🌟📚 পুস্তক - নীলঘূর্ণী 📚🌟
🌟🖊 লেখিকা - সুচিত্রা ভট্টাচার্য 🖊🌟
🌟📌 মুদ্রিত মূল্য - ৩০০ টাকা 📌🌟
🌟📗 প্রকাশক - আনন্দ পাবলিশার্স 📗🌟
🌟📜 পৃষ্ঠা সংখ্যা - ২০০ পাতা 📜🌟
‘কাছাকাছি থাকলে শুনি মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিন/সম্পর্ক রাখাই দায়।’ ‘আমাদের সম্পর্ক’ কবিতায় শক্তি চট্টোপাধ্যায় সম্পর্ক নিয়ে এমন কথাই বলেছেন। কিংবা রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ যেমন বলেছেন, ‘দূরত্ব জানে শুধু একদিন খুব বেশি নিকটে ছিলাম’। শক্তি বা রুদ্র দুজনের কবিতায়ই নৈকট্য থেকেই সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হওয়ার বিষয়টিই মুখ্য। প্রশ্ন হলো, কখন এমনটি হয়? এক কথায় এর উত্তর নেই। তবে মোটাদাগে বলা যায়, ভালোবাসা নামের অনুভবটি ফিকে হতে শুরু করলেই এই দূরত্বের প্রবেশ ঘটে যেকোনো সম্পর্কে।
ভালোবাসা বস্তুটি কী? এ এক ভীষণ তালগোলে ব্যাপার। এ নিয়ে নানা মুনির নানা মত। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল যেমন বলেছেন, ‘ভালোবাসার সম্পর্ক হলো একই আত্মায় বসবাস করা দুটো ভিন্ন দেহের গল্প।’ আর প্লেটো বলে গেছেন, ‘এক ফোঁটা ভালোবাসার হাতছানি যে কাউকেই কবি বানিয়ে দিতে পারে।’ এ দুই সংজ্ঞা থেকে ভালোবাসা কি বোঝা গেল?
বোঝা যাক বা না যাক, বলা হয়—ভালোবাসাই হলো পৃথিবীর শুদ্ধতম আবেগ। যেখানে প্রচণ্ড পাগলামি থাকে, থাকে পরস্পরের প্রতি এক অমোঘ টান, পরস্পরকে কাছে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা। এ নিয়ে কবি-শিল্পীদের আবেগ ও তার প্রকাশ আবার সব সময়ই বেশি। এই যেমন কেবল ভালোবেসেই কবি কাজী নজরুল তাঁর প্রিয়ার খোঁপায় তারার ফুল, কানে চৈতি চাঁদের দুল পরিয়ে দিতে চেয়েছেন। ভালোবাসার মানুষের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থেকেই জেমস গেয়েছেন ‘আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেব তুমি আমার’। এই লিরিক আবার এসেছে কবি শামসুর রাহমানের ‘উত্তর’ কবিতা থেকে। হুবহু নয়, সুরের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে একটু অদলবদল হয়েছে।
ভালোবাসা কি মানুষকে কিছুটা যুক্তি বোধরহিতও করে দেয়? হয়তো। কুমার বিশ্বজিৎ গাইছেন শুনুন, ‘তুমি যদি বলো পদ্মা মেঘনা এক দিনে দেব পাড়ি/তুমি যদি বলো চাঁদের বুকে/বানাব আমার বাড়ি।’ নাহ, বেশ গোলমেলে ব্যাপার বলতে হবে।
তবে এসব থেকে একটা সিদ্ধান্তে কিন্তু আসতেই হচ্ছে—প্রেমে পড়লে কিংবা ভালোবাসলে মানুষ কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করে। আর তাই প্রিয় মানুষের পায়ের কাছে পৃথিবীর সমস্ত সুখ এনে দিতে চায় সে। সমস্ত দহন, যন্ত্রণা, চাপ ও তাপ সহ্য করতেও রাজি থাকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সবকিছুই ফিকে হতে থাকে। সম্পর্কের বয়স বাড়তে থাকে। তখন ছোট ছোট বিষয় নিয়ে ঝামেলা লাগতে শুরু হয়। দিনের পর দিন ঝামেলা বাড়তে থাকে। বাড়ে মানসিক অশান্তি। কিন্তু কেন এই অশান্তি? অতি নৈকট্যই কি কারণ??? তাই হয়তো কবি বলেছেন, "
দূর হতে আমি তারে সাধিব
গোপনে বিরহডোরে বাঁধিব ।
বাঁধন-বিহীন সেই, যে বাঁধন অকারণ" ।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
সুচিত্রা ভট্টাচার্য আমায় ভালোবাসতে শিখিয়েছেন। কিশোরী বয়সের প্রথম বেলায় যখন প্রথমবারের জন্য কাউকে ভালো লেগেছিল তখন যেন মনে পড়ে যায় উনি বলেছিলেন, "মন খারাপের মুহূর্তে হঠাৎ যদি কেউ হারিয়ে যাওয়া নাম ধরে ডেকে ওঠে, মনটা যেন লহমায় ভাল হয়ে যায়। সংসারের মালিন্য, বেঁচে থাকার জটিলতা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হাহুতাশ কিছুই যেন আর স্মরণে থাকে না। বুকের ভেতর ঘুমিয়ে আছে এক টাইম মেশিন, সোঁ সোঁ করে ছুটতে থাকে সে, হু হু করে কমে যায় বয়স।" কিন্তু একটা বয়সের পর যখন অনেকটা দেরীতে আসল নকলের ফারাক বুঝে উঠি তখন উনি শিখিয়েছেন, " অনেককেই ছেড়ে থাকা যায় না, তবু ছেড়ে থাকতে হয়। এক সময় বিচ্ছেদটাই অভ্যেস হয়ে যায়।"
মানুষের পঠনপাঠনের শিক্ষার বাইরেও একটা মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে মেয়েদের , আমাদের একটা বয়সের পর যখন আগুন আহ্বান জানায় ছুটে যাই আমরা, পুড়ে যাওয়ার ভয় তখন কোথায় যেন উবে যায়... সুচিত্রা ভট্টাচার্য বুঝতেন, আর তাই হয়তো ওনার প্রতিটা সৃষ্টিতে মেয়েদের মনস্তত্ত্বকে এঁকেছেন এত যত্ন করে। উনি আমার কাছে আয়নার মতো, আর তাই হয়তো ওনাকে নিয়ে লিখতে বসলে দিন পেরোবে, কারণ মানুষ নিজেকে যে সবচেয়ে ভালো চেনে।
🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂🍂
নীলঘূর্ণীর দয়িতা হয়তো কোথাও না কোথাও আমরা অনেকেই। ২৩ বছরের দয়িতা প্রেমে পড়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রফেসর বোধিসত্ত্বের। পূর্বরাগ কখন যে অভিসারে পরিণত হলো তা হয়তো ঘুণাক্ষরে টের পায়নি দুজনেই... আর তাই হয়তো ,
উড়ে আসা ভালোলাগার মাতাল নেশায় বোধিসত্ত্ব তার দুই যুগের ছায়া, তার স্ত্রী রাখীকে ত্যাগ করে। ত্যাগ করে ছেলে বাবুয়াকে। দয়িতা নিজের সাজানো বিয়ে ভেঙ্গে দেয়, চুকিয়ে ফেলে সম্পর্ক নিজের পরিবারের সাথে। ওরা নতুন করে ঘর বাঁধে। কিন্তু সৌমিক?? সে যে ভুলতে পারেনি দয়িতাকে। বারবার কীসের টানে সে ফিরে আসে দয়িতার কাছে?? প্রতিশোধ নাকি সত্যিই অন্যকিছু?
বোধিসত্ত্বের কাছে দয়িতা কি আদৌ প্রেম হয়ে এসেছিল? নাকি হাওয়া বদলের আরামমাত্র সে? জগত সংসার সৃষ্টির রহস্যে বুঁদ হয়ে বোধিসত্ত্ব কি আদৌ মানুষের মনের মূল্য দিতে শিখেছেন?? মেয়েদের মন কি সে সত্যিই বোঝার চেষ্টা করেছে কোনোদিন? আর নিজের ছেলের?
অসম সম্পর্কের পরিণতি হয়তো সবসময় সমানুপাতিক নাও হতে পারে, কিন্তু তাই বলে বাঁচতে ভুলে গেলে চলবে কেন?? সামনে তাকালেই দেখতে পাবে দুহাত বাড়িয়ে কে যেন আপনারই অপেক্ষায় বলে উঠবে, "-- একটু কেন , অনেক ভাবো। যত খুশি ভাবো । আমি তো রইলামই। "