ভাগ্যের ফেরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা তিন শিক্ষার্থী আধুনিক চাষি হতে চলে আসে গ্রামে। উত্তরবঙ্গের এই গ্রাম এখনো উত্তরাধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি। হ্যাঁ, স্মার্ট ফোন সবার হাতে আছে। তবে সেই স্মার্ট ফোনে অন্যের স্মার্টনেস দেখা আর নিজে স্মার্ট হবার মধ্যে ঢের তফাৎ। এরই মধ্যে ওদের তিনজনকে এমন এক ঘটনার সামনে পড়তে হয় তাতে সকল প্রকার আধুনিকতার ভিত নড়ে ওঠে শিহাবের। চোখের সামনে বান্ধবীর সাথে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনা দেখে কিছুতেই সেসবকে উড়িয়ে দিতে পারে না সে। গ্রামের মনু মাস্টারের ক্ষমতার পরিচয় পেয়ে আগ্রহ বেড়ে যায় তার। একটু চেষ্টাতেই সে আলাপ জমিয়ে ফেলে প্রায় নিঃসঙ্গ মনু মাস্টারের সাথে। মনু মাস্টারের কাছ থেকেই শিহাব শুনতে পায় লাল মিয়া ফকিরের নাম। সেই ছয় পুরুষ আগের ফকিরের ক্ষমতা এখনো ব্যবহার করে চলেছে মনু মাস্টার। লাল মিয়া ফকিরের আলোচনায় ওরা চলে যায় দেড়শ বছর পেছনের সেই প্রাচীন বাংলায়। তখন লাল মিয়া ফকিরের বাল্যকাল। ফকিরি ও তন্ত্রের দুনিয়ায় কেবল তার পথচলা শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে সেই অঞ্চলে হারিয়ে যেতে থাকে আট থেকে দশ বছরের বালকেরা, হারিয়ে যাবার কিছুদিন পরে পাওয়া যায় তাদের প্রাণহীন শক্ত দেহ। কিন্তু কোন রকমের আঘাতের চিহ্ন সেই দেহে থাকে না। রুপগড়ের জমিদার সুখেন মজুমদার রোগশয্যা ছেড়ে হঠাৎ স্বাভাবিক চেহারায় কিভাবে বেরিয়ে আসেন? পিশাচ সিদ্ধ মহা শক্তিশালী তান্ত্রিক নিশিকান্তের ক্ষমতা এবার কোন পিশাচকে জাগাতে ব্যবহৃত হচ্ছে? রুপগড়ে অন্দরে নিয়মিত গুমরে ওঠে কার কান্না ধ্বনি? ধীরে ধীরে আলোকে ক্রমশ সংকুচিত করে চলে অন্ধকার। লাল মিয়া ফকির ছেলে মানুষ। কিন্তু একসময় সেই ঘন কালো অন্ধকারের সামনে সে ছাড়া দাঁড়ানোর মতো আর কেউ রইলো না। বালক লাল মিয়া ফকির কি পারবে, সেই অন্ধকারের রেশ মুছে দিয়ে ভোরের আলো ফোটাতে?
পশ্চিমবঙ্গের 'ধর', 'বর', 'কর', 'দে' লেখক সম্প্রদায়ের যেসব গাজাতন্ত্র বর্তমানে পড়তেছি তার চেয়ে শতগুনে ভালো লাল মিয়া ফকিরের এই প্রথম উপাখ্যান। দিবাকর দা যেভাবে শুরু করেছেন তাতে এটা লম্বা একটা সিরিজ হবে বলে আমার ধারণা। এখন অপেক্ষায় থাকলুম, একটা পরিণত লাল মিয়া ফকিরের জন্য।
3.5/5 একটা ছিমছাম সুন্দর ভৌতিক গল্প। কোন তথ্যের ভারে ভারাক্রান্ত করেনি, কিংবা নৃশংসতার বাড়াবাড়িও নেই। আছে বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার শক্তির কাছে শক্তিশালী মহাপাপীর চিরন্তন পরাজয়৷
লাল মিয়া ফকিরের আবির্ভাব এই গল্পে। বাল্য কালের এক ঘটনার স্মৃতিচারণ পুরো গল্প জুড়ে। বর্তমানে তন্ত্রের নামে যা গাঁজা চাষ হচ্ছে এই উপন্যাস সেরকম নয়। সিরিজটা বেশ ভালো।
ছোটকালে ঠাকুরমার ঝুলি দেখেনি এমন মানুষ পাওয়া দায়। আর সেখানে বামনের বউ হতে চাওয়া শাকচুন্নি পর্ব তো মুখস্ত। আবার কুট্টিকালে তারানাথ তান্ত্রিকের ঝাড়ফুঁকের সেই কাহিনি তো জানা। এবার জানবো ভিন্ন এক কাহিনি।
তিনজন বন্ধু বান্ধবীর দলে বিপরীত লিঙ্গের কেউ থাকলে নিশ্চিত এদের মধ্যে থেকে একটা জোড়া বের হবে। এমনটাই হয়েছিল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষার্থী বন্ধুর। নাফিজ এবং আফরিন সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। মাঝে দিয়ে রয়ে যায় আমাদের গল্প কথক। তবে প্রেমে পড়লে ঐযে বন্ধু ভুলে যাওয়া রাসেল ভাইপার না এরা। বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে। আবার লেখাপড়া শেষে নাফিজ এবং আফরিন দুই পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। লেখাপড়ার পাঠ চুকিয়ে এখন জীবনের যু দ্ধে নিজেকে পরিচয় করানোর সময় নাফিজ পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফার্ম করবে বাবার বাড়ির এলাকায়। পার্টনার হিসেবে তাই বন্ধুকেও ডেকে নিলো। করিমপুরে তাই এসে একত্রে তারা একটু আগে ঘুরে ফিরে নিচ্ছে। এরমাঝে ঘুরতে ঘুরতে আফরিন চলে গেলো এক ভাঙা দালানের এদিক। এস্থেটিক ছবি তুলবে। নাফিজের মানা সত্ত্বেও তারা সেখানে গেলো। এরপর কী হলো আফরিনের কেমন ভয়ানক হাসি এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেললো। তাকে নিয়ে দ্রুত বাড়ি ফিরে গেলো দুই বন্ধু। কী হয়েছে ঘটনা জানা গেলো তারা সাহার গড়ের দিক গেছে। ওখানে যাওয়া নিয়ে আছে ভীতি। ব্যস করে এক ভয়ানক কিছু। সেটাই হয়তো ধরেছে আফরিনকে। ভূত তাড়াতে তাই ওঝার তলব করতেই হয়। যদিও আজকের দিনে এসে এসব বিশ্বাস করা অদ্ভুত ঠেকে। তবুও ডাক পড়লো মনু মাস্টারের। এরকম সমস্যায় সেই শেষ কথা। ওঝা, ফকির বলতে আমরা যেমন বুঝি জটাধারী কেউ, তিলক, মালা কিংবা ইয়া লম্বা দাড়ি ওয়ালা কেউ তেমন মোটেও মনু মাস্টার নয়। সাধারণ দেখতে এই লোক পেত্নী তাড়াবে কেমনে! আফরিনের ভেতরকার ভয়ানক জিনিস তাড়াতে কোনো ওরকম রাখঢাক করলেন না তিনি। কোথায় একটু ❛হলুদ পোড়া সরষে, মারবো ঝা টা জোরসে❜ করবেন না কানে কানে কী বলতেই সেই ভয়ানক জিনিস ছেড়ে গেলো। কিন্তু কী বলেছিল এমন? তাই জানতে কথক গেলেন মনুর সাথে দেখা করতে।
সালটা ১৮৬০। তখন গ্রামে বাস করত কদর ফকির। পারিবারিক এই ফকিরি বিদ্যা দিয়েই যার সংসার চলে। গ্রামের আর কয়টা মানুষের বিপদে এই সাহায্য করে। স্ত্রী সন্তান নিয়ে ফকিরি আয়ে চলে যাচ্ছে। একমাত্র ছেলে লাল মিয়া। এখন সে ছোটো হলেও উপযুক্ত হয়েছে ফকিরি বিদ্যা শেখার। কিন্তু আগে তাকে শিখতে হবে ব্রজেশপুর গ্রামের গিরিনাথ তান্ত্রিকের কাছে তন্ত্র বিদ্যা। পাশাপাশি নিজ বাড়িতে শিখবে ফকিরি। দুই বিদ্যার জ্ঞানেই লাল মিয়া গিয়ে উঠবে বংশের পরবর্তী ফকির। কিন্তু লাল বালক হলেও তার মাঝে কী যেন আছে। যা বিদ্যার জ্ঞানে প্রাপ্ত থেকেও বেশি কিছু।
রুপগড় গ্রামের জমিদার বেশ অ ত্যা চা রী, নারীভোগী। তার অত্যাচারে সবাই অতিষ্ঠ। জীবনে নানা পাপের ফল হিসেবে সে বাধিয়েছে দুরারোগ্য ব্যাধি। জীবন প্রায় যায় যায় হাল। জীবন সায়াহ্নে এসে কই নরম হবে না সে পথ খুঁজছে কীভাবে আরো বাঁচা যায়। এজন্যেই তলব করে নিশিকান্ত তান্ত্রিককে। আশেপাশের গ্রামে হারানো গেছে নির্দিষ্ট বয়সের ছেলে। কে কেন তাদের তুলে নিয়ে লা শ ফেরত দিয়ে যাচ্ছে তার হদিশ নেই। তাদের খুঁজতে গিরিনাথ এবং কদর জোর চেষ্টা করলেও কী এক শক্তির কাছে বাঁধা পাচ্ছে।
নিশিকান্ত ঘাঘু তান্ত্রিক। অন্ধকার জগতের কাজেই সে বেশি আগ্রহী। জমিদারের দেয়া কাজ সে করছে চড়া এক উপহারের বিনিময়ে। কদর আর গিরিনাথ এবারও ব্যর্থ সদ্য হারিয়ে যাওয়া লালের বন্ধু কানুকে খুঁজে পেতে। এবারও কি আগের দুটো ছেলের মতো কানুর লা শ ফিরবে? লাল ছোট্ট হলেও ফকিরি বংশের। সে কি তার বন্ধুকে এত সহজে হারাতে দেবে? লাল ছোট্ট এক ছেলে হয়ে কী করে লড়বে আঁধারের শক্তির সাথে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
❝কালতন্ত্র❞ দিবাকর দাসের লাল মিয়া ফকির সিরিজের প্রথম বই। তন্ত্র বিদ্যা নিয়ে বেশ কিছু উপন্যাস পড়া হয়েছে। এগুলো বেশিরভাগ দেখা যায় সেই তারানাথ তান্ত্রিকের চিপ কপি কিংবা ভালো অ্যাডাপটেশন। তবে মাথায় ঐ তারানাথই ঘুরে। এই বইটি পড়তে গিয়ে শুরুতে একই ধাঁচের মনে হলেও তন্ত্র মন্ত্রের প্রয়োগে একই ধারার লাগলেও কোথায় যেন কিছুটা ভিন্নতা ছিল। ওঝা, তান্ত্রিকের মুসলিম ভার্সন বলা যায় কি? কে জানে! আমার কাছে নাতিদীর্ঘ এই উপন্যাস ভালো লেগেছে। যদিও মূল যে চরিত্র সে এখনো বইতে ছোটো। বুঝা যাচ্ছে লাল মিয়া যখন বড়ো হতে থাকবে তখন তার কামেলতি আরো বেশি প্রকাশ পাবে। সিরিজের পরের বইগুলো আরো আগ্রহোদ্দীপক হবে। স্টার্টার প্যাক হিসেবে কালতন্ত্র আমার বেশ লেগেছে। এখানে গল্পের বেশিরভাগ এগিয়েছে লালের ছেলেবেলায় ঘটা এক কাহিনি নিয়ে। নিশিকান্ত তান্ত্রিকের ঘটনা নিয়েই বইয়ের গুরুভাগ। প্রাচীনকালের ঘটনা, জমিদার কাহিনি এবং নিশিকান্ত তান্ত্রিকের অন্ধকার দিক লেখক দারুণ সুন্দর করে বর্ণনা করেছেন। উপন্যাসে লেখকের গুল্প বলার গতি এবং ধরন দুই-ই বেশ ভালো ছিল। লেখকের আগের যে কয়টা বই পড়েছি আম�� এটাকে তাদের থেকে এগিয়ে রাখবো। আগের পড়া তিন চারটা থেকে এখানে লেখার ধরন, গতি, গল্পের প্রকৃতি সবই বেশ লেগেছে। তবে বর্তমান যদিও এখানে তেমন মুখ্য নয় তবুও বর্তমানের অংশ অতীত থেকে স্বাভাবিকভাবেই ম্লান লেগেছে। অতীত ভালো লেগেছে উপন্যাসের সেটা বলার অবকাশ রাখে না। তবুও বর্তমানের কিছু ব্যাপার তেমন একটা জুতসই লাগেনি। এরমধ্যে প্রথম বলা যায়, নাফিজের সাথে আফরিনের বিয়ে মানতে আফরিনের বাবার শুরুর দিকের দ্বিমত হওয়া। নাফিজের বাবার ট্যাকা পয়সা বেশ ভালো আছে। তো বাপের আছে পোলার হইতে সময় লাগবে না। তাও দ্বিমত করার কারণ বুঝিনি। হুদাই মনে হলো। আবার নাফিজ আফরিনের বাবাকে চৌধুরী সাহেবের মতো মানাতে গিয়ে ধুম করে ফার্ম করবে মুখে বললো বাপে বিশ্বাস করে বিয়ে দিলো এটাও হুদাই লেগেছে। যদিও মূল উপন্যাসে এটা কোনো প্রভাব ফেলেনি। তবুও একটু অযাচিত লেগেছিল। উপন্যাসে ফকিরি এবং তন্ত্র বিদ্যার যে একত্রিত মিশেল সেটা আমার বেশ ভাল লেগেছে। শেষটা বেশ রোমাঞ্চকর লেগেছে। এবং অবশ্যই তৃপ্তিদায়ক ছিল। লাল মিয়ার বেড়ে ওঠার গল্প জানতে আগ্রহী।
❛বিশ্বাস আর অবিশ্বাসের মাঝে, আলো এবং আঁধারের মাঝে এক সূক্ষ্ম সুতা আছে। এর মাঝেই আছে এমন কিছু যাকে আমরা অবিশ্বাস করি আবার কেউ বিশ্বাস করি। এই দুনিয়ায় কত ঘটনা ঘটে তার কতটুকু আমরা জানি? অতিপ্রাকৃত বা অদ্ভুত দুনিয়ার অনেক কিছুই আমাদের কাছে এখনো বিস্ময়।❜
তন্ত্র বিদ্যা সম্পর্কিত বই আমার খুব পছন্দের। লাল মিয়া ফকির সিরিজের প্রথম বই এটি। কাহিনি কোথাও ঢিমে তালে আগায়নি। পুরোটা সময় মনযোগ ধরে রাখতে পেরেছিলো। তবে আমি এক্সপেক্ট করছিলাম গল্পটা আরও বড় হবে, ২০০-২৫০ পেইজের হবে।
তন্ত্র মন্ত্র, ঝাড়ফুঁক কে কতটা বিশ্বাস করে জানি না, তবে আমার এইসব বিশ্বাস হয়না তেমন। জ্বিন আছে এটা বিশ্বাস করি, সেটার জন্য আলাদা ভাবে বলাও আছে, কিন্তু ভূত প্রেত না। জ্বি ভূত তো আর এক না। আচ্ছা সত্যিই কি অপঘাতে মারা গেলে তার আত্মা থেকে যায়?
কাহিনি সারসংক্ষেপ: তিন বন্ধু এক সাথে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে কোনো ভাবে পৌছে যায় গ্রামে আধুনিক চাষাবাদ করতে। গ্রামে ঘুরতে ঘুরতে এক যায়গায় ছবি তুলতে গিয়ে অদ্ভুত এক ঘটনার সামনে পরে যায়, গ্রুপের যে মেয়ে আছে সে অদ্ভুত আচরণ করতে শুরু করে, কোনো রকমে যখন বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তখন সবাই বলতে থাকে তাড়াতাড়ি মনু মাস্টারকে খরব দিতে, মনু মাস্টার এসে কিছুক্ষণের মধ্যেই সব স্বাভাবিক করে দেয়। তাতে আগ্রহ বেড়ে যায় শিহাবের, এমন কী জানে মনু মাস্টার। তার সাথে কথা বলতে গিয়ে জানতে পারে লাল মিয়া ফকিরের কথা। সময়টা এখন থেকে দুইশ বছর আগের কাহিনি, লাল মিয়া ফকির তখনো বাচ্চা, সবে ফকিরি বিদ্যা শিখতে শুরু করেছে। তখন গ্রামে হঠাৎ আট দশ বছরের ছেলেরা হারিয়ে যেতে শুরু করে, তার দুইদিন পর লাশ পাওয়া যায়, সেই লাশের গায়ে না কোনো আঘাতের চিহ্ন থাকে, না অন্য কিছু। কেউ যেন অদ্ভুত ভাবে মেরে ফেলেছে তাদের।
অন্য দিকে রূপগড়ের জমিদার অনেক অসুস্থ, সবাই ধরেই নেয় মারা যাবে জমিদার কিছুদিনের মধ্যে, কিন্তু হয় তার উলটো। কিছুদিন পর সুস্থ স্বাভাবিক হয়ে বেরিয়ে আসে জমিদার। কীভাবে মরণের হাত থেকে বেঁচে ফিরলো এই প্রশ্নের উত্তর কেউ জানে না।
লাল মিয়া ফকির এই দুই ঘটনার সাথে অদ্ভুত ভাবে জড়িয়ে পড়ে, তার সাক্ষাৎ হয় তখনের সবচেয়ে বড় তন্ত্র মন্ত্র জানা তান্ত্রিক নিশিকান্তের সাথে। নিশিকান্ত তখন সবচেয়ে খারাপ পিশাচ কে জাগাতে ব্যস্ত। কেন নিশিকান্ত এই পিশাচ কে জাগাতে চাচ্ছে?
পাঠপ্রতিক্রিয়া:
১২৮ পাতার একটা বই, এই সিরিজের প্রথম। বইটা এক বসাতেই শেষ হয়ে যাবে, প্রথমে বইটা ধরে আধুনিক যুগের মনে হলেও মেইন কাহিনি শুরু হয় প্রায় দুইশ বছর আগের ঘটনা দিয়ে,মানে কাহিনি টা ১৮শ সালের দিকে।
এই টাইপের বই আমি খুবই কম পড়েছি, তার জন্য পড়তে পড়তে উত্তেজনা ছিল যে তারপর কী হয় এটা জানার জন্য। পড়তে পড়তে যেন কাহিনিতেই ঢুকে গিয়েছিলাম একেবারে। নিশিকান্তের যাদু তন্ত্র করা গুলো অবাক করার মতো ছিল, সত্যিই যদি এমন বাস্তবে হত তাহলে মানুষের হাতে সব চলে আসতো, এইসব যাদুর অপব্যবহারও করতো মানুষ।
লেখকের বর্ণনা ভঙ্গিমা বেশ ভালো ছিল, কিন্তু মনে হয়েছে লেখক চাইলেই বইটা আরেকটু বড় করতে পারতো, খুব তাড়াতাড়িই শেষ করে দিয়েছে বইটা। বেশ কিছু যায়গায় আমার মনে প্রশ্ন জমে আছে যেগুলো আমার কাছে তেমন ঠিক মনে হয়নি। সেগুলো হচ্ছে-
বইয়ের মধ্যে লেখক বলেছে আট দশ বছরের বাচ্চা মারা যাচ্ছে, আর লালের যে বন্ধু ছিল তার বয়স ও একি বয়সের, তার মানে লালের বয়সও সেইম হবে।
লাল কিছুদিন আগেই তার মাস্টারের কাছে তন্ত্র বিদ্যা শিখতে যাচ্ছে, প্রথম দিকে ৭দিনের মতো ছিল, তারপর লেখক বলেছিল ২০-২৫ দিন করে থাকছে, প্রতিটা বাচ্চা হারিয়ে যাচ্ছে তিন মাস পর পর, দুইটা বাচ্চা হারিয়েছে তার মধ্যে। তাহলে লাল যদি এই ২বারে হারানো বাচ্চার হিসেবে ধরা হয় তাহলে সে শিক্ষা নিয়েছে প্রায় ৪/৫ মাসের মতো ধরলাম বা তার একটু বেশি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে মাস্টার তাকে শিক্ষাচ্ছে সে পর্যন্ত হিমশিম খাচ্ছে যেখানে, সেখানে লালের মতো একটা ছেলে এত পারফেক্ট ভাবে কাজটা করে কীভাবে? ধরলাম চিন্তায় মাস্টারের সব মনে ছিল না, তাই বলে একটা বাচ্চা ৪/৫ মাস শিখেই এত বড় তান্ত্রিক কে হারিয়ে দেয়? আর সেখানে এত বছরের মাস্টার হাল ছেড়ে দেয়। কেন?
লাল আগে কখনো একা বাড়ির বাহিরে যায়নি, কিন্তু সেদিন এক রাতেই যে জমিদার বাড়ি চলে গেলো, একটা বাচ্চার পক্ষে দশ মাইল হাটা কীভাবে সম্ভব। হ্যাঁ লেখক বলেছিল লাল এখন হাটতে পারে, সেদিন ছিল আমাবস্যার আগের রাত মানে চারিপাশ একেবারেই অন্ধকার, একটা বাচ্চা ছেলে অন্ধকারে কীভাবে পারে পথ চিনে চিনে যেতে?নক্ষত্র এর আলো দিয়ে কি রাস্তা চিনা সম্ভব একটা বাচ্চা ছেলের পক্ষে? লাল পাথরের বাটি দেখে দেখে যাচ্ছে পথ, পাথরে বাটি তো হারিয়ে যাওয়া কিছু বা কাউকে দেখার কাজে লাগে, সেক্ষেত্রে রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কীভাবে? আবার যেই পাথরে বাটি দিয়ে তার বাবা মাস্টার যেটা দেখতে পারল না, বারবার বাধা পাচ্ছিল সেটা সে খুব সহজেই দেখে ফেললো। মানে একটা রাস্তা পেয়ে গেলো, তাহলে সেই দুইজনের মাথায় কেন এটা আসলো না? তারা তো অনেক বছর ধরে কাজ করছে পাথরে বাটি দিয়ে। আবার পাথরের বাটি ব্যবহার করাটা লাল শিখেছে বেশ কিছুদিন আগে।
মাস্টার বলেছিল কোনো তান্ত্রিক কে হারাতে হলে যখন অন্য কোনো রাস্তা থাকে না তখন তার মহাপাপ কে খোঁজতে হবে, মহাপাপ তখন রাস্তা বের করে দেয়, কীভাবে হারাতে হবে। লালের বাবা আর মাস্টার নিজে কেন এটা দিয়ে চেষ্টা করলো না? তারা কেন পালিয়ে গেলো, এটা ভেবে যে আর কোনো রাস্তা নেই।
আরো বেশ কয়েকটা পয়েন্ট ছিল, কিন্তু এই দুইটাই বেশি মাথায় ঘুরতেছিল বারবার। আমি বলছি না বইটা খারাপ, বইটা অবশ্যই ভালো। আমার জাস্ট প্রশ্ন গুলো মাথায় ঘুরতেছে এমন কেন হলো।
#ফ্ল্যাপ- সন্ধ্যার পরেই আকাশে চাঁদ উঠল। আজ পূর্ণিমার আগের দিন। পরিষ্কার আকাশে দেখা যাচ্ছে থালার মতো চাঁদ। লাল বসে আছে রুহুল ফকিরের সঙ্গে। 'তুই কি জানস, এই চান্দের রহস্য কী?' নীচু গলায় ক���া প্রশ্নটা লালের কাছে অপরিচিত। লাল মুখ তুলে চাঁদের দিকে তাকায়, মেঘের রাজ্যে লুকোচুরি খেতে থাকা প্রায় গোল জিনিসটাকে তার একটুও রহস্যময় বলে মনে হয় না, বরং যেন খেলার কোনো সামগ্রী। চাঁদটা তাদের নিয়ে খেলছে, আর তারা খেলছে চাঁদ নিয়ে। জোছনা সংযোগে উভয়ের মধ্যে রাত্রির সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। রুহুল ফকিরের গলা রহস্যময় হয়ে ওঠে বাঁশবাগানের ওপরের চাঁদের মতো, 'চাঁদ আমাগো সবাইরে টানে। সেই টানে কেমন জোয়ার আসে নদীতে, নদীর ঘাটের সিঁড়িগুলা ডুইবা যায়।' একটু নীরব থেকে গলায় আরেকটু রহস্য ঘনাতে দেন বৃদ্ধ, 'আমাগো শরীরের ভিতরে এই আলো টান দেয়। আমাগো "জীবনের রস বাইর কইরা নিয়া আসতে চায়। মানুষেরে ভাসাইয়া দেয় ভরা নদীতে। মানুষ কোনো কূল পায় না। বুঝলি লাল, এই টান যার উপরে কাজ করে না, সেই আসল ফকির।' বালক আসল ফকির হবার উপায়ের দিকে আগ্রহী হয় না, সে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে চাঁদের দিকে, চাঁদটা চলছে যেন অনন্তের পথে, কিন্তু এক বিন্দুও নড়ছে না।
#রিভিউ- ভাগ্যের ফেরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা তিন শিক্ষার্থী আধুনিক চাষি হতে চলে আসে গ্রামে। উত্তরবঙ্গের এই গ্রাম এখনো উত্তরাধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি। হ্যাঁ, স্মার্ট ফোন সবার হাতে আছে। তবে সেই স্মার্ট ফোনে অন্যের স্মার্টনেস দেখা আর নিজে স্মার্ট হবার মধ্যে ঢের তফাৎ। এরই মধ্যে ওদের তিনজনকে এমন এক ঘটনার সামনে পড়তে হয় তাতে সকল প্রকার আধুনিকতার ভিত নড়ে ওঠে শিহাবের। চোখের সামনে বান্ধবীর সাথে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনা দেখে কিছুতেই সেসবকে উড়িয়ে দিতে পারে না সে। গ্রামের মনু মাস্টারের ক্ষমতার পরিচয় পেয়ে আগ্রহ বেড়ে যায় তার। একটু চেষ্টাতেই সে আলাপ জমিয়ে ফেলে প্রায় নিঃসঙ্গ মনু মাস্টারের সাথে। মনু মাস্টারের কাছ থেকেই শিহাব শুনতে পায় লাল মিয়া ফকিরের নাম। সেই ছয় পুরুষ আগের ফকিরের ক্ষমতা এখনো ব্যবহার করে চলেছে মনু মাস্টার। লাল মিয়া ফকিরের আলোচনায় ওরা চলে যায় দেড়শ বছর পেছনের সেই প্রাচীন বাংলায়। তখন লাল মিয়া ফকিরের বাল্যকাল। ফকিরি ও তন্ত্রের দুনিয়ায় কেবল তার পথচলা শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে সেই অঞ্চলে হারিয়ে যেতে থাকে আট থেকে দশ বছরের বালকেরা, হারিয়ে যাবার কিছুদিন পরে পাওয়া যায় তাদের প্রাণহীন শক্ত দেহ। কিন্তু কোন রকমের আঘাতের চিহ্ন সেই দেহে থাকে না। রুপগড়ের জমিদার সুখেন মজুমদার রোগশয্যা ছেড়ে হঠাৎ স্বাভাবিক চেহারায় কিভাবে বেরিয়ে আসেন? পিশাচ সিদ্ধ মহা শক্তিশালী তান্ত্রিক নিশিকান্তের ক্ষমতা এবার কোন পিশাচকে জাগাতে ব্যবহৃত হচ্ছে? রুপগড়ে অন্দরে নিয়মিত গুমরে ওঠে কার কান্না ধ্বনি? ধীরে ধীরে আলোকে ক্রমশ সংকুচিত করে চলে অন্ধকার। লাল মিয়া ফকির ছেলে মানুষ। কিন্তু একসময় সেই ঘন কালো অন্ধকারের সামনে সে ছাড়া দাঁড়ানোর মতো আর কেউ রইলো না। বালক লাল মিয়া ফকির কি পারবে, সেই অন্ধকারের রেশ মুছে দিয়ে ভোরের আলো ফোটাতে? বইয়ের পেছনের লেখাটুকু পড়েই ভালো লাগলো তাই কপি পেস্ট করে দিয়েছি।
#আলোচনা- লাল মিয়া ফকির সিরিজের প্রথম বই এটা। প্রথমবইয়ের মতো পরের গুলোও হলে সিরিজ টা উপভোগ্য হবে। এটা সম্ভবত লেখকের আমার প্রথম পড়া বই । বইটা আমার পারসোনালি ভালো লেগেছে। যদিও অনেকদিন আগে পড়েছি, এখন সবকিছু মনে নেই। দ্বিতীয় পার্টের অপেক্ষায়।
"কালতন্ত্র" উপন্যাসটি লেখক দিবাকর দাসের "লাল মিয়া ফকির" সিরিজের প্রথম বই। বইটি মূলত প্রাচীন বাংলার ফকির বিদ্যা এবং তন্ত্র সাধনাকে ভিত্তি করে লেখা হয়েছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রাচীন বাংলার কাল্পনিক কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী তন্ত্র বিশারদ লাল মিয়া ফকির এবং তার বাল্যকালের অভূতপূর্ব বর্ণনা।
কাহিনী সংক্ষেপ: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা তিন বন্ধু মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে বর্তমান চাকরির বাজারে সময় নষ্ট করার চেয়ে তারা গ্রামে গিয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ শুরু করবে। তাদের এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করার জন্য তারা গ্রামে চলে যায় এবং সেখানেই তাদের তিনজনের মধ্যে থাকা একজনের সাথে ঘটে যায় একটি ভয়ানক ঘটনা, যার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তারা খুঁজে পায় না। এখানে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দৃশ্যপটে অনুপ্রবেশ ঘটে মনু মাস্টার নামক একটি রহস্যময় চরিত্রের, যিনি নিজেকে লাল মিয়া ফকিরের বংশধর বলে দাবি করেন।
কাহিনীর এক পর্যায়ে সেই তিন বন্ধুর একজনের সাথে মনু মাস্টারের পুনরায় সাক্ষাৎ হয় এবং সে তাঁর কাছ থেকে লাল মিয়া ফকিরের ব্যাপারে এই প্রথম জানতে পারে। লাল মিয়া ফকির সম্পর্কে জানতে তাদেরকে ফিরে যেতে হয় প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে। মনু মাস্টার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তার পূর্বপুরুষ তন্ত্রসাধক লাল মিয়া ফকিরের বাল্যকাল বর্ণনা করতে থাকেন। কিভাবে ছোট্ট লাল মিয়া তার ফকির জীবনের যাত্রা শুরু করে এবং ধীরে ধীরে ফকির এবং তন্ত্র বিদ্যায় নিজেকে পারদর্শী করে তুলতে থাকে সেই কাহিনীই বর্ণনা করা হয়েছে এই "কালতন্ত্র" উপন্যাসটিতে।
ব্যক্তিগত অভিমত: লেখক দিবাকর দাসের লেখা "কালতন্ত্র" বইটা দিয়েই আমার ওনার লেখার সাথে প্রথম পরিচয় হলো। লেখক এত সুন্দর এবং সাবলীল ভাষায় প্রাচীন বাংলার জটিল তন্ত্রবিদ্যাকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, যেটি সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। তাছাড়াও বইটিতে প্রাচীন বাংলার গ্রামীণ পরিবেশ এবং সাধারণ গ্রাম্য মানুষের জীবনকে এতটাই সুনিপুণতার সাথে চিত্রায়ন করা হয়েছে, যেটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। গল্পের শুরুর দিকে পাঠক চিরায়ত গ্রাম বাংলার কিছু ভৌতিক কিন্তু মজার ঘটনাবলির যেমন— ভূত, পেত্নী, ওঝা, তান্ত্রিক প্রভৃতির একটা আভাস পাবেন, যেগুলো আমাদেরকে আমাদের ছোটবেলার "রূপকথা" বা "ঠাকুরমার ঝুলি"- র স্মৃতি মনে করিয়ে দিবে। বইটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ছোট্ট লাল মিয়া ফকিরের চরিত্রটি আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। তার ফকির ও তন্ত্রবিদ্যার প্রতি জ্ঞানপিপাসা, তার সহজ সরল জীবনযাত্রা, এবং এত্তো ছোট বয়সেই তার দুঃসাহসিক অভিযানের যে বর্ণনা লেখক দিয়েছেন, সেটি সত্যিই ভীষণ মনোমুগ্ধকর। বইয়ের ভাষা এতটাই সহজ ও সাবলীল এবং লেখকের গল্প বলার গতি বইয়ে ঘটতে থাকা কাহিনীগুলোর সাথে এতটাই সামঞ্জস্যপূর্ণ যে, যেকোনো বয়সের পাঠকের বইটি মনে ধরে যাবে। যেসব পাঠকের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস আছে, তারা এক বা দুই বসাতেই বইটি শেষ করে দিতে পারবেন।
গল্পের মধ্যে গল্প, তার মধ্যে আসল কাহিনী। বইয়ের নামে 'তন্ত্র' থাকলেও এখানে 'ধর তন্ত্র মার পাঠক' গোছের কোনো ব্যাপার নেই, বরং এই গল্প শান্ত পল্লীজীবনের, যেখানে জাতপাতের ভেদাভেদের আগল ডিঙিয়ে ছেলেরা একসাথে খেলা করে, স্ত্রী রাত্রে কুপি জ্বেলে স্বামীর ফেরার অপেক্ষা করে, অত্যাচারী জমিদারের হাতে নিপীড়িত ও শোষিত হয়েও ঘর-সন্তান আগলে বাঁচার স্বপ্ন দেখে। এই বই পড়তে গয়ে অনেকসময়ই তারানাথ তান্ত্রিকের গল্পগুলোর কথা মনে পড়ছিলো - এবং এটাই সবচেয়ে বড় পাওনা লেখকের থেকে! তন্ত্র আর ফকিরিবিদ্যার পার্থক্য কোথায়? তান্ত্রিক আর ফকিরের মধ্যে কার অলৌকিক শক্তি বেশী? সেইসব প্রশ্নের জটিলতায় না গিয়ে এই কাহিনী দেখিয়েছে ভালোবাসাই সবথেকে বড় তন্ত্র, আর পাপের শাস্তি পাপীকে ভোগ করতেই হয়, তা সে যত বড়ই অলৌকিক শক্তিধারী হোক না কেন। কালের নিয়মের লঙ্ঘন নেই, এটাই কালতন্ত্র।
বেশ, বেশ ভালো লাগলো (একরাতেই বই ফিনিশ!) লাল মিয়া ফকিরের পরবর্তী কেরামতির অপেক্ষায় রইলাম...
শেষ করলাম দিবাকর দাদার লেখা ভৌতিক বই কালতন্ত্র।বইটা লালমিয়া ফকির সিরিজের প্রথম বই।বইটা পড়ার পর দিবাকর দাদার লিখনশৈলী এবং চরিত্রায়নের তারিফ করতেই হবে।বইটা পড়ার সময় ক্লাসিক হরর বইগুলোর মতোই লেগেছে আমার কাছে।ক্লাসিক হরর বইগুলোর মধ্যে আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্র আর সিরিজ হলো তারানাথ তান্ত্রিক।তালতন্ত্র পড়ার সময় আমি তারানাথ তান্ত্রিক এর ভাইব পাচ্ছিলাম।বইটা অল্প আকারের হওয়ায় ভেবেছিলাম গল্প মনে হয় খুব দ্রুত এগিয়ে যাবে কিন্তু লেখক সময় নিয়েই গল্পের চরিত্র তুলে ধরেছে।কিন্তু গল্পটা একটু বড় হলে মনে হয় আরো ভালো হতো শেষের সমাপ্তি টা একটু রাশ লেগেছে।সবমিলিয়ে বলতে হয় সিরিজের প্রথম বই হিসেবে বইটা ভালোই ছিলো।বইয়ে লালমিয়া ফকিরের সাথে মাত্র পরিচয় হয়েছে,সিরিজটা লেখক যেভাবে শুরু করেছে বুজাই যায় সিরিজটা লেখক অনেক লম্বা টানবে।বইটা শেষ করে একটা কথাই বলতে হয় "গুরু সবেতো মাত্র শুরু"
লাল মিয়া ফকির চরিত্র নিয়ে লেখা প্রথম বই। ফকির এবং তান্ত্রিক এর সংমিশ্রণে তৈরি চরিত্র লাল মিয়া। গল্পের শুরুটা মোটামুটি ভালো হয়েছে। নতুন চরিত্র বিল্ড আপ করার চেষ্টা ছিল শুরু থেকেই। লাল মিয়া ফকিরকে ছোট বেলা থেকেই তুলে এনেছেন। সামনে আরো পরিকল্পনা আছে বোঝা যাচ্ছে।বোঝা যাচ্ছে এই চরিত্র নিয়ে অনেক গল্প আসবে। দেখা যাক। ওভারঅল মোটামোটি ভালোই লেগেছে পুরো গল্পটা। বইটির একটা ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, গল্পের মূল চরিত্র লাল মিয়া ফকির হলেও প্রচ্ছদে ভিলেনের চিত্রায়ন দেখা গেছে। যদিও এটা আমার ব্যক্তিগত ধারনা যে প্রচ্ছদে ছবিটা নিশিকান্ত তান্ত্রিকের। যাইহোক, দিবাকর দাসের মহাকাল পড়েছিলাম, সেটা খুবই ভালো লেগেছিল। তবে মহাকালের পরের দুইটা ততটা ভালো লাগেনি। লাল মিয়া ফকিরের ক্ষেত্রে যেন এমনটা না হয় সেটাই আশা করবো।
লাল মিয়া ফকির সিরিজের প্রথম বই এবং অনেক ছোট বই। এই ধরণের ছোট বইয়ে যেটা দেখা যায় খুব দ্রুত কাহিনীর ভিতরে ঢুকে যায় কিন্তু এইখানে আমার কাছে একটু দেরি হয়েছে। হয়ত সিরিজ শুরু হচ্ছে এর জন্য হয়ত। আর একটা ব্যাপার একটু খটকা লাগলো লাল মিয়া ফকির যেটা প্রলো বাঁ যেটা করার কথা চিন্তা করলো সেটা তার গুরুর মাথায় আসে নাই কেনো বুঝলাম না। আমার মনে হয়েছে বইটা ১৫০-১৮০ পেজের করে আরেকটু ভয়ের করতে পারত।
কালতন্ত্র বইটি লাল মিয়া নামের এক বালক ফকিরকে ঘিরে লেখা, যেখানে তন্ত্র, অশরীরী শক্তি আর জমিদারি রহস্য মিলেমিশে গল্প এগিয়েছে। শুরুর দিকের ভয়াল আবহ দারুণ ছিল, তবে লালের বয়সের সাথে তার দুঃসাহসিকতার কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। কাহিনি কিছু জায়গায় স্লো হলেও বাক্যশৈলী, প্লট ও প্রচ্ছদ চমৎকার। সবমিলিয়ে বইটি উপভোগ্য, যদিও অতিপ্রাকৃত অংশে আরও জোর থাকলে ভালো লাগত।
4.5 star. এন্ডিংটা একটু বেশি ফাষ্ট হয়ে গেছে। পুরোটা গল্প এত সুন্দর ভাবে টানার পর লাস্টে এন্ডিংটা কেন যে এভাবে rush করলো। বাট স্টোরিটা খুবই চমৎকার। লাল মিয়া ফকিরের সামনের কর্তব দেখতে মুখ চেয়ে বসে থাকলাম।
ভালো, লেয়ার্ড গল্প। কিন্তু শেষের দিকে এত তাড়াহুড়ো করা হল কেন বুঝলাম না। যাই হোক, গতানুগতিক ধারার থেকে আলাদা এই বই। বেশ ভালো একটি 'অরিজিন স্টোরি'। শুধু শেষটা যদি আর একটু সময় নিয়ে লেখা হত তাহলে আর আফসোস থাকত না।
বইটা খুব ছোট হলেও পড়ে একটা রেশ রয়ে গেল। এখন সিরিজের পরবর্তী বই এর অপেক্ষায়। জটিল কোনো গল্প না কিন্তু লেখকের লেখার ধরণই বোধহয় এতোটা ভালো লাগার কারণ।
সিরিজের চমৎকার শুরু। বেশ ভালোভাবেই লাল মিয়া ফকিরের চরিত্র ডেভেলপ করা হয়েছে। ফকিরি আর তন্ত্রের মিশ্রণটাও ভালোই লাগলো। সর্বোপরি ঝরঝরে লেখা আর আঁটোসাঁটো কাহিনি।