কল্পনা আর ভাবনার রং দিয়ে জীবনের আকাশ রাঙিয়ে দিতে পারলে, তা গল্প-উপন্যাস হয়ে যেতে পারে। সে-জীবন যদি বাস্তবের হয়, তাহলে কর্মটি শুধু দুরূহ বা জটিল হয় তাই না; অবকাশ থাকে ভুল বোঝাবুঝির। তাকে অতিক্রম করার দায়বদ্ধতা থাকে লেখকের। লেখকের মুনশিয়ানায় জীবনের আকাশ বড়ো ছড়ানো, কখনও তা সীমাহীন। নক্ষত্রের ঝিকিমিকি তার চারিধারে। তার আবহ ও আধারে সত্যের প্রাণময়তা বিস্ময়কর। সেই আলো আর সত্যের অন্বেষণ কল্পনার লালিমায়, ভাষায়, সংলাপে সম্পর্কের নতুন সেতু রচনা করেছে এই ব্যতিক্রমী গ্রন্থে। জীবনসন্ধানী, কুশলী লেখক নবকুমার বসুর কলম-নিঃসৃত এক অনন্য সাহিত্যকর্ম এই কাহিনি সম্ভার।
নবকুমার বসু-র জন্ম ১০ ডিসেম্বর ১৯৪৯। উত্তর চব্বিশ পরগনার শিল্পাঞ্চলে চূড়ান্ত অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যে শৈশব, বাল্যকাল কেটেছে। স্কুলে ফ্রি অথবা হাফ-ফ্রি হিসেবে পড়াশুনা। পূর্ব এবং পশ্চিমবঙ্গীয় মিশ্র সাংস্কৃতিক ধারায় বড় হয়ে ওঠা। পণ্ডিত এবং শিক্ষাব্রতী দাদামশাই যোগেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সাহচর্যে এবং সান্নিধ্যে প্রাথমিক অধ্যয়ন। লেখাপড়া। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন। এমএস পাশ করার পরে শল্যচিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠা। ’৯৩ সাল থেকে ইংল্যান্ড প্রবাসী, সরকারি চিকিৎসা বিভাগে কর্মরত।স্কুলজীবন থেকে সাহিত্যচর্চা, হাতে লেখা পত্রিকা প্রকাশনা। স্কুল-কলেজ ম্যাগাজিনের পরে দেশ-পত্রিকায় প্রথম গল্প ১৯৭৭ সালে। লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলনে যুক্ত, অজস্র ছোটগল্প লেখা চলেছে একই সঙ্গে লিটিলম্যাগ্ এবং প্রতিষ্ঠিত পত্র-পত্রিকায়। ছোটদের গল্প, রহস্য কাহিনী, ধারাবাহিক উপন্যাস লিখেছেন। এছাড়াও রয়েছে গল্পগ্রন্থ ও ভ্রমণ উপন্যাস। বাংলা সাহিত্যের একনিষ্ঠ পাঠক। প্রবাসেও বাংলাভাষার প্রসার ও চর্চার ব্যাপারে উৎসাহী। ‘চিরসখা’ প্রথম দীর্ঘতম উপন্যাস।