বইটি কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় -কে নিয়ে লেখা; তাঁরই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দৃষ্টিতে তাঁর ব্যক্তি জীবন ফুটে উঠেছে এখানে। কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় মানুষ হিসেবে কেমন ছিলেন, কত অন্যরকম মানুষ ছিলেন তিনি– তা-ই তুলে ধরেছেন~ “তাঁর বহু বছরের বন্ধু, তাঁর প্রথমতম আলোচকদের অন্যতম, তাঁর অজস্র কবিতার ভাষ্যকার ও বহু গ্রন্থের সম্পাদক, সমীর সেনগুপ্ত।” (শক্তি চট্টোপাধ্যায় ও সমীর সেনগুপ্ত -এর সম্পর্ক ~আরেকটু ভালভাবে বোঝাতে বইয়ের অংশটিই তুলে ধরলাম।)
// প্রথমেই, সেই মলিন অন্ধকার দিন দিয়ে শুরু হয়েছে বইটি... “...তার পেছনে পুলিশবাহী কালো গাড়ি (‘তোমাকে তুলে নিয়ে যায়/ কালো গাড়ির ভিতরে আবার কালো গাড়ি, তার ভিতরে আবার কালো গাড়ি’), তার পিছনে শক্তিকে নিয়ে কাঁচের গাড়ি।”
~কলকাতা শহরের উপর দিয়ে, তার প্রিয় কবির শেষ বিদায় যাত্রা...
তারপরেই তাঁর নানা স্মৃতিতে আচ্ছন্ন হয়েছেন কথক... ভাবনার পথে বিষাদ থেকে ক্রমে বন্ধু শক্তি -র রহস্যময়তার অরণ্যে হারিয়েছেন তিনি। (বলাইবাহুল্য, তিনি একা হারাননি, সঙ্গে পাঠক -কেও...)
নানা আলাপ-আলোচনা, তাঁর সঙ্গে নানা ভ্রমণ অভিজ্ঞতা, মাদকতা, তাঁর অদ্ভুত ব্যক্তিত্ব, তাঁর মানুষকে ভালবাসার, মনুষের সাথে তার মিশে যাওয়ার ক্ষমতা ~কথক সবই তুলে ধরেছেন... এমনকি তাঁর প্রেম ও পরিণয়ের ~কথাও রয়েছে বইটিতে।
// বিষাদ থেকে রহস্যময়তার মধ্যদিয়ে মুগ্ধতায় ভরা এই ছোট্ট বইটি– সাহিত্য- অরণ্যের একমাত্র~ ‘স্পর্ধিত- প্রেমিক’, শক্তি চট্টোপাধ্যায় -কে আরেকটু কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।
কবি হিসাবে তিনি চির রহস্যময়... মানুষ হিসেবেও তিনি কতখানি... ~তা তার রহস্যময়তার অরণ্য ভেদ করতে গিয়ে দেখলাম... (বলাইবাহুল্য : যা আমার কাছে দুঃসাধ্য... তাও ব্যর্থ- মুগ্ধতায় ভাসছি...!!)