গ্রামের সবাই জানত বীরেশ্বর সামন্ত খুন হবে, শুধু বীরেশ্বর নিজে জানত না। জানত না, কারণ সে বিশ্বাস করেনি যে ভীষ্ম বাগাল আবার ফিরে আসবে। কিন্তু তার হত্যা কি বহু আগে, তার জন্মসময় থেকেই নির্ধারিত ছিল না? যেমন ছিল ভীষ্ম বাগালের মৃত্যুও? তাহলে মৃতের পুনরুত্থান যদি ভীষ্মের ক্ষেত্রে সম্ভব হয়, বীরেশ্বরের ক্ষেত্রে হবে না কেন? সামন্ত আর বাগালিরা কি প্রতিশোধ আর রিরংসার গ্রন্থিতে অনন্ত সময়ের জন্য আবদ্ধ নয়?
রহস্য নয়, নয় সমাধানও, অপরাধ কেন ঘটেছিল আর সেটা অপরাধীর সত্তাকে কীভাবে আচ্ছন্ন করল, সেই প্রশ্নের তদন্ত করাই আমাদের সময়কার অনুসন্ধানীর একমাত্র কাজ। বীরেশ্বর সামন্তর হত্যা তাই গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূণ হলাম আমরা, আমাদের অস্বস্তিকর মনোজগৎ।
চিন্ময় গুহ'র সাথে সাক্ষাৎকারে দীপেশ চক্রবর্তী বলেছিলেন, "ইতিহাসকে আমরা overtly politicise করে ফেলি। যদি আমরা শুধুমাত্র নারীবাদের পক্ষ থেকে দেখি, বা উদারনীতিবাদের পক্ষ থেকে দেখি, তাহলে আমরা ইতিহাসের অনেক বেশি সরলীকরণ করে বসব।" বইটা পড়তে যেয়ে এই বচন মাথায় আসলো সঙ্গত কারণে। ইতিহাস জটিল, প্যাঁচানো, পিচ্ছিল। শুধু একপক্ষের কথা জানলে বা মানলে নিরপেক্ষভাবে কিছু যাচাই করার সম্ভাবনা রহিত হয়ে যায়। নামের সঙ্গে "হত্যা রহস্য" যুক্ত থাকলেও আদতে এটি কোনো থ্রিলার নয়। বরং হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল পক্ষের অস্বস্তিকর মনোজগৎ উদঘাটন ছিলো লেখকের উদ্দেশ্য। শুরুতেই খুন হয় প্রতাপশালী বীরেশ্বর সামন্ত। নিজের মৃত্যুর আগে ভীষ্ম বাগালের দেওয়া হুমকি অনুযায়ী এই মৃত্যু হওয়ারই কথা। সবাই অপেক্ষায় ছিলো! ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রের মাধ্যমে একেকটি অধ্যায়ে আমরা পেতে থাকি ঘটনার খণ্ডিত বিবরণ। নকুল কাঁটাল, সপ্তমী বাগাল, পল্টু বসাক, রোহিণী বাগাল, সর্বেশ্বর সামন্তের হাত ধরে পূর্বঘোষিত মৃত্যুটির পেছনের রহস্য উন্মোচিত হয়। প্রধান চরিত্রগুলো বহুমাত্রিক। এককথায় সাদা বা কালো বলে তাদের বিশেষিত করা যায় না। শাসক ও শোষিতের সম্পর্কের বিচিত্র ও বহুমুখী দিক তুলে ধরেছেন লেখক। (কাহিনির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যথারীতি নিজের গদ্যশৈলী পাল্টেছেন শাক্যজিৎ!)উপসংহারে এসে পাঠক হিসেবে চমকে যাই নি, এ যেন হওয়ারই ছিলো। পৃথিবীটা এভাবেই চলছে এবং চলবে। এক বীরেশ্বর সামন্ত যেয়ে আরেক বীরেশ্বর আসবে, মাছের শুকনো কাঁটার মতো ফ্যাকাশে ভোর আসবে, কিছুই বদলাবে না শেষে!
কাজের প্রয়োজনে চ্যাট জিপিটি ব্যবহার করতে হয় প্রায়শই। অনুবাদ করার জন্য। ইংরেজি থেকে বাংলা। বেশ সুবিধা হয়। দিব্যি অনুবাদ করে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। গুগল ট্রান্সলেটের থেকে ভালো। তবে অনুবাদ করার পর সেই লেখা থেকে যন্ত্রের স্বাদ মুছে ফেলার জন্য কসরতও করতে হয় খানিক। এই ধরণের অভ্যাসের সূত্রে এই কৃত্রিম ভাষার সাথে বেশ পরিচয় আছে আমার। আর সেই আলাপ আবার হলো শাক্যজিৎ বাবুর এই বই পড়তে গিয়ে। কাকতালীয়? জানিনা। শুরুতেই "ভোর" নামে এক ছোট্ট প্রারম্ভিক অধ্যায় আছে, সেখানেই হোঁচট খেলাম।
"তার বিস্ফারিত চোখের নিচ থেকে বাকি মুখটাকে রবারের মতো আড়াআড়ি লম্বা বানিয়েছিল একটা হাসি, যা দন্তিল ও ক্রুড়।" এই লাইনকেই আবার ইংরেজি করলে - "His eyes, wide and unblinking, sat above a face that stretched like rubber into a grin—cruel, toothy, and devoid of warmth."
"তার আবার হিসি পেল, তার তখন নাকে এল গুয়ের গন্ধ, আর সে মাছিদের উদ্দেশ্য বিষয়ে নিশ্চিত হল।" "The urge to urinate struck her again as the stench of filth filled her nose, and in that moment, she became disturbingly certain of the flies' intent."
জানিনা লেখক এমন কিছু করেছেন কিনা। তবে সাদৃশ্যটা দুঃখজনক।
শাক্যজিৎ ভট্টাচার্য-এর 'শেষ মৃত পাখি' পড়ার পর দ্রুত 'একানড়ে' পড়ে ফেলেছিলাম। এছাড়া বিভিন্ন ওয়েবজিনে ওঁর বেশকিছু লেখালিখি পড়েছি। প্রথমেই জানিয়ে রাখি, এই সময়ের লেখকদের মধ্যে শাক্যজিৎ আমার অন্যতম পছন্দের নাম, কারণ তিনি নিরীক্ষামূলক গদ্য লিখতে পছন্দ করেন। তাই প্রতিক্রিয়া লিখতে বসে কতটা নিরপেক্ষ থাকতে পারলাম সেটা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। চেষ্টা করেছি ভালো বা মন্দের মধ্যে না ঢুকতে।
সমাজমাধ্যমে বইটির টুকরো-টুকরো সামারি পড়ে আমার প্রথমেই একটা ধারণা হয়েছিল যে গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস-এর 'ক্রনিকল অফ আ ডেথ ফোরটোল্ড'কে (১৯৮১) মনে করাবে। বইটি হাতে নিয়ে পড়া শুরু করার পর সে-ধারণা সত্যি হয়েছে, যদিও আঙ্গিকগত সামান্য মিল থাকলেও, উপন্যাস দুটির কম্প্যারাটিভ আলোচনা এই স্বল্প পরিসরে নিষ্প্রয়োজন। তবে, পাঠ চলাকালীন আমি বার বার গার্সিয়া মার্কেসের লেখার স্বাদ পেয়েছি। ব্যস, এইটুকু।
কাহিনির সূত্রপাত হয়েছে এক ভোরে। গ্রামের বলখেলার মাঠে বটগাছ থেকে ঝুলতে দেখা যায় একটা লোককে। লোকটিকে সবাই চেনে– বীরেশ্বর সামন্ত। ক্রমে লোকজন জমা হয় ঝুলন্ত মৃতদেহকে ঘিরে। তাদের অনেকেই জানে কে বা কারা খুন করে বীরেশ্বর সামন্তকে ফাঁসির দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। এরপর আমরা জানতে পারি, এই খুনের পেছনে থাকা সুদীর্ঘ ইতিহাস ও কোন কোন চরিত্রের কী কী উদ্দেশ্য ছিল। এটা যদি মূল আখ্যানবস্তু হয়, এর পাশাপাশি সাব-প্লট হিসেবে যুক্ত হয়েছে রাজনীতি ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তন। এসেছে তেভাগা আন্দোলনের কথা, লাল পার্টির উত্থান-লড়াই এবং তারও পরে নাম না-করে বর্তমানের রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা। আর গল্পের আবর্তন দুটি পরিবারকে ঘিরে— সামন্ত (শাসক ও অত্যাচারী) ও বাগাল (শোষিত ও নিপীড়িত)। আখ্যানবস্তু নিয়ে এর থেকে বেশি লেখার দরকার নেই, কারণ আখ্যানের বয়ান এই উপন্যাসে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আমার মনে হয়েছে। বয়ান নন-লিনিয়ার অর্থাৎ আদিমধ্যঅন্ত এই হিসেব মেনে চলেনি, বরং গুরুত্ব পেয়েছে চরিত্র ও ঘটনা পরম্পরার ক্যাথারটিক মূল্যায়ন। কাহিনির প্রারম্ভ, অধোগতি ও সমাপ্তি পাঠক শুরুতেই মোটামুটি আন্দাজ করে ফেলেন। এবার কাহিনির কমপ্লিকেশন ও ডেভেলপমেন্ট অর্থাৎ রাইজ অফ অ্যাকশন-এর জন্য পাঠককে প্রতিটি চরিত্রের নামাঙ্কিত অধ্যায়গুলোতে প্রবেশ করতে হয়। এখানেও সময় একটা অন্যতম ডিভাইস, যেটা নন-ক্রোনোলজিক্যাল, কারণ কাহিনি শুরু হচ্ছে বর্তমান কাল-এ এবং চরিত্রগুলোর ইতিহাস না-জানলে বীরেশ্বর সামন্ত কেন খুন হলেন সেটা স্পষ্ট হয় না। তখন পাঠককে বর্তমান থেকে একেবারে অতীতে ফিরে যেতে হয়, আর প্রতিটি চরিত্রের ক্ষেত্রে আলাদা-আলাদাভাবে অতীত থেকে বর্তমানে ফিরে আসতে হয়। সময়ের মধ্যে দিয়ে এই যাওয়া-আসার জন্য কাহিনির গতি কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। রহস্য গল্পের ক্ষেত্রে সাধারণত যে'রকম গতিময়তা গদ্যে দেখতে পাই, এই উপন্যাস যেন সেটা প্রথম থেকেই প্রত্যাখ্যান করতে চেয়েছে (উল্লেখ্য, দীর্ঘ বাক্য ও দৃশ্য-পরিসর-চরিত্রদের মনস্তত্ত্বের বর্ণনা অনেক সময়ই গতিকে মন্থর করেছে; আর গোটা উপন্যাসে সংলাপ প্রায় নেই বললেই চলে)। এভাবেই উপন্যাসটির বয়ান অন্যান্য রহস্য কাহিনির থেকে ভিন্নধর্মী হয়ে উঠেছে। প্রতিটি চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে সর্বজ্ঞ লেখক হত্যার উদ্দেশ্য ফুটিয়ে তুলেছেন। সুতরাং প্রতিটি চরিত্রের আলাদা আলাদা এক-একটা গল্প, শেষে একটা বিন্দুতে (সমাপ্তি) গিয়ে মিলিত হয়ে মেটা-ন্যারেটিভ তৈরি করেছে। প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে খুন-পর্বটি পুনর্গঠিত হয়। এছাড়া কিছু ছোট ছোট ঘটনাও বিভিন্ন চরিত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন একটা ধারণা তৈরি করে। অর্থাৎ, উপন্যাসের শৈলীটি নিজেই একটি অপরাধকে ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির একটি আনুষ্ঠানিক পুনরাবৃত্তি। এই পুনরাবৃত্তি বয়ানের জটিলতা বা গোলকধাঁধা কিছুটা বাড়িয়েছে বই-কি! পড়তে পড়তে এই চ্যালেঞ্জ ক্রমশ উপভোগ্য হয়ে উঠেছিল। মোটিফ হিসেবে ম্যাজিক রিয়ালিজম-এর ব্যবহার দেখা যায় চরিত্রগুলোর বিশদ অ্যানেকডোটাল ডিগ্রেশন ও বিশদ বর্ণনার জন্য। যেমন, নকুল কাঁটালের স্বপ্ন বা ভীমের সঙ্গে কথোপকথন, সামন্তদের পূর্বপুরুষদের মাটি খাওয়া ইত্যাদি। উপন্যাসটি শেষ হয়েও পাঠককে বীরেশ্বর সামন্তর হত্যা নিয়ে সব উত্তর দিয়ে যায় না, পাঠককে বিভ্রান্ত করে তোলে এবং ভাবতে বাধ্য করে। চরিত্র-নামাঙ্কিত প্রতিটি অধ্যায় শেষে পাঠকের মনে হবে এই বুঝি রহস্যের উন্মোচন হচ্ছে, কিন্তু সেটা কিছুতেই হয় না। ক্লোজার সাধারণত অন্য রহস্য উপন্যাসের মতো কিছু নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়ে শেষ হয় না, বরং একটা এপিগ্রাফ দিয়ে শুরু করে চিন্তার জন্য খোলা পরিসর পাঠকের জন্য ছেড়ে রাখে। পাঠক চাইলে উপন্যাসটিকে মিখাইল বাখতিন-এর পলিফোনি-র ধারণা দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করতে পারেন যেখানে চরিত্রগুলি প্রকাশ পায় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের উন্মোচনের মাধ্যমে। যা-ই হোক, উপন্যাসটি যে তথাকথিত রহস্য কাহিনি নয়, সেটা লেখক নিজেই জানিয়ে রেখেছেন। অপরাধ ও অপরাধী এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং ঘটনার শেকড়টাকে বুঝতে পারা উপন্যাসের আসল উদ্দেশ্য। রহস্য কাহিনির ভিড়ে এই অভিনবত্ব অবশ্যই বইটিকে আলাদাভাবে খুঁজে নিতে সাহায্য করে। বলেছিলাম ভালোমন্দের কথা বলব না। কিন্তু একেবারেই না বললে আমার মতো বাঙালি পাঠকের প্রতিক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ভালো: প্রচ্ছদ। সৌজন্য চক্রবর্তী'র প্রচ্ছদ সবসময়ই পাঠককে আকর্ষণ করে। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। মন্দ: সামান্যই। কিছু মুদ্রণ ত্রুটি চোখে পড়েছে (নোট রাখিনি, তাই হাইলাইট করতে পারব না)। আশা করছি পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করে নেওয়া হবে।
"বীরেশ্বর সামন্ত হত্যা রহস্য" নিছক একটি রহস্য গল্প নয়, এটি এক উত্তাল যুগের প্রতিচ্ছবি, যেখানে কমিউনিস্ট পার্টির উত্থান, কৃষক আন্দোলনের বিস্ফোরণ, জমিদার শক্তির পতন, আর রক্তমাখা প্রতিরোধের ইতিহাস একসাথে জড়িয়ে আছে। সামন্ত ও বাগালিদের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করেই কাহিনি এগোয়, কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে আছে সময় বদলের চিহ্ন, একদিকে যুগ-যুগান্তের শোষণ, অন্যদিকে সেই শোষণ ভেঙে ফেলার এক অবশ্যম্ভাবী লড়াই।
গল্পের সূচনা হয় অনন্তভূমির বলখেলার মাঠে, যেখানে বটগাছে ঝুলতে দেখা যায় বীরেশ্বর সামন্তকে - যাকে গ্রামের সবাই একডাকে চিনত। কিন্তু চমকপ্রদ সত্য হলো, পুরো গ্রাম জানত তার মৃত্যু অবধারিত, শুধু সে নিজেই জানত না।
যুগের পর যুগ শোষিত মানুষই কীভাবে শাসকের ক্ষমতাকে পুষ্ট করেছে, তাকে অস্বীকার না করে বরং রক্ষা করেছে - লেখক অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে সেই মনস্তত্ত্বকেই তার এই গল্পে তুলে ধরেছেন। অবশেষে কীভাবে সেই শোষকের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে, লেখক তাও নির্মম বাস্তবতায় এঁকেছেন।
তবে গল্পের শুরু আসলে আরও গভীরে, বীরেশ্বরের বাবা যোগেশ্বর সামন্ত ও ভীষ্ম বাগালের স্ত্রী সপ্তমীর সম্পর্ক থেকেই এই অস্থিরতার সূচনা। এখান থেকেই জন্ম নেয় এক জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক দ্বন্দ্ব, যা সামন্ত ও বাগালিদের মধ্যে এক অদৃশ্য কিন্তু অটুট শৃঙ্খল গড়ে তোলে। এরই ফলাফল একদিন এসে পড়ে বীরেশ্বর সামন্তের নির্মম হত্যার মধ্য দিয়ে।
তবে এই বই শুধুই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার গল্প নয়, এটি এক সময়ের দলিল। অনন্তভূমির মতো গ্রামগুলোতে কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনের পর কমিউনিস্ট পার্টির উত্থান, নকশালদের ত্রাস, আর ক্ষমতাশালী সামন্তদের দুঃশাসনের করুণ চিত্র উঠে এসেছে শক্তিশালী ভাষায়। জমি মাফিয়াদের হাত থেকে কৃষিজমি ছিনিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম, নকুল কাঁটালের নেতৃত্বে সংগঠিত কমিউনিস্ট পার্টির উত্থান এবং শোষিত কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর যে আন্দোলন, সবকিছুই প্রায় ধরা পড়েছে। আর তারপর সময়ের সাথে অন্য একটি রাজনৈতিক দলের উত্থানের কথাও কিছুটা চিত্রিত করা হয়েছে।
এটি শুধু একটি নিছক গল্প নয়, এটি এক জটিল দ্বন্দ্বের কাহিনি, যেখানে ব্যক্তিগত আক্রোশ ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, শোষকের আত্মবিশ্বাসই শেষ অবধি তার সর্বনাশ ডেকে আনে।
প্রায় ৩৩০ পাতার এই গল্প পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল আমি যেন অন্ততভূমিকে চাক্ষুষ দর্শন করছি সেই সত্তরের দশক থেকে। এ এক অদ্ভুত উপলব্ধি, বইটি পড়ে যে উপভোগ করেছি তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। তবে বেশ কিছু বানান ভুল চোখে পড়েছে, প্রকাশনীকে অনুরোধ করব এই বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে।