অন্ধকার সবচেয়ে গভীর হয় রাতের শেষ প্রহরে, তার চেয়েও বেশি অন্ধকার ভিলা নম্বর ৭১-এর অন্দরে। পুরুলিয়ার বাউলিতে শালবনে ঘেরা পরিত্যক্ত রেল কলোনির মাঝামাঝি অবস্থিত ভিলা নম্বর ৭১। ভিলা নম্বর একাত্তরের কাহিনি জনসমক্ষে আসে যখন ছ-জন কলেজ-পড়ুয়া সার্ভে করার কাজে পুরুলিয়ার ঝাউলির পরিত্যক্ত রেল কলোনিতে এসে ওঠে। তার দু-দিন পর তাদের মধ্যে একজনকে খুঁজে পাওয়া যায়, ছাদে লাগানো পতাকার মাস্তুল গেঁথে ঝুলে থাকা অবস্থায় ও বাকি পাঁচজনকে আর কখনও পাওয়াই যায় না। পুলিশ সার্চ অপারেশনে নামলে হঠাৎ শুরু হয়ে যায় মৃত্যুমিছিল। কেঁচো খুঁড়তে মাটির তলা থেকে লাভা বেরিয়ে আসার মতো ধীরে ধীরে সামনে আসতে থাকে এই ভিলার ইতিহাস। ১৮৩৮ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যে কত নিরীহ প্রাণবায়ু শুষে নিয়েছে চুন-সুরকির তৈরী এই নরখাদক তার সঠিক হিসেব খুঁজতে হিমশিম খায় পুলিশ। ভিলার চৌহদ্দিতে সৃষ্টির সমস্ত নিয়ম বদলে যায়। থেমে যায় সময়। বদলে যায় বাস্তব। কোন হাহাকার লুকিয়ে রেখেছে সে তাঁর রক্তাক্ত বক্ষে? কেন এই ভিলার অন্দরে মরণ শুধু নরকযন্ত্রণার সূচনামাত্র? এবার শেষবারের মতো খুলবে ভিলা নম্বর ৭১ এর দরজা। ভেতরে আসবেন নাকি?
অলৌকিক বা হরর আমার খুব একটা পছন্দের জনরা নয়। তবুও কখনো লেখনীর গুণে আবার কাহিনীর গুণে মাঝে সাঝে কিছু কিছু পড়া হয়। এই বইটি অনেকদিন হলো পরে ছিল যেহেতু একটু ভিতু মানুষ তাই ইচ্ছা থাকলেও পড়া হয়নি। যখন শুরু করলাম বেশ ভালোই লাগলো লেখকের লেখনী এবং কাহিনী দুইটাই,এতদিন কেনো ফেলে রেখেছিলাম তাই ভাবছিলাম। যাইহোক, বইটা সাল দিয়ে কয়টা অধ্যায়ে বিভক্ত ছিলো ওইটা একটু মনে রেখে পড়তে হচ্ছিল তাছাড়া পুরোটা শেষ করতে কষ্ট হয়নি। এত কিছুর পরও শেষে এসে হতাশ হলাম ভীষণ 😔উদয় বক্সী'র শেষ মুহুর্তটা, শিপ্রার কাহিনি কিছুই স্পষ্ট করা হলো না এবং বইটা শেষ হয়ে গেলো। পুরাই সময় নষ্ট, হতাশাজনক....
📖 বইয়ের নাম: ৭১ ভিলার সম্পূর্ণ কাহিনী ✍️ লেখক: আবীর রায় 🖋️ প্রকাশক: বিভা পাবলিকেশন 📃 পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৫৬ 💵 মূল্য: ₹২৪৪
সদ্য পড়া শেষ করলাম আবীর রায় রচিত "৭১ ভিলার সম্পূর্ণ কাহিনী", একটি ভৌতিক উপন্যাস। প্রথম এই গল্পের সঙ্গে পরিচয় ঘটে বিভা’র অডিও স্টোরি চ্যানেলে। যদিও ভৌতিক ঘরানার গল্প আমার তেমন পছন্দের নয়, এই গল্পটি এক অজানা আকর্ষণে আমাকে টেনে রেখেছিল। উপন্যাসের প্রথম অংশটি ছিল যথেষ্ট রোমহর্ষক ও গায়ে কাঁটা দেয়ার মতো।
তবে বইয়ের কথায় আসা যাক। প্রথম অংশ যতটা টানটান ও শ্বাসরুদ্ধকর, দ্বিতীয়াংশে গল্প তার ধারা হারিয়ে ফেলে। লেখক এখানে non-linear timeline ব্যবহার করেছেন — যা আধুনিক লেখকদের মাঝে জনপ্রিয় হলেও, এই গল্পে তার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পাঠের ধারাবাহিকতা নষ্ট করেছে। একাধিক অধ্যায় সংযুক্ত করা হয়েছে যেগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত সংযোগ বা ব্যাখ্যা অনুপস্থিত। ফলে গল্পের গঠন এলোমেলো হয়ে পড়েছে।
গল্পে সাঁওতাল প্রজাতির উপর নীলকর সাহেবদের নিপীড়ন ও কিছু লোভী বাঙালি বাবুদের স্বার্থান্বেষী ভূমিকা অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি গল্পের একটি শক্তিশালী দিক।
তবে 'শিপ্রা' চরিত্রটি যুক্ত করার যৌক্তিকতা আমার কাছে অস্পষ্ট। মনে হয়েছে, অতিরিক্ত উপাদান যোগ করতে গিয়ে মূল গল্পের স্বাদ খানিকটা নষ্ট হয়েছে। রান্নায় যেমন অতিরিক্ত মসলা খাবারের আসল স্বাদ চাপা দিয়ে দেয় — তেমনটাই অনুভব করেছি।
গল্পের শেষাংশে আবার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, কিন্তু অনেক প্রশ্নেরই উত্তর অনুপস্থিত থেকে যায়। তাই সামগ্রিকভাবে পাঠ অভিজ্ঞতাকে "সুখকর" বলা একটু কঠিন।
প্রচ্ছদটি বেশ আকর্ষণীয়, যা পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। বইটি Soft binding হলেও যথেষ্ট টেকসই। বিভা পাবলিকেশন খুবই সাধ্যের মধ্যে বইটি প্রকাশ করেছে, যা প্রশংসনীয়। বইয়ের ভিতরে কোনো অলংকরণ না থাকলেও ছাপার গুণমান ও পৃষ্ঠার মান মোটামুটি সন্তোষজনক। যদিও কয়েকটি মুদ্রনপ্রমাদ চোখে পড়েছে, সেগুলো খুব বেশি দৃষ্টিকটু নয় এবং সামগ্রিক পাঠের অভিজ্ঞতাকে বড়ভাবে ব্যাহত করে না।
সার্বিক মূল্যায়ন: একটা সম্ভাবনাময় গল্প, যেটি নির্মাণের অসংগতি ও কিছু অপ্রয়োজনীয় সংযোজনে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিভা ক্যাফেতে অডিও বুক শুনছি ,দুইটা পার্ট ছিল। ভিলা নং ৭১ টা ভালো ছিল বেশ ভয় ভয় লাগছে । কিন্তু পরের পার্ট আবার ৭১ টা ওকে ওকে ছিল। খুব ভালোও বলবো না খুব খারাপও না।