সুলতান-ই-আলম ওয়াজিদ আলি শা বাদশা ওরফে ওয়াজিদ আলি শা।অযোধ্যার শেষ নবাব।মহাবিদ্রোহকে ঘিরে ইংরেজদের চক্রান্তে রাজ্যহারা হয়ে প্রিয় শহর লক্ষ্ণৌ যা সেই মুহূর্তে ধ্বংস প্রায়,সেটি ছেড়ে যাত্রা করছেন কলকাতার মেটিয়াবুরুজে।সময় তখন ১৮৫৬সাল।
আরব্য উপন্যাস পড়তে পড়তে যে ছবিগুলো কল্পনায় ফুটে ওঠে,সেগুলো জীবন্ত হয়ে ওঠে একমাত্র এই লক্ষ্ণৌ শহরেই-লিখেছিলেন বিদেশিনী এমা রবার্টস।মহাবিদ্রোহের রিপোর্ট লিখতে আসা লন্ডনের পত্রিকা "দি টাইমস" এর প্রতিবেদক উইলিয়াম রাসেল জ্বলন্ত লক্ষ্ণৌ দেখেই বলেছিলেন এর সাথে রোম,অ্যাথেন্স,কন্সটান্টিনোপল কোনো শহরের তুলনা চলে না।আধুনিক লক্ষ্ণৌ এর সূচনা হয় মূলত নবাব আসফঊদ্দৌলার হাত ধরে।অঢেল টাকা তিনি ব্যয় করেছেন নগর সজ্জায়।প্রায় প্রত্যেক নবাবই এই শহরকে নতুন নতুন প্রাসাদ,মহল,ইমামবাড়া,রাস্তা,গম্বুজ,মিনার,সৌধ,নদীর ওপর ব্রীজ এসব উপহার দিয়ে গেছেন।স্থানীয় অধিবাসীরা তাদের শহরকে বলতো "আখতার নগর" বা স্বর্গীয় শহর।লক্ষ্ণৌ ভারতের ব্যবিলন।
লক্ষ্ণৌ থেকে বিতাড়িত হলেও ওয়াজিদ আলি শা-এর রুচি বা শৈল্পিক বোধ চলে গিয়েছিলো না। ভাগীরথীর তীরে কলকাতাকে তিনি সাজাতে লাগলেন তার প্রিয় শহর লক্ষ্ণৌ এর আদলে।ইমারতের পর ইমারত,চিড়িয়াখানা,বাগ-বাগিচা গড়ে উঠতে লাগলো।মেটিয়াবুরুজে আসতে শুরু করলো গায়ক,কবি,নর্তকী,চিত্রশিল্পী।গোমতী তীরের মতো ভাগীরথীর তীরেও চলতে লাগলো গজল,কত্থক,ঠুমরী।
বইটিতে পুরোনো রাজ্যের ঐশ্বর্যের বর্ণনা,ইংরেজদের দখলদারি,বিশ্বাসঘাতকতা, নবাবের কলকাতায় এসে নতুন জীবন ধারার কথা এসব এত প্রাণবন্ত ভাবে সাজানো যে বারবার পড়তে ইচ্ছে করে।সুখপাঠ্য একটি বই।