আবুল বাশারের জন্ম ১৯৫১ খ্রীস্টাব্দে। ছয় বছর বয়সে সপরিবার গ্রাম তাগ। মুর্শিদাবাদের লালবাগ মহকুমার টেকা গ্রামে বসবাস শুরু। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্যের স্নাতক। হিন্দিভাষা-সাহিত্যেরও ডিপ্লোমা। গ্রামের স্কুলে ১০-১২ বছর চাকুরি। কাজ করেছেন সাপ্তাহিক ‘দেশ’ পত্রিকায়। দারিদ্র্যের চাপ আর সামাজিক বিষমতা ও পীড়ন কৈশোরেই লেখালেখিতে প্ররোচিত। উত্তীর্ণকৈশোরে, ১৯৭১ সালে, প্রথমে কবিতাগ্রন্থের প্রকাশ। নাম : ‘জড় উপড়ানো ডালাপা ভাঙা আর এক ঋতু’। পরবর্তী এক দশক লেখালেখি বন্ধ। জড়িয়ে পড়েন সক্রিয় রাজনীতিতে। বহরমপুরের ‘রৌরব’ পত্রিকাগোষ্ঠীর প্রেরণায় লেখালেখিতে প্রত্যাবর্তন। কবিতা ছেড়ে এবার গল্পে। প্রথম মুদ্রিত গল্প ‘মাটি ছেড়ে যায়’। ‘ফুলবউ’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন ১৩৯৪ সালের আনন্দ-পুরস্কার।
আমার কাছে গল্প হচ্ছে জীবনের প্রতিচ্ছবি, যাপিত জীবনের একটি অংশ… এই ধারণার ভেতর মোটামুটি সব লেখকের গল্পকে সীমাবদ্ধ করা গেলেও আবুল বাশার কে সেই ফ্রেমে আটকাতে সমস্যা হচ্ছে। আবুল বাশার তার যাপিত জীবনের গল্প লিখলেও কোন গণ্ডির ভেতর সীমাবদ্ধ থাকেননি।
মুসলিম দাম্পত্য, যৌন-সংস্কার, বহু বিবাহ, প্রেম-অপ্রেমের দ্বন্দ্ব ও গতিশীলতার সমস্যা তার রচনায় সুস্পষ্ট। 'ফুলবউ’ যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তবে ‘পানি কয়েদ’ ছোট গল্পের বই হলেও গল্পে সেই ভাবনা উঠে এসেছে, বিশেষ করে তখনকার মুসলিম উচ্চবিত্ত শিক্ষিত সমাজে। এছাড়া দেশভাগ, দাঙ্গা, সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ, উঁচু-নিচু জাত প্রথাও আছে তার গল্পে। বিষয় বৈচিত্র আর তার লেখার প্লট গতানুগতিক ধারা থেকে ভিন্ন, এটাই সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
লেখা খুব একটা সুখপাঠ্য মনে হয়নি, তবে ভেতরে প্রবেশ করলে শেষ না করে উঠা কঠিন।