এক্সামের পরের ছুটিতে মিতিন মাসির বাড়িতে বেড়াতে এসেছে টুপুর। বেশ অনেকদিন ধরে মিতিন মাসি কোনো কেস পায় নি বলে ক্ষ্যাপানো শুরু করেছে পার্থ মেসো। মিতিন মাসি নির্লিপ্ত থেকে বুমবুমকে নিয়ে খাটছে। সেদিন সন্ধ্যার পর পর মিতিন মাসির ফোন আসল। লোকটার নাম শুনে স্বয়ং পার্থ মেসো পর্যন্ত চমকে ওঠল। শেঠ রুস্তমজি জরিওয়ালা। কলকাতার সেরা ব্যাবসায়ীর একজন। সম্ভ্রান্ত পারসি।
ঘটনাচক্রে জানা গেল রুস্তমজির ছেলে রৌনক (রনি) কে কিডন্যাপ করা হয়েছে। কিডন্যাপার এক কোটি টাকা দাবি করছে। টাকাটা রুস্তমজির জন্য তেমন কিছু না, কিন্তু তিনি চাইছেন কিডন্যাপারর ধরা পড়ুক। এদিকে রুস্তমজীর স্ত্রী লীলা ডিটেকটিভদদের আগমনটা পছন্দ করেনি। হাজার হোক মায়ের মন।
রনি, সেন্ট পিটার্স স্কুলে ক্লাস ফোরে পড়ে। স্কুলের কড়া নিয়ম কানুনের মাঝখান থেকে সোজা হাপিশ হয়ে গেল যেন সে। স্কুলের কমিটি জানাল, কার্ড দেখিয়েই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাদের কালো বি এম ডব্লিউ গাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এদিকে কিডন্যাপাররা সময় দিয়েছে মাত্র তিনদিন। ফোনটা এসেছে একটা পাবলিক টেলিফোন বুঁদ থেকে। কাজে লেগে গেল মিতিন মাসি, জানা গেল আসলেই নিজেদের গাড়িতে করে রনি গিয়েছিল সেদিন। কিন্তু মজার একটা তথ্য হাতে পড়ল, গাড়িটা যদিও রনিদের গাড়ির মতোই দেখতে, কিন্তু আসলে গাড়িটা তাদের না!...
ভাইয়ের সাথে মনোমালিন্য চলছে রুস্তমজির। কিন্তু তার সাথে কেইসের কোনো সম্পর্ক করতে পারল না মিতিন মাসি। এদিকে জুটেছে দ্বিজেন হালদার, যার কোম্পানি থেকে কিডন্যাপেরর গাড়িটা ভাড়া করা হয়েছে। জানা গেল গাড়িটা ভাড়া করা হয়েছে রুস্তমজির অফিস থেকেই। কিন্তু রুস্তমজি এই সম্পর্কে ওয়াকিবহল না।
তবে কে আসল কিডন্যাপার? রুস্তুমজির ভাই? দ্বিজেন হালদার কি মিথ্যে বলছে? নাকি অন্য কেউ কলকাঠি নাড়ছে পেছন থেকে! মিতিন মাসি কি পারবে কিডন্যাপারকে ধরতে নাকি বেঘোরে প্রাণ যাবে রনির...? হাতে তিনটে মাত্র দিন!
#বইটার_ভালো_লাগা_যা_কিছু
মিতিন মাসি একটা ক্রাস😍😍.. টুপুর সঙ্গী হিসেবে বেশ ভাল। বইটাতে পারসিদের কলকাতার আগমন, শেকড় গেড়ে বসার কারণ এসব নিয়ে বেশ কড়া আলোচনা করা হয়েছে যা জ্ঞান বাড়াতে সহায়ক। মিতিন মাসি ঘোরালো পথে না গিয়ে স্বাভাবিক ভাবে হেঁটেছেন। পরিবার আর কাজ দুটিকেই সামলাতে পারে নারীরা। নারীবাদী চরিত্রটা একটা ভালোবাসা..💜💜💜 সুচিত্রার ভাষা অসাধারণ। সাধারণ জিনিসটাকে এত সুন্দর করে বলেন। বেশ আগ্রহ জাগায় সবটা জানতে। বইটার শেষদিকে একটা বড় ধরনের টুইস্ট আছে। সেটাি সব থেকে বেশি ভালো লেগেছে।
#বইটার_ভালো_না_লাগা
বইটাতে এত বেশি খাবারের বর্ণনা দেয়া। তিন চার পেইজ পর পর তারা খায়.. বুমবুমকে বরাবরের মতোই দুই তিন লাইনের বেশি পুরো বই এ আনেনি। এই বইটার দুই তিনটা পেইজে শেঠরুস্তমজিসাহেব, পার্থমেসোররসিকতা এধরনের স্পেস ছাড়া কয়েকটা শব্দ পেয়েছি।