আবার সেই পাণ্ডব গোয়েন্দা-বাহিনী। সেই বাবলু, বিলু, ভোম্বল। সেই বাচ্চু ও বিচ্ছু। আর এদের যাবতীয় অভিযানের অবশ্যসঙ্গী, কালো কুকুর সেই পঞ্চু। সেবার শীতে কোথায় যাবে, কোথায় যাবে ভাবতে-ভাবতে ঠিক হল, ওরা যাবে রাজস্থানের মরু-অঞ্চলে। উটের পিঠে চেপে, বালির সমুদ্র পার হয়ে। সামনেই মাঘী পূর্ণিমার মরু-মেলা। উৎসবের সাজ-সাজ রব মরুভূমিতে। জয়শলমির ছুঁয়ে সেই উৎসব-প্রাঙ্গণ থর মরুভূমিতে যাবে ওরা। কিন্তু, কী কপাল! মরু-অভিযানের আগেই শুরু হল অভিযান। আগ্রার এক মেয়েকে দুর্বৃত্তদের কবল থেকে বাঁচাল ওরা। আর সেই সুত্রে ওদের এই মরুভূমি-অভিযান শুরু হল আগ্রা থেকে। আগ্রাতে পা রাখতে-না-রাখতেই পদে-পদে নতুন বিপদ আর ক্ষণে-ক্ষণে উত্তেজনা। সেই উত্তেজনার জের চলল সেই থর মরুভূমি পর্যন্ত। এমন দুর্ধর্ষ অভিজ্ঞতা যেন আগে কখনও হয়নি। আগ্রার দুই মেয়ে, এক শ্বেতাঙ্গিনী, হার্মাদ, সন্ন্যাসী, মরুদস্যুর দল এবং পাণ্ডবগোয়েন্দাদের নবম অভিযান নিয়ে এই উপন্যাস শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত চমকে ঠাসা।
Sasthipada Chattopadhyay (born 9 March 1941) was an Indian novelist and short story writer predominantly in the Bengali language. He was a well-known figure, famous for his juvenile detective stories, namely, the 'Pandob Goenda' series, as well as his contribution to children's fiction in general.
ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়-এর জন্ম ২৫ ফাল্গুন ১৩৪৭। ইংরাজি ১৯৪১। মধ্য হাওড়া খুরুট ষষ্ঠীতলায়।
কিশোর বয়স থেকেই সাহিত্য সাধনার শুরু। ১৯৬১ সাল থেকে আনন্দবাজার পত্রিকার রবিবাসরীয় আলোচনীর সঙ্গে লেখালেখি সূত্রে যুক্ত থাকলেও ১৯৮১ সালে প্রকাশিত ছোটদের জন্য লেখা ‘পাণ্ডব গোয়েন্দা’ই লেখককে সুপ্রতিষ্ঠিত করে। ‘পাণ্ডব গোয়েন্দা’র জনপ্রিয়তার পর থেকে বিরামহীনভাবে লিখে চলেছেন একটির পর একটি বই। মূলত অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়, তাই দেশে দেশে ঘুরে যে-সব দুর্লভ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন, তারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তাঁর প্রতিটি লেখার ক্ষেত্রে।
বহুমাস পরে আবার আনন্দ পাবলিশার্স প্রকাশিত পাণ্ডব গোয়েন্দা সিরিজে ফিরলাম। পরপর পড়তে পড়তে বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম গত বছর। এবারেও অবশ্য পড়তে গিয়ে নতুনত্ব কিছু পেলাম না। সেই একই গতে বাঁধা স্টোরিটেলিং। নিজের শহরে গুণ্ডা - কাউকে রক্ষা - কোথাও সফর - সেখানকার বড় গুণ্ডা - মারামারি - অপহরণ - আবার মারামারি - দুষ্টের দমন/শিষ্টের পালন। একই ব্যাপার। লেখনীরই যা হাতযশ। এতমাসের গ্যাপে পড়লাম বলে একটু যা উপভোগ্য মনে হল। এবং সঙ্গে এটাও মনে হল যে, এই সিরিজের গল্প লিখতে গেলে কল্পনার পটুতার চেয়েও বেশি কার্যকর হয়েছিল লেখকের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। এই ব্যাপারটাকেই ঈর্ষা করি, কারণ ট্যুরিজম এখন বিস্তর এক্সপেনসিভ প্রোডাক্ট। মধ্যবিত্তের সে সাধ্য কই?
পুনশ্চ : বইটা সেকেন্ডহ্যান্ড কেনা। বহু পুরনো সংস্করণ। সম্ভবত বইটির পূর্বতন মালকিনের নাম "সোমা"। সোমাদিদি বলাই চলে। কয়েকটা ভালোবাসা বিষয়ক স্টিকারও সাঁটা বইয়ের পুস্তানিতে। সোমাদিদি কি কাউকে ভালোবাসতেন? তাঁরা কি ভালো আছেন এখন? এসব বোধহয় কোনওদিনই জানা হবে না। বইয়ের গল্পের সমাধা হলেও, এই গল্প অধরা।