সায়ন্তনীর গড়িয়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতক ও কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির শখ। কবিতা ও গদ্য দুইই চর্চার বস্তু।ক্লাস সেভেনে প্রথম প্রকাশ সংবাদ প্রতিদিনের শনিবাসরীয় পাতায়'চশমা' ছোট গল্প। তারপর প্রতিদিন, বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, আর ছোটদের পত্রিকা সাহানা আর বাংলা দেশের পত্রিকা ভোরের কাগজে লাগাতার লিখে যাওয়া।
বাংলা বই-এর রিভিউ বাংলাতে হবে এটাই স্বাভাবিক, কিন্তু গুডরিডস-এ ইউরোপিয়ান ভাষার প্রাদুর্ভাব এতোই বেশি যে পৃথিবীর সর্বাধিক মানুষের বলা ভাষাদের মধ্যে ৫ম হওয়া সত্বেও বাংলা বই এখানে প্রায় নেই বললেই চলে, আর যেকটি আছে তাদের রিভিউ-ও আমার মতো অভাজনেরা অভ্যাস-বশতঃ ইংরেজিতেই করে| কিন্তু এই বইটি, মানে যেটির প্রসঙ্গে কয়েকটি কথা লেখার জন্যে এতো ভ্যাজর-ভ্যাজর জুড়েছি, সেটির রিভিউ বাংলায় না করলে মনটা জলে ইনো ঢালার পরের অবস্থার মতো থেকে যাবে, শান্ত হবে না; অতঃপর....|
সায়ন্তনী পুততুণ্ড এই মুহুর্তে বাংলা ভাষায় লেখালেখি করা সবথেকে শক্তিমান সাহিত্যিকদের একজন| তাঁর কলমের জোর (সে চরিত্র-চিত্রণ-ই হোক বা বিষয়বস্তু বা কথ্য অপভাষার প্রয়োগ) সম্মন্ধে নতুন করে সেই সব পাঠক-কে কিছুই বলার নেই যাঁরা “নন্দিনী”, “ছায়াগৃহ” বা “দেশ” পত্রিকায় ওনার গল্প ও ধারাবাহিক লেখা পড়েছেন| কিন্তু এই শক্তিশালী কলমের সঙ্গে যখন একটি সরস মন ও ফুরফুরে মেজাজ যুক্ত হয় তখন যে কী দুর্দান্ত ঘটনা ঘটে তা এই বইটি না পড়লে আন্দাজ করা যাবে না| এই উপন্যাসের (নভেল্লা বলাই সংগত, বইটি এতোই ক্ষীনতনু) গল্পটা আমি বলতে চাই না, কারণ তাহলে অর্ধেক মজাই মাটি হবে| বরং এটুকু বলি যে শীর্ষেন্দুর অমর সৃষ্টি ‘মনোজদের অদ্ভূত বাড়ি’ যদি সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় তাঁর টপ ফর্মে (মানে যখন তিনি ‘রসেবশে’ লিখছেন) থাকার সময়ে লিখতেন এবং তার বিভিন্ন চরিত্ররা যদি শিশু-কিশোরের স্তর পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হতো, আর তারই মাঝে যদি মিশে যেতো বনফুলের সরস চরিত্রায়ন, Kill Bill-এর হিংস্রতা, “বাইশে শ্রাবণ”-উত্তর স্বাধীনতা-প্রাপ্ত অপশব্দ-বহুল বাংলা (ফরেন নয়, খাঁটি দিশি) এবং পলিটিক্যাল কারেক্টনেস-কে কাঁচকলা দেখানো বেশরম ‘ফিল গুড’ ভাব, তবে হয়তো এই বইটি তৈরি হতো| সঞ্জীব তেমন কোনো বই লেখেননি ভেবে আফসোস করবেন না, বরং হাতে গরম এই বইটি কিনুন ও পড়ুন| মনে আনন্দ হবে, ঠোটের ফাঁকে মুচকি বা দাঁত-দেখানো হাসি জাগবে, হয়তো বা রোমান্স-ও জেগে উঠবে, কারণ এই বই-এ একটি-দুটি নয়, তিন-তিনটি সফল প্রেমের (সাহিত্যিক-এর ভাষায় ‘পেমের’) উপাখ্যান রয়েছে| আর রিভিউ পরবেন না, এবার বইটি হস্তগত করুন| Highly Recommended.
এই বইএর নাম আর কভার দেখে যে টাইপের (১৮+ অ্যাডাল্ট বই আরকি🤭) বই বলে ভাবছেন তা কিন্তু মোটেও নয়। এটা আসলে হালকা চালের ফাজলামি ভরা একটা বই।বলতে পারেন লেখিকা অদ্ভুতুড়ে সিরিজের কাছাকাছি যেতে চেয়েছিলেন আরকি। হাসির বুদ্বুদের ছড়াছড়ি এখানে। হাসির জায়গায় হেসেছি ঠিক কথা, কিন্তু গল্পটা পড়ে ঠিক শান্তি পাইনি। ব্যাপারটা একদমই জমেনি,আমার কাছে অন্তত।খুব বোরিং ফিল করেছি। ওই একটু যে হেসেছি শুধু সেজন্যই 1 স্টার দিলাম।
১)বইএর অক্ষর গুলো এতই হালকা(মানে কালিটা গাঢ় না) যে পড়তে অসুবিধা হচ্ছিলো,এরকম লেখা একনাগাড়ে পড়লে মাথা ধরে যায়। অক্ষর গুলো একটু বড় পরিষ্কার হলে পড়তে সুবিধা হয়। ২) বেশ ধীর গতির লেখা, বেশি দ্রুত এগোনো যাচ্ছিল নাহ্, হাসির খোরাক থাকলেও তাড়াতাড়ি এগোনো যাচ্ছিল না। ৩) হিউমারের ব্যবহার যথাযথ ভাবেই করেছেন লেখিকা। যেমন একটা উদাহরণ দিই, " ভাই নিজেও জানে সে ছ' মাসের বেশি বাঁচবে না।...কিন্তু মরার পর তাকে সস্তার জিনিসপত্র দিয়ে যা তা করে শ্মশানে পাঠালে হবে, তা তার বহুত না পসন্দ।তাই সে এখন থেকে নিজের মৃত্যুর শপিং করে রাখছে।এমনকি শ্রাদ্ধের কার্ডও ছাপিয়ে ফেলেছে।শুধু ডেটটা বসানো বাকি।" বুঝুন ঠেলা😂। ৪) লেখিকা এখানে কথ্য অপভাষার প্রয়োগ করেছেন, যা আমরা পাড়ার ঠেকে বা চ্যাংড়া ছেলেদের মুখে হামেশাই শুনে থাকি। এদিক দিয়ে লেখিকা কিন্তু ফাটিয়ে লিখেছেন। ৫) এরকম একটা বইএর কভার ঐ....টাইপের হাওয়ার কি দরকার ছিল !!?
একেবারে খারাপ নয়। বেশ ভাল। তাছাড়া হিউমার গুলো বেশ মজার ছিল। আর পড়তে তাই সেভাবে বিরক্ত আসেনি। তাছাড়া অল্প অল্প কিছু মেসেজ রয়েছে যা জীবন সম্পর্কে আপনাকে ভাবিয়ে তুলবে। আবার জীবন কে নতুন ভাবে চেনাবে। লেখিকা বেশ হিউমার দিয়ে সমাজের অপর দিক গুলো বুঝিয়ে দিয়েছে।
প্রচুর হেসেছি বইটা পড়ে তবে পড়তে অনেক সময় লেগেছে।মলাটের ছবিটার সাথে ভিতরের বিষয়বস্তুর বিশেষ মিল নেই। সময় কাটানোর জন্য মন্দ না,সেই সাথে ছোট কিন্তু দামি কিছু কথা আছে। এইসব মিলিয়ে,ভালোই।