মাসুদ রানা তখন ইসরায়েলে, ওর অনুপস্থিতিতে রানা এজেন্সির দু'জন এজেন্ট স্বাতী আর তুহিনকে কিডন্যাপ করা হলো, উদ্দেশ্য রানাকে বোস্টনে আসতে বাধ্য করা। কেউ একজন পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতে চায়। রানা বোস্টনে এল যেন অদৃশ্য এক সেনাবাহিনী নিয়ে। আমেরিকায় মাফিয়ার গায়ে টোকা দেবে এমন দুঃসাহস কারও নেই - তবে শুধু টোকা নয়, গোটা কাঠামোয় আগুন ধরিয়ে দিল রানা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি স্বাতী আর তুহিনকে উদ্ধার করতে পারবে ও?
কাজী আনোয়ার হোসেন ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জুলাই ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম কাজী শামসুদ্দিন আনোয়ার হোসেন। ডাক নাম 'নবাব'। তাঁর পিতা প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও সাহিত্যিক কাজী মোতাহার হোসেন, মাতা সাজেদা খাতুন। কাজী আনোয়ার হোসেন সেবা প্রকাশনীর কর্ণধার হিসাবে ষাটের দশকের মধ্যভাগে মাসুদ রানা নামক গুপ্তচর চরিত্রকে সৃষ্টি করেন। এর কিছু আগে কুয়াশা নামক আরেকটি জনপ্রিয় চরিত্র তার হাতেই জন্ম নিয়েছিলো। কাজী আনোয়ার হোসেন ছদ্মনাম হিসেবে বিদ্যুৎ মিত্র নাম ব্যবহার করে থাকেন।
নতুন মাসুদ রানা আইতাছে শুনলাম! হেইটা নিয়ে কথা কওয়ার টাইমে এক ভাই কইছিলেন,"বোস্টন জ্বলছে" বইটার মতই নাকি নতুন টার কাহিনী। ভাবলাম এইটা যখন পড়া হয় নাই, পইড়াই ফেলি। ছোট্ট পরিসরের বই। খুব একটা ভালো লাগার মত না। কোন এক মাফিয়া ডন রানা এজেন্সীর দুই এজেন্ট রে কিডন্যাপ কইরা নিসে। তো ইসরাইলে ছিল রানা,সেখান থাইকা সোজা বোস্টনে আইসা তুলপাড় পুরাই। আগুন মাগুন লাগায়া মাসাকার। শেষ দৃশ্যের একশনে কিছুটা ভালো লাগা আছে। তবে অভারওল বইটা একবার পড়ে রেখে দেওয়ার মত। এভারেজ। তা বইটার আলোচনা বিভাগ কিছুটা ইন্টারেস্টিং। কয়দিন আগেই এক ভাইয়ের পোস্ট দেখলাম মাসুদ রানা আর তিন গোয়েন্দার কোলাবোরেশান করলে কিরাম হয় হেইটা জাইনা পোস্ট দিসিলেন। তো কাজিদার ভাষায় এসব 'জগাখিচুড়ি' না বানানোই বেটার। আর পাইলাম "তারক রায়" নামের একজনের চিঠি। আই থিংক উনি নিজে এখন সেবা প্রকাশনির লেখক।
মাসুদ রানা-র প্রায় সব বইতেই লেখা থাকে রানা তার এজেন্সির অপারেটরদের কতোটা ভালোবাসে, কতোটা স্নেহ করে, তাদের জন্য কতটা রিস্ক সে নিতে পারে। এই বইটা সে কথার প্রমাণ। অ্যা পারফেক্ট রিভেঞ্জ থ্রিলার
প্লট হচ্ছে আপনজনদের ক্ষতি করা বদ লোকেদেরকে শায়েস্তা করা, সুখ পাঠ্য মাসুদ রানা তৈরীর জন্য যেটা একটা আদর্শ উপাদান যদি ঠিকমত প্রয়োগ করা যায়। এই ধরনের প্লট নিয়ে এর আগেও মাসুদ রানার অনেক চমৎকার এপিসোড রচিত হয়েছে।
এই এপিসোডে মাসুদ রানার অতটা ডিপ লেভেলের ক্যারেক্টার ড্রিভেন কোন জার্নি যদিও ছিলো না, তবে বইয়ের নামের মতো কামেও যদি ধুম-ধাড়াক্কা একশন টাইপ থ্রিলার হওয়ার দায়িত্বটাপালন করতে পারত তাহলে তার জোরেই মোটামুটি উতরে যাওয়া যেতো, অন্তত কালেভদ্রে তা করা যায়।
যদিও অ্যাকশন থ্রিলটা পুরোটা জুড়েই মোটামুটি ভালোই বজায় ছিল, বিশেষ করে রানার মৃত্যুদূতের ভঙ্গিতে নরম কিন্তু ঠাণ্ডা গলায় আসন্ন ভয়াবহ পরিণামের সমন শুনে অতি দুধর্ষ ঘুঘুরও আতঙ্কে পেটের ভাত যেভাবে চাউল হয়া যায় সেইটা একটা অতি রোমাঞ্চকর যাত্রা পাঠক হিসেবে। কিন্তু প্রথমার্ধে যতটা নাটকীয়তার সাথে থ্রিল, ড্রামা এবং সাসপেন্সটা বিল্ডআপ করা হয়েছে, বাকি অংশে ঠিক ততটা দুর্বলভাবেই পুরা সাসপেন্সটা রিভিল করা হয়। নাহলে এইটাকে আরেকটু বেশি রেটিং হয়তো দেওয়া যাইতো।
বিঃ দ্রঃ একই ধরনের প্লটওয়ালা কিন্তু ৫ তারা ওয়ালা বই পড়তে চাইলে অগ্নিপুরুষ রেকমেন্ড করবো। ______________________ ০১ঃ২৬ রাত্রি শনিবার ২৫ শে মার্চ ২০২৩