। আর কিছু গল্পে দুই ঘটনার সময়ের দূরত্ব অনেক বেশি ছিলো, যেন জোর করে মেলানোর চেষ্টা। তবে আদিরসের সাথে প্রাত্যহিক জীবনের কমেডির সংমিশ্রণ দারুণ ছিলো। যদিও দাগ কেটে যায় এমন কোন গল্প পাইনি। ৩ তারকাই ঠিক আছে।
এই বইটি হাতে পাবার আগে বসন্ত বিলাপ কম করে হলে ২৫-৩০ বার দেখেছি, অথচ কার গল্প জানতাম না। পড়তে শুরু করার পর বাংলা সিনেমার ৭০-৮০ দশকের কথা মনে পড়ছিলো। কোনো সুড়সুড়ি বা অযথা হাসাতে যাবার ইচ্ছে নেই, শুধুমাত্র কথা আর ঘটনার মারপ্যাচে আপনি হাসতে বাধ্য। পুজোর আগে বইটা পড়তে বসি, নস্টালজিক হয়ে পড়ছিলাম এরকম লেখা পড়ে, যেখানে আছে আদ্যো-পান্তো বাঙালি, বাঙালিয়ানা, বৈঠক, আড্ডা, বন্ধুদের মধ্যে রঙ্গ-রস, পরশুরাম এর কথায় এবং ইত্যাদি। এবছর পুজো vibes নিয়ে আসার জন্য বইটির অবদান অনস্বীকার্য।