গ্রামের দোচালা টিনের ঘরে পর্দার সুরত কী? কাঁচারি ঘর, বাড়ির বেড়া, পর্দা। শহরের আধুনিক ফ্লাটেই বা কীভাবে পর্দা করবে? দরজা-জানালার পর্দা। রান্নাঘর ও ডাইনিং রুমের মাঝের পর্দা। মেহমান আসলে এলোমেলো পরিস্থিতিতে পর্দা। গ্রামে বেড়াতে গেলে পর্দা। বিয়েবাড়ির পর্দা। জানালা, পাশের ফ্ল্যাট, বেলকনি ও বারান্দার পর্দা। লিফটের পর্দা। থাই গ্লাসের আলোর বিপরীতে দিন ও রাতের মারপ্যাঁচ। পথে-ঘাটে, সফরে-হযরে, বাড়িতে-গাড়িতে মা-বোন-ভাইদের পর্দার সুরত কী হবে? কখন কোন পর্যায়ের পর্দা করবে? প্রয়োজনে পরপুরুষদের সাথে কথা বলার কী উপায়? গ্রামের উঠান থেকে বাচ্চাদের ডাকার উপায় কী? জয়েন্ট ফ্যামিলির পর্দা। গ্রামের একান্নবর্তী পরিবারের পর্দার সুরত। আত্মীয়স্বজনের সাথে পর্দা। হকার, ফেরিওয়ালা, ভিখারি, বিদ্যুৎ বিল-ওয়ালা, অচেনা পুরুষ, হিজড়া, প্রতিবেশীর সাথে পর্দা। কোন অবস্থায় শরীয়ত শিথিলতার সুযোগ দিয়েছে? যেসব মা-বোন পর্দা করতে চান, কিন্তু পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে পারছেন না, তাদের কী করণীয়? এমন জানা-অজানা অনেক বিষয় নিয়েই এই বই : পর্দা গাইডলাইন
পর্দা একটি ফরজ বিধান, অথচ আমাদের কাছে অবহেলিত। অনেক প্র্যাক্টিসিং মুসলিমের মধ্যেও পর্দা নিয়ে যথেষ্ট অবহেলা লক্ষ করা যায়। বেশিরভাগই না জানার কারণে। আমার নিজের মধ্যেও এরকম অনেক কিছুই খেয়াল করেছি যেগুলা শুধু না জানার কারণে মানা হয়নি। এজন্যই এ ধরণের বই আমার কাছে বরাবরই অনেক ভালো লাগে।
পর্দা মানেই যে শুধু নারীদের জন্য হুকুম- ব্যাপারটা এরকম না। এর মধ্যে রয়েছে পুরো মানবজাতির কল্যাণ। বইটাতে নারী-পুরুষের পর্দার ব্যাপারে খুঁটিনাটি লেখা হয়েছে। পর্দার হুকুম, গুরত্ব, শহরের ও গ্রামের সামাজিক অবস্থা, আর কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে কী করা যেতে পারে সে ব্যাপারে যথেষ্ট গাইডলাইন রয়েছে এখানে।
মানুষকে যিনি বানিয়েছেন তিনিই পর্দার হুকুম দিয়েছেন। সুতরাং কল্যাণের জন্যই দিয়েছেন। আর আল্লাহ যেটার হুকুম দিয়েছেন সেটা না মেনে চলা মানেই ধ্বংস অনিবার্য। এজন্য পর্দার মত একটা 'ফরজ' সম্পর্কে খুঁটিনাটি না জানলেই নয়।