Jump to ratings and reviews
Rate this book

ইনতিযার হোসেইনের গল্প সংকলন

Rate this book
উর্দু লেখক ইনতিযার হোসেইনের একগুচ্ছ গল্পের সংকলন।

136 pages, Hardcover

First published May 1, 2024

Loading...
Loading...

About the author

Intizar Husain

80 books114 followers
Intizar Husain (1925–2016) was a journalist, short-story writer, and novelist, widely considered one of the most significant fiction writers in Urdu. Born in Dibai, Bulandshahr, in British-administered India, he migrated to Pakistan in 1947 and lived in Lahore. Besides Basti, he was the author of two other novels, Naya Gar (The New House), which paints a picture of Pakistan during the ten-year dictatorship of the Islamic fundamentalist General Zia-ul-Haq, and Agay Sumandar Hai (Beyond Is the Sea), which juxtaposes the spiraling urban violence of contemporary Karachi with a vision of the lost Islamic realm of al-Andalus. Collections of Husain’s celebrated short stories have appeared in English under the titles Leaves, The Seventh Door, A Chronicle of the Peacocks, and An Unwritten Epic.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (25%)
4 stars
3 (75%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 2 of 2 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,758 reviews517 followers
July 31, 2025
ইনতিযার হোসেইনের কথা প্রথম পড়েছি রবিশংকর বলের লেখায়। স্মৃতি বিস্মৃতির সন্ধানে আজীবন ছুটে বেড়িয়েছেন রবিশংকর। ইনতিযার  তার প্রিয় পূর্বসূরি কেন তা সহজেই বোঝা যায় ইনতিযারের গল্প পড়লে।
সমসাময়িক অনেকের মতো সাতচল্লিশের দেশভাগ লেখককে প্রবলভাবে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, কাতর করেছে। এ বিষয়ে গল্পের কথা ভাবলে প্রথমেই মান্টো আর কৃষণ চন্দরকে মনে পড়ে।মান্টো আর চন্দরের লেখা ধারালো, দাঙ্গার নির্মম, নিখুঁত অথচ সংরক্ত বর্ণনায় ভরা। ইনতিযার এদিকে তুলনামূলকভাবে পলায়নপর, স্মৃতিভ্রষ্ট ও সংশয়ী। মান্টোর গল্প যদি কোনো ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় হাত পা হারানো আহত মানুষের জান্তব ব্যথার অনুভূতি হয়, তাহলে ইনতিযারের গল্প হচ্ছে সেই হারানোর অনুভূতি সারাজীবন নিঃশব্দে বয়ে বেড়ানোর ইতিহাস। যে ইতিহাস আমরা মেনে নিই, প্রতিবাদ করা বৃথা জেনে ক্লান্ত হয়ে যাই, অভিযোগ করতেও ভুলে যাই কিন্তু যা আমরা হজম করতে পারি না, যা থেকে আমাদের মুক্তি নেই।
স্থান ও কাল অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখ না করায়, চরিত্রদের দ্বিধা ও বিভ্রম সমে পৌঁছালে এক অদ্ভুত ঘোরের সৃষ্টি হয়। এরা পালাতে চাইছে কিন্তু পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। বাঁচার উপায় জানা নেই, পালানোর পথ খুঁজে পাওয়া যায় না, চোখের সামনে ধ্বংস আর মৃত্যুর তাণ্ডব - তাই ইনতিযার আর তার চরিত্ররা জানে না কোনটা বাস্তব কোনটা অলীক, কোনটা ঘুম কোনটা জাগরণ। ইনতিযারের এই পৃথিবীতেই আমাদের বসবাস, এখানেই আমাদের নির্বাসন।

(বইয়ের সবচেয়ে পছন্দের গল্প - কোলাহল, হারিয়ে গেছে যারা, শেহেরজাদের মৃত্যু, সহযাত্রী, ছায়া, কুফা, সর্বশেষ মানুষ ইত্যাদি।)
Profile Image for Md. Shahedul Islam  Shawn.
243 reviews5 followers
April 23, 2026
'এই খাস খাসানে রসুল ওয়াক্তে দোয়া হ্যায়
সায়ে কি তারহে হামপে আজব ওয়াক্ত পড়া হ্যায়'

'হে বিশেষদেরও বিশেষ রসুল এখন পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনার সময় 
অন্ধকার ছায়ার মতো আমাদের ওপর কী অদ্ভুত সময় নেমে এলো।'

সাতচল্লিশের দেশভাগ নিয়ে দাঙ্গার নির্মমতা, ধারালো ও নিখুঁত বর্ণনাসহ যারা লেখালেখি করছেন তাদের ভিতরে সাদাত হোসেন মান্টো, কৃষণ চন্দর অন্যতম। তাদের লেখা যদি সাতচল্লিশে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা হয় তাহলে ইনতিযারের লেখা হলো- দুর্ঘটনা বয়ে বেড়ানো মানুষটির প্রতি। যুদ্ধের বিভৎসতাকে তিনি ব্যক্তির সংবেদনশীলতার অবনমন দিয়ে ব্যাখ্যা করতে চান। এখানে মানুষ তাঁর দীর্ঘ অতীত অস্তিত্বের কাছে হারিয়ে যায়।

 'শ্যাহরে আফসোস' গল্পের তিনজনের কোনো নাম নেই। তাঁরা তিনজন নিছক মৃতদেহ, ঘুরে বেড়াচ্ছে বেদনার শহরে। তাদের পাপ আর বিমানবিকতার বোঝা নিয়ে, অপেক্ষা করছে কখন তাদের সৎকার হবে। তাদের চেহারা চেনার উপায় নেই, তাঁরা তাদের নিজকে ভুলে যাওয়ার পাপের চলমান ফলাফল।

'আসির' (বন্দি) নামের আরেক গল্পে তিনি ১৯৭১-এ পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করছেন। এ যেন একটা রাষ্ট্রের রক্তক্ষয়ের কালে নির্বিকার চিন্তাহীনতার বয়ান। বাংলাদেশ হতে পালিয়ে আসা জাভেদ দেখা করে তাঁর পুরনো বন্ধু আনওয়ারের সঙ্গে। আনওয়ার জানতে চায় পূর্ব পাকিস্তানে আসলে ঘটছে কী? আশ্চর্য ব্যাপার হলো, নরহত্যার চোখে দেখা ঘটনা বলতে চেয়েও জাভেদ বলতে পারে না। কেমন এক নির্বিকারত্ব তাঁর অভিজ্ঞতাকে ঘিরে ধরে। সে তখন বরং জানতে চায় আনওয়ারের কথা, আরেক বন্ধু মির্জার কথা। আনওয়ার জানায় যে বেচারা এক মিছিলে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছে। জাভেদ এবার ভীত হয়। কারণ এই হত্যার কোনো আপাত কারণ জানা যাচ্ছে না। সেই হত্যার কোনো প্রতিবাদও হয়নি। আনওয়ার বলে- তুমি নিশ্চই ওখানে আরও ভয়াবহ ঘটনা দেখেছ? জাভেদ একটু দ্বিধান্বিত হয়ে বলে- হ্যাঁ, তা ঠিক, কিন্তু ওখানে তো অন্তত এটা জানতাম যে কী হচ্ছে আর কেন হচ্ছে।

'নিন্দ' (ঘুম) গল্পের মধ্যে ১৯৭১ সালে যুদ্ধ ফেরত এক সৈনিকের কথা আছে যে তাঁর বন্ধুর কাছে যুদ্ধের কথা বলতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। তাঁর চেতনায় সেই অভিজ্ঞতার কাছে ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। শেষে সে বলে, তাঁর এখন একটাই ইচ্ছা- ঘুমিয়ে পড়া।

'ও জো খোয়ি গ্যায়ি' (হারিয়ে গেছে যারা) গল্পে চারজন ব্যক্তি রয়েছে একজন দাড়িওয়ালা(শ্মশ্রুধারী) লোক, এক যুবক, এক থলেওয়ালা লোক আর একজন মাথাফাটা ব্যক্তি। কোনো এক দাঙ্গা থেকে পালিয়ে যাচ্ছে তারা। কোথায় যাচ্ছে জানা নেই। কারণ তারা কোথা থেকে কেন পালিয়ে এসেছে সেই স্মৃতিও নেই তাদের। যাওয়ার সময় তারা সন্দেহ করতে শুরু করে যে, তাদের সংখ্যা ক্রমে কমে আসছে। কিন্তু কে হারাচ্ছে সেই স্মৃতিও তাদের নেই। নিখোঁজ ব্যক্তির মুখ, এমনকি নামও মনে করতে পারে না তারা। মনে করতে পারে না যে, নিখোঁজ ব্যক্তিটি প্রকৃতপক্ষে একজন পুরুষ না নারী। তারা নিজেদের গণনা করে। ভুল হয়। আবার গণনা করে। প্রতিবার, যিনি গণনা করেন তিনি নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হন। আর তখন সেই ব্যক্তিই ভাবে যে আসলে সে নিজেই সেই নিখোঁজ মানুষ। যারা আছে এমনি করে তারা নিজেই নিখোঁজ মানুষ হয়ে যায়। শেষে তারা বুঝতে পারে তাদের অস্তিত্ব নির্ভর করে অন্যরা তাকে আছে বলে সাক্ষী দেওয়ার ওপর।

ইনতিযারের লেখালেখির বড় একটা অংশ জুড়ে আছে এই অনুসন্ধান। একে ইতিহাসের বিশাল পথে হাঁটা এক পথিকের বিস্ময় বললেও ভুল হবে না। এই বিস্ময়ের কারণ—তিনি কোনো নির্দিষ্ট পথপ্রদর্শককে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে চান না। সুফি মত অনুযায়ী, যার কোনো গুরু নেই, শয়তানই তার পথপ্রদর্শক; কিন্তু ইনতিযার শয়তানকেও কখনো গ্রহণ করেছেন, এমন উদাহরণও নেই। ফলে তিনি হয়ে ওঠেন এক বিভ্রান্ত অথচ গভীরভাবে সচেতন দর্শক। ইতিহাসের বিশাল অরণ্যে মানুষের কোনো সম্মিলিত বয়ান আদৌ সম্ভব কি না—এই সংশয়ে তাঁর গল্প ও উপন্যাসের চরিত্ররা নিজেদের অস্তিত্বের জট খুলতে খুলতে এমন এক জায়গায় পৌঁছে যায়, যেখানে গল্প নিজেই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

তাঁর 'হাড়ের অবয়ব' গল্পে আকালের কবলে পড়া একজন মানুষ মরে গিয়ে বেঁচে ওঠে। এরপর তার খিদে ছাড়া আর কোনো অনুভূতি কাজ করে না। তার খাবারের জোগান দিতে দিতে সবাই অতিষ্ঠ। একজন সাধু এসে আসল কথা বললেন, 'হে শহরবাসী, খোদা তোমাদের ওপর রহম করুন। মরা মানুষকে তোমরা একলা ছেড়ে দাও। তোমাদের শহরে একজন মানুষ মরল, তোমরা তার শিয়রেও বসলে না। আর অশুভ এক আত্মা সেই দেহ দখল করে নেয়। খোদা তোমাদের শহরকে রহম করুন।' মানুষ নিঃসঙ্গতা আর অর্থহীনতার চাপে মরে যায়। তখন তার শিয়রে যদি অন্য মানুষ এসে না বসে তখন সেই মানুষকে দখল করে নেয় অশুভ আত্মা। সেই মরা মানুষ তখন আবার বেঁচে ওঠে শুধু এই কারণে যে সে মরে যাওয়ার পর তার শিয়রে অন্য মানুষেরা বসেনি। ফেলেনি দীর্ঘশ্বাস। তখন তার খিদে ছাড়া আর কোনো অনুভূতি কাজ করে না। কিন্তু মরে আবার বেঁচে উঠেছিলেন তো আরও একজন। যিশুর পবিত্র আত্মার কথাও গল্পে আসে। মরে বেঁচে ওঠা অশুভ আত্মা থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে পারেন কেবল মরে বেঁচে ওঠা আরেকজন।

—মানুষ যত বেশি বাস্তব, ভিড় আর খবরের জগতে ডুবে যাচ্ছে, ততই কল্পনা, প্রকৃতি আর অন্তর্দৃষ্টি কমে যাচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে গল্প-কবিতার মতো সৃষ্টিশীল সাহিত্য সংকটে পড়তে প��রে, আর সাংবাদিকতার মতো তথ্যভিত্তিক লেখাই বেশি প্রাধান্য পাবে।

“ছোটগল্পের ভবিষ্যত অন্ধকার। কারণ মানুষ যত বাড়ছে পৃথিবীতে, গাছের সংখ্যা তত কমছে। যে পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া আর কিছু নেই সেখানে সাংবাদিকতা জন্মাতে পারে কিন্তু গল্প আর কবিতা কীভাবে জন্মাবে?”

-ইনতিযার হুসেইন: বিক্রম, বেতাল অওর আফসানা, ১৯৭৪)

তবে এই নৈরাশ্যে মগ্ন হয়ে থাকার সুযগ নেই। ইনতিযার সেই কথা বলছেন ২০১৩ সালে করাচি লিটারেচার ফেস্টিভালের উদ্বোধনী বক্তৃতায়:

“অনেকেই প্রশ্ন করেন, এই ভয়াবহ সহিংসতার কালে সাহিত্য সম্মেলন কেন? আমি তাদের আরব্য রজনীর গল্পের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। শেহেরজাদের হাজার গল্প এক নৃশংস্র বাদশাহকে মানবিক করে তুলেছিল।”

কোনো কিছু যদি এই সহিংসতার প্লাবন থামাতে পারে
তবে তা হচ্ছে গল্প বলা।

"We were prisoners of our own silences and were too far from each other even though we stayed closed."
Displaying 1 - 2 of 2 reviews