ছোট্ট সেলিম ছিল মা-বাবার নয়নের মণি, আদরের ধন, স্বপ্নের কেন্দ্রবিন্দু। বহুকষ্টে সংসার চালান আব্বাজান। রাত-ঘুমঘুম অন্ধকারে সেলিমকে বুকে টেনে নিয়ে গল্প শোনান আম্মা। দূর পাহাড়ের চূড়ায় মস্ত মিনারের মাথায় বসে-থাকা এক আশ্চর্য পাখির গল্প। অবাক সেলিম ভাবে, কবে বড় হবে, গল্পের মিনারে পাখির কাছে পৌঁছে যাবে সে। বয়সে যদি-বা বড় হল সেলিম, বুদ্ধিতে নয়। পড়াশুনায় মন নেই, কেবল আড্ডা। অবাধ্য সেলিমের দুর্ব্যবহারে তিতিবিরক্ত মা-বাবা ঘর ছাড়লেন একদিন। অকূল পাথারে পড়ল সেলিম। এতবড় পৃথিবীতে একেবারে একা। ক্রমশ ভাঙল তার ভুল ফিরল শুভবুদ্ধি। আম্মা আর আব্বাজানকে খুঁজতে বেরুল। চলার পথে কত-না অভিজ্ঞতা। কত বিপদ, বাধা। ভালো মানুষ, মন্দ মানুষ। তবু চলতে-চলতে কীভাবে সেলিম পেল সঙ্গী এক ঘোড়া, কীভাবে সেই ঘোড়ায় চেপে জয় করল দুধ-সাদা পাখির মিনার—তাই নিয়েই আশ্চর্য জীবন্ত ও করুণরঙীন এই উপন্যাস। শিশুসাহিত্যের জন্য পেয়েছেন মৌচাক-পুরস্কার।