দেখা যায় না, শোনা যায় – নাকি শোনা যায় না, দেখা যায় / নাকি দুটোই ?
এইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ভূতশিকারি প্রিয়নাথ জোয়ারদার ছুটলেন চপলকেতু গ্রামে। যে-গ্রামে বিজলিবাতি এখনও ঢোকেনি। গ্রামের জমিদার পত্রলোচন সিংহ রায়।
রহস্যের শুরু ‘রেনবো’ চ্যানেলের একটা টেলিসিরিয়াল নিয়ে, যার নাম ‘তেনারা যেখানে আছেন’। চ্যানেলের সাংবাদিক মিংকি তেওয়ারি, তৃষ্ণা আর ক্যামেরাম্যান বিনোদকুমারের সঙ্গে ভূতনাথ চপলকেতু গ্রামের দিকে রওনা হলেন। ওঁদের সঙ্গী হলেন কট্টর যুক্তিবাদী রমাশঙ্কর দত্ত। তারপর ? ...
তার পর থেকেই সুরু হল ভয়ংকর সব ব্যাপারস্যাপার। রমাশঙ্কর প্রাণপণে বিজ্ঞান আর যুক্তি দিয়ে সেসব ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে লাগলেন। পত্রলোচন সব দেখেশুনেও উদাসীন। ওঁর মতে, সবই ‘ন্যাচারাল ফেনোমেনন’,
তাই যদি হবে, তা হলে চপলকেতু থেকে আচমকা উধাও হয়ে যাওয়া মানুষজন যাচ্ছে কোথায় ? পুকুরের জল হঠাৎ-হঠাৎ দুলে ওঠে কেন ? বাতাসে কেন ভেসে বেড়ায় অপদেবতার নিশ্বাস? ...
অদ্ভুত বিষয় নিয়ে লেখা অদ্ভুত এক ভয়ের উপন্যাস ‘দেখা যায় না, শোনা যায়’।
Anish Deb (22 October 1951 – 28 April 2021) was an Indian Bengali writer and academic. He was noted for his writings in the science fiction and thriller genre. He received several literary awards including Vidyasagar Award in 2019.
Anish Deb was born in 1951 in Kolkata. He completed his B.Tech. (1974), M.Tech. (1976) and Ph.D. (Tech.) with 1 silver and 2 university gold medals in Applied Physics from the Rajabazar Science College campus of University of Calcutta.
Anish Deb started his writing career in 1968. He also edited a number of collections of popular fictions, novels and detective stories. Some of his notable writings are: Ghaser Sheesh Nei, Saper Chokh, Teerbiddho, Teish Ghanta Shat Minute, Hate Kalome Computer, Bignyaner Dashdiganto, Jibon Jokhon Phuriye Jay.
কি দেখা যায় না? কাদের কথা শোনা যায় চপলকেতু গ্রামে? কেনই বা অহরহ কেপে ওঠে গ্রামের মাটি ও পুকুর? রাতের আঁধারে কাদের ছায়া হেঁটে বেড়ায় জমিদার বাড়ির দেওয়ালে? গ্রাম থেকে কি ভাবে গায়েব হয়ে যায় নিরীহ পথচারীর দল? ঠিক কোথায় যায় তারা?
কয়েকটি আপাত অর্থে নিরীহ তবে অদ্ভুত প্রশ্নজালে আবদ্ধ হয়ে মঞ্চে নামেন, অকালট ডিটেকটিভ, প্রিয়নাথ জোয়ারদার ওরফে ভূতনাথ! সঙ্গে, রেনবো টিভি চ্যানেলের টিম, এবং তাদেরই জনপ্রিয় ঘোস্ট হান্টিং শো 'তেনারা যেখানে আছেন'-এর নির্মাতা মিংকি তেওয়ারি।
উপন্যাসটি স্বর্গত অনীশ দেব পুজাবার্ষিকী কিশোর ভারতীর পাতায়, দু-বছরে দুটো কিস্তিতে লিখেছিলেন। সেই নিরিখে ভূতনাথ চরিত্রের পূর্ববতী দশটি গল্পের সঙ্গে এই উপন্যাসটির তফাৎ প্রায় এক দশকের ওপর। যেটা পড়তে গেলে বোঝা যায়। বিশেষত লেখকের লেখনীর ওপরে সময়ের ছাপ স্পষ্ট! উপন্যাসের গতিপ্রকৃতিও অসাধারণত্ব ছুঁতে গিয়ে ছোঁয়নি বেশ কিছু পর্যায়ে। বই জুড়ে সুচারু ভয়ের আবহ, জমাট বাঁধবার আগেই, যেন অনেকটা জোর করেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। উপন্যাসের শেষ পরিণতি কিছুটা হৃদয়বিদারক হলেও, গল্পের ক্লাইম্যাক্সখানা ভীষণ তাড়াহুড়োর সঙ্গে গুটিয়ে নিয়েছেন লেখক।
বলাই বাহুল্য, আমার কাছে পাঠ অনুভূতি যারপরনাই মিশ্র। একাধারে, লেখকের প্রতি সম্মানার্থে বইটিকে পাসিং মার্কস দেওয়ার বাসনা। যতই হোক, বইটি প্রিয়নাথ জোয়ারদারের অন্তিম অভিযান! অপর দিকে, বইয়ের ভীষণ চেনা ভয়হীন পরিবেশনা, যা মনকে অচিরেই হতাশ করে তোলে।
অনেকের কাছে আবার ভূতনাথের ছোটগল্পগুলোর নিরিখে ওনার এই একটিমাত্র উপন্যাস বেশি প্রিয়। তাদের দোষ ধরছি না এখানে। কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন, আমার কাছে সেই অন্ধকার গল্পগুলোর, অস্পষ্ট ধোঁয়াটে পরিণতি, অধিক ভীতি উদ্রেককারী! কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর অনেক ক্ষেত্রে না জানাই মঙ্গলকর। মানুষের মনের অদ্ভুত ধরন - যা নেই, যা অজানা, যা সাধারণত এড়িয়ে চলাই উচিত, তার প্রতি মন অচিরেই আকর্ষিত হয় পড়ে। এ এক অসম্ভব দ্বৈরথ! এক আতঙ্ক মিশ্রিত আসক্তি যা আদতে ভীষণ আদিম এবং চূড়ান্তরূপে মহাজাগতিক। যে কোনো ভয়ের গল্পেই, এর বিকল্প নাই।
প্রায় দশ বছর আগে প্রিয়নাথ জোয়ারদার-এর অভিজ্ঞতামালা, তথা এক ঝাঁক সিরিয়াসলি ভয়-পাওয়ানো কাহিনি পড়েছিলাম| এই লেখাটা যখন অদ্ভূতরকম আধা-খেঁচড়া আকারে পূজাবার্ষিকীতে বেরিয়েছিল, তখন সেটা পড়ার সুযোগ হয়নি| বই আকারে প্রকাশিত হওয়ার পর কিনে ও পড়ে ফেলার পর যে অনুভূতি জাগছে, তা বিপুল হতাশার| গল্পটা দুর্দান্তভাবে শুরু হয়| সেটিং জমে ওঠে| চরিত্রদের জন্যে আমাদের দুর্বলতা, এবং তাদের ওপরে বিপদের কালো ছায়া: দুই-ই জমাট বাঁধতে থাকে| এবং তারপরেই লেখাটা দুম করে শেষ হয়ে যায় কোন সুস্পষ্ট পরিণতি নে দেখিয়ে| কোন মানে হয়?!
রেনবো চ্যানেলে ‘তেনারা যেখানে আছেন’ টেলিসিরিয়ালের সাংবাদিক মিংকি তিওয়ারি এক মহাসমস্যায় পড়েছেন। যুক্তিবাদী প্রসার সমিতি থেকে থ্রেটএসেছে, হয় প্রোগ্রাম সাপোর্টিং প্রুফ দাও নাহয় পাব্লিককে মিসলিড করার জন্য মামলা খাও। চ্যানেলের ডিরেক্টর সাফ জানিয়ে দেন এই সিরিয়ালের প্রুফ যোগাড় করতে নইলে প্রোগ্রাম বন্ধ।অতঃপর মিংকি তিওয়ারি দ্বারস্থ হন ভূতশিকারি প্রিয়নাথ জোয়ার্দারের কাছে। মিংকি তিওয়ারি, ক্যামেরাম্যান বিনোদকুমারের সাথে প্রিয়নাথ রওনা হলেন জমিদার পত্রলোচন সিংহ রায়ের বাড়ি। সাথে যুক্তিবাদী রমাশঙ্কর দত্ত। তারপর থেকে শুরু হয় অস্বাভাবিক সব ব্যাপার। পুকুরের পানি হঠাৎ হঠাৎ দুলে উঠছে, রাস্তা থেকে মানুষজন উধাও হয়ে যাচ্ছে, রাতে দেখা যাচ্ছে অশরীরি ছায়া আরও কত কি…..”
কনসেপ্টটা ভালো, চরিত্রিগুলো আরো ইন্টারেস্টিং কিরা যেত। লেখার ধাঁচ বা স্টাইলটা ভালো লেগেছে।
বইঃ দেখা যায় না শোনা যায়। লেখকঃ অনীশ দেব। প্রকাশনীঃ পত্রভারতী পৃষ্টাঃ ১৬০
আমরা যেরকম ভুতের গল্প বা হরর বুঝি, তার থেকে কিছুটা ভিন্ন। ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩. ৫ ।
ভূতনাথ বা প্রিয়নাথ জোয়ারদার-এর ছোটগল্পগুলো তেমন জমজমাট নয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপসংহারটুকু হতাশ করেছে; তবে সেই আক্ষেপ্টা চলে গেলো এই উপন্যাসটি পড়ে । ভৌতিক ঘটনা তেমনটি নয় যদিও কিন্তু গল্প এগিয়েছে সাবলীল ভঙ্গিতে । চরিত্রদের বিন্যাস সুন্দর, গল্পের সাথে মানানসই; বিগত দিনের ইতিহাস, অভিশাপ এগুলোও ফুটে উঠেছে চমৎকারভাবে । একটা জায়গায় কমতি থাকলো, উপন্যাসটা বড্ড তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেলো । শেষটুকু - শেষটুকু অসাধারণ ! এতটা অসাধারণভাবে শেষ হবে আন্দাজ করতে পারি নি । যতগুলো জায়গায় কমতি মনে হয়েছিল, শেষটুকুর জন্যে সব উতরে গেলো ।