Jump to ratings and reviews
Rate this book

নিশিপদ্ম

Rate this book
কাহিনি সংক্ষেপ:
মায়ের মৃত্যুর পর ভুতু যেন বড্ড একা হয়ে পড়ে। সৎ মা-এর কাছেও সে যেন চক্ষুশূল। মাতৃস্নেহের কাঙাল ভুতু পায় না তার পিতার সান্নিধ্যও। অভাবের সংসারের জোয়াল কাঁধে টেনে প্রাণপণ লড়াই করে চলেছেন ভুতুর বাবা। তবুও সৎ মা-এর ঘরে সন্তানের অযত্ন বেশ ভালোভাবে বোঝেন তিনি। অন্যদিকে স্বামীকর্তৃক বিতাড়িতা পুষ্প বোঝেনা তার অপরাধ। সে ফিরে যায় তার বৃদ্ধা মা-এর নির্জীব কুটিরে।
কিন্তু গ্রামীণ সমাজ তাকে প্রত্যাখান করে। অগত্যা জীবিকার তাগিদে পথে নামতে হয় পুষ্পকে। ভাগ্যের ফেরে তার ঠাঁই হয় শহুরে গণিকালয়ে। যুবতী পুষ্পর অন্তরে-অন্দরে সর্বদা সুপ্ত থাকে মাতৃত্ব। তার এই মাতৃত্ব আরও প্রগাঢ় হয় ভুতুকে কাছে পেয়ে! অচেনা এই পুষ্পকে ভালোবেসে তাই দূরে চলে যেতেও কার্পণ্য করেন না এক চিমটি শান্তির তৃষ্ণায় তৃষিত অনঙ্গবাবু। এভাবেই নিশিপদ্ম হয়ে ওঠে মাতৃস্নেহ বঞ্চিত শিশু এবং সন্তানহীনা বারবণিতার এক অপরূপ উপাখ্যান।

______________________
ভূমিকা

সুদীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে আড়ালে থাকা বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর একটি ‘রচনা’ হচ্ছে–নিশিপদ্ম। ‘রচনা’ না বলে ‘উপন্যাস’ হিসেবে আখ্যা দেওয়াই সমীচিন হবে বলে বোধ করি। শুরুতেই উপন্যাসটি নতুন করে আবিষ্কার করার গল্পটি জানিয়ে রাখি। এতে পাঠকমনে জেগে ওঠা নানান প্রশ্নের উত্তর খুব সহজেই দেওয়া হয়ে যাবে।

নভেম্বর, ২০২৩ এর শেষ দিকের ঘটনা। হিমের পাতলা চাদর জড়ানো এক সন্ধেবেলায় সতীর্থের রিসার্চ হেড ও সহ-সম্পাদক আবু আনন্দ নিটু সাহেব খুব হন্তদন্ত হয়ে অফিসে এসে কম্পিত কণ্ঠে বলেন, “ভাই বিভূতিভূষণের নতুন একটা লেখা পেয়েছি।”
কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে চোখ না সরিয়েই বলি, “অসমাপ্ত অনেক কিছুই তো আছে। এত উত্তেজিত হওয়ার কী আছে?”
সে দ্বিগুণ উত্তেজনা নিয়ে বলে, “অসমাপ্ত না! নতুন লেখা! কোথাও নাই! একক বই তো দূরের কথা, সমগ্রতেও এই লেখা নাই।”
এইবার বাধ্য হয়েই তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখি বেচারার ফরসা মুখ উত্তেজনাতে লাল হয়ে আছে। তার ভাষ্যমতে–

১৯৮০ সালে ভারতীয় প্রকাশনা সংস্থা ‘উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির’ থেকে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ‘মনোরমা’ নামে একটি বই প্রকাশ পায়। যার দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশ পায় ১৯৮৬ সালে। বইটিতে একটি উপন্যাসসহ আরও আটটি গল্প রয়েছে। যেখানে লেখকপুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-এর একটি ভূমিকাও রয়েছে; সেখানে বর্ণিত রয়েছে যে ‘নিশিপদ্ম’ আর কোথাও প্রকাশ পায়নি এবং উক্ত সাহিত্যকর্মটি লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এঁর একটি অনুদঘাটিত লেখা।
বইটির খোঁজ পাওয়া গেছে ‘লাইটহাউজ বুকশপ’ নামে বাংলাদেশের একটি পুরাতন বই বিক্রয়ের ফেসবুক পেইজ থেকে। যেখানে বইয়ের সূচিপত্র ও তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভূমিকাটির পৃষ্ঠার ছবি দেওয়া আছে। সূচিপত্রে ‘নিশিপদ্ম’ নামটির পাশে ব্র্যাকেটে উপন্যাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৯৭০ সালে উপন্যাসের নামেই মহানায়ক উত্তম কুমার ও সেই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় অভিনীত একটি বাংলা সিনেমা মুক্তি পায় এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে দুই বছরের মাঝেই ১৯৭২ সালে একই সিনেমা হিন্দিতে ‘অমর প্রেম’ নামে রিমেক করা হয়। যেখানে সেই সময়ের বলিউডের সুপারস্টার রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুর অভিনয় করেন। গুগল ঘাঁটাঘাঁটি করে যা জানতে পারি, ১৯৭০ সালে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ছোট গল্প ‘হিঙের কচুরি’ অবলম্বনে তৈরী হয় ‘নিশিপদ্ম’ শীর্ষক সিনেমা। যা পরিচালনা করেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কিংবদন্তি লেখক বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়-এর ছোট ভাই এবং সত্যজিৎ রায়-এর বন্ধু অরবিন্দ মুখোপাধ্যায়।

সেই সন্ধ্যাবেলায় সবটা শুনে এবং সেই ফেসবুক পেইজের ছবিগুলো দেখে বেশ খানিকটা হতবিহ্বল হয়ে পড়ি। অনেকগুলো প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খেতে শুরু করে। কিন্তু বইমেলা ২০২৪ তখন দরজায় কড়া নাড়ছে। তাই আনন্দ ভাইয়ের সাথে কিছুক্ষণ আলাপ করে বইমেলার কাজে ব্যস্ত হয়ে যাই।
বইমেলা ২০২৪ শেষে, মার্চের মাঝামাঝিতে পুরানো বই বিক্রয়ের ফেসবুক পেইজ লাইটহাউজ বুকশপ-এর সাথে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করে ‘মনোরমা’ বইটির অরিজিনাল কপি সংগ্রহ করা হয়। নানান চেষ্টাচরিতের পর বইটি যখন হাতে পাই, তখন জানতে পারি, বইটি বিগত কয়েক মাস যাবৎ রাজশাহী শহরেই ছিল! এরপরেই শুরু হয় ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগের প্রচেষ্টা।
প্রথমে যোগাযোগ করা হয় বইটির প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির’ এর বর্তমান পরিচালক মহোদয়ের সাথে। মুঠোফোনের নম্বরে কয়েকদফা প্রচেষ্টার পরে তাঁর সাথে হোয়াটস্যাপে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। পুরোটা শুনে তিনি কিছুদিন পরে যোগাযোগ করার আশ্বাস প্রদান করেন।
এর মাঝে বিভূতিভূষণ-এঁর পরিবার তথা তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-এঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে বইটির ব্যাপারে সবিস্তরে তাঁদের সাথে আলোচনা করা হয়। বেশ অবাক করা ব্যাপার এই যে, তাঁরা এই বইটির বিষয়ে জানতেন না। আমাদের থেকেই প্রথম বইটির ব্যাপারে তাঁরা জানতে পারেন। তবে তাঁরা ভূমিকাটি পড়ে এতটুকু নিশ্চিত করেন যে বই এ প্রদত্ত ভূমিকাটি তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-এঁরই লেখা। বইটির মূল কপি এখন তেমন সহজলভ্য নয় কিংবা চাইলেই পাওয়া যাবে–এমনটা না, তাই পুরো লেখা পড়ে তারা একটা মন্তব্য করবেন, সেটিও সম্ভব হয়নি।
এরই মাঝে উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির-এর বর্তমান পরিচালক মহোদয়ের সাথে আবারও যোগাযোগ হয়। এইবার তিনি বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য প্রদান করেন। যেহেতু সেই তথ্যগুলো যথেষ্ট গোপনীয়, তাই সেগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ না করার আশ্বাসে এতটুকু নিশ্চিত করেন যে, মনোরমা বইতে প্রকাশিত ‘নিশিপদ্ম’ উপন্যাসটি পাণ্ডুলিপি আকারে লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির-এর তৎকালীন প্রকাশক কিরীটি কুমার পাল-এর নিকট জমা দেন। যা পাণ্ডুলিপি আকারে দীর্ঘদিন কিরীটি কুমার পালের নিকট সংরক্ষিত ছিল এবং লেখকের অকাল মৃত্যু হলে আর সেই সময়ে প্রকাশ করেননি। কিন্তু কিরীটি কুমার পাল নিজের শেষ বয়সে এসে লেখক পুত্রের ভূমিকা সহ ‘মনোরমা’ বইটিতে সেই পাণ্ডুলিপির লেখাটি উপন্যাস হিসেবে সংকলিত করেন। এরপরেও সতীর্থের পক্ষ থেকে আরও অনেকের কাছে এই লেখাটির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করা হয়।
বলা চলে দুই সপ্তাহব্যাপী এই বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। যেহেতু এই লেখাটি লেখকের কোনো সমগ্র কিংবা একক বই আকারে কোথাও প্রকাশিত হয়নি, এমনকি মনোরমা নামের বইটিতেও প্রকাশ পেয়েছে লেখকের মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পরে; যা বর্তমান সময় থেকে প্রায় চার দশক পূর্বের ঘটনা; তাই সঠিক তথ্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন উৎস হতে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়–যদি কোনো সুনির্দিষ্ট ও সঠিক তথ্য পাওয়া যায় এই আশায়।
বিভিন্ন তথ্যের খোঁজে থাকাকালীন সময়ে ‘হিঙের কচুরি’ ছোট গল্পের বিষয়টি বারংবার সামনে আসে। উইকিপিডিয়ার মতে ‘নিশিপদ্ম’ সিনেমাটি ‘হিঙের কচুরি’ অবলম্বনে বানানো। কিন্তু এই উপন্যাসটি পড়ার পরে এই ধারণা সম্পূর্ণরূপে বদলে যেতে বাধ্য।
প্রাসঙ্গিকভাবেই এখানে ‘হিঙের কচুরি’ গল্পটার বিষয়ে বলা প্রয়োজন। হিঙের কচুরি গল্পটি লেখক বিভূতিভূষণের জীবনঘনিষ্ঠ একটি ঘটনার প্রতিরূপ অনেকাংশে। একই সাথে লেখকের লেখা ‘বিপদ’ নামের গল্পটিও এখানে প্রাসঙ্গিক।
লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সহপাঠি, বন্ধু এবং একই মেসের বাসিন্দা নীরদচন্দ্র চৌধুরী রচিত ‘দাই হ্যান্ড গ্রেট অ্যানার্ক’ প্রমাণ্য গ্রন্থের ‘বন্ধু বিভূতিভূষণ’ নামক একটি প্রবন্ধ থেকে জানা যায় যে, চার-পাঁচ বছর বয়সে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাবার সাথে কোলকাতায় এসে যে এলাকায় বসবাস শুরু করেন, সেই এলাকার একজন ভদ্রমহিলা শিশু বিভূতিভূষণকে খুব স্নেহ করতেন এবং শিশু বিভূতিভূষণও সেই মহিলার প্রতি বেশ অনুরক্ত ছিলেন। সেই মহিলা সন্ধ্যার সময় শিশু বিভূতিভূষণকে বলতেন, ‘বাছা, এইবার বাড়ি যাও। আমার বাবু আসিবেন।’
এই ঘটনার বহুবছর পরে বিভূতিভূষণ তার বন্ধু নীরদচন্দ্রের সাথে উক্ত এলাকাতে সেই মহিলাকে খুঁজতে যান। ততদিনে সেই এলাকাটি একটি পতিতালয়ে পরিণত হয় এবং সেই মহিলাকে খুঁজতে গিয়ে তারা বেশ বিব্রতকর ঘটনার সম্মুখীন হন।
যে ঘটনাটিকে ছোট কলেবরে ‘হিঙের কচুরি’ গল্প এবং বড় কলেবরে ‘নিশিপদ্ম’ উপন্যাস এবং সিনেমার প্রতিরূপ হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। সম্ভবত ‘নিশিপদ্ম’ উপন্যাসটির পাণ্ডুলিপির ওপরে ভিত্তি করেই ‘নিশিপদ্ম’ সিনেমাটি কিংবা এর চিত্রনাট্য তৈরী করা হয়েছে, যদিও এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য সতীর্থের হাতে নেই। তবে বইটির বিষয়ে খোঁজখবর করার সময়ে যে তথ্যগুলো উদঘাটন করা হয় তা সবই লেখক ও প্রকাশক কিংবা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য; যা চাইলেও জনসম্মুখে উন্মুক্ত করার এখতিয়ার আমার নেই। কিন্তু সার্বিকভাবে প্রাপ্ত তথ্য ও সতীর্থের হাতে থাকা মনোরমা বইটি পড়ে এবং নিশিপদ্ম সিনেমা দেখার পরে এতটুকু নিশ্চিত হওয়া গেছে যে লেখাটি লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি পূর্ণাঙ্গ উপন্যাস; যা পাণ্ডুলিপি আকারে ১৯৮০ সালের পূর্ব পর্যন্ত অপ্রকাশিত ছিল।
সবশেষে এইটুকু না বললেই নয়, তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া হয়–সতীর্থের পক্ষ থেকে সংগৃহীত তথ্যে ভুলত্রুটি রয়েছে। তবুও বইটি প্রকাশের সবচেয়ে বড় যৌক্তিকতা ‘মনোরমা’ বইটিতে স্বয়ং লেখকপুত্র তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ভূমিকা এবং সেই বইয়ের সূচীপত্রে নিশিপদ্ম –এর পাশে ব্র্যাকেটে ‘উপন্যাস’ কথাটি। স্বয়ং লেখকপুত্র যখন নিশিপদ্মকে প্রকাশিত বইয়ে উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছেন; যার মূল কপি সতীর্থের হাতে রয়েছে, তখন এই বিষয়ে আর কোনো দ্বিধা থাকার কথা নয়। এই বিষয়টিকে মূখ্য ধরে বইটি প্রকাশ করা হচ্ছে। তবুও সতীর্থের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়েছে এবং বলা যায় দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পরে–
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘নিশিপদ্ম’ উপন্যাস প্রথমবারের মতো একক গ্রন্থরূপে সতীর্থ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত হচ্ছে।

শুভেচ্ছান্তে
মো. তাহমিদুর রহমান
সতীর্থ নিবাস, রাজশাহী।
১৪ এপ্রিল, ২০২৪

168 pages, Hardcover

Published May 10, 2024

Loading...
Loading...

About the author

Bibhutibhushan Bandyopadhyay

213 books1,221 followers
Bibhutibhushan Bandyopadhyay (Bangla: বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়) was an Indian Bangali author and one of the leading writers of modern Bangla literature. His best known work is the autobiographical novel, Pather Panchali: Song of the Road which was later adapted (along with Aparajito, the sequel) into the Apu Trilogy films, directed by Satyajit Ray.

The 1951 Rabindra Puraskar, the most prestigious literary award in the West Bengal state of India, was posthumously awarded to Bibhutibhushan for his novel ইছামতী.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
46 (17%)
4 stars
77 (29%)
3 stars
89 (33%)
2 stars
26 (9%)
1 star
24 (9%)
Displaying 1 - 30 of 57 reviews
Profile Image for Ratika Khandoker.
346 reviews41 followers
June 27, 2024
-উপন্যাস না সিনেমার স্ক্রিপ্ট?
-স্ক্রিপ্টের মতোই তো লাগলো।

-সত্যি চার দশক ধরে আড়ালে থাকা অপ্রকাশিত রচনা?
-সেইটা নিয়েও সন্দিহান।

-ইয়ে মানে...আসলেও কি বিভূতিভূষণের লেখা?
-আমি যে বিভূতিবাবু পড়ে বড় হলাম,যাঁর কালো কালির আঁচড়ে প্রকৃতি আরো স্নিগ্ধ সবুজ হয়ে উঠে,অপু-দূর্গা-কেয়োঝাকা আর পাঠক হাত ধরাধরি করে থাকে- তাঁকে তো কোথাও খুঁজে পেলাম না! চিরচেনা বিভূতি তো আড়ালেই রয়ে গেলেন!

যাক গে,আসল বিভূতির একটা বই পড়ে আসি এখন।
Profile Image for Shuk Pakhi.
550 reviews404 followers
February 5, 2025
সুখ : হাই বিভূদা!
বিভূ : কেমন আছিস রে?
সুখ : ভালো, ভালো। তোমার দিনকাল ত চমৎকার যাচ্ছে না?
বিভূ : সে একরকম কাটছে বলতে পারিস। অখণ্ড অবসর। বাগানে কি গাছের চারা পুতবো তাই ভাবছি সারাক্ষণ।
সুখ : নতুন বই লিখে ত পাঠকদের চান্দি গরম করে দিয়েছো মাইরি!
বিভূ : বই! নতুন বই! সে কি কথা! আমি ত এখন আর লিখিটিখি নে।
সুখ : তা বললে হবে কেন দাদা! প্রকাশক বলছে তোমার অপ্রকাশিত বই সে পাণ্ডুলিপি পেয়ে ছাপিয়ে দিয়েছে, পাঠককূলকে ধন্য করেছে।
বিভূ : তেমন ত কিছু মনে পড়ছে না রে।
সুখ : আচ্ছা আমি যাই। তুমি বটগাছতলায় বসে ভালো করে ভেবেটেবে দেখো একবার। সেই যে কুষ্টিয়া গিয়েছিলে লালন আখড়ায় গো। সেখানে বসে কিছু লিখেটিখে দাওনি ত?
বিভূ : ওহ! সেবারের কথা আর বলিস না! তোর বউদিদির কাছে যেন মুখ খুলিস নে।
সুখ : চুপ থাকলে কি পাবো?
বিভূ : পরের বইটা নাহয় অটোগ্রাফসহ তোকে প্রীতিউপহার দেবখন।
সুখ : ঠিক আছে দাদা তাহলে ঐ কথাই থাকলো। আমি চুপ বউদির কাছে, তুমি চুপ প্রকাশকের কাছে, প্রকাশক চুপ পাঠকের কাছে। আর পাঠক ? না পাঠককে চুপ করায় কার সাদ্ধি!

বি. দ্র. কাল্পনিক আলাপচারিতা জীবিত বা মৃত কারো সাথে মিলে গেলে পোস্টকারী দায়ী নয়।
Profile Image for Ashfaqur Rahman.
26 reviews3 followers
September 12, 2024
"নিশিপদ্ম" উপন্যাসটি ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো একক গ্রন্থরূপে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রকাশনা সংস্থা এটি প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে সতীর্থ প্রকাশনা এবং অন্যধারা উল্লেখযোগ্য। তবে, এই উপন্যাসটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচনা কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

কিছু সূত্র মতে, "নিশিপদ্ম" উপন্যাসটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিন অপ্রকাশিত একটি রচনা, যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তবে, বিভূতিভূষণের পরিবারের কিছু সদস্য এই উপন্যাসটির বিষয়ে অবগত ছিলেন না এবং এর প্রামাণিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া, "নিশিপদ্ম" নামে ১৯৭০ সালে একটি বাংলা চলচ্চিত্র মুক্তি পায়, যা বিভূতিভূষণের ছোটগল্প "হিঙের কচুরি" অবলম্বনে নির্মিত হয়েছিল। এই কারণে, "নিশিপদ্ম" উপন্যাসটির প্রামাণিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। "নিশিপদ্ম" উপন্যাসটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল রচনা কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। এ বিষয়ে আরও গবেষণা এবং প্রামাণিক তথ্য প্রয়োজন।

আমার মতে, এটা বিভূতিভূষণের লেখা না। আমারা বিভূতিবাবুর যে লেখনশৈলীর সাথে পরিচিত এই বইয়ের সাথে তা আকাশ-পাতাল ব্যবধান।
Profile Image for musarboijatra  .
310 reviews451 followers
November 30, 2024
সংসার সীমান্তে তিনটি মানুষ।

নিশিপদ্ম খুব সম্ভব সিনেমা বানানোর জন্য লেখা হইসিল। কারণ এই নামে একটা সিনেমা হইসেও, বিভূতির লেখা থেকে।

নিশিপদ্ম উপন্যাসে বিভূতির আর সব উপন্যাসের মতো বর্ণনার সৌন্দর্য উপস্থিত নাই, কম। বরং দৃশ্য'র পর দৃশ্য উপস্থিত করা হইসে, এজ ইফ লেখক বলতেসেন "গল্পটা এই, এটার পর এটা ঘটবে"। আমারও আসলে পড়তে উপন্যাস-সুলভ আরাম হয় নাই, তবে দৃশ্য কল্পনা করতে ভালোই লাগসে।

এন্ডিং আমার ভালো লাগে নাই। অতি, অতি নাটকীয় (ড্রামাটিক)। দ্যান এগেইন, ওই সময়ে এই ধরণের এন্ডিং খুব জনপ্রিয় ছিল সিনেমার জন্য। মানে জীবনভর তুমুল ড্রামাটিক ট্র্যাজেডি দেখায়ে, আখেরে ড্রামাটিক হ্যাপি এন্ডিং। বাংলাদেশে, বেদুইন সামাদ-এর "বেলাশেষে" উপন্যাস-টা নিয়ে একই মন্তব্য শোনা যায় সত্তর-আশির দশকের পাঠকদের কাছে, সিনেমার জন্য পারফেক্ট ম্যাটেরিয়াল। কিন্তু নাটকীয়তা দেখে আমার বিগাড় লাগসিল দশ বছর আগে পড়ে।

লেখাটা আদৌ বিভূতিভূষণের কি না, এমন সন্দেহ দেখলাম কারো কারো। এমন অভিনব সন্দেহ কী করে এলো, এটাই অবাক করে। তারাদাস বন্দোপাধ্যায় যেখানে এটাকে তাঁর বাবার লেখা উপন্যাস বলে বইয়ের ভূমিকা লিখসেন (নিজের লেখা হলে নিজের নামেই ছাপতে পারতেন, ওনারও তো প্রতিষ্ঠা কম না), সেখানে সন্দেহ করার যৌক্তিকতা পাই না।
92 reviews11 followers
January 28, 2025
অনেক দিন পর কোনো বই পড়ে কান্না করলাম। মন ভালো করার মতো একটা বই। এত সুন্দর, নির্মল যে মানুষের ভালোবাসা হতে পারে তা কল্পনাও করা যায় না।
Profile Image for পটের দুধের কমরেড.
220 reviews25 followers
September 3, 2024
এই রচনা বোধকরি অপ্রকাশিত থাকলেই লেখক এবং পাঠক দুইপক্ষের-ই মঙ্গল হত। এক পক্ষের সম্মান ক্ষয় হতো না, অন্যপক্ষের সময়! বিভূতিবাবু অবিনশ্বর, মানি, অউর গালতি ইনসান সে হি হোতা হ্যায়। চালো, জানে দিয়া :/ (আদৌ বিভূতিবাবুর লেখা কিনা সন্দিহান!)
Profile Image for Rafa.
77 reviews119 followers
Did Not Finish
October 3, 2025
Is it really written by Bibhutibhushan?
The Bibhutibhushan??
I highly doubt that. Doesn’t feel like his writing at all!!
Profile Image for Fårzâñã Täzrē.
350 reviews35 followers
October 14, 2024
"এই পৃথিবীর 'পরে
কত ফুল ফোটে আর ঝরে
সে কথা কি কোনোদিন
কখনও কারও মনে পড়ে?"

আচ্ছা নিশিপদ্ম মানে বোঝেন তো? নিশি মানে রাত আর পদ্ম তো হলো ফুল, রাতের অন্ধকারে ফোঁটা কোন ফুল কে আপনার কাছে সুন্দর মনে হবে হয়তোবা পদ্ম অর্থে। যদি অর্থটাকে একটু ঘুরিয়ে কোনো মানুষের দিকে ঠেলে দেই, ভুরু কুঁচকে ভাববেন হয়তোবা রাতের অন্ধকারে ফুটে থাকা কোন ফুল তাঁরা?

আচ্ছা আরেকটা ফুলের গল্প বলি, স্বামীকর্তৃক বিতাড়িতা পুষ্প বোঝেনা তাঁর অপরাধ। সে ফিরে যায় তাঁর বৃদ্ধা মা-এর নির্জীব কুটিরে। কিন্তু গ্রামীণ সমাজ তাঁকে প্রত্যাখান করে। অগত্যা জীবিকার তাগিদে পথে নামতে হয় পুষ্পকে। ভাগ্যের ফেরে তাঁর ঠাঁই হয় শহুরে গণিকালয়ে। যুবতী পুষ্পর অন্তরে-অন্দরে সর্বদা সুপ্ত থাকে মাতৃত্ব। অচেনা এই পুষ্পকে ভালোবেসে দূরে চলে যেতেও কার্পণ্য করেন না এক চিমটি শান্তির তৃষ্ণায় তৃষিত অনঙ্গবাবু। আচ্ছা পুষ্পকে এখন নিশিপদ্ম বলা যায় তাই না? তাহলে অনঙ্গবাবু কেন ভালোবাসেন ওই মেয়েটিকে? আমি জানতে চাই, আমি সত্যি জানতে চাই যে ভালোবাসার এত শক্তি কীভাবে থাকে যে মূহুর্তের মধ্যে একটা নিশিপদ্ম হয়ে যায় কোমল পুষ্পের ডালি। যা উৎসর্গ করা যায় না সহজে।

মায়ের মৃত্যুর পর ভুতু যেন বড্ড একা হয়ে পড়ে। সৎ মা-এর কাছেও সে যেন চক্ষুশূল। মাতৃস্নেহের কাঙাল ভুতু পায় না তাঁর পিতার সান্নিধ্যও। অভাবের সংসারের জোয়াল কাঁধে টেনে প্রাণপণ লড়াই করে চলেছেন ভুতুর বাবা। তবুও সৎ মা-এর ঘরে সন্তানের অযত্ন বেশ ভালোভাবে বোঝেন তিনি। "মা", "মাতৃত্ব" এই শব্দগুলো সবার ক্ষেত্রেই তো এক তাই না বলুন? মা তো ওই রাস্তার পাগলি হতে পারে, আবার মা হতে পারে ওই নিষিদ্ধ গণিকালয়ের নিশিপদ্মও। তাঁকেও কিন্তু তাঁর সন্তান মা বলেই ডাকবে প্রাণভরে।

দুইটি চরিত্র এখানে, দুইটি আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপট। একজন নিষিদ্ধ গণিকালয়ের নিশিপদ্ম চায় মাতৃত্বের স্বাদ। আরেকজন ছোট্ট একটি ছেলে ভুতু চায় সৎ মায়ের থেকে দূরে একটু মায়ের মতন ভালোবাসা। বিভূতিভূষণ চমৎকারভাবে মিলিয়ে দিয়েছেন এই দুই চরিত্রকে একসাথে। আহা! কী কোমল এই গল্পের ভাষা! এখানে তো আছে শুধু মা আর সন্তান, এমন বইয়ের ক্ষেত্রে আগ্ৰহী হবার প্রধান কারণ হলো "মা", "মাতৃত্ব", "সন্তান"।

পুষ্প ভুতুর জন্য যেন সব করতে রাজি। তেমনি ভুতু নিজেও পুষ্পকে দিয়েছে মায়ের আসন। কিন্তু এই সমাজে পুষ্পরা "নিশিপদ্ম"। ভুতু তো ছোট্ট ছেলে, ভুতুর বাবা নিজের গাঁয়ের মেয়েকে চিনতেই যেন লজ্জা করেন। কিন্তু পুষ্পর এই অবস্থা কাদের জন্য হয়েছে? ইতিহাস বললে ফুরায় না। যাই হোক মা ছেলের মিলন শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে কী না দেখা যাক।

🪷//চরিত্রায়ন//🪷

এই বইয়ে আমার সবচেয়ে কেন জানি অনঙ্গ বাবুকে ভালো লেগেছে। যদিও ঘরে বউ রেখে নিষিদ্ধ পাড়ায় যাওয়া মোটেও শোভনীয় নয় কিন্তু অনঙ্গ বাবুর গল্পটায় হয়তোবা এই কাজ করতে মন বাধ্য করেছে তাঁকে। কিন্তু তাঁর ব্যক্তিত্ব এবং জীবন নিয়ে হতাশা থাকলেও পুষ্প এবং অনঙ্গ বাবুর সম্পর্ক সমাজের কাছে ঘৃনার কিন্তু ভালোবাসা কী এত কিছু ভেবে হয়? সুখ যে কারো কাছে ঠিকানা বৈকুণ্ঠপুর! তাই তাঁরা সুখের খোঁজ করে।

আর হতভাগিনী পুষ্প নিয়ে কী বলি বিভূতি ভূষণ নিজেই বলেছেন বাস্তব জীবনে মানুষের সাথে এমন সব ঘটনা ঘটে যা বইয়ের পাতায় লিখলে পাঠক বিশ্বাস করবে না। পুষ্পের জীবন যেখানে পুষ্পের মতো কোমল হবার কথা ছিলো, সেখানে সে কেনো হয়েছে নিশিপদ্ম ! এরকম তো আরো কত নাম না জানা নিশিপদ্ম ফোঁটে নিষিদ্ধ পল্লীর জলে।

এছাড়া এই বইয়ের আরেক মূখ্য চরিত্র ভুতো বেশ মিষ্টি। একটা মা হারা ছেলে কীভাবে পুষ্পের বুকে মায়ের গন্ধ পেয়েছিল বিভূতিভূষণ খুব সুন্দর ভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন তা। বেশ অন্যরকম ভালো অনুভূতি হবে ভুতো এবং পুষ্পর খুনসুটি, ভালোবাসা।

🪷 //পাঠ প্রতিক্রিয়া //🪷

সামাজিক উপন্যাসের ক্ষেত্রে লেখককে এমন প্রেক্ষাপট বেছে নিতে হয় যেখানে সামাজিক বিভিন্ন অসঙ্গতির পাশাপাশি থাকবে এমন এক চমৎকার গল্প যা পাঠকের মন ছুঁয়ে যাবে। "নিশিপদ্ম" আমাকে ছুঁয়ে গেছে। এই গল্পটা ইমোশনাললি পাঠককে জড়িয়ে রাখবে এইটুকু আমি যখন বইটি বের হয় ফ্ল্যাপ পড়েই গ্যারান্টি দিয়ে রেখেছিলাম মনে। যাঁরা ক্লাসিক পড়েন সামাজিক উপন্যাসের কাঠামোগত দিক ভালো ভাবেই জানেন। সেক্ষেত্রে "নিশিপদ্ম" হতে পারে আরেকটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

এই উপন্যাস সম্পর্কে সতীর্থ প্রকাশনার পোস্ট থেকে জেনেছি দীর্ঘ চল্লিশ বছর এই লেখাটি লোকচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গিয়েছিল। সতীর্থের উদ্যোগ প্রশংসনীয় তাঁরা এমন সুন্দর পান্ডুলিপিটি প্রকাশ করেছেন নিজেদের উদ্যোগে। এবং এর প্রোডাকশন কোয়ালিটি সম্পর্কেও খুব পজিটিভ শুনেছি সবখানে। বইয়ের ভিন্টেজ লুক এক আলাদা মাত্রা দিয়েছে পড়ার সময়। বইয়ের মধ্যে কিছু চমৎকার ছবিও রয়েছে।

সামাজিক উপন্যাস পছন্দ করা পাঠকদের এই বইটি পড়া উচিত। পড়ার পর এত সুন্দর একটা অনুভূতি হয়েছিল! বিভূতিভূষণের লেখা এইজন্যই আমার দারুন লাগে সবসময়। এই বইয়ের গল্পটা মাতৃত্বের, এই গল্পটা এক নিশিপদ্মের। শেষটা জানার আগ্ৰহ জাগবে আপনার পড়ার শুরু থেকেই। এই বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক এর প্লট। বিভূতি বেছে নিয়েছেন খুব ইমোশনাল টপিক। যেখানে চরিত্রায়ন ঠিক না হলে সব মাটি। বিভূতি উত্তরে গেছেন সাফল্যের সাথে।

🪷বইয়ের নাম: "নিশিপদ্ম"
🪷লেখক: বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়
🪷প্রকাশনা: সতীর্থ প্রকাশন
🪷ব্যক্তিগত রেটিং: ৪.৫/৫
Profile Image for Raihan Ferdous  Bappy.
310 reviews24 followers
March 10, 2026
'নিশিপদ্ম' উপন্যাস নিয়ে যতো তর্ক বিতর্ক আছে তার দিকে আমি আর নতুন করে যেতে চাচ্ছি না। এই নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা সমালোচনা হয়ে গেছে। কি নিয়ে? তা তো সবার জানার কথা। এইটা বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লিখা কি না এই নিয়েই ঝামেলা। হওয়াটাও স্বাভাবিক। কারণ লেখাগুলা ঠিক বিভূতিবাবুর লেখনীর সাথে যায় না। বাকিটা আল্লাহ মালুম!

উপন্যাসটা সমাজের চোখে তুচ্ছ এক নারী পুষ্প আর মা হারা এক শিশু ভুতুকে নিয়ে। ভুতু ছোটবেলায় তার মাকে হারিয়ে সৎমায়ের অবহেলায় বড় হতে থাকে। আসল মাতৃস্নেহের জায়গায় তার কপালে জুটে সৎমায়ের লাঞ্চনা। অন্যদিকে, স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত হওয়া পুষ্প জীবিকার তাগিদে গণিকালয়ের জীবনে জড়িয়ে যায়।
ধীরে ধীরে এরা জড়িয়ে যায় এক মমতার সম্পর্কে। তারপর? জানতে হলে পড়ে ফেলুন উপন্যাসখানা।

উপন্যাসে মানবিক দিকের প্রভাব ব্যাপক। তার সাথে লেখক মাতৃত্বের এক নিবিড় স্নেহছায়া ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন। আর এসবে ফুটে উঠেছে অনেকটা স্টার জলসা টাইপ সিরিয়ালের ফ্লেভার। একদম নিরেট খারাপ বা অখাদ্য টাইপ তা কিন্তু না। তবে, মনে রাখার মতো বিশেষ কিছুও না। কিছু কিছু জায়গা বেশ ভালোও লেগেছে।

তবে, সবমিলিয়ে, বহুদিন মনে রাখার মতো কিছু না। একবার পড়ার জন্য ঠিক আছে।
Profile Image for Jheelam Nodie.
326 reviews13 followers
July 5, 2024
মন ছুয়ে যাবার মতন একটি গল্প। পুস্প এবং ভুতুর সম্পর্ক এই কাহিনীর মূল উপজীব্য হলেও অনংগ দত্তের নীরব অবদান যেন একটু আড়ালেই রয়ে গেলো। লেখক এখানে আধুনিকতার নামে উচ্ছশৃংখলতার বিরুদ্ধেও আংগুল তুলেছেন রূপককার্থে। সেই সাথে বারবণিতাদের অন্ধকার জীবনের মাঝেও যে লুকিয়ে থাকতে পারে একটুখানি অতৃপ্ত মাতৃস্নেহ, সেটাও দেখিয়েছেন। তাই তো শেষ লাইনে এসে একটু হলেও চোখের কোনটা যেন আর্দ্র হয়ে ওঠে৷
এবারে সমালোচনায় আসা যাক। পথের পাচালীর বিভূতি এবং এই গল্পের বিভূতির মাঝে আকাশ পাতাল তফাত। বয়ফ্রেন্ড, বিট্রে- ইত্যাদি আধুনিক শব্দের ব্যবহার দৃষ্টিকটু লেগেছে। সন্দেহ জেগেছে- আসলেই কি শব্দগুলো মূল লেখকের লেখা, নাকি আধুনিকায়ন করা হয়েছে? আবার গল্পের ঘটনাক্রমও কেমন যেন বাংলা সিনেমার প্লটের মতন, বিশেষ করে শেষার্ধটুকু। পথের পাচালীর কঠিন বাস্তবতা কিংবা চাদের পাহাড়ের স্বপ্নীল আবেশের রচনাকারী বিভূতিভূষণকে যেন ঠিক খুজে পেলাম না এখানে।
Profile Image for Mubtasim  Fuad.
488 reviews87 followers
October 12, 2026
নিশিপদ্ম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কি না, এই নিয়ে গত বছর বইপাড়ায় বেশ তর্কবিতর্ক শুরু হয়েছিল। আমি বরাবরের মতো নীরব শ্রোতার দায়িত্ব পালন করেছিলাম। তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা ভুলেও গিয়েছিলাম। কিন্তু আজ হুট করে Goodreads ঘাঁটতে ঘাঁটতে নিশিপদ্ম সাজেশনে চলে এলো। ব্যস, মনে পড়ে গেল গত বছরের ক্যাচালগুলো। আনমনে একটু হেসে ঠিক করলাম, ছোট সাইজের বই যখন, পড়েই ফেলি। নিজেরও যাচাই হয়ে যাবে, আসলেই এটা বিভূতিবাবুর লেখা কি না।

কিন্তু পড়তে বসে তো উল্টো মন খারাপ হয়ে গেল! গল্পটা এতটা... মানে গল্পটাই এমন যে মন খারাপ হতে বাধ্য। শেষদিকে বেশ ড্রামাটিকভাবেই একটা হ্যাপি এন্ডিং টেনে দেওয়া হয়েছে। শুনলাম, এই উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে সিনেমাও নাকি তৈরি হয়েছে। দেখা হয়নি যদিও, তবে কোনো একসময় নিশ্চয়ই দেখব।

ওভারঅল, উপন্যাসটা আমার খারাপ লাগেনি। আর লর্ড বিভূতিভূষণের লেখনশৈলী নিয়ে বাড়িয়ে কিছু বলার নেই। অনবদ্য, অতুলনীয়, অসাধারণ।
Profile Image for Sainaz Farzana Kazi.
99 reviews6 followers
June 2, 2026
গল্পের বিষয় অভিনব, তবে তার সজ্জা-বিন্যাসটা একটু গড়পড়তা গোছের মনে হলো। আবেগপ্রবণ, তবে হৃদয়স্পর্শী নয়। হাস্যরস আর সংবেদনশীলতার ব্যালেন্সটা আরেকটু বেটার হতে পারত। থ্রি স্টার্স।
Profile Image for Alauddin Azad.
55 reviews5 followers
October 15, 2024
বিভূতিভূষণ নিজে আইসা বললেও আমি বিশ্বাস করবোনা যে এডা উনি লিখসেন!!পুরনো ভারতীয় বাংলা কমার্শিয়াল ছায়াছবির স্ক্রিপ্ট মনে হইসে অনেকটা।
Profile Image for Mueed Mahtab.
425 reviews
July 23, 2024
একটা মেয়ের গল্প।অন্যসব মেয়ের মতোই তারও স্বপ্ন তার স্বামী থাকবে, বাচ্চাকাচ্চা থাকবে,নিজের সংসার থাকবে।কিন্তু-

বিয়ে হয় মেয়েটার তবে তার কোনো বাচ্চা হয়না। ওর স্বামী আরেকটা বিয়ে করে আনে তারপর ওরে বাসা থেকে বের করে দেয়। ও ওর মায়ের বাসায় যায়, ওইখানে একটা বাচ্চা ছেলেকে কোলে নিয়ে আদর করে। কয়দিন পর গ্রামের মানুষের অত্যাচারে ওর মা ওরে বাসা থেকে বের করে দেয়। ও কলকাতায় আসে। ওই বাচ্চাটাকে একটা তাবিজ টাইপ কিছু দিসিলো যাতে ওর অসুখ বিসুখ না হয় কিন্ত বাচ্চাটার সৎমা ওইটা ফেরত দিয়ে আসে। বাচ্চাটা একদিন বড় হয়, ডাক্তার হয় আর তারপর ওই মেয়েটাকে খুজতে বের হয়।

এখন কিছু প্রশ্ন থাকে

বাচ্চাটার বাপ নিয়ে কিছু বললাম না কেন?
সৎমার সাথে বাচ্চাটার দিনকাল কেমন যাচ্ছিলো?
মেয়েটাকে বাড়ি থেকে বের করে দিলো কেন?
মেয়েটা কলকাতায় কার সাথে আসে কিভাবে আসে তারপর তার দিন কেমন করে যায়?
মেয়েটাকে কি আর ওই বাচ্চাটা খুজে পায়
Profile Image for Samia Rashid.
347 reviews19 followers
August 7, 2024
সতীর্থ প্রকাশনা থেকে বলা হয় এই বইটি ৪০বছর অন্তরালে ছিল। বিশ্বাস ও করেছি তাদের কথা কারণ প্রকাশনা হিসেবে আমার কাছে তারা বেশ পছন্দের। তবে একটা কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আমি এর আগেও বিভূতির বই পড়েছি, তার লেখার ধাঁচ সম্পর্কে কিন্তু একটা ধারণা আছে আমার। নিশিপদ্ম পড়ে আমার কাছে মনেও হচ্ছে না যে এটা বিভূতির লেখা। ছোট গল্প হিঙের কচুরি পড়ে যতটা ভাল লেগেছিল এই বইটা টানে নাই সেরকম।

তবে সঠিক বেঠিক কি আমি তা জানি না। বইয়ের প্রচ্ছদ এবং এই যে বাদামী কাগজের মলাট দিয়ে বইটা খুব সুন্দর করে তৈরি করেছে সতীর্থ এটা অবশ্যই বলব।
Profile Image for Muna Khan.
117 reviews3 followers
May 22, 2025
এই বইটার বিতর্ক যদি বাদ দিয়ে শুধুমাত্র বইয়ের কাহিনী,লেখা, চরিত্র নিয়ে কথা বলি তাহলে বলব- গল্পটি আসলেই সুন্দর ছিল।
আমাদের সমাজের কয়েকটি দিক সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে।
যে সমাজ শুধুমাত্র নারীদের সবকিছুর জন্য দোষী মনে করে কিন্তু এই নারীদেরকেই দোষী করার পেছনে রয়েছে সমাজের বড় বড় নামডাক ওয়ালা কিছু পুরুষ।
এছাড়াও একজন মেয়ে যে সর্বাবস্থায় একজন মা হতে পারেন তারই উদাহরণ ছিল গল্পটি। এক বসায় পড়ে ফেলার মতো একটি গল্প।
Profile Image for Aprotim  Saha.
14 reviews3 followers
June 22, 2024
হিঙের কচুরি'তে যে অবতারণা ছিলো তার কিছুটা বৃহৎ কলেবরের উপন্যাসটির নাম নিশিপদ্ম। মুদ্রণ প্রমাদ নিয়ে সতীর্থ প্রকাশনীর আরও একটু সতর্ক হবার প্রয়োজন আছে। ৬ষ্ঠ পরিচ্ছেদ অব্দি একটু খাপছাড়া লাগছিলো তারপর গল্পে ঢুকলেও অনেক আনাড়িপনা চোখে পড়ে। পরিসমাপ্তি সুন্দর তবে কলেবর সন্তুষ্ট নই।
Profile Image for Rehnuma.
502 reviews23 followers
Read
December 28, 2024
❛যে যা আকাঙ্ক্ষা করে সে তা পায় খুবই কম। পেলেও মহাকাল পেরিয়ে যায়। আজন্ম সাধ করা কোনো বস্তু যেন সোনার হরিণ। ধরা দিতেই চায় না। হোক সেটা মাতৃত্ব কিংবা মায়ের স্নেহ।❜

স্বামী বিতাড়িতা পুষ্প জানেনা তার কী অপরাধ। অমানসিক প্রহা রের পর স্বামী যখন খেদিয়ে দিলো তখন গরীব মায়ের কাছে এসে যেন আরো বিপদে পড়লো। অভাবের সংসারে সে কোনো সুসংবাদ নিয়ে আসেনা। চেয়ে খেয়ে বা ভিক্ষে করে কয়দিন দুইজনের পেট চলে? অভাবের তাড়না সইতে না পেরে পুষ্প চলে গেলো। স্থান হলো গণিকালয়ে। সেখানে এক বাঁধা বাবুর দেখা পেলো সে। অনঙ্গ দত্ত একটু সুখের আশায় আসে পুষ্পের কাছে। পুষ্প আর অনঙ্গের এই ভালবাসার স্বীকৃতি সমাজে নেই। কিন্তু তাদের ভালোবাসা স্বার্থের নয়। আদতেই সেখানে মনের দেয়া নেয়া ছিল। যার জন্য তারা বিরহকে পুঁজি করে সুখতে দূরে ঠেলতেও দ্বিধা করেনি।
সন্তান রেখে মা মা রা গেলে বাবারা এই আশায় বিয়ে করেন যেন নতুন স্ত্রী নতুন মা হয়ে সতীনের রেখে যাওয়া সন্তানকে লালন করেন। কিন্তু বাস্তবে তাই কি হয়? উল্টোটাই হয়। সৎ মায়ের সংসারে মা হারা সন্তানটা খড়কুটোর মতো বেঁচে থাকে। ভুতুরও হয়েছে সেই দশা। হারাধন বিয়ে করে কমলাকে ঘরে এনেছেন ঠিকই কিন্তু তাতে ভুতুর মন্দ বৈকি ভালো হয়নি। সে আধপেটা খেয়ে, ছিন্ন জামা পরে, অকারণে প্র হারেই বড়ো হচ্ছে। মায়ের স্নেহ কী জিনিস ছেলেটা জানেনা।
মায়ের স্নেহ কেমন না জানা এক বালক আর কখনো মাতৃত্বের স্বাদ না পাওয়া পুষ্প যেন এক সুতোয় মিলে গেলো। ভুতুর জন্যে পুষ্পের এত মায়া কোত্থেকে এলো? ভুতুকে একটু ফুলকপির সিঙ্গাড়া, সন্দেশ খাওয়াতে পারলে কী শান্তি লাগে! অযত্নে মানুষ ভুতুর কাছেও হঠাৎ পাওয়া এই আদর নতুন। একেই কি বলে মায়ের আদর?
কিন্তু পুষ্পের নামের আগে তো ❛বার বণিতা❜ জুড়ে আছে। তার আবেগ সমাজ বা কমলা বুঝবে?
পুষ্প বা পুষ্পের মতো নারীদের এমন জীবনের জন্য দায়ী কে? দিনে যারা তাদের ছ্যাঁ ছ্যাঁ করছে রাতে তারাই তাদের পায়ে লুটিয়ে পড়ছে। নাম দিচ্ছে ❛নিশিপদ্ম❜। নিশিপদ্ম অর্থ ভাঙলে তো হয় রাতের ফুল। পুষ্প, বীণা বা ছন্দারাও তাই। সুশীল সমাজ তাদের দেখে সিটকায়। এদেরও যে একটা মন আছে, কোনো না কোনো ভাবে তারাও যে পবিত্র এর মনে হয় শুধু অনঙ্গ বাবুই বুঝেছিলেন।
পুষ্পের এই কপাল পো ড়া মাতৃত্ব, ভুতুর বুভুক্ষুর মতো পেতে চাওয়া মায়ের স্নেহ আর অনঙ্গের প্রেম এগুলো পরিনতি পাবে? সোনার মাদুলিটা নিতে ভুতু আর আসবে?


পাঠ প্রতিক্রিয়া:

❝নিশিপদ্ম❞ উপন্যাসটা (উপন্যাসিকা বলা উচিত মনে হয়) কে লিখেছেন আল্লাহ্ জানে। যদিও বিভূতি বাবুর নাম স্বয়ং তার পুত্র বলেছেন তবুও থ্রিলার পাঠক মন সন্দেহ করেই যায়। চল্লিশ বছর আড়ালে থাকার পর লেখাটি আলোর মুখ দেখেছে লেখকের নামে। তবে আলোর মুখ দেখা ঠিক ছিল নাকি সেটা প্রশ্ন রাখে।
উপন্যাসটা সুন্দর। মনোরম পাঠের অভিজ্ঞতা দেয়। উপন্যাসের দুইটা দিক ছিল। একদিকে ছিল ভুতুর সৎ মায়ের সংসারে জীবন। আরেকদিকে ছিল পুষ্পের নিশিপদ্মের জীবন। যেখানে সে হুট করে আশা মাতৃত্বের অনুভূতিতে নিজেকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। সেজন্য ত্যাগ করে। সে পুষ্প। পুষ্প ঝুঁকেগা নেহি। উপন্যাসে তার আচরণেও তাই ছিল। মাতৃ স্নেহ আর ভালোবাসার জন্য সে নিচু হয়নি। বুড়ো আঙুল দেখিয়েছিল সমাজকে। নিজের দুর্নাম মিটিয়ে কষ্ট করে হলেও নিজের মতো জীবন কাটিয়েছিল।
ভুতু আর পুষ্পের মধ্যকার সম্পর্ক, ভালোবাসা পাঠক হিসেবে আমাকে নাড়া দিয়েছে। ভালো লেগেছে পুষ্পের সাথে অনঙ্গ বাবুর সম্পর্কটা। ঝিলিমিলি পাড়ায় আসা লোকটি যে স্নেহ, ভালোবাসার কাঙাল, একটু যত্নের জন্য তৃষ্ণার্ত সেটা তার চরিত্রের মধ্যে দিয়ে অজানা লেখক দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। এই উপন্যাসে মূল দুই চরিত্র থেকে আমার কাছে যেন এই লোকটিকেই বেশি ভালো লেগেছিল।
সুন্দরের মাঝেও কিছু চরিত্র ছিল যারা সমাজে সুশীল থাকে। নেপাল বাবুকেই ধরা যায়। সুযোগ সন্ধানী, জোঁকের মতো এরা শুষে নেয় সুখ। কিন্তু বাইরে দেখায় তারা দেবতা।
শেষটা হ্যাপিলি এভার আফটার জাতীয় হলেও কেমন যেন লাগলো। কাকতাল কিংবা অতি নাটকীয় জাতীয় ঘটনার অবতারণা করেই যেন সমাপ্তি ঘটলো।
সুন্দর ছিমছাম উপন্যাসের মাঝে কোথাও আমার কাছে বিভূতি বাবুর ছায়া কল্পনায় আসেনি। লেখককে আমরা প্রকৃতির বর্ণনায় বুদ করে দেয়া হিসেবেই বেশি চিনি। যদিও কোনো এক ভূমিকায় তার পুত্র বলেছেন লেখককে আমরা প্রকৃতি প্রেমী হিসেবে আখ্যা দিয়ে গিয়ে তার সুন্দর মানব প্রেমের সত্তাকে ভুলে গেছি। এটা যদি তার মানব প্রেমের সত্তা হয় তবে আমার প্রকৃতি প্রেমই সই। হতে পারে লেখাটা অসম্পূর্ণ ছিল, পুত্র পূর্ণ করেছেন। এর বেশি কিছু আমি ভাবতে পারলাম না।
আরেকজন পাঠকের মতোই বলতে ইচ্ছা করছে, ❛বিভূতি যদি চিতা থেকে উঠে স্বয়ং বলে, পিস বিলিভ মি এটা আমি লিখছি, তাও আমি বিশ্বাস করবো না।❜


প্রচ্ছদ, প্রোডাকশন:

ভিন্টেজ প্রচ্ছদ বেশ সুন্দর। তবে ১৬৮ পৃষ্ঠার ক্রাউন সাইজের একটা বইয়ের গায়ের দাম ৪০০ টাকা মাত্রাতিরিক্ত। অনেক ব্যাখ্যা দেয়া যায় পক্ষে কিন্তু তারপরেও যেখানে লেখকের কপিরাইট নেই এখন আর সেরকম একটা বইয়ের দাম ভিন্টেজের তকমা দিয়ে এত রাখার যৌক্তিকতা নেই। তবে বইটা দেখতা বেশ সুন্দর হয়েছে এবং সংগ্রহে রাখার মতোই।


❛শিউলি গাছটা বেড়ে উঠেছে। তার ফুল দিয়ে ফুলের বিছানা তৈরি হয়েছে। সে ফুলের পুজো যার পাওয়ার কথা সে কি পাবে?❜
Profile Image for Ajanta Rezwana.
431 reviews2 followers
January 18, 2025
I refuse to believe that this book was written by বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়. It’s simply not possible for the author of পথের পাঁচালী, অপরাজিত and চাঁদের পাহাড় to write such bullshit. Maybe by সমরেশ মজুমদার or শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় in their last days, but not বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.

This was a complete scam to use this author’s name in a book that is definitely not written by him.
Profile Image for সুমাইয়া সুমি.
248 reviews6 followers
December 4, 2024
ভূমিকায় লেখা আছে "হিঙের কচুরি" গল্পটা থেকে সত্তুরের দশকে উত্তম কুমার আর সাবিত্রী দেবির "নিশিপদ্ম" নামে সিনেমা হয়েছিল। যার ব্যাপক জনপ্রিয়তার ফলে সিনেমাটার হিন্দি রিমেক হয় "অমর প্রেম" নামে। বলিউডের তৎকালীন সুপারস্টার রাজেশ খান্না আর শর্মীলা ঠাকুর অভিনীত এই সিনেমার একটা বিখ্যাত ডায়লগ "পুষ্পা আই হেইট টিয়ারসরে"।

নিশিপদ্ম পড়তে গিয়ে তাই আমার এটাকে উপন্যাসের চেয়ে চিত্রনাট্য বেশি মনে হয়েছে। এ কারণে যারা বিভূতির লেখা পড়ে অভস্ত্য তাদের কাছে সাদামাটা লাগবে। বাহুল্য বর্ণনা নেই শুধু চোখের সামনে কাট টু কাট চিত্রকল্প।

সমাজ থেকে প্রত্যাখ্যাত এক অচ্ছুৎ নারী পুষ্প যার প্রগাঢ় মাতৃস্নেহের আঁচলে ঠাঁই পায় সৎ মায়ের অবহেলার স্বীকার মাতৃস্নেহের কাঙাল ভুতু। যাদের ভালোবাসা দেখে এক দন্ড শান্তির আশায় থাকা অনঙ্গ বাবুও দূরে চলে যেতে দ্বিধা করেন না।

সিনেমার গল্পের মতোই শেষ মেষ সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করিতে লাগিলো।
Profile Image for Tasmin Nisha.
165 reviews9 followers
June 29, 2024
ছোট্ট ভুতুর প্রথমবারের মতো কলকাতা শহরে অনুপ্রবেশ, সাথে আছে বাবা, সৎ মা ও সৎ ভাই-বোনেরা। এখন থেকে এখানেই তাদের বসবাস। কলকাতার ছুপড়ি গলির ভিতরে এক ভাড়াটে বাসায় তারা উঠলো। একদিন পথে ভুতুর বাবা হারাধনের সাথে পুষ্পর দেখা , পুষ্প হারাধনের গ্ৰামেরই এককালের বাসিন্দা। ভাগ্যের ও সমাজের নিষ্ঠুরতা পুষ্পকে আজ গণিকালয়ের বাসিন্দায় পরিণত করেছে। হারাধনের কাছ থেকেও পুষ্পকে অপমানের সম্মুখীন হতে হয়েছে কিন্তু ভাগ্যক্রমে তার পুত্র ভুতুর সঙ্গে পুষ্পর সখ্যতা গড়ে ওঠে। সৎ মায়ের অত্যাচার সর্বদাই চলতে থাকে ভুতুর উপর। এমন সময়ে পুষ্পর সাথে ভুতুর পরিচয়, পুষ্প তাকে ভালো খেতে দেয়, খুব আদর করে , নতুন শহরে পুষ্পই যেন তার কাছের প্রিয় মানুষ, প্রিয় বন্ধু। সন্তানের সাধ না পাওয়া পুষ্পও যেন সৃষ্টিকর্তার কৃপায় ছেলে পেল তথা নতুন এক জীবন পেল।



ভুবনে মাতৃস্নেহ না পাওয়া ভুতু ও মাতৃস্নেহ দেওয়ার জন্য আকুল হয়ে ওঠা পুষ্পর গল্প এটি। গণিকাদের জীবনের খন্ড চিত্রও গল্পে দৃশ্যমান। পাশাপাশি এটাও দেখানো যে একই সমাজে ভালো ও মন্দ উভয় পুরুষদেরই বসবাস যেখানে এক শ্রেণীদের চেষ্টা থাকে নারীজাতকে সামনে এগিয়ে দেওয়ার পক্ষান্তরে আরেক শ্রেণীর সকল প্রচেষ্টাই থাকে নারীজাতকে নিচে ঠেলে দেওয়ার যারা কিনা আবার সমাজের মানদণ্ড বিচারকার্যে সর্বদা হাজির। গল্পটার মূল বিষয়বস্তু সুন্দর, লেখকের বাস্তব জীবনকে কেন্দ্র করে কিছুটা। তবে আমি খুব একটা কানেক্টেড হতে পারিনি।
Profile Image for Zannat  Esha.
35 reviews5 followers
May 24, 2025
প্রচন্ড কন্ট্রোভার্সাল একটা বই শেষ করলাম।
সিনেমার কাহিনীর মতো ধীরে সুস্থে এগিয়ে চলেছে পুরোটা উপন্যাস। মনে হচ্ছিলো চোখের সামনে ভেসে উঠছে কাহিনী গুলো।
যদিও নিশ্চিতভাবে জানা নেই যে বইটার লেখক আসলেই বিভূতিভূষণ কিনা! সন্দেহ হবারও যথেষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ বিভূতিভূষণের অন্যান্য লিখার সাথে এই লিখাটা ঠিক যায় না। তবুও ব্যক্তিগতভাবে ভালো লেগেছে।
Profile Image for Tä Sü.
66 reviews1 follower
December 11, 2025
যেসব জিনিস আমরা খুব সহজেই পেয়ে যাই, তার মর্যাদা আমরা ঠিকঠাক বুঝে উঠতে পারি না। কখনো কখনো কোনো জিনিসের আসল মর্যাদা, আসল স্বাদ বুঝতে হলে সেটা থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়। ব্যাপারটা কিছুটা ব্যর্থ প্রেমিকের ঐ কথার মতো— এমনিই পায়া গেসিলি দেখে আমার ভালোবাসা বুঝতে পারলি না।

পুষ্প নিতান্তই গ্রাম্য মেয়ে। স্বামীর ঘরে ঠাঁই নেওয়ার পর বহু স্বপ্ন দেখেছিল সে। স্বামী-সন্তান নিয়ে একটা জীবন খুশিখুশি পার করে দিবে বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু সুখ তার কপালে ছিল না। সন্তান জন্মদানে অক্ষম ছিল বলে সতীনের সংসার হলো তার। তবুও ভিটে কামড়ে পড়ে ছিল সে। কিন্তু স্বামীসংসার তার কপালে জুটলো না। দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়া হলো তাকে।

গ্রামে এসে বহু তদবিরের পরও যখন দুটো ভাতের জোগাড় হচ্ছিল না, তখন সে আত্মহ*ত্যার পথ বেছে নিল। কিন্তু গ্রাপের নেপাল তাকে বাঁচিয়ে নিয়ে চলে এলো কলকাতা। বহু কষ্টের পর তাকে শেষমেশ ঘৃণ্য পথটাই বেছে নিতে হলো। পতিতাবৃত্তি। এছাড়া আর জীবনধারণের কোনো পথই অবশিষ্ট থাকলো না। তবু তার জীবনটা খুব খারাপ যায়নি। অনঙ্গবাবুর বদৌলতে তাকে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই একদিন সে খুঁজে পায় ছোট্ট ভুতুকে। মাতৃহৃদয় যেন ফের ফুটে ওঠে। নিজের সন্তানের অভাবটা ভুতুকে দিয়েই পূরণ করতে চায় সে। অপরদিকে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত ভুতুও সবটা বিলিয়ে দেয় পুষ্পর জন্য। কিন্তু তাদের পরস্পরের ভালোবাসার অল্পদিনেই ইতি ঘটল। অবশ্য এটাকে ইতি বলা ভুল হবে। ইহা তো কেবল শুরু মাত্র— বাকি গল্পখানা জানতে পড়তে হবে “নিশিপদ্ম।”

নিশিপদ্ম নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক যুক্তিতর্ক হয়েছে যে এটা আদৌ বিভূতির লেখা কিনা। তবে যেহেতু অনেক প্রকাশনী বিভূতির নাম দিয়েই বের করে ফেলেছে, তাই আমিও ধরে নিচ্ছি এটা প্রকৃতই বিভূতির লেখা। যেহেতু লেখকের এই রিলেটেড লেখা কম এবং আমারও তার লেখা খুব বেশি পড়া হয়নি, তাই ব্যক্তিগত মতামতও দিতে পারছি না। কোনো জায়গায় বিভূতি বিভূতি ফিল পেয়েছি, কোনো জায়গায় পাইনি। তবে গল্প হিসেবে খুবই ভালো লেগেছে।

বহুদিন পর এমন একটা গল্প পড়া হলো। গল্পের পালাবদল খুবই সাধারণ। তবে লেখকের বর্ণনায় তা অসাধারণ হয়ে উঠেছে। গল্পের শেষ পরিণতি হয়তো আপনি আগেই বুঝতে পারবেন কিন্তু তা এতো চমৎকারভাবে হবে, তা বুঝে উঠিনি। ক্যারেক্টারগুলোও খুবই রিয়েল। সমাজের কতকগুলো সাধারণ অথচ অস্বস্তিকর চিত্র ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে। সার্বিক চিন্তার পর এটা প্রকৃতই বিভূতির লেখা বলে মনে হয়েছে। গল্পে বর্ণনাশৈলি, ক্যারেক্টার বিল্ড আপ, প্লট, সবকিছুই অসাধারণ ছিল। ঝরঝরে, মেদহীন লেখা। সহজেই পড়া যায়।

যাইহোক, বিভূতির লেখা নিয়ে বেশি বলার মতো কিছু নেই। তার লেখা সকলের কাছেই অত্যন্ত সুপরিচিত। শুধু এতটুকু বলব, এখন পর্যন্ত এটা আমার পড়া বিভূতির লেখা ব্যতিক্রমধর্মী উপন্যাস। সাধারণত এমন গল্প বিভূতিভূষণ লেখেন না বলেই জানি। প্রকৃতিই তার লেখার প্রধান উপজীব্য। এই গল্পে এটার উপস্থিতি নেই বললেই চলে। তবে সবমিলিয়ে—এনাফ।

◽বই : নিশিপদ্ম
◽লেখক : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
◽প্রকাশনী : সতীর্থ প্রকাশন
◽পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১৬৮



Profile Image for Shamsudduha Tauhid.
65 reviews7 followers
July 17, 2024
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা মানেই এক প্রশান্তির ঘর। যে লেখা পড়তে চাই, তিনি যেন তাই লিখেছেন।
তাঁর লেখা বহুদিন বাদে নতুন একটা পড়লাম- নিশিপদ্ম।

নামকরণেই গল্পের সম্পর্কে একটা আইডিয়া পাওয়া যায়। এক বারবনিতার গল্প। কিন্তু সমাজে সে কি করে বারবনিতা হয়ে উঠল, সেই সমাজের গল্প বলেছেন ঔপন্যাসিক। নারী পীড়ন। অধঃপতিত সমাজ ব্যবস্থা। সমাজে অবহেলিত নারীদের কী দৃষ্টিতে একজন পুরুষ দ্যাখে। এসবের ন্যারেটিভে গড়ে ওঠে গল্পের ভিত।

সেই বারবনিতার নাম- পুষ্প। তারই গ্রামের বাড়ির এক পরিবার পতিতালয়ের পাশে এক ভাড়া বাড়িতে ওঠে। সে পরিবারে এক বাচ্চা ছেলে, নাম তার ভুতু। ভুতুর সাথে পুষ্পের সখ্যতার গল্প বলেন ঔপন্যাসিক। ভুতুকে পেয়ে পুষ্প যেন মাতৃত্বের সাধ পায়। কিন্তু সে সুখ কী আর টিকল বেশিদিন?

গল্পের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র অনঙ্গ বাবু। পুষ্প'র ভালোবাসার মানুষ। যদিও তার স্ত্রী আছে। তবে সে সুখী দাম্পত্য জীবন উপভোগ করতে পারে না। তাই একটু শান্তির জন্য পুষ্পের কাছে আসে। তাদের সম্পর্কের মাঝে একটা পর্যায়ে বাধ সাধে ভুতু। তাদের এ অসামাজিক সম্পর্কের মাঝে ভুতুকে রাখলে সমস্যা হবে। কিন্তু পুষ্প কাকে গুরুত্ব দেবে? মাতৃত্বের অনুভূতিকে নাকি একটা ভালোবাসার মানুষকে যে এই কদর্য সমাজে একটা শান্তির ছায়া হয়ে আছে?

গল্পের প্রথম অর্ধেক অপূর্ব লেগেছিল। কিন্তু বাকি অর্ধেকে এসে খুব বেশি মেলোড্রামাটিক লেগেছে।
বিভূতিভূষণের বাকি লেখাগুলোর তুলনায় এটার প্রেক্ষাপট বেশ আধুনিক এবং বেশ কিছু শব্দচয়নেও তাই ব্যবহার করেছেন।

ব্যক্তিগত রেটিং: ৪/৫
Profile Image for Nujhat Tabassum Tonny .
30 reviews40 followers
July 25, 2024
উপন্যাসের নামকরণ দেখে প্রথমেই যে শব্দটা চট করে মাথায় আসে " বারবণিতা"।

এটা এক স্বপ্নচারী সাধারণ মেয়ের গল্প।সবার মতো তার ও যে স্বপ্ন সংসার হবে,স্বামী থাকবে,বাচ্চা থাকবে।নিঃসন্তান পুষ্পের আর স্বপ্নের সংসার গড়া হয় না।স্বামী ২য় বিয়ে করতেই তাকে তাড়িয়ে দেয়।সে ঠায় নেয় তার মায়ের জীর্ণ-শীর্ণ খড়ের বাড়িতে।মায়ের দরিদ্রতায় তার  পেটের দায়ে এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে বেড়ায় কাজের সন্ধানে।হঠাৎ একদিন হারাধনের বাড়ি উপস্থিত হতেই মাতৃহারা ছেলে ভুতু হুমড়ি খেয়ে পড়ে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে।পুষ্প হাত বাড়িয়ে ছেলেকে কোলে নিতেই তার মাতৃসম কোমল হৃদয় ঢুকরে ওঠে।এমন ছেলের স্বপ্ন যে সে ও দেখেছিল।এই আরপ্যাচ ভাবতে ভাবতে সেদিনের মতো গয়লা বউয়ের থেকে একথালা মুড়ি নিয়ে চলে যায়।সেদিনই তার দিকে চোখ পড়ে নেপাল বাড়ুয্যের।সে পুষ্পকে কাজের সন্ধানে কোলকাতায় নিয়ে এক নরকের জীবনে ঠেলে দেয়।এ জীবন কী চেয়েছিল পুষ্প?বহুদিন পর তার গ্রামের এক পরিবার তার পাশেই বাড়িভাড়া নেয়।সে বাড়ির এক ছেলেকে(ভুতুকে)পেয়ে পুষ্পের বারবণিতার অন্ধকার জীবনেও মাতৃস্নেহ জেগে ওঠে।তাকে পাওয়ার জন্য পুষ্প যে তার মাসকাবারির অনঙ্গের সঙ্গ থেকেও প্রস্হান নিয়ে নেয়।শেষ অব্দি তার আর ভুতুকেও পাওয়া হয় না।ভুতুরাও একদিন তাকে ছেড়ে গ্রামে চলে যায়।পুষ্প ও ঝিয়ের কাজে চলে যায়।বহুবছর পর ভুতু বড় হয়ে করপোরেশনের বড় ডাক্তার হয়ে তার পুষ্প মায়ের শিউলি গাছ লাগানো বাড়িতে এসে উঠে তার সংসার নিয়ে।শেষ অব্দি সে তার পুষ্প মাকেও খুঁজে পায়, তার কাছে নিয়ে আসে।আর সেটাও সম্ভব হয়েছে অনঙ্গ বাবুর জন্য।পুষ্পের ভুতুর প্রতি মাতৃস্নেহ আবার অনঙ্গের প্রতি মনোভাব সবটাই যেন সুন্দর।গল্পটা পড়তে পড়তে কখন যে চোখের কোণা আদ্র হয়ে গেল....

বি.দ্র.উপন্যাসটা কেমন যেন একটু ড্রামাটিক লেগেছে।আসল বিভূতিভূষণকে খুঁজে পাই নি আধুনিকতার শব্দচয়নে।আলাদা বর্ণ-গন্ধ পাচ্ছিলাম বারবার ই।পরক্ষণেই নিজেকে আবার বললাম,একজনের সব কাজই যে একধারার হবে এমন টা নয়।আমার ভালোলাগাতে ৩ তারা।।
Profile Image for Saima  Taher  Shovon.
537 reviews229 followers
July 9, 2024
মানুষজনের লেখা পড়ে খুব টানাটানিতে ছিলাম এই বইয়ের বিষয়ে। নিজেই অনেক আগে নিয়ে নিতাম। কিন্তু Satirtho Prokashona নিজেরাই পাঠিয়েছে।আবার কুরিয়ারে দিন বিশেক এক্সট্রা কাটিয়ে ফেলেছে।

এই ভালো হবে কিনা, গল্প ঠিকঠাক আছে কিনা। আসলেই কি বিভূতিভূষণের লেখা? গোস্ট রাইটার লিখেছেন? নাকি তারাদাস?আবার গুগল করলে তারাশঙ্করেরও নামও সামনে চলে আসে!কেননা তার একটা এই নামের উপন্যাস আছে(!) সব "নাকি" এর উত্তর বের করতে তিন গোয়েন্দার উপস্থিতি কাম্য?

তবে শুরুর দিকে মনে না হলেও পরে মনে হয়েছে- বিভুতি জাদু যেনো থেকেও নেই। এমনটা মনে হয়েছিলো দেবযান পড়বার সময়। এখন আবার।

তবে ৪০ বছর বইটা কোথায় ছিলো?ছিলো তো কোথাও একটা। এতো কন্ট্রোভার্সি দেখে আমি সিনেমাটা দেখে ফেলেছি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লেখকের বই সিনেমা হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশে হর হামেশাই এই কাজ হচ্ছে। সে থেকে এবং সেই লেখকগুলোর বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে যা বুঝলাম-তারা যে উপন্যাস লেখেন, তার থেকে সিনেমার চিত্রনাট্য ভিন্ন থাকে। পর্দার খাতিরে অনেক পরিবর্তন হয়, হয়তো অনেক নাটকীয়তাও চলে আসে। এই বই আমার ঠিক তেমন মনে হয়েছে।
এমনকি পথের পাঁচালী দেখো। সবটুকুন কি মিল আছে?কিংবা হাঁসের পালক বা শাপমোচন? মূলভাবটা বজায় আছে সবকটাতেই। এটাও আমার তেমনই চিত্রনাট্য মনে হয়েছে।
বাকি কথা হিঙের কচুরি শেষ করে বলবো।
Profile Image for Sarwar Sajib.
50 reviews
January 9, 2025
আমার প্রিয় লেখকদের মধ্যে একজন হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভূতিবাবুর অদ্ভুত এক গুণ আছে;পাঠকের মনের ভেতর থেকে আবেগ অনুভূতিকে তিনি বের করে আনতে পারেন। পাঠক যত গল্পের ভেতরে ঢুকবে সেই আবেগ তীব্র হয়ে উঠবে। বাকি উপন্যাস গুলোর মতো ‘নিশিপদ্ম’ একইভাবে মনে দাগ কেটেছে। ছোট্ট বালক ভুতু এবং সমাজ বিবর্জিত এক নারী পুষ্প কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ‘নিশিপদ্ম’।

একদিকে পুষ্প যেমন সমাজের অবজ্ঞার স্বীকার ঠিক তেমনি ভুতুও তার সৎমায়ের অবজ্ঞার স্বীকার। তাই এই দুইজনের মাঝে তৈরি হয় অদৃশ্য এক ভালোবাসার বন্ধন। যে বন্ধনের মূল কাঠামো মাতৃস্নেহ। আগেই বলেছি বিভূতিবাবু তার কলমের কালির জাদুতে পাঠকের মধ্যে থাকা আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করতে পারেন;‘নিশিপদ্ম’ পড়ার সময়ও আমার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হই। খুব সহজে গল্পের মধ্যে ঢুকে পড়ি।

কিছু কিছু বই আছে, মনে দাগ কাটে। ‘নিশিপদ্ম’ তেমনি একটা বই। এক কথায় অসাধারণ অনবদ্য। এর আগে বিভূতিবাবুর ‘আদর্শ হিন্দু হোটেল’ পড়ার জন্য সবাইকে বলতাম, আজ থেকে সেই ‘নিশিপদ্ম’ যোগ হলো।

ব্যক্তিগত রেটিং: ৫/৫
Profile Image for Abdur Rahman.
1 review
July 21, 2026
বিভুদার সময়ে এটা প্রকাশিত হলে অনেক প্রসার হতো, কিন্তু প্রায় ৪ দশক পরে এটা প্রকাশ হলো। আমার মনে হয় এটা চলচিত্র নির্মাণ করার জন্য লেখা হয়েছিল। কারণ একটা স্ক্রিপ্ট এর মতো লাগলো।
তবে মনে মনে যদি এটা চিন্তা করি তাহলে সুন্দর একটা চলচিত্র হয়ে যাচ্ছে। অন্য সব দিক বাদ দিলে মোটামুটি আমার কাছে খারাপ লাগেনি।

একজন নারীর( যে কোনো দিন মা হতে পারবে না তার ) মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণ করার জন্য সবকিছু ত্যাগ করা। অনঙ্গ বাবুর চোখ দিয়ে সেই সময়কার সামাজিক চিত্র ভালো ভাবেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আর আমাদের প্রিয় ভুতু যে কিনা জানত না মাতৃস্নেহ কি, তাকে মাতৃস্নেহের স্বাদ দেওয়া। তবে সমাপ্তি টা আমার পছন্দ হয়নি , কারণ এটা একটু বেশি ড্রামাটিকাল হয়ে গেছে। মানে বলতে গেলে সম্পূর্ণ হ্যাপি এন্ডিং যাকে বলে ।
My rating: 3.5
Displaying 1 - 30 of 57 reviews