নচিকেতা চক্রবর্তী'র বৃদ্ধাশ্রম গান শুনলে,না চাইতে ও আমার চোখে জল গড়ায়। ভাবি মানুষ কতটা নিষ্ঠুর হলে,জন্মদাতা মা-বাপরে পর করে দেয়। ভুলে যায় নিজের সুবর্ণ অতীত। এরা সন্তান হওয়ার যোগ্য-ই না। যখন বাপ মায়ের আশ্রয় দরকার, তখন তাদের দূরে ছুঁড়ে দেয়,এরা কখনো মানুষ হতে পারে না। এরা অধম,এদের জন্মের কারণে পৃথিবী কলুষিত হয়েছে।
আজকে পড়লাম শ্রদ্ধেয় লেখক রমাপদ বাবুর উপন্যাস "ছাদ"। লেখক এখানে বৃদ্ধ সোমনাথের গল্প আমাদের শুনিয়েছেন। লেখক আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন,সময় কিভাবে মানুষের গুরুত্ব কমায়। কিভাবে একজন ঋজু মানুষ হেরে যায় বার্ধক্য আর বয়সের কাছে।
"ছাদ" পড়ার আগে ভাবতাম,বাপ-মা ছেলেদের কাছে থাকে মানে ভালো থাকে। আদরে থাকে,যেমন আদরে তারা আমাদের ছোট বেলায় রাখতেন। এখন আমার ভুল ভেঙেছে! আসলেই কি ছেলে মেয়ের কাছে বাপ মা বৃদ্ধ বয়সে সুখে থাকে? না,একদম-ই না। শেষ বয়সে মানুষ গুলো নিঃসঙ্গ হয়ে যায়, একটা কথা বলার মত লোক পায় না। যে ছেলেকে রক্ত জল কইরে মানুষ করলেন,সে ছেলে তাকে সময় দিতে পারে না। দেয় না। ইচ্ছে করে দেয় না,অজুহাত দেয় বাপের সঙ্গে তার মতে মিলে না! মত না মিললে নায়,কিন্তু লোকটার দুইটা কথা শুনতে কিসের আপত্তি! আসলে মূল ব্যাপার হচ্ছে, আমরা যত আধুনিক হচ্ছি,আমাদের মানবতা লোপ পাচ্ছে। আমরা স্রেফ একটা জীব হয়ে বেঁচে আছি। আত্মকেন্দ্রীকতা আমাদের গ্রাস করে ফেলেছে। নিজের স্বার্থে আমরা জন্মদাতা মা-বাপ রে পর ভাবতে শুরু করেছি। দোষ সময়ের না,দোষ আমাদের। যুগ আধুনিক হবেই,এর মানে এই না তার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে আমি আমার মনুষ্যত্ব বোধ বিসর্জন দিবো।
শ্রদ্ধেয় লেখক রমা বাবুর, এই নিয়ে তিনটা উপন্যাস আমার পড়া হলো। এই তিন টা উপন্যাস ই আমি কোন দিন ভুলতে পারবো না। ভদ্রলোক সমাজের এই অসঙ্গতি গুলো এত সুন্দর করে তুলে আনেন,এটা বলার কোন অপেক্ষা রাখে না। দারুণ, দারুণ।