Awarded the Nobel Prize in Literature in 1913 "because of his profoundly sensitive, fresh and beautiful verse, by which, with consummate skill, he has made his poetic thought, expressed in his own English words, a part of the literature of the West."
Tagore modernised Bengali art by spurning rigid classical forms and resisting linguistic strictures. His novels, stories, songs, dance-dramas, and essays spoke to topics political and personal. Gitanjali (Song Offerings), Gora (Fair-Faced), and Ghare-Baire (The Home and the World) are his best-known works, and his verse, short stories, and novels were acclaimed—or panned—for their lyricism, colloquialism, naturalism, and unnatural contemplation. His compositions were chosen by two nations as national anthems: India's Jana Gana Mana and Bangladesh's Amar Shonar Bangla.
সমাজতন্ত্রের উত্থান পর্বকালে অন্যান্য আর সব মানবহৈতেষীর ন্যায় রবীন্দ্রনাথও মানুষে মানুষে যে অর্থনৈতিক, সামাজিক বৈষম্য আছে তা দূর হবার একটা আশা রেখা দেখেছিলেন। বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ অভিভূত হয়েছিলেন বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়ার সাধারণ কৃষক শ্রমিকদের জীবনযাত্রা ও চিন্তায় যে বিস্ময়কর উত্তরণ ঘটেছিলো তাতে। তিনি তাঁর চিঠিতে হতভাগা দরিদ্র ভারতবাসীদের সমাজের তলানিতে পড়ে থাকার আফসোস করেছেন, তাঁদের মুক্তির জন্য রবীন্দ্রনাথ দরদ মানবিক আর্তিতে পরিপূর্ণ। রবীন্দ্রনাথ সমাজের পরিবর্তন চাইলেও তিনি বিপ্লবী কারবারে বিশ্বাসী ছিলেন না। সোভিয়েত সমাজের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা থাকলেও, আড়ালে থাকা অসঙ্গতিগুলো তিনি ঠিকই ধরতে পেরেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ বুঝতে পেরেছিলেন ; পশ্চিমের অতি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ব্যক্তিকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন আর হতাশাপূর্ণ করে তোলে, অপরদিকে সোভিয়েতে ব্যক্তিকে পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে মানুষ থেকে যন্ত্রে রূপান্তরিত করবার প্রয়াস করছে। মানুষের মানবিক পূর্ণতা পেতে হলে ব্যক্তি এবং সমাজের একটা সুসংহত অবস্থানে পৌঁছানো দরকার যেখানে ব্যক্তি ও সমাজ একে অন্যের পরিপূরক হবে।
রাশিয়ার চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরা দেবীকে লিখেছেন ১৯৩০ সালে দেখা সোভিয়েট দেশের কথা। পরীক্ষিত সমাজতন্ত্রের ভাল এবং মন্দ। কোথাও বলার ভঙ্গিতে কুন্ঠা নেই। অযথা আকুন্ঠ প্রশংসা নেই। উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। বলপ্রয়োগকে সাবধান করেছেন। পুঁজিবাদকে তীর্যক শব্দবাণে বিদ্ধ করতে চেয়েছেন। কিন্তু সামন্ততন্ত্রের ব্যাপারে রবিঠাকুরের দৃষ্টিভঙ্গি শান্ত ও সুর তুলনামূলক নরম। তুলনা করেছেন ভারতবর্ষের অশক্তি, অশিক্ষা, অচিকিৎসা, ক্ষুধা, বঞ্চনা ও অনৈক্যের সাথে সোভিয়েট দেশের নতুন ব্যবস্থার সাথে। সামগ্রিক পর্যবেক্ষণে তৎকালীন সোভিয়েট ব্যবস্থা নিয়ে রবিঠাকুর যে প্রচ্ছন্ন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন তা পরবর্তীতে সত্যি বলে সম্পূর্ণ প্রতিভাত হয়েছিল।
"পায়ের তলায় সর্ষে" নামে সুন্দর একটি প্রবাদ আছে। যারা জগৎসংসারে এক জায়গায় থিতু না হয়ে দেশ-বিদেশময় চক্কর দিয়ে বেড়ান, তাদেরই বুঝি পায়ের তলায় থাকে সর্ষে। সেই সর্ষেধারীদের তালিকায় রবীন্দ্রনাথকে না রাখলে অবিচার হবে সুনিশ্চিত থাকুন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কৈশোর শেষ করেই যাত্রা শুরু করেন ইউরোপের পানে। না আর থামাথামি নেই। আমৃত্যু সেই যাত্রা চলেছে।
তারই ফলাফল সত্তর বছর বয়েসে কবিগুরুর লেনিনের, বলশেভিকদের দেশে ভ্রমণ। ১৯৩০ সালে তিনি পাড়ি দেন সোভিয়েট দর্শনে। সেই দর্শনরূপ বর্ণনা করেন চিঠির মাধ্যমে। বিশ্বকবির সেই ১৪ টি চিঠির সংকলন নিয়েই "রাশিয়ার চিঠি"।
রুশ বিপ্লবের একযুগ পেরিয়ে গিয়েছে। সেই একযুগের বেশি সময়ে কী অর্জন করেছিলো সোভিয়েট? রবীন্দ্রনাথ জানিয়ে দিচ্ছেন বিস্ময়ভরে,
"একেবারে মূলে প্রভেদ। আগাগোড়া সকল মানুষকে এরা সমান ক'রে জাগিয়ে তুলছে। "
রবীন্দ্রনাথ শাদাচোখে যা দেখেছেন, তাই লিখেছেন তা মনে হওয়া স্বাভাবিক। জ্বী,না। স্বাভাবিকের অস্বাভাবিকত্বই মহানত্বে কে বহন করে। কবির অন্তর্দৃষ্টি বড্ড প্রবল। সেই প্রবলতার সাথে যোগ হয়েছে স্বদেশভক্তি। সোভিয়েটে লোকের পরিবর্তন খুব চোখে পড়ছে, ভালো লাগছে রুশীসহ অন্যান্য জাতের কর্মস্পৃহা দেখে। তখনই তিনি ইংরেজশাসিত দেশবাসীর অবস্থার তুলনা করলেন। আর তাতে তার মনে পড়লো, "কিন্তু একশো বছর হয়ে গেল, না পেলুম শিক্ষা,না পেলুম স্বাস্থ্য, না পেলুম সম্পদ। "
সোভিয়েটের জার আমলের নির্যাতন, কুশিক্ষা, বৈষম্যসহ সব মন্দত্বের কী দারুণ অবসান ঘটিয়েছে বিপ্লবোত্তর রাশিয়া তথা সোভিয়েট তার প্রশংসা সারাবই জুড়েই ছিলো। আর সাথে বোনাস পেয়েছি তৎকালীন ভারতবর্ষের করুণ অবস্থার চিত্র,জানতে পেরেছি জাতে জাতে, ধর্মে ধর্মে হানাহানি ও বিদ্বেষ কতো ভয়ংকর পরিণতি বয়ে আনছে তার কলঙ্কিত অধ্যায় নিয়ে কবির দীর্ঘশ্বাস। সেই দীর্ঘশ্বাস স্বদেশের প্রতি কবির ভালোবাসাকেই নির্দেশ করছিলো বারবার। জনতার শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে রাশিয়ার (পড়ুন তৎকালীন সোভিয়েটের) সর্বত্র। জনতাই সব সেখানে। ধনী-নির্ধনের ব্যবধানে ঘুচে যাওয়া জন্মভূমির স্বপ্নে মশগুল হন,বাস্তবতা মনে করে ব্যথিত হন। প্রতিজ্ঞা করেন দেশে ফিরে রুশীদের মডেলে দেশে সমবায় প্রতিষ্ঠা করবেন,দুস্থপ্রায় স্বদেশকে জাগিয়ে তুলবেন সোভিয়েটের মতো।
রবীন্দ্রনাথ ঠিক বিপ্লব চাইতেন না বলা যাবে না, তবে বিপ্লবের বড়ো অনুরাগী তিনি ছিলেন তার স্বীকৃতি "রাশিয়ার চিঠি"র পরতে পরতে আছে।
হ্যা,প্রশ্ন আমার মনেও জেগেছিলো। সোভিয়েটে ভিন্নমত খুবএকটা গ্রহণীয় বস্তু নয়, সমাজতন্ত্রে ব্যক্তিমানুষের মৌলিকত্ব বিলীন হয় সমষ্টির কল্যাণের নামে। রুশমুগ্ধ সরল কবির চোখে কী তা ধরা পড়েনি? নাকী তিনিও সাম্যের অনুমোদনের স্বার্থে ব্যক্তিকে জলাঞ্জলি দিতে প্রস্তত আছেন।
ঠিক এখানেই ভ্রমণপিপাসু দেশ-কাল- সময় সচেতনতার পরিচয় দেন রবীন্দ্রনাথ। নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবলে জানান দেন, তিনি রুশবিপ্লবের সব মানলেন, বুঝলেন, বুঝে প্রশংসা করলেন অকুন্ঠচিত্তে। কিন্তু যেখানে ব্যষ্টির মুক্তি নেই, ব্যষ্টির চিন্তা যেখানে গুরুত্বহীন, সেখানে সমষ্টির উন্নতিলাভ সাময়িক মাত্র। ব্যষ্টিকে বাদ দেয়ার অপরাধেই হয়তো সমাপ্তি ঘটবে সাম্যবাদী সোভিয়েটের। এই সুদূরপ্রসারী বিশ্লেষণ যেন ১৯৯১ সালের সোভিয়েটের ভাঙনকেই ইঙ্গিত করছিলো।
"রাশিয়ার চিঠি" এককথায় অনবদ্য এক দলিল '৩০ এর দশকের সোভিয়েট আর পরাধীন ভারতবর্ষকে চেনার, সেই চেনাটা শেখাচ্ছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ! সেইসাথে পাঠক হিসেবে পেলাম আশ্চর্যসুন্দর এক ভ্রমণকথা পাঠের সুযোগ।
রাশিয়ায় কমিউনিস্ট শাসনামলে রাশিয়া ভ্রমনরত লেখক নতুন এক রাশিয়ায় মুগ্ধ। পুরু বইটি ১৪ টি চিঠির সংকলন, যেগুলা রাশিয়ায় থাকাকলিন সময়ে রাশিয়ার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক দিক নিয়ে লেখা, পরে আছে লেখকের ব্যক্তিগত কিছু ভাবনা। ১৯৩০ এর দিকে লেখা লেখা অনেক মুগ্ধতা নিয়ে পড়লাম, তাছাড়া লেখকের সমাজ ভাবনা, রাজনৈতিক ভাবনা মনোমুগ্ধকর।
The fact that we are still intellectually backward enough to bicker over Rabindranath Thakur through the narrow “us” versus “them” lens has confined this fascinating figure to an extremely limited domain. Ironically, many of those who seem to celebrate him reduce him to a romantic poet of love and nature, who is distant from the social, economic, and cultural realities—as if these are mere nuisances to the aesthetics of art and culture. Perhaps that is why, at least partly, many people would struggle to name even a single prose work written by Thakur.
“Letters from Russia” was banned by the British colonial government when parts of it were published in a prominent English magazine in 1934. The book is a collection of fourteen letters written during Thakur’s visit to the newly established Soviet Union in 1930. He described the journey as a pilgrimage of his life.
Thakur was moved mostly by the Soviet's wholehearted attempts to expand education, healthcare, agriculture, and cultural participation among people of vastly different nations, cultures, and geographical backgrounds. He admired the Soviet project to dismantle class hierarchy and bring workers and peasants into the world of knowledge, art, science, and history. He was particularly struck by the sight of ordinary peasants and workers attending and enjoying Tolstoy plays and art exhibitions—something almost unimaginable in India. Like a true intellectual, in most of the letters, Thakur compared the conditions of colonial India with those of pre-revolutionary Russia and tried to pinpoint what political and ideological priorities enabled such rapid social transformation. He rightly located the root cause of miseries of India to it's colonial exploitation.
The letters, however, are not uncritical. Tagore was never pro-revolution. He believed hierarchy to be, at least partly, intrinsic to human society. He noted that Bolshevikism won't just last on force since, according to him, it failed to find a sustainable balance between the individual and the society.
❝তখনকার দিনে দেশের পলিটিক্স্ নিয়ে যাঁরা আসর জমিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে একজনও ছিলেন না যাঁরা পল্লীবাসীকে এ দেশের লোক ব'লে অনুভব করতেন। আমার মনে আছে পাবনা কন্ফারেন্সের সময় আমি তখনকার খুব বড়ো একজন রাষ্ট্রনেতাকে বলেছিলুম, আমাদের দেশের রাষ্ট্রীয় উন্নতিকে যদি আমরা সত্য করতে চাই তা হলে সব-আগে আমাদের এই তলার লোকদের মানুষ করতে হবে। তিনি সে কথাটাকে এতই তুচ্ছ বলে উড়িয়ে দিলেন যে, আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলুম যে, আমাদের দেশাত্মবোধীরা দেশ বলে একটা তত্ত্বকে বিদেশের পাঠশালা থেকে সংগ্রহ করে এনেছেন, দেশের মানুষকে তাঁরা অন্তরের মধ্যে উপলব্ধি করেন না। এইরকম মনোবৃত্তির সুবিধে হচ্ছে এই যে, আমাদের দেশ আছে বিদেশীর হাতে এই কথা নিয়ে আক্ষেপ করা, উত্তেজিত হওয়া, কবিতা লেখা, খবরের কাগজ চালানো সহজ; কিন্তু দেশের লোক আমাদের আপন লোক, এ কথা বলবামাত্র তার দায়িত্ব তখন থেকেই স্বীকার করে নিতে হয়, কাজ শুরু হয় সেই মুহূর্তে।
সেদিনকার পরেও অনেক দিন চলে গেল। সেই পাবনা কন্ফারেন্সে পল্লী সম্বন্ধে যা বলেছিলুম তার প্রতিধ্বনি অনেকবার শুনেছি--শুধু শব্দ নয়, পল্লীর হিতকল্পে অর্থও সংগ্রহ হয়েছে, কিন্তু দেশের যে উপরিতলায় শব্দের আবৃত্তি হয় সেইখানটাতেই সেই অর্থও আবর্তিত হয়ে বিলুপ্ত হয়েছে, সমাজের যে গভীরতলায় পল্লী তলিয়ে আছে সেখানে তার কিছুই পৌঁছল না।
রুশ বিপ্লবের পর উত্তোরত্তর কমিউনিস্ট আদর্শে এগিয়ে চলেছে সোভিয়েত। সেসময় ভারতবর্ষ এবং বাংলার অবস্থা সুখকর নয়। এমন সময়ে বিদেশ ভ্রমণ করে রবি ঠাকুর উপলব্ধি করলেন, তিনি এতদিন অন্য জগতে বাস করছিলেন, যা তিনি অসাধ্য ভাবতেন, তা সাধিত হচ্ছে রাশিয়ায়।ক্যাপিটালিস্ট বৃটিশ শাসনে কৃষকের অবস্থা দেখে জমিদার রবীন্দ্রনাথ অনেক হা হুতাশ তো করেছেন, কিন্তু তিনিও ভাবতেন শ্রমিক, মুটে, মজুর, কৃষক দের জন্মই হয়ত আজীবন অবহেলিত হয়ে সেবাব্রত পালন করা, এর নিরসনের কোনো উপায় নেই। কিন্তু আগাগোড়া সকল মানুষকে সমান ভাবে জাগিয়ে তোলা সম্ভব, সেই চিন্তা তিনি রাশিয়া ভ্রমণে পেয়েছেন।আজকের সমাজ তরুনরাই যে বদলাতে পারে সেটা তিনি বলে গেছেন।
রবীন্দ্রনাথের অন্তর্দৃষ্টি ব্যাপক ও চিরন্তন। গ্রন্থটিতে রুশ বিপ্লবের সারকথার পাশাপাশি তদানীন্তন স্বদেশের বৈপ্লবিক বৈপরীত্য এবং কবির অদেখা স্বপ্নের এক সুন্দর ভারসাম্য প্রকাশ পেয়েছে চিঠিগুলোর মধ্য দিয়ে।