প্রাচীন করদ রাজ্য দেবীগ্রামে বহু যুগ আগে এক অতি ভয়ঙ্কর পিশাচের আবির্ভাব হয়। সে যুগের দুই ধুরন্ধর রাজা মিলে সেই পিশাচকে শায়িত করেন অনন্ত হিমনিদ্রায় এবং এক অদ্ভুত যন্ত্র-ফাঁদে বন্দি করেন সুকৌশলে। সেই রাজপরিবারের বংশে যুগ যুগ ধরে সবার চোখের সামনেই লুকিয়ে থাকে সেই ফাঁদ। অবশেষে রাজা মল্লর আশঙ্কা সত্যি করে বর্তমান যুগে এসে সামান্য এক ভুলের জন্য মুক্ত হয়ে যায় সেই নরঘাতক পিশাচ লম্ববেগা! আরম্ভ হয় রাজপরিবারের বর্তমান বংশধরদের উপরে নরমেধের তাণ্ডব! মৃত্যুপথযাত্রী প্রায় প্রত্যেক হতভাগ্যই কিছু-না-কিছু জানিয়ে যেতে চায় সবাইকে দুর্বোধ্য ইঙ্গিতে। কালীগুণীন কি পারবে সেইসব সঙ্কেত ভেদ করে এবং প্রাচীন দেবীগ্রামের রাজবাড়ির আজব হেঁয়ালি উদ্ধার করে এই ভয়ানক পিশাচের সঙ্গে টেক্কা নিতে?
আছে দুটি কাহিনী - কালীগুণীন ও বজ্রসিন্দুক রহস্য কালীগুণীন ও কালাডোংরার রহস্য
সেই একই জিনিস ঘুরেফিরে। ধুর্ত পিশাচ, যেকোন রুপ ধরতে পারে, মনের কথা বুঝতে পারে। এই। নামগল্পের চেয়ে অবশ্য কালাডোংরার রাক্ষসটাই আমার যা থ্রিলিং লেগেছে। তাও প্লটহোলের ছড়াছড়ি। লেখক নিজেও হয়তো হাপিয়ে গেছে। উনি এবার ভিন্ন জনরাতে লিখবে বলেই আশা ব্যাক্ত করেছেন। সেখানেই দেখা হবে।
প্রায় ২ বছর পরে তন্ত্রমন্ত্রের কোন বই কিনলাম। ২ বছর আগে এই জ্যঁরের প্রতি একপ্রকার বীতশ্রদ্ধ হয়েই এসব পড়া বন্ধ করেছিলাম। এতটা সময় পেরিয়ে এসে হয়তো এই জ্যঁরের লেখা উন্নত হয়েছে ভেবে বইটা কিনে শেষ অবধি হতাশই হতে হল।
না, খারাপ / অখাদ্য / পাতে দেওয়া যায় না, এসব বলব না। এসব বই হচ্ছে জাঙ্ক ফুডের মতোন টেস্টি কিন্তু হেলদি নয়। অর্থাৎ, এসব বই খুবই দ্রুত পাতা উলটে শেষ করা গেলেও, শেষ করার পর মনে দাগ কাটার মতোন কিছু পাওয়া যায় না। ভালো বা মন্দের চেয়েও যেটা সবচেয়ে প্রকট সেটা হচ্ছে নতুনত্বের অভাব।
কালীগুণীন সিরিজের বেশীরভাগ গল্পই এই নতুনত্বের অভাব দোষে দুষ্ট। একটা চেনা প্যাটার্ন প্রায় প্রতিটা গল্পে দেখা যায় - ১) কোথাও কোন প্রেত/পিশাচ জেগে উঠেছে। ২) সেই প্রেত/পিশাচ জেগে ওঠার ব্যাকস্টোরি। ৩) কোন গ্রাম/তালুকের সবাই ক্যালানি খাচ্ছে সেই জেগে ওঠা পিশাচ বাবাজী/মাঈজীর কাছে। ৪) পিশাচটি আবার একটি ঝাপটা মারতে যাবে হঠাৎ ট্যারারাট্যা ট্যারারাট্যা (এটা আপনার মনে মনে বিজিএম হিসেবে বাজিয়ে নেবেন) মিউজিকে কালীগুণীন হঠাৎ এসে ধাপ্পা দেবে পিশাচকে এবং তার সঙ্গে সেই ফেমাস ডায়লগ (হাম উচ্চে বংশ কা লোক হে, হামারা নাম ইয়ে হে, হাম উধার রেহতা হে)। ৫) কালীগুণীন এবার কালীগোয়েন্দা হয়ে পিশাচের অ্যান্টিডোট খুঁজে বার করার জন্য অনুসন্ধান করবে। ৬) যে কোন একটা সমাধান কালীগুণীনের মাথায় আসবে না। সেটা আশেপাশের কোন পথচলতি চরিত্রের র্যান্ডম সংলাপ শুনে তা কালীগুণীনের মাথায় ক্লিক করবে। ৭) এইবার একটা পিশাচকে টুপি পরানোর ফন্দি কাজে লাগিয়ে তাকে বেকায়দায় ফেলে লব্ধ অ্যান্টিডোট দিয়ে কালীগুণীন কেল্লা ফতে করবে।
এই বইয়ের একটি উপন্যাস (কালীগুণীন ও বজ্র-সিন্দুক রহস্য) এবং একটি নভেলা (কালীগুণীন ও কালাডোংরার রাক্ষস), এই দুইয়ের কাহিনিও উপরোক্ত প্যাটার্নেই নির্মিত।
লেখকের কাছে অনুরোধ রইল, এইবার ক্ষ্যামা দিন। গদ্যের হাত আছে, অন্যকিছু লিখুন।