এই দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে রমাপদ চৌধুরীর পাঁচ-পাঁচটি জনপ্রিয় উপন্যাস। আছে ‘প্রথম প্রহর’—না-কলকাতা না-গ্রাম এক তৃতীয় জগতের পরিবেশে এক কিশোরের বয়ঃসন্ধিতে উত্তীর্ণ হবার কাহিনী । আছে যুদ্ধবিরোধী ‘স্বজন’—ইতালিয়ান এক যুদ্ধবন্দীকে ঘিরে আকর্ষণ ও ভয়-বিহুলতার এক বিচিত্র টানাপোড়েন। আছে ‘অ্যালবামে কয়েকটি ছবি’, যেখানে মানুষের অবিকল প্রতিচ্ছবিকে ধরার প্রয়াস। আছে চলচ্চিত্রে-রূপায়িত ‘পিকনিক’, যেখানে তরুণ প্রেমের ক্ষণিক উচ্ছলতা থেকে জীবনের গৃঢ় সত্যে পৌঁছে যাওয়া। আর আছে ‘দ্বীপের নাম টিয়ারঙ’, দ্বীপ থেকে সমুদ্রে ও সমুদ্র থেকে দ্বীপে ফিরে আসার সেই প্রতীকী কাহিনী।
রমাপদ চৌধুরীর জন্ম ২৮ ডিসেম্বর ১৯২২। কৈশোর কেটেছে রেল-শহর খড়গপুরে। শিক্ষা: প্রেসিডেন্সি কলেজ। ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ.। গল্প-উপন্যাস ছাড়াও রয়েছে একাধিক প্রবন্ধের বই, স্মৃতিকথা এবং একটি অত্যাশ্চর্য ছড়ার বই। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেয়েছেন সাম্মানিক ডি লিট, ১৯৯৮৷ ১৯৮৮-তে পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সাহিত্য সম্মান জগত্তারিণী স্বর্ণপদক ১৯৮৭। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শরৎচন্দ্র পদক ও পুরস্কার ১৯৮৪। শরৎসমিতির শরৎচন্দ্র পুরস্কার ১৯৯৭। রবীন্দ্র পুরস্কার ১৯৭১। আনন্দ পুরস্কার ১৯৬৩৷ তাঁর গল্পসমগ্র বইটিও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃক পুরস্কৃত। হিন্দি, মালয়ালাম, গুজরাতি ও তামিল ভাষায় অনূদিত হয়েছে তাঁর বহু উপন্যাস ও গল্প। প্রকাশিত হয়েছে বহু রচনার ইংরেজি, চেক ও জার্মান অনুবাদ। তিনিই একমাত্র ভারতীয় লেখক, যাঁর গল্প সংকলিত হয়েছে আমেরিকা থেকে প্রকাশিত লিটারারি ওলিম্পিয়ানস গ্রন্থে, অনুবাদ করেছেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনটন বি সিলি৷ উপন্যাস খারিজ প্রকাশিত হয়েছে ইংরেজিতে।