উড়ন্ত দুই পরীর হাতে ঝুলন্ত নালা, সেই ছবি দিয়ে সাজানো রঙিন কাগজের বিয়ের পদ্যে গুরুজনদের স্নেহাশীর্বাদ, ছোটদের উচ্ছ্বাস আর বন্ধুদের হাসিতানাশা— ক'দিন আগেও ছিল বাঙালি বিয়েবাড়ির অপরিহার্য অঙ্গ। চলন কমেছে, কিন্তু আজও পুরোপুরি অদৃশ্য নয়। বিবাহ যেহেতু বাঙালি সমাজজীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, তাই বিবাহবাসরের এই কাব্যকথায় সেকাল-একালের স্বনামধন্য কবি-সাহিত্যিকদের লেখনীনিঃসৃত রচনাও কম নেই। বিপুল ও বৈচিত্র্যনয় সেইসব রচনা থেকে এমন বহু দুর্লভ দৃষ্টান্ত তুলে এনেছেন চিত্রা দেব তাঁর এই নতুন স্বাদের রম্যগ্রন্থে। শুধু তাই নয়, কনে দেখা থেকে শুরু করে। বিবাহবাসর পর্যন্ত বাঙালি বিবাহের নানান পর্যায় সম্পর্কেও লেখিকা শুনিয়েছেন বহু চমকপ্রদ তথ্য। ইতিহাস, স্মৃতিকথা, এমনকী গল্প-উপন্যাস থেকেও আহৃত এইসব স্বাদু ইতিবৃত্তের মধ্য দিয়ে বাঙালি সমাজের সুখদুঃখের স্মৃতি জড়ানো ক্রনপরিবর্তমান জীবনযাত্রারও একটি স্পষ্ট, নিখুঁত ছবি এ-বইকে করে তুলেছে গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ, এক সামাজিক দলিল। পরিবর্ধিত এই সংস্করণে আরও কিছু তথ্য সমৃদ্ধ হয়ে নতুন সাজে প্রকাশিত হল।
বাংলাভাষা ও সাহিত্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর উপাধি লাভ করে চিত্রা দেব মধ্যযুগের এক অনাবিষ্কৃত মহাভারতের ওপরে গবেষণা করে ডক্টরেট পেয়েছেন। কবিচন্দ্রের মহাভারত, বিষ্ণুপুরী রামায়ণ, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দের মনসামঙ্গল ও ময়ূরভট্টের ধর্মমঙ্গল সম্পাদনা করেছেন একক ও যৌথভাবে। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাঁর নিরন্তর গবেষণার উল্লেখযোগ্য স্বীকৃতি রয়েছে বিদগ্ধ মহলে। মধ্যযুগীয় সাধারণ মানুষ ও পুঁথিপত্র সম্পর্কে লিখেছেন একটি প্রবন্ধ সংকলন ‘পুঁথিপত্রের আঙিনায় সমাজের আলপনা। বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসে ঠাকুরবাড়ির মহিলাদের ভূমিকা নিয়ে লেখা তাঁর অপর উল্লেখযোগ্য গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল’। অনুবাদ করেছেন প্রেমচন্দের হিন্দী উপন্যাস ‘গোদান’ ও ‘নির্মলা’। বাংলার নারী জাগরণের বিভিন্ন তথ্য সংকলনে ও বৃহত্তর গবেষণা করেছেন। আনন্দবাজার পত্রিকার গ্রন্থাগার বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রয়াণ : ১ অক্টোবর, ২০১৭।