‘ইসরায়েলের পুত্রগণ’ সম্ভবত ইহুদিদের নিয়ে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ। পাশ্চাত্য ও ইসলামের ইতিহাসে ইহুদিদের অবস্থানের গুরুত্ব এবং সমসাময়িক বিশ্বের বহু ক্ষেত্রে তাদের দৃশ্যমান অথবা অদৃশ্য নিয়ামকের ভূমিকা ‘ইহুদি’ শব্দটির চারিদিকে রহস্যের জাল সৃষ্টি করেছে। তাদের ঐশী গ্রন্থ তৌরিদে ইহুদিগণকে ঈশ্বরের আপনজাতি, অনুগ্রহপ্রাপ্ত জাতি, পবিত্র জাতি, বিশ্বের পুরোহিত জাতি ইত্যাদি বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয়েছে। খ্রিস্টান-চার্চের অনুশাসন, ধর্মীয় রচনা ও সাহিত্যে এবং ইসলামী ঐতিহ্যে তাদেরকে বিধাতা-বিবর্জিত, অভিশপ্ত, নির্দয়, সুদখোর, বান্ধবহীন, ঘৃণিত জাতি হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। ইতিহাস জুড়ে দেখা যায় যেখানেই তারা বাস করেছে একমাত্র ভারত ব্যতীত, প্রায় সর্বত্র পুনঃপুন নির্যাতন, বিতাড়ন ও গণহত্যার শিকার হয়েছে, কিন্তু বারবার তারা উঠে দাঁড়িয়েছে। তৌরিদে ঈশ্বরের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুসারে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়নি। এই অনন্য সাধারণ জাতির চার হাজার বছরের ইতিহাস ও উপাখ্যান, বিচিত্র ধর্মীয় আচার-আচরণ, সংঘাত ও বিদ্রোহ, ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম গণহত্যার ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুত্থান এবং তাদের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম অর্জন ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এ সবই এই গ্রন্থের উপজীব্য। পাশাপাশি সমসাময়িক বিশ্বের জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প, সাহিত্য, অর্থনীতি, অর্থ ব্যবস্থা, রাজনীতি, প্রচার-মাধ্যম, বিনোদন ও সমর-শক্তিতে তাদের ঈর্ষণীয় অবস্থানের প্রেক্ষাপট বোধগম্য করে তুলে ধরা হয়েছে।
এম. ইদ্রিস আলী ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুন্সিগঞ্জ-৩ (গজারিয়া ও মুন্সিগঞ্জ সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও একজন মুক্তিযোদ্ধা।
এম. ইদ্রিস আলী পাকিস্তান সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিসে ১৯৭০ সালে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ সরকারের একজন সচিবরূপে ২০০২ সালে অবসরগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে সমসাময়িক ইতিহাসে এম.এ. এবং ১৯৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দ্য আমেরিকান ইউনিভার্সিটি থেকে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস-এ এম.এস. ডিগ্রি অর্জন করেন।
ইসরাইলের পুত্রগণ বইটি মূলত বনি ইসরাইল বা ইসরাইলের সন্তানদের ইতিহাস, ধর্মীয় উত্তরাধিকার ও নৈতিক শিক্ষাকে কেন্দ্র করে রচিত একটি বিবরণধর্মী গ্রন্থ।
এই বইতে হজরত ইয়াকুব (আ.)–এর বংশধরদের (যাদের বনি ইসরাইল বলা হয়) উত্থান, সংগ্রাম ও অবনতির কাহিনি ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে হজরত মুসা (আ.)–এর নেতৃত্বে ফেরাউনের জুলুম থেকে মুক্তি, সিনাই পর্বতে ওহি প্রাপ্তি, তাওরাতের বিধান অনুসরণ ও লঙ্ঘনের ঘটনা, এবং আল্লাহর অনুগ্রহ ও শাস্তির দৃষ্টান্তগুলো আলোচিত হয়েছে। গ্রন্থটি কেবল ঐতিহাসিক বর্ণনায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং বনি ইসরাইলের কাহিনির মাধ্যমে আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা, ন্যায়পরায়ণতা ও অবাধ্যতার পরিণতি সম্পর্কে নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে। বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহর নির্দেশ মান্য করলে কল্যাণ আসে এবং অবাধ্যতা সমাজ ও জাতির পতন ডেকে আনে।
বইটির প্রথম দিকে বানান ও বাক্য গঠনের অসংগতি থাকলেও সার্বিকভাবে, ইসরাইলের পুত্রগণ ইতিহাস ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে একটি শিক্ষণীয় গ্রন্থ, যা পাঠককে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করে।
ইহুদিদের নিয়ে বেশ ভালোই আগ্রহ আছে আমার। ইউপিএল এ গিয়ে দেখি এই বই, ধুম করে কিনে ফেললাম। পড়া শুরু করে লেখক পরিচিতিতে লেখা লেখক প্রাক্তন আমলা এবং এমপি, সন্দেহ হতে লাগল লেখা সুখপাঠ্য হবে কিনা।দেখি বেশ ভালোই লাগছে, এক নিশ্বাসে পড়ার মত বই।
কিছু বই নাম দেখে পড়তে ইচ্ছা করে। এটা এমন একটি বই। দূর্ভাগ্যক্রমে বইটির নাম যতটা আগ্রহউদ্দীপক বইটি পড়তে ততটাই বিরক্তিকর। তাই পড়তে অনেক সময় লাগল। বইটি বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়েছে বলে এখনো লেখক এর বিরুদ্ধে কোন মামলা হয় নি; এই বই ইউরোপে বা উত্তর আমেরিকায় প্রকাশিত হলে লেখকের বিরুদ্ধে anti-Semitism এর মামলা হত। লেখক ইসরাইল এর বিরোধীতার সাথে ইহুদী বিরোধীতাকে গুলিয়ে ফেলেছিলাম। এটাকে বিবেচনায় নিয়েও বইটি আমার কাছে খুব ভাল লাগে নি কারন মনে হয়েছে Myth আর Fact কি মিলিয়ে ফেলেছেন।
অনেক ইনফরমেটিভ একটা বই,ইহুদী সম্পর্কে জানা যাবে অনেক কিছু। কিন্তু গল্পের নাম রেফার করে মিথ সম্পর্কে, লেখক এখানে রাজনৈতিক কোন্দল ও টেনে এনেছেন। অজানা অনেক কিছু জানলাম তাই খারাপ লাগেনি পড়তে কিন্তু সময় লেগেছে।
কিছু বইয়ের নাম চোখে পড়ার সাথে সাথেই মনে হয় বইটা খুব ভাল হবে "ইসরায়েলের পূত্রগণ" ঠিক তেমনই একটা বই। ইহুদি জাতির প্রতি, তাদের বিবর্তন, সভ্যতার বিকাশ এই ব্যাপারগুলো সাধারণ পাঠকরের কাছে সব সময় একটি আগ্রহের বিষয় ছিল। পাঠকদের এই আগ্রহ মেটানো জন্য বাংলা ভাষায় নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা একেবারে নেই বললেই চলে। লেখক ইদ্রিস আলী যথেষ্ট নিষ্ঠার সাথে নিরপেক্ষভাবে পাঠকের কাছে বইটি তুলে ধরেছেন।